কলসপুর যাইনি / অমর মিত্র

অনেকবার  দীপিকাকে বলেছি, কলসপুর নিয়ে যাব। বলতে গেলে সেই বিয়ের পর থেকে। আমাদের যাওয়া হয়নি। কতবার কলসপুর যাত্রা শুরুর মুখেই ভেস্তে গিয়েছে। আমি কলসপুরের   কাছাকাছি থেকে ঘুরে এসেছি বেশ কয়েকবার। কিন্তু যেতে পারিনি কেন যে–তা ঠিক ধরতে পারি না। ভেবেছিলাম একবার একাই ঘুরে আসব। কিন্তু শেষে মনে হয়েছে দীপিকা দুঃখ পাবে। লুকিয়ে না যাওয়াই ভালাে।

 

অফিসের কাজে আমাকে নানা জায়গায় ঘুরে বেড়াতে হয়। কখনও সঙ্গে কোনও সহকর্মী থাকে,  আবার কখনও এমন হয়, যেখানে গেলাম সেই সাহেবগঞ্জ ভাগলপুর, ভুবনেশ্বর, বালেশ্বর বা বহরমপুর, মালদা, শিলিগুড়ির সহকর্মীকে সেখানে পেয়ে গেলাম। যে অতিথিশালায় উঠি সেখানে পানীয় সামনে রেখে আমি কলসপুরের কথা বলি জড়ানাে গলায়। এত জায়গায় যাওয়া হল, কলসপুরে যাওয়া হয়নি।

 

আমি কলসপুরে যাইনি শুনে, আমার সহকর্মী হাসে-কী বলছ তুমি? সত্যি যাওনি? কেন ট্যুর নিয়েও তাে কলসপুরে যেতে পার।

 

আমার জোনের বাইরে, আর আমি একা গেলে দীপিকার আর যাওয়া হবে না।

 

 শুনে সহকর্মী বিস্মিত হয়—একবার গেলে হয় নাকি? কলসপুরে বারবার যেতে হয়।

 

আমি চুপ করে থাকি। কলসপুর যখন আমার জোনের ভিতরেই ছিল, তখন দীপিকাকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলতে ও মাথা নেড়েছিল—তা হয় না। তুমি অফিসের কাজ করে বেড়াবে। আর আমি হােটেলে বন্দি হয়ে থাকব। এভাবে বেড়াতে যায় না।

 

কথাটা মিথ্যে ছিল না। কোথাও আয়েশ করে হাত-পা ছড়িয়ে তাে অফিসের কাজ করা হয় না! মিটিং-এর পর মিটিং করতে হয়। ইন্সপেকশন হয় ছ’সাত ঘণ্টা ধরে। কলসপুরে গেলে অফিসের কাজে জড়িয়ে যেতে হবে—এই ভয়ে আমি আমার জোন থেকে বাদ দিয়ে দিলাম জায়গাটাকে। যখন যাব ভ্রমণকারীর মতাে যেতে পারব। সহকর্মী প্রীতিময় বলল, সে নিজেই কলসপুরে অনেকবার গিয়েছে।

    অনেকবার যাওয়ার মতাে জায়গা?

    নিশ্চয়ই! যে যায়নি সে বুঝবে কী করে?

    তুমি কলসপুরের সেই চন্দনা নদী দেখেছ? আমি জিগ্যেস করলাম।

     তুমি কী করে জানলে নদীটির নাম চন্দনা? প্রীতিময় অবাক।

     শুনেছি, খুব খরস্রোতা সেই নদী।।

     প্রীতিময় বলল, পাহাড়ি নদী ত! |

     আমি বললাম, পাহাড়ি নদী আমি অনেক দেখেছি।

     তা দেখতে পার, কিন্তু কলসপুরের নদী আলাদা, কলসপুরই আলাদা।

      অরণ্যের ভিতর শহরটা তাে?

      বাহ, তুমি দেখছি সব জানাে। যাও ঘুরে এসাে।

       যাব তাে নিশ্চয়ই, বলছি শালবনের ভিতরে ভিতরে বাড়ি-ঘর তাই না?

        প্রীতিময় বলল, বড় পাহাড়ের গায়ে গেস্ট হাউস।

       আচ্ছা ওই নদী, মানে চন্দনা, জঙ্গলের ভিতরে ঢুকে নাকি আচমকা হারিয়ে গিয়েছে? তাকে নাকি আর খুঁজে পাওয়া যায় না?

 

     প্রীতিময় বলল, তুমি নিশ্চয়ই কলসপুর গিয়েছ, না গেলে এত জানলে কী করে?

     আমার মাথা ভারী হয়ে যাচ্ছিল। চোখ টানছিল। প্রীতিময়ের কথা শুনে আমার মনে হল সত্যিই হয়তাে কলসপুরে গিয়েছি কোনও এক সময়। অনেক বছর আগে। হয়তাে আগের জন্মে! ভাবতে বেশ ভালাে লাগছিল।

 

     প্রীতিময় বলল, যারা কলসপুরে গিয়েছে অনেকবার, তারাও এত জানে না।

     আমি বিড়বিড় করে বললাম, নদীটা খুব নিঃসঙ্গ।।

     বলতে পারাে তা। নদী যেমন খরস্রোতা, তেমনই তার নানান বাঁক, ঘন জঙ্গলের ভিতরে বাঁক নিয়ে একেবারে মিলিয়ে গিয়েছে, কে একজন নদীর পাড় ধরে যেতে চেয়েছিল নদীর সঙ্গে। পরে তার মৃতদেহ পাওয়া যায় জঙ্গলের ভিতরে।

 

      আমি বললাম, চলাে প্রীতিময় দু’জনে ঘুরে আসি।

 

      প্রীতিময় বলল, নেশা হয়ে গেলে তুমি কলসপুর যাওয়ার কথা বলাে, যাও সত্যি সত্যি ঘুরে এসাে, এটা হাই-টাইম।

    হাই-টাইম কেন?

   এইসময় কলসপুরের জঙ্গলে পাতা ঝরে, পাহাড়ে পাহাড়ে সাতশাে রকম ফুল ফোটে। বাতাসে সবসময় ফুলের গন্ধ ভেসে থাকে। এই সময় অনেকে যায়।

     আমি ভাবছিলাম, যাব যাব করতে করতে, কলসপুর নিয়ে নানা কথা বলতে বলতে, শুনতে শুনতে এই বসন্তও কেটে যাবে। কলসপুর আমার যাওয়া হবে না। তবু প্রীতিময়কে জিগ্যেস করলাম, তুমি বসন্তে গিয়েছ?

 

    মাথা নাড়ল প্রীতিময়। সে গিয়েছে বর্ষায়। বর্ষায় পাহাড়গুলাে মাথায় ঘন মেঘ কুণ্ডলী পাকিয়ে থাকে। জঙ্গল দুর্ভেদ্য হয়ে ওঠে। জঙ্গলের ভিতর গড়ে ওঠা কলসপুর শহরটিও ছেয়ে যায় বুনাে গাছগাছালিতে। শালগাছের গা দিয়ে সোঁদা গন্ধ বেরােয়। শুনতে শুনতে আমি বললাম, তুমি বর্ষায় বা যাও কেন?

 

   প্রীতিময় বলল, ওইসময় আমার ওয়াইফ একটু ফ্রি হয়, ওর কোনও ছুটি নেই বলতে গেলে, রেনি সিজনে একটু ফুরসত পায়।

    আমি বললাম, তা হলে আর কলসপুরের কী দেখলে, বসন্তেই যদি দেখতে না পেলে সাতশাে রকমের ফুল, জঙ্গলে পাতা ঝরা! তবে গিয়ে কী লাভ?

 

   প্রীতিময় গম্ভীর হয়ে বসে থাকল। আমি ওকে কলসপুরের কথা শােনাতে লাগলাম।

 

                                            দুই

সহকর্মী শুভময়ের বাড়ি গেলাম শিলিগুড়ি ট্যুরে গিয়ে। হাই রােডের ধারে কী চমৎকার বাড়ি করেছে শুভময়। ওর একটি ছেলে, দিল্লিতে নামি বহুজাতিক কোম্পানিতে চাকরি করে। তিনবার আমেরিকা ঘুরে এসেছে, নায়াগ্রা জলপ্রপাত দেখে এসেছে। শুভময়রা স্বামী-স্ত্রী এর ভিতরেই জীবনের অনেক কর্তব্য সমাপন করে ফেলে ঝাড়া হাত-পা। ওর স্ত্রী স্কুল টিচার। শুভময় ভলান্টারি রিটায়ারমেন্ট নিয়ে অনেক টাকা পেয়েছে অফিস থেকে। সব সুদে খাটাচ্ছে। সুদের টাকাতেই কত আনন্দ শুভময়ের। ওর স্ত্রীর হাতে বানানাে আঙুর থেকে তৈরি ওয়াইনে চুমুক দিয়ে শুভময় বলল, তিরিশ লাখ ইনট্যাক্ট আছে ব্যাংকে, শুধু সুদটা তুলি, কলসি ফুরােচ্ছে  না , অথচ জল পাচ্ছি বিধান।

   আমি জিগ্যেস করলাম, কলসপুর গিয়েছ তুমি?

 

   শুভময় বলল, অনেকবার, কতবার—তা হিসেবে নেই।

   অনেকবার যাওয়ার মতাে জায়গা?

   শুভময় ঘাড় কাত করে বলল, হ্যাঁ বিধান,  তবে আমার ভালাে লাগে কলসপুর যাওয়ার রাস্তা, চড়াই-উতরাই, জঙ্গল প্রান্তর, কখনও নদীর ধার দিয়ে, কখনও গ্রামের ভিতর দিয়ে, কখনও জঙ্গলে আদিবাসী গ্রামের পাশ দিয়ে..

 

    শুভময় সুর করে বলে যাচ্ছিল। তার সঙ্গে আমিও গলা মেলালাম, কখনও শপিং মলের পাশ দিয়ে, কখনও মস্ত ইস্পাত কারখানা ফেলে রেখে, কখনও সুইমিংপুলের নীল হাওয়ায়  জেগে জেগে ঘুমােতে ঘুমােতে।

     শুভময় বলল, এই তাে তুমি গিয়েছ, ঠিক গিয়েছ।

    কী চমৎকার ফুরফুরে ভাব এসেছে মনের ভিতরে। আমি বললাম, কতবার গিয়েছি, মনে মনে গিয়েছি শুভময়। মনে মনে যাওয়াও তাে যাওয়া!

     শুভময় বলল, একতরফা ভালবাসার মতাে, মনে মনে উত্তমকুমারকে কতজন ভালবাসত, কিন্তু জীবনে উত্তমকুমারকে সশরীরে দেখেনি। কিন্তু তােমার তা নয়। কলসপুরে আগে শপিং মল ছিল না, এখন হয়েছে, ট্যুরিস্টরা কেনাকাটা করছে খুব, শপিং করার জন্যই কতজন যাচ্ছে কলসপুর, শপিং করে ফিরে আসছে।

 

    আমি তখন ওকে নদীর কথা বললাম। শুনতে শুনতে শুভময় বলল, এই সময় জঙ্গলের ভিতরে অনেকটা ঢুকে যাওয়া যাবে। পাতা ঝরছে ত! নদীটা ভালাে করে দেখতে পাবে।

 

   আমি বললাম, জানি, হলুদ শুকনাে পাতায় ছেয়ে থাকে মাটি।

 

   হাসল শুভময়, ভালই তাে জান সব, কতবার গিয়েছ?

   আমি বললাম, সহস্রবার, এই সময়ে একটা পাখি, তার গায়ে সাতটি রং…।

   আমাকে কথা শেষ করতে না দিয়ে শুভময় বলে, জানি, ওই পাখির নাম কুবাই।

   পাখিটাকে দেখা যায় শুধু এই সময়, তাই তাে?

   শুভময় বলল, সে দেখেনি, শুনেছে পাখিটার কথা, কলসপুরে গিয়ে তাস খেলতে তার খুব ভালাে লাগে, সে আর তার বউ মল্লিকা, একবার সমস্ত দিন ধরে টোয়েন্টিনাইন খেলছিল, আরও দুজন ট্যুরিস্টকে ডেকে নিয়ে।

   ফুরফুরে মেজাজে আমি বললাম, আমি গেলে ব্রিজ খেলব।

   হা হা করে হাসল শুভময়। বলল, তা হলে বােঝাে, কলসপুরে গিয়ে তাস খেলে কী  আনন্দ! জঙ্গল, পাহাড়, নদী, কুবাই পাখি, আদিবাসী বুড়াে-বুড়ি দেখতে হল না, শুধু রঙ  মিলিয়ে পয়সা ফ্যালাে, তাসের জুয়াে খ্যালাে, কী আনন্দ বলাে!

 

   হুঁ। আমি টের পাচ্ছিলাম, কলসপুরকে নিয়ে এভাবে কথা বলা ঠিক নয়।

 

    শুভময় বলল, কলসপুরকে তার মনে থাকবে, কলসপুরে গিয়ে একবার পাঁচ হাজার দুশো বিয়াল্লিশ টাকা জুয়ায় জিতেছিল সে, আমাকে ওখানে গিয়ে জুয়ায় বসতে বলল শুভময়। অনেক জিততে পারব। কলসপুরে গিয়ে নাকি কেউ হারে না।।

 

   চুপ করে আছি। মনে পড়ে যাচ্ছে, বার চারেক টিকিট কেটেও আমাদের যাত্রা করা হয়নি। একবার মেয়ের জ্বর এল খুব। শেষে কলসপুরের টিকিট বাতিল করতে হল। একবার যাব  সব ঠিকঠাক, আচমকা আমাদের কোম্পানির মালিক নিউইয়র্ক থেকে উড়ে এলেন। জরুরি  মিটিং, সকলকে থাকতে হবে। আর একবার কী যেন হল। টিকিট বাতিল করে  থেকে গেলাম কলকাতায়। দেখেছি  কলসপুর যাওয়া ঠিক হয়ে গেলেই, একটা না একটা বিঘ্ন ঘটে যায়।

 

   আমার কথা শুনে শুভময় বলে, সত্যি যদি তুমি না গিয়ে থাকো বিধান, তবে বলব কলসপুর যাওয়া নিয়ে তােমার মনের ভিতর দ্বিধা আছে। সেই দ্বিধা থেকেই বিঘ্ন ঘটে যায়। | একবার আমি আর আমার ছেলে দু’জনেই জ্বর গায়ে ট্রেনে উঠেছিলাম বিধান। ট্রেন থেকে নেমে…ট্রেকারে করে কলসপুর পৌছতে না পৌছতে জ্বর উবে গেল। একেবারে ফিট। কী। সুন্দর কেটেছিল!

 

    হতে পারে হয়তাে। কলসপুর নিয়ে আর কথা বলতে ইচ্ছে হচ্ছিল না। শুভময় বলছে, আমার মতাে লােক নাকি দেখা যায় না। কলসপুর যায়নি এমন লােক খুঁজে পাওয়াই ভার। শুভময় আরও বলল, আমি এক অদ্ভুত মানুষ। কলসপুরের অনেক কিছু জানি, অথচ নাকি যাইইনি। কে বিশ্বাস করবে আমার কথা? না কি আমি গিয়ে কোনও গােলমাল করে এসেছি কলসপুরে? আমি কি জঙ্গলে ঢুকে পড়ে, নদীর জলে গা মাজতে থাকা যুবতীদের দেখেছি? তারপর কী হয়েছিল, তা তাে আমিই জানি।

 

তুমি শেষ কবে গিয়েছিলে ওখানে? আমি জিগ্যেস করলাম। শুভময় জবাব দিল না।। গুনগুন করে গান গাইতে লাগল, কলসপুরে যাইয়াে রে মন কলসপুরে যাইয়াে।

 

                                                            তিন

    বাড়ি ফিরে দীপিকাকে বললাম, চলাে এবার ঘুরে আসি কলসপুর, ছুটি নিচ্ছি।

    দীপিকা ঘুরে দাঁড়ায়, হঠাৎ কলসপুর?

    যাইনি তাে, সবাই গিয়েছে, শুধু আমরা বাকি।

    দীপিকা আমাকে অবাক করে দিয়ে বলল, আমরা তাে কত জায়গায় যাইনি!

 

    আমি চুপ করে আছি। দীপিকা যে এভাবে আমাকে নিরাশ করবে, তা আগে ভাবিনি। জানলার ধারে গিয়ে আকাশ দেখতে দেখতে দীপিকা বলল, যখন বয়স ছিল, তখন যাওয়া হয়নি। এখন গিয়ে কী করব?

 

    দেখব, এখন বসন্ত এসেছে, সাতশাে রকম ফুল ফুটেছে কলসপুরের পাহাড়ের গায়ে। পাতার আড়ালে থাকা কুবাই পাখিকে দেখা যাচ্ছে পাতা ঝরে যাওয়ার কারণে। চলাে ঘুরে আসি, এত শুনেছি এবার চোখে দেখে আসি।

 

    তুমি গৌরীদির কাছে যাও, ওরা ঘুরে এল পরশু, শুনে এসাে কলসপুর কেমন।

    দীপিকার মাসতুতাে দিদি গৌরী আর তার হাজব্যান্ড অনুপম—অনেকবার গিয়েছে কলসপুর। এখনও যায়। ওদের দুজনের পায়ের তলায় যেন সর্ষে! সমস্ত দেশ ঘুরে বেড়ায়। ওদের মুখে কতবার যে শুনেছি কলসপুরের কথা! ওদের মধুচন্দ্রিমাও নাকি হয়েছিল ওখানে। কী চমৎকার বলত! সেখানে তারার আলােও গাছের পাতা থেকে গড়িয়ে মাটিতে এসে ঘুমােয়। আবার যখন মেঘের জন্য তারারা ফোটে না, অন্ধকারের কী আবছা নীলচে রং। কলসপুরে সব যেন কলসভরা হয়ে আছে।

   গৌরীদি কী বলল, আমি জিগ্যেস করলাম।

   ওর কাছেই শুনে নিয়াে।

 

   চললাম গৌরীদির কাছে। দীপিকার দিদি আমারই বয়সি, কিংবা আমার চেয়ে বছরখানেকের ছােট। সওয়া পাঁচফুট মাথায়, ছিপছিপে। সুন্দরী তাে নিশ্চয়। গৌরী যখন গ্রীবা বাঁকিয়ে ধীরে ধীরে কথার জবাব দেয়, ওর কণ্ঠস্বর, বাচনভঙ্গি আমাকে মুগ্ধ করে। দীপিকা বলে ওদের আত্মীয়স্বজনের ভিতর গৌরীদির তুল্য সুন্দরী আর নেই। কোনও সিনেমাওয়ালা ওর কাছে সিনেমার অফার নিয়ে এসেছিল, গৌরীদি হেলায় না করে ছিল। খুব অহংকারী। গৌরীর হাজব্যান্ড অনুপম খুব স্বাস্থ্যবান দীর্ঘদেহী পুরুষ। গায়ের রং তামাটে, চোখ দুটি যেন আগুনভরা। মানুষটার ভিতরে লালিত্য কম, পৌরুষ বেশি। সিনেমায়-টিভিতে এমন পুরুষকে দেখা যায় ব্রিফ অথবা ভেস্ট-এর বিজ্ঞাপনে। অনুপমদাকে কখনও কখনও আমার ভয় করে। আমাকে অনেকদিন বাদে দেখে গৌরী খুশি হল। বলল, কে পাঠাল, দীপিকা?

 

 ,   না নিজেই এলাম।

    গৌরী হাসল, মাথা নাড়ল-হতেই পারে না, তােমার এত সাহস নেই।

    আমি বললাম, অনুপমদা কোথায়?

     ফিরবে, আমি ওকে বিলাসপুরের গেস্ট হাউসের খোঁজ নিয়ে আসতে বলেছি।

     জিগ্যেস করলাম, এরমধ্যে কলসপুর গিয়েছিলে?

   গৌরী বিষণ্ণ  গলায় বলল, হ্যাঁ, আর আমি লক্ষ করেছি, প্রতিবার যখন কলসপুর থেকে ফিরি, তুমি আসো  বিধান, প্রতিবার কলসপুরের কথা শােনাে, কেন বলাে দেখি?

 

  কলসপুর যাব তাই।

  কতবার শুনেছ, একবারও তাে যাওনি!

  না, তাই বলে যাব না, এমন তাে নয়! কলসপুর কেমন আছে বলাে।

 

  গৌরী চুপ করে থাকল। ওর অত সুন্দর মুখ অন্ধকার হয়ে গেল। ধীরে ধীরে বলল, “আমি বেশ কয়েকবার ফিল করছিলাম, কিছু একটার অভাব হয়ে যাচ্ছে ওখানে, ছমাস আগে, এক বছর আগে, দেড় বছর আগে…।”

     আমি চুপ করে গৌরীর কথা শুনছি। মাথার ওপর বনবন করে পাখা ঘুরছে। কলকাতায় আচমকা গরম পড়ে গিয়েছে। গৌরী বলল, এতদিন যখন যাওনি, এখন না গেলেই হয়।

 

    কেন কী হল কলসপুরে?

    গৌরী বলল, শুনতে তােমার ভালাে লাগবে না বিধান।

    কেন, সেই চন্দনা নদী, নদী আছে?

    গৌরী বলল, নদী যাবে কোথায়? তার যাওয়ার রাস্তা তাে ওইটা…আছে তবে ওর জলে কোনও মাছ বেঁচে থাকে না।

     শুনিনি তাে আগে ?

     ওর জলে স্নানও হয় না।

     আমি বললাম, আগে তাে বলনি ?

     আগে খেয়াল করিনি বিধান, জল বিষাক্ত হয়ে গিয়েছে অ্যাসিড কারখানার বিষে, দূর  থেকে দেখতে নদীটা তেমনই আছে, কিন্তু যদি সামনে যাও, টের পাবে।

     সাতশাে রকম ফুল ফুটেছে তাে।

      গৌরী বলল, পাহাড়ের গায়ে তাে ফোটে, পাহাড় ভাঙছে ডিনামাইটে, স্টোন ক্রাশার  বসে গিয়েছে, ধুলাে উড়ছে সবসময়, ফুল ঝরে যাচ্ছে অকালে।

      আগে খেয়াল করােনি?

 

    না বিধান, ভেবেছিলাম কলসপুর দ্রুত বড় হয়ে উঠবে, এসব তত উন্নতির লক্ষণ। থমথমে হয়ে যাচ্ছিল ঘর। পাখাও যেন থেমে যেতে চাইছিল। গৌরী  বলছে, কলসপুরের পূর্ণ কলস অপূর্ণ হতে শুরু করেছে বিধান,  খালি হয়ে যাচ্ছে যে, তা কেউ টের পাচ্ছে। না।

 

     কী করলে এবার গিয়ে?

     কিছুই করিনি, গেস্ট হাউসে বসেছিলাম।

     তাস খেলেছ?

     গৌরী গম্ভীর, ঘাড় উঁচু করে বলল, না বিধান, আমি তাস চিনি না।

 

    জঙ্গলে পাতা ঝরছে তাে?

 

   ঝরছে, আর সেই পাতায় আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে অ্যাসিড কোম্পানির লােক।

   কেন গৌরী তাদের কী লাভ?

   খেলা বিধান, ওই আগুনে কতগুলাে শাল-মহুয়া পুড়ে গেল, কুবাই পাখি পালিয়ে গেল, কত জীব্জন্তু মারা গেল, শজারু, বাঘরোল, বনবিড়াল, খটাস, সাপ, ব্যাঙ, আদিবাসীদের  ঘর পুড়ে গেল কতগুলাে—সব খেলার ছলে হল।

 

   থমথমে হয়ে গিয়েছি। খেলার ছলে!

   গৌরী একটু থেমে আবার বলল, এই খেলার পিছনে কী আছে জানি না, কিন্তু মানুষ পালাচ্ছে নদীর সঙ্গে, জন্তু জানোয়ার পালাচ্ছে মানুষের আগে আগে, মানুষ  কোলেকাঁখে  বাচ্চা নিয়ে মাথায় বাক্সপেটরা নিয়ে পালাচ্ছে বিধান, ভয়ে পালাচ্ছে যুবতিরা, কতজন যে নিরুদ্দেশ হয়েছে!

 

    তুমি এসব দেখেছ?

    না শুনেছি।

    যেমন আমি শুনেছি কলসপুরের রূপের কথা ?

 

    বিষণ্ণ গৌরী বলল, হ্যাঁ  বিধান, বলতে পারাে সেইরকম।

   তুমি তাে দেখতে পারতে নিজের চোখে, ছিলে তাে কলসপুরে।

  গৌরী বলল, যাব যাব করে যাওয়া হয়নি, জঙ্গল যে পুড়ে গিয়েছে ভিতরে ভিতরে, মানুষ যে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছে নদীর সঙ্গে, পাহাড় যে ভাঙছে, হারিয়ে গিয়েছে যে যুবতি  মেয়েরা, ফুল যে ধুলােয় রং হারিয়ে ঝরে পড়ছে—একথা তাে শুনেছি বিধান।

 

     যেমন আমি শুনেছিলাম কলসপুরের নদী, পাখি, ফুল, পাহাড়, জঙ্গলের রূপের কথা। দেখা হয়নি, কিন্তু শুনেছি কতবার! .

 

  হ্যাঁ বিধান হ্যাঁ, কতজন যে এসে বলল, আদিবাসী বুড়াে, বুড়ি, কলসপুরের পুরনাে মানুষ, কলসপুরে বেড়াতে যাওয়া মানুষ—শুনতে শুনতে সব দেখতে পাচ্ছিলাম বিধান,  অবিকল, কী হয়েছে সব হুবহু বলে দিতে পারি!

 

    আমার মতাে আমার মতাে! আমি কাপতে লাগলাম গৌরীর কথা শুনে। অ্যাসিড কোম্পানি জায়গা দখল করতে এবার পােড়া গাছ কাটবে, তারপর না-পােড়া গাছ কাটবে, জঙ্গল ফাঁকা করবে, করাতকল বসছে কলসপুরে, টিম্বার মার্চেন্টও হাজির।

 

    গৌরী বিনবিন করে সব বলে যাচ্ছিল। আমি ভেঙে পড়ছিলাম। চূর্ণ হয়ে যাচ্ছিলাম ডিনামাইটে ফাটা পাহাড়ের মতাে। ক্রাশারে গুঁড়াে হয়ে ধুলাের মতাে ঝরে পড়ছিলাম আমি, আমার সাধের কলসপুরকে নিয়ে। গৌরী আমাকে বলতে লাগল। আমি উঠতে যাব আমার হাত ধরে বলল, বােসাে বিধান, শেষ হয়নি বলা।

 

    রাতে দীপিকা জিগ্যেস করল, সব শুনে এলে?

    হ্যাঁ।

    অনুপমদা ছিল?

     না।

    দীর্ঘনিশ্বাস পড়ল দীপিকার, বিড়বিড় করল, ওরা তাে শুনে এসেছে, দেখেনি, চলাে আমরা কলসপুরের সর্বনাশ ছুঁয়ে আসি—তা যদি সত্য হয়।

আরও পড়ুন:

বাঁশি / অংশুমান কর 

বাঁশি যখন বেজে যায় তখন কী যে হয় এই পৃথিবীতে! মনে হয় এক শূন্য মাঠের…

পড়ুন

গুঁড়োমশলা/কাবেরী গোস্বামী

সে এখন একটি অচল পয়সার মতন ফিরেও তাকায় না আর কেউ কারণ, সে আজ শুষ্ক…

পড়ুন

বাবা / মণিদীপা নন্দী বিশ্বাস

জানলার ধারে রোদ পোহাও তুমি কত দশক… সন্তানের কতগুলো ভুল ভুল কাজের নির্জন সাক্ষী হয়ে…

পড়ুন

অনন্ত সংলাপ/অর্পিতা কুণ্ডু

আমি: ঢেউ তো প্রোজ্জ্বল, তাতে তুমি বসে আছ শিরোচূড়ামণি। হাটের নাগর তুমি, ভিটায় নিমিত্ত সামগান…

পড়ুন

পুরনো দিন নতুন দিন/শংকর চক্রবর্তী

মনে পড়ে সেইসব রবীন্দ্র-গানের সকাল সূর্যাস্তের থেকে মুক্তি পেয়ে ভাবলেশহীন কোনো সন্ধের পাশে বেজে উঠত…

পড়ুন

গ প্ পো ৩ – ধেড়ে দত্তি স্যাক্সি আর হারমানের গপপো/ বোধিসত্ব মৈত্রেয়

টিং-টিং, টুং-টুং, এক ছোট্ট ঘণ্টার মিষ্টি আওয়াজ আসছে কোথা থেকে? হাতড়াতে থাকি এদিক ওদিক। জঙ্গুলে…

পড়ুন

অঙ্ক / তৃপ্তি সান্ত্রা

শচীনদার বউ উষা বৌদি মায়া আর মীরাকে দেখে খুব খুশী হলেন। কতদিন পরে এলে। কেমন…

পড়ুন

দিনলিপি/প্রবালকুমার বসু

ভেঙে যাওয়া স্বপ্নের কথা মনে পড়ে কথা দিয়ে না রাখতে পারার মতন অনর্থক গ্লানি  …

পড়ুন

পিতা নোহসি/প্রতিভা সরকার

‘এই রানি, তোর বাবা সবসময় আমার বুকের দিকে তাকায়া তাকায়া কথা কয় ক্যান রে? বুড়াটা…

পড়ুন

এ এক ‘অচেনা’ দেশ/পার্থ মুখোপাধ্যায়

আমরা যখন গতির নেশায় ছুটছি, যখন আমাদের চারপাশ ‘স্মার্ট সিটি’ আর ‘ক্যাশলেস’ হওয়ার উৎসবে মেতেছে,…

পড়ুন

গ প্ পো ২ – ধেড়ে দত্তি আর গুণীন অ্যাডামের গপপো / বোধিসত্ব মৈত্রেয়

সে অনে-ক অনে-ক দিন আগেকার কথা। তখন সুমুদ্দুরের জল এরকম নোনা নয়। বেশ মিষ্টি জল।…

পড়ুন

শহর/বিজয় সিংহ

ফেরার আগে যে তুমি অহৈতুকী ছিলে ফেরার পরে যে প্রাক গোধূলিরা অপ্রবাসে ঢোকে ফক্স কে…

পড়ুন

গ প্ পো ৫ – কুঁড়ে নিক্কির গল্পো/ বোধিসত্ব মৈত্রেয়

‘তা তোমার কৃষ্টাবেলের কি হোলো –’ তাড়া দিল স্কুয়া।   ‘কৃষ্টাবেলের কথা পরে। আরে নিক্কির…

পড়ুন

কানুর বিয়ে/সুবর্ণা মণ্ডল

কানুর সেদিন খুব কান চুলকাচ্ছিল। আগের দিনের যে পায়রাটা হাত থেকে ফসকে গিয়ে শুধু একটা…

পড়ুন

আমাজনের চার অধ্যায়/চৈতালি চ্যাটার্জি 

কালো , আঁধারের মাঝে ;   কুচকুচে কালো চারিপাশ, তারই মাঝে কিছু আলোর বিন্দু ফুটে…

পড়ুন

স্পর্শ, স্পর্শাতীত… / সৌরভ মুখোপাধ্যায়

তাহলে আলোর কথা জেনে নেব কাহার সমীপে? তাহলে দুপুরশব্দ,একমনে পাখিটির স্নান? তবে কে জানাবে বলো…

পড়ুন

কাজের ভাষা, মুখের ভাষা/স্বপ্নময় চক্রবর্তী

যিনি কাঠের কাজ করেন, উনি বললেন, ‘এই কাঠের জিনিসগুলোকে আলাদা করে পালিশ করাবেন কেন? দোকান…

পড়ুন

সুন্দর যখন ভয়ংকর / হিন্দোল ভট্টাচার্য

দশ বছর আগের কথা। গেছিলাম ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স বলে এক অপরূপ জায়গায়। হিমালয়ের কোলে, এক…

পড়ুন

খন্দকার গলির অন্ধকার / অলোকপর্ণা

ঘুমের ভিতর হেঁটে বেরানো আজও থামলোনি জাহান আরার। জাজিমে গতর এলানো মাত্র সে ঘুমের সাগর…

পড়ুন

পথ রুধে রবীন্দ্রঠাকুর: বাংলা গানে পথ চলা/অভ্র বসু

সম্প্রতি একটি বিতর্কসভায় থাকবার সুযোগ হয়েছিল, যেখানে বিতর্কের বিষয় ছিল: রবীন্দ্রনাথের গান আর বর্তমান প্রজন্মের…

পড়ুন

৩/৪ সি, তালতলা লেন / সুমিতা মুখোপাধ্যায়

বইয়ের নামঃ ৩/৪ সি, তালতলা লেন কবিঃ হিন্দোল ভট্টাচার্য আলোচকঃ সুমিতা মুখোপাধ্যায় ৩/৪ সি, তালতলা…

পড়ুন

মুষলপর্ব/বেবী সাউ

শূন্যতার রং নিয়ে বড়ো বেশি ভেবে চলো তুমি অথচ জলের কাছে প্রতিদিন শিখে নিই নীল…

পড়ুন

কালীপুজোয় আকালীপুর / ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়

বাতাসে অল্প হিমেল গন্ধ আর সঙ্গে শিউলির শেষ রেশটুকুনি নিয়ে শহর ছেড়ে রাঙামাটির পথে পাড়ি…

পড়ুন

দি লাস্ট মিটিং/সমরজিৎ সিংহ

একটি রাস্তা । তারপর, আবার রাস্তা । তারপর সমাধি । তার উপর চাঁদের ছায়া ।…

পড়ুন

মন্দির দেখা সহজ নয়/শ্রীলা বসু

বেড়ানোর পোকাটা আমার মাথায় এসেছে প্রধানত পৈতৃক সূত্রে। বাবার হাতে ম্যাপ টাইম টেবিল দেখতাম হরদম।…

পড়ুন

নামকরণ / ঋজুরেখ চক্রবর্তী

কোনও একদিন তুমি সেই উন্মত্ত কিশোরবেলার নাম রাখতে চেয়েছিলে নিপীড়িত জনতার সরণি। প্রকৃতিতে তখন প্রতিটি…

পড়ুন

নির্বাচন / ঈশিতা ভাদুড়ী

কাকে বেছে নেব? অলিভপাতা, নাকি ধুঁতরোফুল? কে না জানে সঠিক নির্বাচন না হলে দু:খ পড়ে…

পড়ুন

শিশিরকুমার দাশ: খুঁজে ফিরি কর্ণ, কর্ণের সহোদর/মোস্তাক আহমেদ

মৃত্যুলগ্ন পার হয়ে যতবার গিয়েছি নিঃসীমে বিদ্যুতের দীপ হাতে: অন্ধকারে আকাশের বিস্তৃতি অপার বিদ্রোহী ঝড়ের…

পড়ুন

তৃতীয় চোখের বসুধা / জগন্নাথ দেব মণ্ডল

আকাশ মেঘে ভার।টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছে। শরৎ সকালে বাজারে বিক্রিবাট্টা নেই । দোকানদার, খেটে খাওয়া, দিন…

পড়ুন

জোয়ার / বেবী সাউ 

যেভাবে জলের কাছে লিখে রাখি ত্যাগসূত্র আদি—   শরীর, গোপন মায়া ধীরে ধীরে নামে কঠিন…

পড়ুন

ভূতপূর্ব ভূত / অহনা বিশ্বাস

ভূতের নাম যে ভূত -গোটা গ্রাম সে কথা জানে। একবার রাস্তা থেকে ডেকে ওর মা…

পড়ুন

চৌষট্টি যোগিনী সমীপে / শর্মিষ্ঠা দাস

ভুবনেশ্বর শহরে এসেছি । আকাশপথে আমাদের দুর্গাপুর থেকে এখন মোটে একঘন্টাও নয় । কাজে অকাজে…

পড়ুন

পিরিত/অভিমন্যু মাহাত

খুব টানটান ছিল বেদনা যত দিন যায় ভুল বাড়ে, প্রবঞ্চনাও বাড়ে স্মৃতিভ্রষ্ট সুতোয় পিরিতের বহি…

পড়ুন

গ প্ পো ৪ – পুঁটে দত্তিদের গপ্পো/ বোধিসত্ব মৈত্রেয়

টাটকা-ঝরা ঝুরো বরফের রাশ ঠেলে এগুচ্ছি আমি আর স্কুয়া। ধু ধু ফাঁকা রাজ্যিটা ভরা অরোরার…

পড়ুন

বিমর্ষ জল ও উড়ন্ত লাল কার্পেট/গৌতম গুহ রায়

খবরটা সরাসরি ওকে দেয়নি কেউ, কিন্তু সকাল থেকেই বাড়িতে ফিশফিশ করা চাপাস্বরের কথাগুলো তার কানে…

পড়ুন

প্রেম বলিনি/যশোধরা রায়চৌধুরী

আমি তোমার ছোট্টবেলার বোকা তুমি আমার আনন্দ জিমখানা আমি তোমার তাসের হাতের পোকার তুমি আমার…

পড়ুন

মা সম্পর্কিত / প্রিয়াঙ্কা চৌধুরী

কাকভোরে ঘুম ভাঙত। না, বোধহয় ভাঙাতেই হত। কয়েকটা চুড়ি-বালা-টুংটাং আওয়াজ- রান্নাঘর, পুজোঘর, উঠোন, শিউলিতলাজুড়ে সারাদিন…

পড়ুন

একা মানুষ, পঞ্চাশ অস্তিত্ব/চণ্ডী মুখোপাধ্যায়

বইয়ের নামঃ পেসোয়া অ্যান এক্সপেরিমেন্টাল লাইফ লেখক: রিচার্ড জেনিথ প্রকাশক: পেঙ্গুইন বুকস আলোচকঃ চণ্ডী মুখোপাধ্যায়…

পড়ুন

খেলার দৃশ্যান্তর/অনির্বাণ বসু

একতলা ক্লাবঘর। ন্যাড়া ছাদ। কাঠের দরজা। কোলাপ্সিবল। লাল মেঝেয় কালো বর্ডার। পলেস্তরা-খসা দেয়াল হালকা ঈষৎ।…

পড়ুন

আমাকে আসলে কেমন দেখায় / নাসরীন জাহান

আমাকে কি খুব উদ্ভট দেখায় ? চক্রাকারে বাসটা মোচড় দিয়ে উঠতেই এমন একটা ভাবনা আমাকে…

পড়ুন

তোমার প্রিয় কাব্যগ্রন্থের নাম/বর্ণালী কোলে

(১) বিদ্রোহ শান্ত হয়ে আসছে, শান্ত হয়ে আসছে জলকামান আক্রোশ শান্ত হয়ে আসছে, শান্ত হয়ে…

পড়ুন

কাঠামো / অর্ণব চৌধুরী

গাছের কোটরে ভাঙাচোরা দেবীমূর্তি আছে পড়ে আঁধার-মিনারে ফুটে ওঠে তার সমাহার নিরিবিলি পথে আমি তার…

পড়ুন

গ প্ পো ১ – গ্যানগ্যানের দেখা পেলুম / বোধিসত্ব মৈত্রেয়

গ্যানগ্যানের দেখা পেলুম সেই সাত-সুমুদ্দুর তেরো নদীর পারের দেশে। সে বড় আজব দেশ। সে দেশের…

পড়ুন

ঘড়ি বন্ধ ছিল/বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়

লাফাতে লাফাতে বেরিয়ে যাবার পর টের পেলাম অনেকগুলো ভুল হয়ে গেছে। মাস্ক নিতে ভুলে গেছি।…

পড়ুন

আপনার লেখা প্রকাশ করার জন্য

কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, অনুবাদ এবং অন্যান্য লেখা