ভূতপূর্ব ভূত / অহনা বিশ্বাস

ভূতের নাম যে ভূত -গোটা গ্রাম সে কথা জানে। একবার রাস্তা থেকে ডেকে ওর মা আমাকে দেখিয়েছিল। ছোটো বাচ্চা তখন ও। কাজ থেকে ফিরে ভূতকে ওর মা আবিষ্কার করেছিল ওদের ধান সিদ্ধ করা উনুনের ভেতর কালি ঝুলি ছাইমাখা অবস্থায়। ওর মা হাসতে হাসতে বলেছিল, দেখ দিদি, এ যদি ভূত না হয় তো ভূত কাকে বলবি?
এই ভাবেই সারা ছোটোবেলা, এমনকি বড়ো বেলা ধুলোবালি মাখতে মাখতে বজ্জাতিপনা করতে করতে ওর মনুষ্য নাম কোথায় হাওয়া হয়ে গিয়েছিল। ওর বাপটাও ছিল আধ পাগলা । সে ওর ভালো নাম বলতে পারেনি। নাম প্রতিষ্ঠা হবার মূল কেন্দ্র ইস্কুল-টিস্কুল যাবার নাম ভূত কখনো করেনি। কাজেই ভূতেই সে প্রতিষ্ঠিত। আর সেই নামকে অতিক্রম করার চেষ্টা সে কখনো করেনি।
সেই ভূত নামের ছেলেটা চোখের সামনে বড়ো হল এবং অকালে মরল। তার আগে সে যথা নিয়মে তার মাকে ও তার দুই বোনকে বেদম জ্বালাল। বেশিরভাগ সময় সে কোনো কাজ করত না। বাড়ির সবাই কাজে চলে গেলে সে বন্ধুদের নিয়ে ঘরে আড্ডা দিত । ঘরে রান্না করে রাখা ভাত এবং হাড়িয়া সবাই মিলে খেয়ে ফাঁক করে দিত । সন্ধ্যেবেলা কাজ থেকে ফিরে ওর মায়ের তীক্ষ্ণ গলায় গালাগালি শুনতে পেতাম আমরা। বোনরাও খুব চ্যাঁচাত । কারণ তারাও কাজে যেত। বোনেরা কিছু বললেই ও বোনেদের গায়ে হাত তুলত। যতদিন না ওর বোনেরা বিয়ে করে পালিয়েছে, ততদিন এমন যুদ্ধ চলেছে।
ওর মা আমার কাছে দুঃখ করত। দেখ দেখি দিদি, পাগলা লোকের সঙ্গে আমার বিয়ে হল। ভূতের বাবা দেখতে কত সুন্দর। দেখে কে বলবে তার এমন মাথা খারাপ। বিয়ের পর মা বাবা বলল- চলে আয়। কী করে আসি । বিয়ের মাস থেকেই পোয়াতি আমি। ভূত হল। ভাবলাম যেখানেই যাব সেখানেই খেটে খেতে হবে। কাজেই এখানেই থাকি। তা ভূতের বাবা পাগল মাতাল যাই হোক না কেন ,আমার গায়ে কোনোদিন হাত তোলেনি। সব সময় আমার শাসন মেনে চলেছে। কিন্তু ছেলেটাকে আমি কিছুতেই বাগাতে পারলাম না। কিছু বললে কদিন ঘরে আসে না। কোথায় কোন চুলোর দুয়ারে সে শুয়ে থাকে। কার কার পাল্লায় পড়ে কত রকম যে নেশা করে।
ভূতের সঙ্গে দেখা হলে আমিও মাঝে মাঝে ওকে বোঝাতে চাইতাম। ও মোটা মোটা ঠোঁটের ভেতরে হলদেটে দাঁত বের করে হাসে। আর বড়ো বড়ো চোখে তাকায়। আমি দেখি থুতনির নিচে ওর ছাগল দাড়ি গজিয়েছে।
একদিন ওর মা হাসিমুখে জানিয়ে গেল ,ভূত এখন রোজগার করছে। ওদের মরা বাড়িতে, শ্রাদ্ধ বাড়িতে যে নাচের দল নাচ দেখাতে যায়, ও এখন তাদের সঙ্গে জুটেছে তাদের দলে নাচ করছে । ভূত এক পয়সা তার বাবা-মাকে না দিলেও সে যে রোজগার করছে এতেই তারা খুশি।

এই করতে করতে একদিন শুনলাম ভূত নাকি কোন গ্রামে নাচতে গিয়ে একটা মেয়েকে পছন্দ করেছে। ভূতের প্রেম হতেই পারে, কিন্তু ভূতকে যে কারুর পছন্দ হতে পারে এ যে কেন আমি ভাবিনি তা জানি না। ভূতের মা এরপর খুব খুশি হয়ে লোক ডেকে-ডুকে বাজনা বাজিয়ে মা জাতীয় আত্মীয়-স্বজনকে লাল পাড় সাদা শাড়ি পরিয়ে বউ নিয়ে এল।
বউ দেখে আমি অবাক। এমন কচি মুখের বেটে খাটো ঢলঢল একখানি শ্যামলা মেয়ে ! যখন তার শাশুড়ি আমাকে বৌ দেখাতে নিয়ে এল, তখন আমার হাজার কথার সে কোনো উত্তরই দেয় না । আমি ভেবেছিলাম ভাষাটাই বুঝি সে বোঝে না। কিন্তু তা নয় । নাম জিজ্ঞাসা করলে সে মুখ নিচু করে নিজের নাম বলেছিল -সুন্দরী। তার এই শুনে আমি হেসে ফেলেছিলাম।

ওদের পাশের বাড়ির ছেলে লখাই বলত ,খারাপ ছেলেদের কপালে ভালো মেয়ে জোটে। আর ভালো মেয়েদের কপালে জোটে সব সময় খারাপ ছেলে । কেননা লখাই ছিল খুব পরিশ্রমী। আর ওর বউ ঘরে বসে থাকত। আর পারলে সকলের সঙ্গে ঝগড়া করত ।

ভূতের কপাল ভালো। ভূতের সুন্দরী বউ বিয়ের পরদিন থেকেই কোমরে কাপড় জড়িয়ে সারাদিন খাটাখাটি করে। বাড়ির বাসনপত্র এমন ঝকঝকে করে সে মাজে যে তাতে মুখ দেখা যায়। সুন্দরীর মুখে সবসময় এমন একটা সুখী সুখী ভাব দেখি ,যাতে বুঝি ও ভূতের সঙ্গে খুব আনন্দে আছে ।
কিন্তু একদিন গোলমাল হয়ে গেল । তখন মাঘ মাস ,প্রবল শীত । ধান কেটে ঝেড়ে বস্তা করে বারান্দায় জমা করে সকলে খুব ঘুমায়। এরকম সময় রাতে ভূতেদের বাড়িতে চুরি হয়। এই গ্রামে চুরির উপদ্রব নেই। কাজেই ধান চুরিতে ভূতেদের বাড়ির সবার মন খারাপ হয়ে যায়। কঠিন পরিশ্রমের পর অর্জিত সংবৎসরের খাদ্যে কেউ যদি ভাগ বসায় তাহলে মন ভালো থাকে কী করে !
ভুতের মা আমার কাছে এসে এই নিয়ে কত কথা বলে গেল। কী বলব দিদি , এরকম তো কোনোদিনও হয়নি । আমার বউটাই অপয়া। সে আসার পরে আমাদের বাড়িতে চুরি হল।
কিন্তু দুদিন পরই চোর ধরা পড়ল । রাতের অন্ধকারে দুটো চোর এসে যখন বস্তা সরাচ্ছিল তখন ভূতের বৌএর ঘুম ভেঙে যায়। সে চিৎকার করে ওঠে। এমন কি নিজেই সাহস করে উঠে একটা চোরকে পিছন দিক দিয়ে জাপটে ধরে । তারপর সবাই জেগে গিয়ে আলো জ্বালিয়ে দেখে সেই চোর আর কেউ নয়, তাদের বাড়ির ছেলে ভূত । বন্ধু জুটিয়ে ধান সে নিজে চুরি করছে। ধান বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে সে নেশার বস্তু কিনবে ।
তারপর যা হয় , ভূতের মা খানিক চিৎকার করে ভূতকে গাল দেয়। কিন্তু ভূত উল্টে মার দিল তার বউকে তাকে ধরল কেন বলে। তখন অবশ্য বউকে কেউ বাঁচাতে গেল না। বর বউ পেটাবে এটাই তো স্বাভাবিক ঘটনা।
ভূতের বউ বাইরে কাজ করতে শুরু করল। লোকের বাড়িতে বাসন মাজা, কাপড় কাচার কাজ নিল। যে বাড়িতেই সে কাজ করে, কোমরে কাপড় গুঁজে হেলতে দুলতে সে যায় । যেন মনে হয় নাচতে নাচতে যাচ্ছে। কিন্তু বেশি দিন কোথাও সে কাজ করতে পারে না। কারণ যে বাড়িতে কাজ করতে যায় সে বাড়িতে গিয়েই ভূত চিৎকার করে । তার বউ অন্য লোকের সঙ্গে প্রেম করছে এরকম সন্দেহ করে । ফলে বউয়ের কাজ যায়। এরই মধ্যে দেখলাম সুন্দরীর পেট হয়েছে। তার সঙ্গে ভূতের অত্যাচার ও বেড়েছে ।এই অবস্থায় সুন্দরীর মা তাকে নিয়ে চলে গেল । পরে খবর পেলাম তার ছেলে হয়েছে । সে বাপের বাড়িতেই রয়ে গেল , অনেকদিন আর এল না।
আমি ভাবলাম সুন্দরী বোধহয় আর ফিরবে না। তাদের পাড়ার লোকও তাই বলল । ভূতের মতো লোকের সঙ্গে কোনো মানুষই ঘর করতে পারে না । আমিও তাই ভাবলাম। ভূতের মাকে তার কথা জিজ্ঞাসা করলে সবই তার ভাগ্য জানিয়ে সে মাথা চাপড়াল । তার মেয়েরও বাচ্চা হয়েছিল। সেই নিয়ে সে নাকাল ছিল ।
ভূতকে দেখতাম –সে ভূতের মতোই নোংরা জামা কাপড় পরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কখনো দেখতাম মদ খেয়ে তাদের ঘরের দরজার সামনে শুয়ে আছে । মুখে মাছি বসছে। তারপর সবাইকে অবাক করে সুন্দরী একদিন বাচ্চা কোলে করে ফিরে এল । তার শরীরে মুখে চোখে কোথাও কষ্টের ছাপ নেই।
সে আগের মতোই নাচতে নাচতে কাজে যায়। পিছনে পিছনে তার ছেলেটা ছোটো ছোটো পায়ে যায়। আমি তাকে ডাকি ভূতের ছানা। তা শুনে ভূতের বউ খুশি হয়ে ওঠে। সুন্দরীকেও আমি আর সুন্দরী বলি না । ভূতের বউকে পেত্নী বলেই ডাকি । তাতেও সে খুশি হয়ে সাড়া দেয় ।

একদিন বললাম, আমি ভেবেছিলাম- তুই আর বুঝি আসবি না । সে বলল, মা আসতে দিচ্ছিল না । আমি জোর করে এসেছি । নিজের ঘর ছেড়ে কত দিন বাইরে থাকব , কিন্তু এখানে যেই এলাম শাশুড়ি আলাদা করে দিল । বাসন-কোসন কিছু নেই । ছেলে নিয়ে চালানো মুশকিল । যাইহোক বাড়ির বাড়তি একটা ডেগচি ওকে দিয়ে বললাম ,আর যাই করিস একটা ছেলে হয়েছে আর যেন বাচ্চাকাচ্চা আনিস না । সংসারে খাবার মুখ বাড়াস না। ও হুঁ হা করে চলে গেল।
কিছুদিন পর দেখি পেত্নীর আবার পেট উঁচু। এবার ওর মেয়ে হল। এবার ও আর বাড়ি গেল না। ওর মা এসে মেয়ের সঙ্গে ঝগড়া করে কাঁদতে কাঁদতে ফিরে গেল। আমি ভূতের বউয়ের বিক্রম দেখে অবাক হয়ে গেলাম।
ভূতের বউ একদিন নতুন জামা পরিয়ে তার মেয়েকে আমার কাছে দেখাতে নিয়ে এল। মেয়ের নাম দিয়েছে দেবশ্রী । সিনেমা আর্টিস্টের নামে নাম। টিভিতে ওর অভিনয় দেখে তার খুব ভালো লেগেছিল । ভূতের স্বভাবের বদল হয়েছিল কিনা জানি না। কিন্তু সে জানিয়েছিল তারা আলাদা করে মাটির একচালা ঘর করে ফেলেছিল । আমার চোখের সামনে ছেলে মেয়ে দুটো নালিতে মাছ ধরে , গুলতি দিয়ে পাখি মেরে , মোষের পিঠে চড়ে যথারীতি বড়ো হচ্ছিল।
একদিন পেত্নী আমাকে জানাল, ভূত এখন ভালো হয়ে গেছে। সে কাজে যাচ্ছে। পেত্নীর প্রেরণায় ভূতের এই পরিবর্তন দেখে আমি খুশি হয়ে উঠলাম।
কিন্তু এইরকম ভালো ভূতের অবস্থা কতদিন থেকেছে তা বুঝতে পারিনি । একদিন লোকের মুখে পেত্নীর অসম্ভব সাহসের কথা শুনলাম । সুন্দরীকে নাকি রাতে ভূত মেরে ঘর থেকে বের করে দেয় । এমনকি ঘরের দরজা বন্ধ করেও দেয়। সে সময় তার শ্বশুর-শাশুড়ি ভূতকে সমর্থন করেছিল । শোনা গেল পাড়ার এক জামাইয়ের সঙ্গে আশনাই করেছে সুন্দরী । কিন্তু সে কথা মোটেও মানেনি। রাতের বেলা সে পুলিশের কাছে গিয়েছিল । পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে এসে দরজা খুলে ঘরে ঢুকেছে । তারপর লোকের হাজার প্রশ্নের মুখেও সে কার ইন্ধনে বা কার সঙ্গে থানার মতো একটা ভয়ানক জায়গায় গিয়েছিল সে কথা বলেনি ।
তবে সুন্দরীর মধ্যে যে একটা ভয়ানক পরিবর্তন এসেছিল সেটা আমি দেখতে পেতাম । আমাদের মাঠে মোষ বাঁধতে এসে সে বহুক্ষণ হাঁ করে দাঁড়িয়ে থাকত। কখনো একলা বসে থাকত । কাজে-কর্মে সে আর আগের মতন চটপটে ছিল না।
এর মধ্যে সে তার একচালা ঘরকে বাড়িয়ে দোচালা করেছিল। শোনা গেল সেখানে নাকি জামাই এসে শ্রম দিয়েছে আর ভূত উঠোনে মদ খেয়ে পড়ে থেকেছে। ভূতের মা-বাবা তাদের আলাদা করে দিয়েছে। কাজেই মুখে তারা কিছুই বলতে পারে না । ভূতের মা পাড়ার পাঁচজনের কাছে সুন্দরীর বদনাম করে বেড়ায় ।আমার কাছেও বলেছে- বউ ভূতকে কিছু খাইয়ে দিয়েছে যাতে ভূতের অণ্ডকোষ বেলুনের মতো ফুলে গেছে। আমি ডাক্তার দেখাতে বললে ওর মায়ের রাগ হল । ভাবল ,আমি বুঝি ওর বউ-এর পক্ষের লোক। ভূতের বউ আমাকে শাশুড়ির বিরুদ্ধে বলে গেছে, সে নাকি নিজের মেয়েদের নিয়ে থাকে । ছেলেকে , ছেলের দিকের নাতি নাতনিগুলোকে ছোঁয় না । ছেলের প্রতি কোনো দরদ নেই। ভূতকে নিয়ে সে ওঝার কাছে গিয়েছিল। ওঝা ওষুধ দিয়েছে । আর এও বলেছে ওর মা নাকি চায় না ছেলে বউয়ের সঙ্গে ঘর করুক ।তাই ভূতের এরকম রোগ হয়েছে।
আমি শাশুড়ি বউয়ের রেষারেষির মধ্যে ঢুকি না। ভূতকে ডাক্তার দেখানোর পরামর্শ দিই।
এর মধ্যে সবাইকে স্তম্ভিত করে বলা নেই খাওয়া নেই ভূত ভর দুপুরবেলায় ঘুম থেকে উঠে বাইরে কোথায় যাবার জন্য তৈরি হতে থাকে। তার শরীর খারাপ লাগছিল বলে সে নাকি ঠাকুর থানে যেতে চাইছিল। সে প্যান্ট পরতে যায় আর তখনই সে দুম করে মাটিতে পড়ে মরেও যায়। ঘটনাটা তার মা বাপের সামনে ঘটে। পেত্নী তখন বাড়ি ছিল না ।নইলে ব্যাপারটা এত আকস্মিক ছিল যে হয়তো সবাই বলত সেই তার স্বামীকে খুন করেছে।
আমি বিকেলে খবর পেয়ে যখন তাকে দেখতে গেলাম তখন ভূতের মা, ভূতের বউ দুজনেই পাল্লা দিয়ে কাঁদছে ।ভূতের ছেলে গেছে মামা বাড়িতে। সে আসতে দেরি হচ্ছে বলে সৎকার কাজেও দেরি হয়ে যাচ্ছে।
রাতে বাজনা শুনে বুঝি ভূতের মরদেহ নদীপাড়ের শ্মশানের দিকে গেল। পরের দিন সকালে দেখলাম গাঁয়ের লোক খানিক জটলা বেঁধে গুজগুজ করছে । শুনলাম রাতে নদীর ধারে ট্রাক্টরের আলোয় তাকে পোড়ানোর কাজ হচ্ছিল। কোথাও মেঘের ছায়া ছিল না কিন্তু হঠাৎ একটা জোর হওয়া ওঠে আর কুকুরেরা খুব চেঁচায়। পশ্চিম দিকে সাদা মতো কিছু দেখা যাওয়ায় শ্মশানে মড়া রেখে ভয়ে সবাই পালিয়ে আসে। রাতে কেউ কিছু বলেনি। সকালবেলায় কথাটা চাউর হওয়ায় পেত্নীর দুই ভাই কোদাল নিয়ে শ্মশানে যায়, শরীরের আধপোড়া অংশগুলো নদীর ধারে জমিতে পুঁতে দিয়ে আসে ।
মরার পর জ্যান্ত ভূত পুরোপুরি ভূত হয়ে যায়।
ভূতের জিগরি দোস্ত সীতারাম সারাদিন একটা লোহার খন্তি হাতে নিয়ে বসে থাকে । ভূত নাকি দিনের মধ্যে কবারই তাকে ডাকতে আসছে । পায়ের সঙ্গে খুন্তি মানে লোহা না বেঁধে সে ঘুমোতে পারছে না। গাঁয়ে মদ বানায় যে বুড়ি তার দরজাতেও রাতের বেলা ভূত কড়া নাড়ছে। মদ চাইছে।
এমনকি গাঁয়ের যে দুষ্টু মেয়েটাকে জোর করে হস্টেলে রেখে আসা হয়েছিল, সে এখন হোস্টেলের মধ্যেই মাঝে মাঝে অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে। সেখানেও তার ভূত কাকা দেখা দিয়েছে। তার অবস্থা এমন যে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে আর হোস্টেলে রাখতে রাজি নয়।
এসব শুনে কয়েক দিন পর আমি নিজেই ভূতেদের বাড়ি যাই। ওর মা তখন শোক খানিকটা কাটিয়ে উঠেছে। মেয়েদের সঙ্গে নিয়ে ঘর-সংসারের কাজ করছে। ভূতের বাড়িটা এদিন ভালো করে দেখলাম। দেখি দেয়ালে খুব সুন্দর করে বৌ ছবি এঁকেছে। আমাকে দেখে সুন্দরী বসার জন্য খাটিয়া এগিয়ে দিল। খাটিয়ায় বসে, ওকে বললাম- হ্যাঁ রে ,সবাই তো ভূতকে দেখছে, তুই কি দেখেছিস?
ও ঘাড় নাড়লো। বলল, দেখেছি। বললাম, কিছু বলল তোকে?
হ্যাঁ, বলল তো। ভূত বলল, আমি মরে গেলাম। তুই দুটো ছেলেমেয়ে নিয়ে কোথায় যাবি। এই ঘরেই ভালো করে থাকিস। আর পারলে একটা বিয়ে করিস। শেষ কথাটা বলার সময় সুন্দরীর গলা একটু ধরে এল। সে চোখ নিচু করল।
আমি আর কিছু বলতে পারলাম না। কিন্তু বুঝে গেলাম ভূত এখন সত্যিই ভূত হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন:

সুন্দর যখন ভয়ংকর / হিন্দোল ভট্টাচার্য

দশ বছর আগের কথা। গেছিলাম ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স বলে এক অপরূপ জায়গায়। হিমালয়ের কোলে, এক…

পড়ুন

দিনলিপি/প্রবালকুমার বসু

ভেঙে যাওয়া স্বপ্নের কথা মনে পড়ে কথা দিয়ে না রাখতে পারার মতন অনর্থক গ্লানি  …

পড়ুন

গ প্ পো ১ – গ্যানগ্যানের দেখা পেলুম / বোধিসত্ব মৈত্রেয়

গ্যানগ্যানের দেখা পেলুম সেই সাত-সুমুদ্দুর তেরো নদীর পারের দেশে। সে বড় আজব দেশ। সে দেশের…

পড়ুন

কলসপুর যাইনি / অমর মিত্র

অনেকবার  দীপিকাকে বলেছি, কলসপুর নিয়ে যাব। বলতে গেলে সেই বিয়ের পর থেকে। আমাদের যাওয়া হয়নি।…

পড়ুন

চৌষট্টি যোগিনী সমীপে / শর্মিষ্ঠা দাস

ভুবনেশ্বর শহরে এসেছি । আকাশপথে আমাদের দুর্গাপুর থেকে এখন মোটে একঘন্টাও নয় । কাজে অকাজে…

পড়ুন

বাবা / মণিদীপা নন্দী বিশ্বাস

জানলার ধারে রোদ পোহাও তুমি কত দশক… সন্তানের কতগুলো ভুল ভুল কাজের নির্জন সাক্ষী হয়ে…

পড়ুন

জোয়ার / বেবী সাউ 

যেভাবে জলের কাছে লিখে রাখি ত্যাগসূত্র আদি—   শরীর, গোপন মায়া ধীরে ধীরে নামে কঠিন…

পড়ুন

বাঁশি / অংশুমান কর 

বাঁশি যখন বেজে যায় তখন কী যে হয় এই পৃথিবীতে! মনে হয় এক শূন্য মাঠের…

পড়ুন

স্পর্শ, স্পর্শাতীত… / সৌরভ মুখোপাধ্যায়

তাহলে আলোর কথা জেনে নেব কাহার সমীপে? তাহলে দুপুরশব্দ,একমনে পাখিটির স্নান? তবে কে জানাবে বলো…

পড়ুন

পথ রুধে রবীন্দ্রঠাকুর: বাংলা গানে পথ চলা/অভ্র বসু

সম্প্রতি একটি বিতর্কসভায় থাকবার সুযোগ হয়েছিল, যেখানে বিতর্কের বিষয় ছিল: রবীন্দ্রনাথের গান আর বর্তমান প্রজন্মের…

পড়ুন

কালীপুজোয় আকালীপুর / ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়

বাতাসে অল্প হিমেল গন্ধ আর সঙ্গে শিউলির শেষ রেশটুকুনি নিয়ে শহর ছেড়ে রাঙামাটির পথে পাড়ি…

পড়ুন

গ প্ পো ২ – ধেড়ে দত্তি আর গুণীন অ্যাডামের গপপো / বোধিসত্ব মৈত্রেয়

সে অনে-ক অনে-ক দিন আগেকার কথা। তখন সুমুদ্দুরের জল এরকম নোনা নয়। বেশ মিষ্টি জল।…

পড়ুন

ঘড়ি বন্ধ ছিল/বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়

লাফাতে লাফাতে বেরিয়ে যাবার পর টের পেলাম অনেকগুলো ভুল হয়ে গেছে। মাস্ক নিতে ভুলে গেছি।…

পড়ুন

গ প্ পো ৩ – ধেড়ে দত্তি স্যাক্সি আর হারমানের গপপো/ বোধিসত্ব মৈত্রেয়

টিং-টিং, টুং-টুং, এক ছোট্ট ঘণ্টার মিষ্টি আওয়াজ আসছে কোথা থেকে? হাতড়াতে থাকি এদিক ওদিক। জঙ্গুলে…

পড়ুন

তৃতীয় চোখের বসুধা / জগন্নাথ দেব মণ্ডল

আকাশ মেঘে ভার।টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছে। শরৎ সকালে বাজারে বিক্রিবাট্টা নেই । দোকানদার, খেটে খাওয়া, দিন…

পড়ুন

নির্বাচন / ঈশিতা ভাদুড়ী

কাকে বেছে নেব? অলিভপাতা, নাকি ধুঁতরোফুল? কে না জানে সঠিক নির্বাচন না হলে দু:খ পড়ে…

পড়ুন

নামকরণ / ঋজুরেখ চক্রবর্তী

কোনও একদিন তুমি সেই উন্মত্ত কিশোরবেলার নাম রাখতে চেয়েছিলে নিপীড়িত জনতার সরণি। প্রকৃতিতে তখন প্রতিটি…

পড়ুন

খন্দকার গলির অন্ধকার / অলোকপর্ণা

ঘুমের ভিতর হেঁটে বেরানো আজও থামলোনি জাহান আরার। জাজিমে গতর এলানো মাত্র সে ঘুমের সাগর…

পড়ুন

মা সম্পর্কিত / প্রিয়াঙ্কা চৌধুরী

কাকভোরে ঘুম ভাঙত। না, বোধহয় ভাঙাতেই হত। কয়েকটা চুড়ি-বালা-টুংটাং আওয়াজ- রান্নাঘর, পুজোঘর, উঠোন, শিউলিতলাজুড়ে সারাদিন…

পড়ুন

৩/৪ সি, তালতলা লেন / সুমিতা মুখোপাধ্যায়

বইয়ের নামঃ ৩/৪ সি, তালতলা লেন কবিঃ হিন্দোল ভট্টাচার্য আলোচকঃ সুমিতা মুখোপাধ্যায় ৩/৪ সি, তালতলা…

পড়ুন

কাঠামো / অর্ণব চৌধুরী

গাছের কোটরে ভাঙাচোরা দেবীমূর্তি আছে পড়ে আঁধার-মিনারে ফুটে ওঠে তার সমাহার নিরিবিলি পথে আমি তার…

পড়ুন

অঙ্ক / তৃপ্তি সান্ত্রা

শচীনদার বউ উষা বৌদি মায়া আর মীরাকে দেখে খুব খুশী হলেন। কতদিন পরে এলে। কেমন…

পড়ুন

আমাজনের চার অধ্যায়/চৈতালি চ্যাটার্জি 

কালো , আঁধারের মাঝে ;   কুচকুচে কালো চারিপাশ, তারই মাঝে কিছু আলোর বিন্দু ফুটে…

পড়ুন

প্রেম বলিনি/যশোধরা রায়চৌধুরী

আমি তোমার ছোট্টবেলার বোকা তুমি আমার আনন্দ জিমখানা আমি তোমার তাসের হাতের পোকার তুমি আমার…

পড়ুন

আমাকে আসলে কেমন দেখায় / নাসরীন জাহান

আমাকে কি খুব উদ্ভট দেখায় ? চক্রাকারে বাসটা মোচড় দিয়ে উঠতেই এমন একটা ভাবনা আমাকে…

পড়ুন

আপনার লেখা প্রকাশ করার জন্য

কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, অনুবাদ এবং অন্যান্য লেখা