ধর্ম ও আচার-অনুষ্ঠান: ঐক্যের সন্ধানে
সাম্প্রতিক কালে হিন্দু ধর্মের ক্রমাগত অপব্যাখ্যা লেখককে এই বইটি লিখতে উদ্বুদ্ধ করেছে। তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বে সাধারণত বিভিন্ন ধর্মের সাদৃশ্যগুলি দেখানো হয়, কিন্তু বৈপরীত্য এবং দ্বন্দ্বগুলি এড়িয়ে যাওয়া হয়। এই বইতে সাদৃশ্য এবং বৈসাদৃশ্য উভয়েরই উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে সঠিক মূল্যায়ন হতে পারে। এই প্রসঙ্গে, হিস্পানিওলার রাজা সম্পর্কে একটি গল্প প্রচলিত আছে। স্প্যানিয়ার্ডরা হিস্পানিওলার রাজাকে বন্দি করার পর তাঁকে পুড়িয়ে মারতে উদ্যত হয়। আগুন লাগানোর আগে স্প্যানিয়ার্ডদের পাদ্রি রাজাকে জিজ্ঞাসা করেন তিনি কি খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করতে রাজি, কারণ একমাত্র তাহলেই তাঁর জীবন রক্ষা পেতে পারে, সেই সঙ্গে স্বর্গলাভও সম্ভব হবে। রাজা পাদ্রির কথা শুনে জিজ্ঞাসা করলেন যে, সব স্প্যানিয়ার্ডই কি মৃত্যুর পর স্বর্গে যেতে পারেন? পাদ্রি বললেন, হ্যাঁ। রাজা তখন বললেন, তাই যদি হয় তবে স্বর্গ নিশ্চয়ই নিষ্ঠুর লোকে পূর্ণ একটি অত্যন্ত ঘৃণ্য জায়গা। অতএব সেখানে যাওয়ার কোনো অভিপ্রায় তাঁর নেই। তিনি বরং সানন্দে মৃত্যুবরণ করবেন যাতে পরপারে তিনি পূর্বপুরুষদের সঙ্গে মিলিত হতে পারেন। সঠিক উপদেশ না পেলে ধর্ম কীভাবে মানুষকে বিপথে চালিত করে আর নিষ্ঠুরতা শেখায় তার এক জলজ্যান্ত প্রমাণ এই গল্পটি। আশা করি এই বইটি তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বে নতুন দিকনির্দেশ করবে এবং রাজীব মালহোত্রার ‘স্নেকস ইন গঙ্গা’ ও বিবেক অগ্নিহোত্রীর ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’-এর মতো সমসাময়িক কাজের পরিপূরক হয়ে উঠতে পারবে।
লেখক পরিচিতি
দুলাল ভট্টাচার্য্য বিভিন্ন স্কুলে ও কলেজে প্রায় ৪০ বছর শিক্ষকতা করেছেন। কলকাতার বি.কে.সি. কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করার পর তিনি সেই কলেজে পার্ট-টাইম লেকচারারের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি পানিহাটি মহাবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ এবং পানিহাটি কলেজ ফর গার্লস-এর রেক্টর ছিলেন। এই বইটি তাঁর দ্বিতীয় প্রকাশিত গ্রন্থ। প্রথম বইতে তিনি কোভিড-১৯ মহামারী ও তার বিশ্বব্যাপী প্রভাব নিয়ে কাজ করেছেন।







