কলসপুর যাইনি / অমর মিত্র

অনেকবার  দীপিকাকে বলেছি, কলসপুর নিয়ে যাব। বলতে গেলে সেই বিয়ের পর থেকে। আমাদের যাওয়া হয়নি। কতবার কলসপুর যাত্রা শুরুর মুখেই ভেস্তে গিয়েছে। আমি কলসপুরের   কাছাকাছি থেকে ঘুরে এসেছি বেশ কয়েকবার। কিন্তু যেতে পারিনি কেন যে–তা ঠিক ধরতে পারি না। ভেবেছিলাম একবার একাই ঘুরে আসব। কিন্তু শেষে মনে হয়েছে দীপিকা দুঃখ পাবে। লুকিয়ে না যাওয়াই ভালাে।

 

অফিসের কাজে আমাকে নানা জায়গায় ঘুরে বেড়াতে হয়। কখনও সঙ্গে কোনও সহকর্মী থাকে,  আবার কখনও এমন হয়, যেখানে গেলাম সেই সাহেবগঞ্জ ভাগলপুর, ভুবনেশ্বর, বালেশ্বর বা বহরমপুর, মালদা, শিলিগুড়ির সহকর্মীকে সেখানে পেয়ে গেলাম। যে অতিথিশালায় উঠি সেখানে পানীয় সামনে রেখে আমি কলসপুরের কথা বলি জড়ানাে গলায়। এত জায়গায় যাওয়া হল, কলসপুরে যাওয়া হয়নি।

 

আমি কলসপুরে যাইনি শুনে, আমার সহকর্মী হাসে-কী বলছ তুমি? সত্যি যাওনি? কেন ট্যুর নিয়েও তাে কলসপুরে যেতে পার।

 

আমার জোনের বাইরে, আর আমি একা গেলে দীপিকার আর যাওয়া হবে না।

 

 শুনে সহকর্মী বিস্মিত হয়—একবার গেলে হয় নাকি? কলসপুরে বারবার যেতে হয়।

 

আমি চুপ করে থাকি। কলসপুর যখন আমার জোনের ভিতরেই ছিল, তখন দীপিকাকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলতে ও মাথা নেড়েছিল—তা হয় না। তুমি অফিসের কাজ করে বেড়াবে। আর আমি হােটেলে বন্দি হয়ে থাকব। এভাবে বেড়াতে যায় না।

 

কথাটা মিথ্যে ছিল না। কোথাও আয়েশ করে হাত-পা ছড়িয়ে তাে অফিসের কাজ করা হয় না! মিটিং-এর পর মিটিং করতে হয়। ইন্সপেকশন হয় ছ’সাত ঘণ্টা ধরে। কলসপুরে গেলে অফিসের কাজে জড়িয়ে যেতে হবে—এই ভয়ে আমি আমার জোন থেকে বাদ দিয়ে দিলাম জায়গাটাকে। যখন যাব ভ্রমণকারীর মতাে যেতে পারব। সহকর্মী প্রীতিময় বলল, সে নিজেই কলসপুরে অনেকবার গিয়েছে।

    অনেকবার যাওয়ার মতাে জায়গা?

    নিশ্চয়ই! যে যায়নি সে বুঝবে কী করে?

    তুমি কলসপুরের সেই চন্দনা নদী দেখেছ? আমি জিগ্যেস করলাম।

     তুমি কী করে জানলে নদীটির নাম চন্দনা? প্রীতিময় অবাক।

     শুনেছি, খুব খরস্রোতা সেই নদী।।

     প্রীতিময় বলল, পাহাড়ি নদী ত! |

     আমি বললাম, পাহাড়ি নদী আমি অনেক দেখেছি।

     তা দেখতে পার, কিন্তু কলসপুরের নদী আলাদা, কলসপুরই আলাদা।

      অরণ্যের ভিতর শহরটা তাে?

      বাহ, তুমি দেখছি সব জানাে। যাও ঘুরে এসাে।

       যাব তাে নিশ্চয়ই, বলছি শালবনের ভিতরে ভিতরে বাড়ি-ঘর তাই না?

        প্রীতিময় বলল, বড় পাহাড়ের গায়ে গেস্ট হাউস।

       আচ্ছা ওই নদী, মানে চন্দনা, জঙ্গলের ভিতরে ঢুকে নাকি আচমকা হারিয়ে গিয়েছে? তাকে নাকি আর খুঁজে পাওয়া যায় না?

 

     প্রীতিময় বলল, তুমি নিশ্চয়ই কলসপুর গিয়েছ, না গেলে এত জানলে কী করে?

     আমার মাথা ভারী হয়ে যাচ্ছিল। চোখ টানছিল। প্রীতিময়ের কথা শুনে আমার মনে হল সত্যিই হয়তাে কলসপুরে গিয়েছি কোনও এক সময়। অনেক বছর আগে। হয়তাে আগের জন্মে! ভাবতে বেশ ভালাে লাগছিল।

 

     প্রীতিময় বলল, যারা কলসপুরে গিয়েছে অনেকবার, তারাও এত জানে না।

     আমি বিড়বিড় করে বললাম, নদীটা খুব নিঃসঙ্গ।।

     বলতে পারাে তা। নদী যেমন খরস্রোতা, তেমনই তার নানান বাঁক, ঘন জঙ্গলের ভিতরে বাঁক নিয়ে একেবারে মিলিয়ে গিয়েছে, কে একজন নদীর পাড় ধরে যেতে চেয়েছিল নদীর সঙ্গে। পরে তার মৃতদেহ পাওয়া যায় জঙ্গলের ভিতরে।

 

      আমি বললাম, চলাে প্রীতিময় দু’জনে ঘুরে আসি।

 

      প্রীতিময় বলল, নেশা হয়ে গেলে তুমি কলসপুর যাওয়ার কথা বলাে, যাও সত্যি সত্যি ঘুরে এসাে, এটা হাই-টাইম।

    হাই-টাইম কেন?

   এইসময় কলসপুরের জঙ্গলে পাতা ঝরে, পাহাড়ে পাহাড়ে সাতশাে রকম ফুল ফোটে। বাতাসে সবসময় ফুলের গন্ধ ভেসে থাকে। এই সময় অনেকে যায়।

     আমি ভাবছিলাম, যাব যাব করতে করতে, কলসপুর নিয়ে নানা কথা বলতে বলতে, শুনতে শুনতে এই বসন্তও কেটে যাবে। কলসপুর আমার যাওয়া হবে না। তবু প্রীতিময়কে জিগ্যেস করলাম, তুমি বসন্তে গিয়েছ?

 

    মাথা নাড়ল প্রীতিময়। সে গিয়েছে বর্ষায়। বর্ষায় পাহাড়গুলাে মাথায় ঘন মেঘ কুণ্ডলী পাকিয়ে থাকে। জঙ্গল দুর্ভেদ্য হয়ে ওঠে। জঙ্গলের ভিতর গড়ে ওঠা কলসপুর শহরটিও ছেয়ে যায় বুনাে গাছগাছালিতে। শালগাছের গা দিয়ে সোঁদা গন্ধ বেরােয়। শুনতে শুনতে আমি বললাম, তুমি বর্ষায় বা যাও কেন?

 

   প্রীতিময় বলল, ওইসময় আমার ওয়াইফ একটু ফ্রি হয়, ওর কোনও ছুটি নেই বলতে গেলে, রেনি সিজনে একটু ফুরসত পায়।

    আমি বললাম, তা হলে আর কলসপুরের কী দেখলে, বসন্তেই যদি দেখতে না পেলে সাতশাে রকমের ফুল, জঙ্গলে পাতা ঝরা! তবে গিয়ে কী লাভ?

 

   প্রীতিময় গম্ভীর হয়ে বসে থাকল। আমি ওকে কলসপুরের কথা শােনাতে লাগলাম।

 

                                            দুই

সহকর্মী শুভময়ের বাড়ি গেলাম শিলিগুড়ি ট্যুরে গিয়ে। হাই রােডের ধারে কী চমৎকার বাড়ি করেছে শুভময়। ওর একটি ছেলে, দিল্লিতে নামি বহুজাতিক কোম্পানিতে চাকরি করে। তিনবার আমেরিকা ঘুরে এসেছে, নায়াগ্রা জলপ্রপাত দেখে এসেছে। শুভময়রা স্বামী-স্ত্রী এর ভিতরেই জীবনের অনেক কর্তব্য সমাপন করে ফেলে ঝাড়া হাত-পা। ওর স্ত্রী স্কুল টিচার। শুভময় ভলান্টারি রিটায়ারমেন্ট নিয়ে অনেক টাকা পেয়েছে অফিস থেকে। সব সুদে খাটাচ্ছে। সুদের টাকাতেই কত আনন্দ শুভময়ের। ওর স্ত্রীর হাতে বানানাে আঙুর থেকে তৈরি ওয়াইনে চুমুক দিয়ে শুভময় বলল, তিরিশ লাখ ইনট্যাক্ট আছে ব্যাংকে, শুধু সুদটা তুলি, কলসি ফুরােচ্ছে  না , অথচ জল পাচ্ছি বিধান।

   আমি জিগ্যেস করলাম, কলসপুর গিয়েছ তুমি?

 

   শুভময় বলল, অনেকবার, কতবার—তা হিসেবে নেই।

   অনেকবার যাওয়ার মতাে জায়গা?

   শুভময় ঘাড় কাত করে বলল, হ্যাঁ বিধান,  তবে আমার ভালাে লাগে কলসপুর যাওয়ার রাস্তা, চড়াই-উতরাই, জঙ্গল প্রান্তর, কখনও নদীর ধার দিয়ে, কখনও গ্রামের ভিতর দিয়ে, কখনও জঙ্গলে আদিবাসী গ্রামের পাশ দিয়ে..

 

    শুভময় সুর করে বলে যাচ্ছিল। তার সঙ্গে আমিও গলা মেলালাম, কখনও শপিং মলের পাশ দিয়ে, কখনও মস্ত ইস্পাত কারখানা ফেলে রেখে, কখনও সুইমিংপুলের নীল হাওয়ায়  জেগে জেগে ঘুমােতে ঘুমােতে।

     শুভময় বলল, এই তাে তুমি গিয়েছ, ঠিক গিয়েছ।

    কী চমৎকার ফুরফুরে ভাব এসেছে মনের ভিতরে। আমি বললাম, কতবার গিয়েছি, মনে মনে গিয়েছি শুভময়। মনে মনে যাওয়াও তাে যাওয়া!

     শুভময় বলল, একতরফা ভালবাসার মতাে, মনে মনে উত্তমকুমারকে কতজন ভালবাসত, কিন্তু জীবনে উত্তমকুমারকে সশরীরে দেখেনি। কিন্তু তােমার তা নয়। কলসপুরে আগে শপিং মল ছিল না, এখন হয়েছে, ট্যুরিস্টরা কেনাকাটা করছে খুব, শপিং করার জন্যই কতজন যাচ্ছে কলসপুর, শপিং করে ফিরে আসছে।

 

    আমি তখন ওকে নদীর কথা বললাম। শুনতে শুনতে শুভময় বলল, এই সময় জঙ্গলের ভিতরে অনেকটা ঢুকে যাওয়া যাবে। পাতা ঝরছে ত! নদীটা ভালাে করে দেখতে পাবে।

 

   আমি বললাম, জানি, হলুদ শুকনাে পাতায় ছেয়ে থাকে মাটি।

 

   হাসল শুভময়, ভালই তাে জান সব, কতবার গিয়েছ?

   আমি বললাম, সহস্রবার, এই সময়ে একটা পাখি, তার গায়ে সাতটি রং…।

   আমাকে কথা শেষ করতে না দিয়ে শুভময় বলে, জানি, ওই পাখির নাম কুবাই।

   পাখিটাকে দেখা যায় শুধু এই সময়, তাই তাে?

   শুভময় বলল, সে দেখেনি, শুনেছে পাখিটার কথা, কলসপুরে গিয়ে তাস খেলতে তার খুব ভালাে লাগে, সে আর তার বউ মল্লিকা, একবার সমস্ত দিন ধরে টোয়েন্টিনাইন খেলছিল, আরও দুজন ট্যুরিস্টকে ডেকে নিয়ে।

   ফুরফুরে মেজাজে আমি বললাম, আমি গেলে ব্রিজ খেলব।

   হা হা করে হাসল শুভময়। বলল, তা হলে বােঝাে, কলসপুরে গিয়ে তাস খেলে কী  আনন্দ! জঙ্গল, পাহাড়, নদী, কুবাই পাখি, আদিবাসী বুড়াে-বুড়ি দেখতে হল না, শুধু রঙ  মিলিয়ে পয়সা ফ্যালাে, তাসের জুয়াে খ্যালাে, কী আনন্দ বলাে!

 

   হুঁ। আমি টের পাচ্ছিলাম, কলসপুরকে নিয়ে এভাবে কথা বলা ঠিক নয়।

 

    শুভময় বলল, কলসপুরকে তার মনে থাকবে, কলসপুরে গিয়ে একবার পাঁচ হাজার দুশো বিয়াল্লিশ টাকা জুয়ায় জিতেছিল সে, আমাকে ওখানে গিয়ে জুয়ায় বসতে বলল শুভময়। অনেক জিততে পারব। কলসপুরে গিয়ে নাকি কেউ হারে না।।

 

   চুপ করে আছি। মনে পড়ে যাচ্ছে, বার চারেক টিকিট কেটেও আমাদের যাত্রা করা হয়নি। একবার মেয়ের জ্বর এল খুব। শেষে কলসপুরের টিকিট বাতিল করতে হল। একবার যাব  সব ঠিকঠাক, আচমকা আমাদের কোম্পানির মালিক নিউইয়র্ক থেকে উড়ে এলেন। জরুরি  মিটিং, সকলকে থাকতে হবে। আর একবার কী যেন হল। টিকিট বাতিল করে  থেকে গেলাম কলকাতায়। দেখেছি  কলসপুর যাওয়া ঠিক হয়ে গেলেই, একটা না একটা বিঘ্ন ঘটে যায়।

 

   আমার কথা শুনে শুভময় বলে, সত্যি যদি তুমি না গিয়ে থাকো বিধান, তবে বলব কলসপুর যাওয়া নিয়ে তােমার মনের ভিতর দ্বিধা আছে। সেই দ্বিধা থেকেই বিঘ্ন ঘটে যায়। | একবার আমি আর আমার ছেলে দু’জনেই জ্বর গায়ে ট্রেনে উঠেছিলাম বিধান। ট্রেন থেকে নেমে…ট্রেকারে করে কলসপুর পৌছতে না পৌছতে জ্বর উবে গেল। একেবারে ফিট। কী। সুন্দর কেটেছিল!

 

    হতে পারে হয়তাে। কলসপুর নিয়ে আর কথা বলতে ইচ্ছে হচ্ছিল না। শুভময় বলছে, আমার মতাে লােক নাকি দেখা যায় না। কলসপুর যায়নি এমন লােক খুঁজে পাওয়াই ভার। শুভময় আরও বলল, আমি এক অদ্ভুত মানুষ। কলসপুরের অনেক কিছু জানি, অথচ নাকি যাইইনি। কে বিশ্বাস করবে আমার কথা? না কি আমি গিয়ে কোনও গােলমাল করে এসেছি কলসপুরে? আমি কি জঙ্গলে ঢুকে পড়ে, নদীর জলে গা মাজতে থাকা যুবতীদের দেখেছি? তারপর কী হয়েছিল, তা তাে আমিই জানি।

 

তুমি শেষ কবে গিয়েছিলে ওখানে? আমি জিগ্যেস করলাম। শুভময় জবাব দিল না।। গুনগুন করে গান গাইতে লাগল, কলসপুরে যাইয়াে রে মন কলসপুরে যাইয়াে।

 

                                                            তিন

    বাড়ি ফিরে দীপিকাকে বললাম, চলাে এবার ঘুরে আসি কলসপুর, ছুটি নিচ্ছি।

    দীপিকা ঘুরে দাঁড়ায়, হঠাৎ কলসপুর?

    যাইনি তাে, সবাই গিয়েছে, শুধু আমরা বাকি।

    দীপিকা আমাকে অবাক করে দিয়ে বলল, আমরা তাে কত জায়গায় যাইনি!

 

    আমি চুপ করে আছি। দীপিকা যে এভাবে আমাকে নিরাশ করবে, তা আগে ভাবিনি। জানলার ধারে গিয়ে আকাশ দেখতে দেখতে দীপিকা বলল, যখন বয়স ছিল, তখন যাওয়া হয়নি। এখন গিয়ে কী করব?

 

    দেখব, এখন বসন্ত এসেছে, সাতশাে রকম ফুল ফুটেছে কলসপুরের পাহাড়ের গায়ে। পাতার আড়ালে থাকা কুবাই পাখিকে দেখা যাচ্ছে পাতা ঝরে যাওয়ার কারণে। চলাে ঘুরে আসি, এত শুনেছি এবার চোখে দেখে আসি।

 

    তুমি গৌরীদির কাছে যাও, ওরা ঘুরে এল পরশু, শুনে এসাে কলসপুর কেমন।

    দীপিকার মাসতুতাে দিদি গৌরী আর তার হাজব্যান্ড অনুপম—অনেকবার গিয়েছে কলসপুর। এখনও যায়। ওদের দুজনের পায়ের তলায় যেন সর্ষে! সমস্ত দেশ ঘুরে বেড়ায়। ওদের মুখে কতবার যে শুনেছি কলসপুরের কথা! ওদের মধুচন্দ্রিমাও নাকি হয়েছিল ওখানে। কী চমৎকার বলত! সেখানে তারার আলােও গাছের পাতা থেকে গড়িয়ে মাটিতে এসে ঘুমােয়। আবার যখন মেঘের জন্য তারারা ফোটে না, অন্ধকারের কী আবছা নীলচে রং। কলসপুরে সব যেন কলসভরা হয়ে আছে।

   গৌরীদি কী বলল, আমি জিগ্যেস করলাম।

   ওর কাছেই শুনে নিয়াে।

 

   চললাম গৌরীদির কাছে। দীপিকার দিদি আমারই বয়সি, কিংবা আমার চেয়ে বছরখানেকের ছােট। সওয়া পাঁচফুট মাথায়, ছিপছিপে। সুন্দরী তাে নিশ্চয়। গৌরী যখন গ্রীবা বাঁকিয়ে ধীরে ধীরে কথার জবাব দেয়, ওর কণ্ঠস্বর, বাচনভঙ্গি আমাকে মুগ্ধ করে। দীপিকা বলে ওদের আত্মীয়স্বজনের ভিতর গৌরীদির তুল্য সুন্দরী আর নেই। কোনও সিনেমাওয়ালা ওর কাছে সিনেমার অফার নিয়ে এসেছিল, গৌরীদি হেলায় না করে ছিল। খুব অহংকারী। গৌরীর হাজব্যান্ড অনুপম খুব স্বাস্থ্যবান দীর্ঘদেহী পুরুষ। গায়ের রং তামাটে, চোখ দুটি যেন আগুনভরা। মানুষটার ভিতরে লালিত্য কম, পৌরুষ বেশি। সিনেমায়-টিভিতে এমন পুরুষকে দেখা যায় ব্রিফ অথবা ভেস্ট-এর বিজ্ঞাপনে। অনুপমদাকে কখনও কখনও আমার ভয় করে। আমাকে অনেকদিন বাদে দেখে গৌরী খুশি হল। বলল, কে পাঠাল, দীপিকা?

 

 ,   না নিজেই এলাম।

    গৌরী হাসল, মাথা নাড়ল-হতেই পারে না, তােমার এত সাহস নেই।

    আমি বললাম, অনুপমদা কোথায়?

     ফিরবে, আমি ওকে বিলাসপুরের গেস্ট হাউসের খোঁজ নিয়ে আসতে বলেছি।

     জিগ্যেস করলাম, এরমধ্যে কলসপুর গিয়েছিলে?

   গৌরী বিষণ্ণ  গলায় বলল, হ্যাঁ, আর আমি লক্ষ করেছি, প্রতিবার যখন কলসপুর থেকে ফিরি, তুমি আসো  বিধান, প্রতিবার কলসপুরের কথা শােনাে, কেন বলাে দেখি?

 

  কলসপুর যাব তাই।

  কতবার শুনেছ, একবারও তাে যাওনি!

  না, তাই বলে যাব না, এমন তাে নয়! কলসপুর কেমন আছে বলাে।

 

  গৌরী চুপ করে থাকল। ওর অত সুন্দর মুখ অন্ধকার হয়ে গেল। ধীরে ধীরে বলল, “আমি বেশ কয়েকবার ফিল করছিলাম, কিছু একটার অভাব হয়ে যাচ্ছে ওখানে, ছমাস আগে, এক বছর আগে, দেড় বছর আগে…।”

     আমি চুপ করে গৌরীর কথা শুনছি। মাথার ওপর বনবন করে পাখা ঘুরছে। কলকাতায় আচমকা গরম পড়ে গিয়েছে। গৌরী বলল, এতদিন যখন যাওনি, এখন না গেলেই হয়।

 

    কেন কী হল কলসপুরে?

    গৌরী বলল, শুনতে তােমার ভালাে লাগবে না বিধান।

    কেন, সেই চন্দনা নদী, নদী আছে?

    গৌরী বলল, নদী যাবে কোথায়? তার যাওয়ার রাস্তা তাে ওইটা…আছে তবে ওর জলে কোনও মাছ বেঁচে থাকে না।

     শুনিনি তাে আগে ?

     ওর জলে স্নানও হয় না।

     আমি বললাম, আগে তাে বলনি ?

     আগে খেয়াল করিনি বিধান, জল বিষাক্ত হয়ে গিয়েছে অ্যাসিড কারখানার বিষে, দূর  থেকে দেখতে নদীটা তেমনই আছে, কিন্তু যদি সামনে যাও, টের পাবে।

     সাতশাে রকম ফুল ফুটেছে তাে।

      গৌরী বলল, পাহাড়ের গায়ে তাে ফোটে, পাহাড় ভাঙছে ডিনামাইটে, স্টোন ক্রাশার  বসে গিয়েছে, ধুলাে উড়ছে সবসময়, ফুল ঝরে যাচ্ছে অকালে।

      আগে খেয়াল করােনি?

 

    না বিধান, ভেবেছিলাম কলসপুর দ্রুত বড় হয়ে উঠবে, এসব তত উন্নতির লক্ষণ। থমথমে হয়ে যাচ্ছিল ঘর। পাখাও যেন থেমে যেতে চাইছিল। গৌরী  বলছে, কলসপুরের পূর্ণ কলস অপূর্ণ হতে শুরু করেছে বিধান,  খালি হয়ে যাচ্ছে যে, তা কেউ টের পাচ্ছে। না।

 

     কী করলে এবার গিয়ে?

     কিছুই করিনি, গেস্ট হাউসে বসেছিলাম।

     তাস খেলেছ?

     গৌরী গম্ভীর, ঘাড় উঁচু করে বলল, না বিধান, আমি তাস চিনি না।

 

    জঙ্গলে পাতা ঝরছে তাে?

 

   ঝরছে, আর সেই পাতায় আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে অ্যাসিড কোম্পানির লােক।

   কেন গৌরী তাদের কী লাভ?

   খেলা বিধান, ওই আগুনে কতগুলাে শাল-মহুয়া পুড়ে গেল, কুবাই পাখি পালিয়ে গেল, কত জীব্জন্তু মারা গেল, শজারু, বাঘরোল, বনবিড়াল, খটাস, সাপ, ব্যাঙ, আদিবাসীদের  ঘর পুড়ে গেল কতগুলাে—সব খেলার ছলে হল।

 

   থমথমে হয়ে গিয়েছি। খেলার ছলে!

   গৌরী একটু থেমে আবার বলল, এই খেলার পিছনে কী আছে জানি না, কিন্তু মানুষ পালাচ্ছে নদীর সঙ্গে, জন্তু জানোয়ার পালাচ্ছে মানুষের আগে আগে, মানুষ  কোলেকাঁখে  বাচ্চা নিয়ে মাথায় বাক্সপেটরা নিয়ে পালাচ্ছে বিধান, ভয়ে পালাচ্ছে যুবতিরা, কতজন যে নিরুদ্দেশ হয়েছে!

 

    তুমি এসব দেখেছ?

    না শুনেছি।

    যেমন আমি শুনেছি কলসপুরের রূপের কথা ?

 

    বিষণ্ণ গৌরী বলল, হ্যাঁ  বিধান, বলতে পারাে সেইরকম।

   তুমি তাে দেখতে পারতে নিজের চোখে, ছিলে তাে কলসপুরে।

  গৌরী বলল, যাব যাব করে যাওয়া হয়নি, জঙ্গল যে পুড়ে গিয়েছে ভিতরে ভিতরে, মানুষ যে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছে নদীর সঙ্গে, পাহাড় যে ভাঙছে, হারিয়ে গিয়েছে যে যুবতি  মেয়েরা, ফুল যে ধুলােয় রং হারিয়ে ঝরে পড়ছে—একথা তাে শুনেছি বিধান।

 

     যেমন আমি শুনেছিলাম কলসপুরের নদী, পাখি, ফুল, পাহাড়, জঙ্গলের রূপের কথা। দেখা হয়নি, কিন্তু শুনেছি কতবার! .

 

  হ্যাঁ বিধান হ্যাঁ, কতজন যে এসে বলল, আদিবাসী বুড়াে, বুড়ি, কলসপুরের পুরনাে মানুষ, কলসপুরে বেড়াতে যাওয়া মানুষ—শুনতে শুনতে সব দেখতে পাচ্ছিলাম বিধান,  অবিকল, কী হয়েছে সব হুবহু বলে দিতে পারি!

 

    আমার মতাে আমার মতাে! আমি কাপতে লাগলাম গৌরীর কথা শুনে। অ্যাসিড কোম্পানি জায়গা দখল করতে এবার পােড়া গাছ কাটবে, তারপর না-পােড়া গাছ কাটবে, জঙ্গল ফাঁকা করবে, করাতকল বসছে কলসপুরে, টিম্বার মার্চেন্টও হাজির।

 

    গৌরী বিনবিন করে সব বলে যাচ্ছিল। আমি ভেঙে পড়ছিলাম। চূর্ণ হয়ে যাচ্ছিলাম ডিনামাইটে ফাটা পাহাড়ের মতাে। ক্রাশারে গুঁড়াে হয়ে ধুলাের মতাে ঝরে পড়ছিলাম আমি, আমার সাধের কলসপুরকে নিয়ে। গৌরী আমাকে বলতে লাগল। আমি উঠতে যাব আমার হাত ধরে বলল, বােসাে বিধান, শেষ হয়নি বলা।

 

    রাতে দীপিকা জিগ্যেস করল, সব শুনে এলে?

    হ্যাঁ।

    অনুপমদা ছিল?

     না।

    দীর্ঘনিশ্বাস পড়ল দীপিকার, বিড়বিড় করল, ওরা তাে শুনে এসেছে, দেখেনি, চলাে আমরা কলসপুরের সর্বনাশ ছুঁয়ে আসি—তা যদি সত্য হয়।

আরও পড়ুন:

মুষলপর্ব/বেবী সাউ

শূন্যতার রং নিয়ে বড়ো বেশি ভেবে চলো তুমি অথচ জলের কাছে প্রতিদিন শিখে নিই নীল ঘষা রং আমাদের অভিমানগুলো ভেঙে গেছে আজ তার কোনো গতিপথ নেই; সূত্র ভুলে গেলে, বলো, কীভাবে মেলাবে— জীবনের মায়া, ছায়াধ্বনি! সহজ ভেবেছি যতটুকু, কঠিনের আবরণে ঢেকে গেছে রোজ সেই লক্ষ্যভেদ, মাছের নরম চোখ কিংবা জাতিভেদ প্রথা বারবার ফিরে আসে— বারবার …

পড়ুন

গদ্য বনাম কবিতা/অংশুমান কর

“দুই মানুষের মাঝে যে অসীম আকাশ সেখানে সব চুপ, সেখানে কথা চলে না। সেই মস্ত চুপকে বাঁশির সুর দিয়ে ভরিয়ে দিতে হয়। অনন্ত আকাশের ফাঁক না পেলে বাঁশি বাজে না।” বলুন দেখি কার লেখা কোন কবিতার পঙ্ক্তি এগুলি? চেনা চেনা মনে হচ্ছে তো? সে তো হবেই। রবীন্দ্রনাথের “লিপিকা”র একটি লেখার অংশ এটি। নাম “বাঁশি”। লেখা …

পড়ুন

৩/৪ সি, তালতলা লেন / সুমিতা মুখোপাধ্যায়

বইয়ের নামঃ ৩/৪ সি, তালতলা লেন কবিঃ হিন্দোল ভট্টাচার্য আলোচকঃ সুমিতা মুখোপাধ্যায় ৩/৪ সি, তালতলা লেন, হিন্দোল ভট্টাচার্যের এই কবিতাগ্রন্থের রচনাকাল ২০২১ থেকে ’২৩। অতিমারির এক বিষাদভরা কালো সময়। লকডাউন, অতিমারি, অনিবার্য মৃত্যু, নীলপ্লাস্টিক, গনচিতা, আর বুক চাপড়ানো হাহাকার !  সময়ের ক্ষত গভীর থেকে গভীরতর। প্রলেপ পড়ে না কোন। প্রতি মুহূর্তে বেঁচে থাকাটাও যেন ভয়ে …

পড়ুন

পথ রুধে রবীন্দ্রঠাকুর: বাংলা গানে পথ চলা/অভ্র বসু

সম্প্রতি একটি বিতর্কসভায় থাকবার সুযোগ হয়েছিল, যেখানে বিতর্কের বিষয় ছিল: রবীন্দ্রনাথের গান আর বর্তমান প্রজন্মের আশ্রয় নয়। বিষয়টা নিয়ে আসলে অনেক দিক থেকেই তর্ক হতে পারে। প্রতিযোগীরাও নানা দিক থেকে আলোচনা করলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই বিতর্কের ফলাফল খুব স্পষ্ট হল না। সকলেই মানলেন রবীন্দ্রনাথের গান আশ্রয় হওয়া উচিত। মোশনের সমর্থনে যাঁরা বললেন, তারাও সেটা …

পড়ুন

গ প্ পো ৫ – কুঁড়ে নিক্কির গল্পো/ বোধিসত্ব মৈত্রেয়

‘তা তোমার কৃষ্টাবেলের কি হোলো –’ তাড়া দিল স্কুয়া।   ‘কৃষ্টাবেলের কথা পরে। আরে নিক্কির সে যা দশা–“ বুড়ী গ্যানগ্যান কুলকুলিয়ে হাসির বানে ডোবা। ‘নিক্কি-নিক্কি’ বলে আর বুড়ী হাসে। হাসি যেন আর থামতেই চায় না। অনেক কষ্টে হাসি চাপা। ‘আরে শোন তাহলে নিক্কির দশাটা –   সে অনেক কাল আগের ঘটনা –। আমার গ্যানগ্যানের শোনা- …

পড়ুন

দিনলিপি/প্রবালকুমার বসু

ভেঙে যাওয়া স্বপ্নের কথা মনে পড়ে কথা দিয়ে না রাখতে পারার মতন অনর্থক গ্লানি   ভেবেছিলাম কোনোদিনই ফিরবে না আর দেখা হয়ে যাবার পর বৃষ্টিপাতের মতন অহেতুক বিপর্যয় এল   যাত্রীহীন ট্রেন এক পাহাড়ি স্টেশনে কিছু অস্পষ্ট ছায়া, টুপি পড়া, উঠে গেলো নির্দিষ্ট কামরায়   নিজেকে যোদ্ধা ভেবে ঢুকে যাই সৈন্যদের অস্থায়ী ব্যারাকে যেখানে আমিই …

পড়ুন

শহর/বিজয় সিংহ

ফেরার আগে যে তুমি অহৈতুকী ছিলে ফেরার পরে যে প্রাক গোধূলিরা অপ্রবাসে ঢোকে ফক্স কে টু, হে আরাধ্য, সেইসব গ্রন্থনায় মায়ুশ মজ্জার থেকে অনুচক্রিকা কুড়াতে পাঠাও স্বপ্নের অতলে নেমে দেখেছি জুবিলি অসহায় ফুটেছিল হেতু তার কোনো বাড়িঘর নেই, লেক মল, পূর্ণদাস রোড নির্মিত আরশিনগরে পড়ে থাকা সংক্রামক লাশ ফেরার আগের রাত্রে নরসিংহমূর্তি দেখিয়েছে ও ফেরার …

পড়ুন

এক মেঘলা না থাকা/শুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

কোথাও না যাওয়া রাস্তাগুলো দিয়ে টানা তিনদিন বৃষ্টির পরে রোদ ক্রমশ নিমের মধুর রং জলে মা, তুমি ছাদে উঠেছিলে  বালতি ও কাপড় সাবান জলের মধ্যে সূর্য তোমার রান্নাঘরের দেয়ালে ঠাণ্ডা হয়ে আসা চাটু এসব দুপুরগুলো মিনার হয়ে ওঠে শুধু একটানা বালকের মার্বেল পাথর নিয়ে ক্রিকেট পরতে পরতে বৃষ্টির গরদে মিশে ঝাপটা আসছে বিবিধ ভারতি অথচ …

পড়ুন

আমাজনের চার অধ্যায়/চৈতালি চ্যাটার্জি 

কালো , আঁধারের মাঝে ;   কুচকুচে কালো চারিপাশ, তারই মাঝে কিছু আলোর বিন্দু ফুটে আছে। আমাজনের রাজধানী মানাউসে রাতের বেলায় এসে পৌঁছালাম। দুইপাশের আঁধারকে চিরে আমাদের গাড়ি চলেছে সরু রাস্তায়।  বোঝাই যাচ্ছিল, সকাল হলেই এখানে ঘন জঙ্গল দেখা যাবে। কি জানি, রাতের অন্ধকারে পাশের জঙ্গল থেকে কোন পশু চলে আসবে না তো? সেই যে …

পড়ুন

ফুলঝরিয়া/সেবন্তী ঘোষ

এক পিছনে জঙ্গল ।ওই ওপারের রাস্তা পেরিয়ে আবার জঙ্গল। ক্রমশঃ দুপাশের জঙ্গল উজাড় করে  ফোর লেন হচ্ছে। এখনও পুরোটা খুলে দেয়নি। নবনির্মিত সেই পথের ওপর হাত পা ছড়িয়ে বসে আছে ফুলঝরিয়া আর পিংকি। বসাটা নতুন নয়, জায়গাটা নতুন। বসার জায়গাটাও ঠিক নতুন নয়, দেখতে নতুন। পিংকি বলে, আগের ঘাসটাই ভালো ছিল রে, গড়িয়ে গেলে কত …

পড়ুন

এ এক ‘অচেনা’ দেশ/পার্থ মুখোপাধ্যায়

আমরা যখন গতির নেশায় ছুটছি, যখন আমাদের চারপাশ ‘স্মার্ট সিটি’ আর ‘ক্যাশলেস’ হওয়ার উৎসবে মেতেছে, তখন নিঃশব্দে এক বিশাল সংখ্যক মানুষ আমাদের সমাজ থেকে বিচ্যুত হয়ে যাচ্ছেন। এঁরা আমাদেরই বাবা-মা, আমাদেরই ঠাকুরদা-ঠাকুমা। গত কয়েক দশক ধরে যে হাতগুলো এদেশটাকে আগলে রেখেছিল, আজ কিন্তু অদ্ভুত ‘ডিজিটাল অস্পৃশ্যতা’র শিকার সেই হাতগুলোই।  প্রগতিকে আমরা বরণ করেছি ঠিকই, কিন্তু …

পড়ুন

কাজের ভাষা, মুখের ভাষা/স্বপ্নময় চক্রবর্তী

যিনি কাঠের কাজ করেন, উনি বললেন, ‘এই কাঠের জিনিসগুলোকে আলাদা করে পালিশ করাবেন কেন? দোকান থেকে গোপাল বার্নিশ কিনে লাগিয়ে দিন৷” কোনো রঙ-বার্নিশের দোকানে গোপাল বার্নিশ পেলাম না৷ ব্যাপারটা বোঝাতে চেষ্টা করলাম। একটু বলতেই দোকানদার গ্যাপেল বার্নিশের কৌটো দিয়ে দিল৷ গ্যাপেল একটা কোম্পানির নাম৷ এক শ্রমিকের মুখে এটা গোপাল৷ লোহার কাজে নাট-বোল্ট কে বলা হয় …

পড়ুন

শিশিরকুমার দাশ: খুঁজে ফিরি কর্ণ, কর্ণের সহোদর/মোস্তাক আহমেদ

মৃত্যুলগ্ন পার হয়ে যতবার গিয়েছি নিঃসীমে বিদ্যুতের দীপ হাতে: অন্ধকারে আকাশের বিস্তৃতি অপার বিদ্রোহী ঝড়ের যত উদ্বাহু মেঘেরা আমন্ত্রণ করে আনে অতীতের ঘন অন্ধকার; তবু দেহ ভিজে গেছে শান্তিস্নিগ্ধ হিমে।                                                                                         (মৃত্যুলগ্ন/জন্মলগ্ন)   কাব্যগ্রন্থের নাম ‘জন্মলগ্ন’। ‘পূর্বমেঘ প্রকাশ ভবন’ থেকে প্রকাশ পাচ্ছে ১৯৫৬-তে। কুড়ির কাছাকাছি বয়স। কী দীপ্ত উচ্চারণ! কয়েক বছর হল দেশ …

পড়ুন

ফিল্ম শুটিং-এর গল্প/পার্থ মুখোপাধ্যায়      

১৯৮১ সালের ২৭ জুন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক এ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন বংশীচন্দ্র গুপ্ত। ‘ শিল্প নির্দেশনায় বংশী সমকক্ষ ভারতবর্ষের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আর কেউ হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। বংশী ছিল এক এবং অদ্বিতীয়।’ তার স্মরণ সভায় শিল্প নির্দেশক বংশী চন্দ্রগুপ্ত সম্পর্কে এই রকম বক্তব্যই রেখেছিলেন স্বয়ং সত্যজিৎ রায় । ‘পথের পাঁচালী …

পড়ুন

খেলার দৃশ্যান্তর/অনির্বাণ বসু

একতলা ক্লাবঘর। ন্যাড়া ছাদ। কাঠের দরজা। কোলাপ্সিবল। লাল মেঝেয় কালো বর্ডার। পলেস্তরা-খসা দেয়াল হালকা ঈষৎ। মাঝের বড়ো দেয়ালে এলইডি টিভি। পিছন দিয়ে কেবলের কালো তার; টিকির মাফিক। খেলার সরঞ্জাম অন্যদিকে। ব্লাডার বেরোনো হাঁ-মুখ ফুটবল, তেজি উইকেট, নড়বড়ে হাতলওয়ালা কমদামি ডিউস ব্যাট, পোকায় কাটা প্যাড-গ্লাভ্স্, নরম দড়ির ফুটিফাটা জাল। কোনো-একসময় এই ক্লাবের সামনের ফাঁকা জমিতে সন্ধে …

পড়ুন

প্রেম বলিনি/যশোধরা রায়চৌধুরী

আমি তোমার ছোট্টবেলার বোকা তুমি আমার আনন্দ জিমখানা আমি তোমার তাসের হাতের পোকার তুমি আমার হিমঝিম মস্তানা আমি তোমার কুঁকড়ে থাকা পোকা তুমি আমার ফলানা ঢিমকানা   সকাল থেকে রাত্রি আমি তোমার প্রেম বলিনি তবুও , কে খায় ধোঁকা   রাত্রি থেকে দিন তো তুমি আমার সূর্য চাঁদের চাঁদোয়া টাঙায় খোকা   প্রেমের কাছে, প্রেমের …

পড়ুন

বৃষ্টি নামচা /অগ্নি রায়

এক   ছোট ছোট চিরকুটে ভরে যাচ্ছে বাদলবেলা। বল্লভপুর, গোবিন্দপুর, মুকুটমণিপুর হয়ে মধুপুরে পৌঁছেও শেষ নয় পথ, এই পুরবাসী তালিকাকে পৌঁছতে হবে একশ আটে! তবেই বৃষ্টি থামবে ঠাকুমার কথামতো। কচিকন্ঠের মিনতি কাকলির কাছে লেবুপাতা আর করমচা ঝরে যায়। বালিকাসংঘের গায়ে জলের ছাঁট আবার ফিরে আসার কথা দিয়ে সরে পরে, এক আশ্চর্য লোকায়ত টোটকার পর।   …

পড়ুন

পিতা নোহসি/প্রতিভা সরকার

‘এই রানি, তোর বাবা সবসময় আমার বুকের দিকে তাকায়া তাকায়া কথা কয় ক্যান রে? বুড়াটা আর কিছু চিনে না, নাকি! ’ গৌরীর বুক উদ্ধত, মুখে চাপা হাসি, সারা শরীরে এমন একটা ভাব, যেন সে জানে কারণটা, কিন্তু তবুও শুনতে চাইছে বেচারা রানির মুখ থেকে। এইভাবে কি বছরের পর বছর ফেল করে এক ক্লাসে থাকার শোধ …

পড়ুন

গ প্ পো ৩ – ধেড়ে দত্তি স্যাক্সি আর হারমানের গপপো/ বোধিসত্ব মৈত্রেয়

টিং-টিং, টুং-টুং, এক ছোট্ট ঘণ্টার মিষ্টি আওয়াজ আসছে কোথা থেকে? হাতড়াতে থাকি এদিক ওদিক। জঙ্গুলে রাস্তার বাঁকটা পার হলেই হয়তো পেয়ে যাব ছই দেওয়া গরুর গাড়িটাকে। গরু দুটোর গলায় বাঁধা ঘণ্টা। বাজছে টুং-টুং, টিং-টিং।   চট করে ঘুমটা ভেঙ্গে গেল। ওমা, এতক্ষণ স্বপ্ন দেখছিলাম। জমাট হিমের দেশে নরম পালকের লেপ আর ভেড়ার লোমের মাখনের মতো …

পড়ুন

প্রেম/রামকিশোর ভট্টাচার্য

প্রতিদিন রামপ্রসাদি মেখে কাপড় কাচতে কাচতে সাবান হয়ে একদিন গলে গিয়েছে মা ৷ অবসাদ পালক জড়িয়ে হঠাৎ জলবায়ুর সঙ্গে মিশে গিয়েছে বাবাও , এখন একলা একা সুতির ফুলমাখা কুর্তি মারুবেহাগ দুপুরে দু’হাত নাচিয়ে ঝুলেই থাকে – দিগন্তের বুকে , জোছনার রূপকথা নিয়ে – কচি হাওয়ারাই ঝিরিঝিরি গান শুনিয়ে যায় , রঙের বেলা গড়িয়ে গেলেও নাইলনের …

পড়ুন

নির্বাচন / ঈশিতা ভাদুড়ী

কাকে বেছে নেব? অলিভপাতা, নাকি ধুঁতরোফুল? কে না জানে সঠিক নির্বাচন না হলে দু:খ পড়ে থাকে আনাচে কানাচে। জলপ্রপাত অবিরাম দুগাল বেয়ে! কাকে বেছে নেব? শালবনে জ্যোৎস্নাপথ? নাকি রাতের নদীজল? কে হবে সঠিক নির্বাচন? কার করপুট-স্পর্শে শঠতা নেই, কারা কারা আমার বৃত্তে নিরাপদ হবে, সেই সব নির্ভুল নির্বাচন সহজ নাকি? নির্বাচন শব্দটি যে কত অমোঘ …

পড়ুন

পিরিত/অভিমন্যু মাহাত

খুব টানটান ছিল বেদনা যত দিন যায় ভুল বাড়ে, প্রবঞ্চনাও বাড়ে স্মৃতিভ্রষ্ট সুতোয় পিরিতের বহি সমস্ত ঋতু জুড়ে বিলাপ শালপাতার আড়ালে আশ্চর্য ঝুমুর এভাবেই একদিন হঠাৎ দর্শন যার তত্ত্ব ও তালাশ ছিল পুরনো সহসা উঁকি মারে নিরুদ্দিষ্ট প্রণয় কিন্তু নাশকতা সামান্য দূরে, আম্রমুকুলের গন্ধে টের পাই অভিমান কেন ভাঙে আজও বুঝিনি… কাল যাব অশোকনগর

পড়ুন

কাঠামো / অর্ণব চৌধুরী

গাছের কোটরে ভাঙাচোরা দেবীমূর্তি আছে পড়ে আঁধার-মিনারে ফুটে ওঠে তার সমাহার নিরিবিলি পথে আমি তার প্রাচুর্য আহার, তুলতে গিয়ে দেখি, প্রায় শেষবেলা অঘ্রাণ আভায় একেকটি কালের কাঠামো ভেঙে যায়

পড়ুন

মা সম্পর্কিত / প্রিয়াঙ্কা চৌধুরী

কাকভোরে ঘুম ভাঙত। না, বোধহয় ভাঙাতেই হত। কয়েকটা চুড়ি-বালা-টুংটাং আওয়াজ- রান্নাঘর, পুজোঘর, উঠোন, শিউলিতলাজুড়ে সারাদিন কাজ-কাজ-কাজ ধ্যানসম একাগ্র। রান্নাকরার মাঝে বলতে গেলেই কিছু সম্বিত ফিরত যেন! সকলের রাত হয়। তাঁর তো হয় না। সকাল-দুপুর-সন্ধে আঁচলের গিঁটে বেঁধে বিলিয়ে দিতে দিতেই ক্লান্ত একটা দেহ মাঝরাতে বিছানায় হাই পাওয়ারের গ্লাস বালিশের পাশে রেখে দুচোখ জুড়িয়ে এলে একদিন …

পড়ুন

অনন্ত সংলাপ/অর্পিতা কুণ্ডু

আমি: ঢেউ তো প্রোজ্জ্বল, তাতে তুমি বসে আছ শিরোচূড়ামণি। হাটের নাগর তুমি, ভিটায় নিমিত্ত সামগান — তোমাকেই বর্মে বৃত্তে চুপিসাড়ে রোমন্থন করি। যেমত অছিলা পটিয়সী, যে মৃদু চারণভূমি পার করে কাছে আসি, তার কিঞ্চিৎ আদর কোরো। বহুবর্ণ লোক সমাগমে একেলা ফেলো না তাকে রৌদ্র-বাতায়নে। সে: না সখি, না, বাতায়ন-পাশে তোমার শরীর মুক্ত, জনশ্রুতি এই — …

পড়ুন

অচেনা দুপুর/সৈয়দ কওসর জামাল

প্রতিবাদ ভুলে থাকি আজ পড়ে থাকি এককোণে, দুরে বৃষ্টি এসে ভিজিয়ে দিয়েছে স্থিতভূমি, বেতাল অ-সুরে   কোন সুরে বাজবে সেতার আষাঢ়ে বাজবে কোন মন? জানালার পাশে আজ নয় বিপর্যস্ত কোরো না জীবন   বরং কবিতা লেখো, ভেজো জবুথবু শালিকের মতো, বৃষ্টি এসে সলজ্জ বলুক এসো প্রেম, এসো ইতঃস্তত   একটি কবিতা লিখেছিলে তুমুল বৃষ্টির কোনও …

পড়ুন

বিস্মৃতপ্রায় লেখক নিরুপমা দেবী/ঈশিতা ভাদুড়ী

অনুরূপা দেবীর সমসাময়িক লেখক নিরুপমা দেবীর (১৮৮৩-১৯৫১) গল্প-উপন্যাসের বিষয়বস্তু সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের গার্হস্থ্য জীবন থেকে বর্ণিত হয়েছে। বাঙালি বাড়ির অন্দরমহলে মেয়েদের বেঁচে থাকা, তাদের সুখ- দুঃখ, অপ্রাপ্তির ছবিকে তুলে ধরেছিলেন। সেসব কাহিনি পাঠকের হৃদয় স্পর্শ করেছিল। নিরুপমা দেবীর বিশেষ পরিচিতি ঔপন্যাসিক হিসেবে। তবে ছোট গল্প, কবিতাও লিখেছেন অনেক। নিরুপমা দেবীর নারীচরিত্র অবশ্য কিছুটা স্বতন্ত্র, সামাজিক …

পড়ুন

জোয়ার / বেবী সাউ 

যেভাবে জলের কাছে লিখে রাখি ত্যাগসূত্র আদি—   শরীর, গোপন মায়া ধীরে ধীরে নামে কঠিন কঠোর তবু অন্ধ ভিখিরির হাত ধ’রে আরেকটি গল্প লেখে, ভাবে— লেখা কিছু জমে থাক আগামীর দিকে   আশা ভাঙে। জাগে শুধু ডুবে যাওয়া পুরোনো বন্দর   শান্ত মানুষের মতো; নির্মোহ ততটা   ভেসে যায়   ততটুকু স্পর্ধা হলে, নাবিক তোমায়   …

পড়ুন

গ প্ পো ৬ – উপকারী পুঁটে দত্তির গপপো/বোধিসত্ব মৈত্রেয়

‘ম্যাকলাখানরা তো ব্রাউনি পুষত —’ এতক্ষণে কথা বললে আংকল জ্যাক। ‘ও সব ব্রাউনি ফ্রাউনি আমি জানি না —’। মুখ ঝামটা গ্যানগ্যানের। ‘ব্রাউনি হোক, পিক্সি হোক, লেদোকোন আর ট্রোন্ড যাই-ইহোক—এক ফিনরা বাদে ওরা সবাই পুঁটে দত্তি। ট্রো —’ ‘তা ফিনরাও তো পুঁটে। এই এতটুকু —’। বললে আংকল জ্যাক। ‘তা হোক, ফিনরা তো আর ডাঙর নয়। তারা …

পড়ুন

প্রশ্নপদ/অশোক দেব

সব মরুবৃক্ষ কেন শ্রাবণ জাতক? তাদের দেহের জল সেকথা জানে না?   একলা শ্রাবণে বসে এইসব ভাবি বালিমাখা চাঁদ কাল কার ঘরে ছিল?   তাহলে তৃষ্ণার ফুল বিরহ-গন্ধক? আগুনে আগুনে কথা, বিদায় সংগীত?   কে তুমি গাইছ ওগো এমন মাথুর, এমন শ্রাবণে এলে রাধিকাসম্পদ?  

পড়ুন

গুঁড়োমশলা/কাবেরী গোস্বামী

সে এখন একটি অচল পয়সার মতন ফিরেও তাকায় না আর কেউ কারণ, সে আজ শুষ্ক বিবর্ণ পরিত্যক্ত এক যোনি

পড়ুন

কানুর বিয়ে/সুবর্ণা মণ্ডল

কানুর সেদিন খুব কান চুলকাচ্ছিল। আগের দিনের যে পায়রাটা হাত থেকে ফসকে গিয়ে শুধু একটা পালক রেখে গেল, কানু সেই পালক কানে ঢুকিয়ে আরামে চোখ যেই না বুজেছে অমনি বাপের চিল চিৎকার, “হ্যাঁ নবাব আমার, কানে পালক গুঁজেই থাকো। যা বয়স বাড়ছে এরপর আর মেয়ে জুটবে না কপালে। ভালোয় ভালোয় রাজি হয়ে যা। নবাবপুত্তুরের যা …

পড়ুন

স্পর্শ, স্পর্শাতীত… / সৌরভ মুখোপাধ্যায়

তাহলে আলোর কথা জেনে নেব কাহার সমীপে? তাহলে দুপুরশব্দ,একমনে পাখিটির স্নান? তবে কে জানাবে বলো বাংলাভাষার দেহত্বকে এই যে উজ্জ্বলবাক্য ঠিকরে পড়ছে বিকেলের প্রায়… চলাচল নিভে আসছে। কিছুপরে সন্ধে নেমে এলে একটি দুটি তারা জ্বলবে তোমার স্পর্শের মতো,নিভে জ্বলে ওঠা আকাশের মাথায় মাথায়…

পড়ুন

বাঁশি / অংশুমান কর 

বাঁশি যখন বেজে যায় তখন কী যে হয় এই পৃথিবীতে! মনে হয় এক শূন্য মাঠের মধ্যে আমাকে ফেলে রেখে গেছে সুর। মনে হয় নিষ্পত্র গাছগুলিতে একটি একটি করে জেগে উঠছে কচি পাতা। মনে হয় রোদ্দুর হয়ে গেছে আধো আধো কথা বলা শিশু। শীতকাল হলেও পৃথিবীতে কোথাও একটা নিশ্চয়ই শিউলি ফুটে, ঝরে সাদা করে রেখেছে উঠোন …

পড়ুন

ঘড়ি বন্ধ ছিল/বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়

লাফাতে লাফাতে বেরিয়ে যাবার পর টের পেলাম অনেকগুলো ভুল হয়ে গেছে। মাস্ক নিতে ভুলে গেছি। জলের বোতল যে ঝোলার মধ্যে থাকে সেটা আনিনি। ঘড়িটা বন্ধ অথচ সেটাই বাঁ হাতের কব্জিতে বাঁধা। তাতে সময় দেখাচ্ছে সকাল নটা তিরিশ কিন্তু তিনটে বেজে গেছে। কাজ হলনা আজকেও। তবে আজানের ধ্বনি শুনে বুঝতে পারলাম এখনও হাতে কিছু সময় বেঁচে …

পড়ুন

গ প্ পো ২ – ধেড়ে দত্তি আর গুণীন অ্যাডামের গপপো / বোধিসত্ব মৈত্রেয়

সে অনে-ক অনে-ক দিন আগেকার কথা। তখন সুমুদ্দুরের জল এরকম নোনা নয়। বেশ মিষ্টি জল। তখন এ তল্লাটটায় শহর বাজার কিছুই নেই। নেই ইলেকট্রিকের বাতি। এখন যত ফাঁকা দেখছ এ রাজ্যিটাকে তখন এর চেয়ে আরও অনেক বেশি ফাঁকা। জনমনিষ্যি অনে-ক অনে-ক কম। পাহাড় আর ছড়ানো মেঠো অঞ্চলে ঘুরে বেড়ায় যতো ভূত-প্রেত জিন-পরী দত্তি-দানারা। সুযোগ পেলেই …

পড়ুন

মন্দির দেখা সহজ নয়/শ্রীলা বসু

বেড়ানোর পোকাটা আমার মাথায় এসেছে প্রধানত পৈতৃক সূত্রে। বাবার হাতে ম্যাপ টাইম টেবিল দেখতাম হরদম। গাড়ি চালিয়ে কাঁহা কাঁহা মুলুক ঘুরে বেড়িয়েছেন। প্রায় পঁচাত্তর বছর বয়সে নতুন জামাইকে নিয়ে যখন গাড়ি চালিয়ে রাঁচি চললেন তখন একচেখে ভালো দেখেন না। তবু কী ? অন্য চোখ তো আছেই। কিছু বললে বলতেন পতৌদির একচোখে ক্রিকেট খেলার কথা। তবে …

পড়ুন

বৃষ্টির দিন/কালীকৃষ্ণ গুহ

বৃষ্টির দিন ফুরোয় না কারো জীবন থেকে। বৃষ্টির দিনগুলি সব বিরহযাপনের দিন।   বিরহযাপন শেষ হয় না জীবনে।   কারো বিরহ কান্নার জন্ম দেয় কারো কাছে তা শুধু স্মৃতি হয়ে আসে।   এখন বৃষ্টির দিনে শুধু বাইরে তাকিয়ে চারদিকের গাছপালা ভিজতে দেখি। তাদের অনুচ্চারিত আনন্দ দেখতে পাই।   সেদিন একটা ফাঁকা রাস্তায় দাঁড়িয়ে একটা পাগলকে …

পড়ুন

বাবা / মণিদীপা নন্দী বিশ্বাস

জানলার ধারে রোদ পোহাও তুমি কত দশক… সন্তানের কতগুলো ভুল ভুল কাজের নির্জন সাক্ষী হয়ে একাই পাহারায় সে হাসির খানিক মুখে সাবলীল উত্তরাধিকার কখনো বা সাজিয়ে নিয়ে এ পাহাড় থেকে ও পাহাড়ে ছুটে বেড়ানো ‘আমি’র মধ্যে কতগুলো দাঁড়টানা কাক কালো এলোমেলো কখনো ভাবিনি অন্ধকার উজাড় হয়ে আসে কোন পথে! কেমন করে রোদ টুকু মরে যায় …

পড়ুন

কালীপুজোয় আকালীপুর / ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়

বাতাসে অল্প হিমেল গন্ধ আর সঙ্গে শিউলির শেষ রেশটুকুনি নিয়ে শহর ছেড়ে রাঙামাটির পথে পাড়ি দিয়ে ঘুরে আসা যেতেই পারে কালীপুজোর আশেপাশের ছুটিতে মহারাজা নন্দকুমারের জন্মস্থান প্রসিদ্ধ আকালীপুর ভদ্রপুর। এখানে স্বমহিমায় বিরাজমানা মহারাজার প্রতিষ্ঠিত অত্যন্ত জাগ্রত সর্পাসনে অধিষ্ঠিতা গুহ্যকালী। এখানেই ছিল নন্দকুমারের দ্বিতীয় রাজধানী। নলহাটি থানার লোহাপুর স্টেশন থেকে প্রায় ৪ মাইল দক্ষিণ পশ্চিমে এই …

পড়ুন

অঙ্ক / তৃপ্তি সান্ত্রা

শচীনদার বউ উষা বৌদি মায়া আর মীরাকে দেখে খুব খুশী হলেন। কতদিন পরে এলে। কেমন সুন্দর আছো তোমরা ৬৮-৭০ বছর বয়সে কেমন হেঁটে চলে বেড়িয়ে বেড়াচ্ছ। আমায় দেখো না হাঁটুর হাড় ক্ষয়ে গেছে… কি যে কষ্ট… রুমু, মানে ময়ূখের বউ, আমার বৌমা তো খুবই ভালো হয়েছে। চলে যাচ্ছে তাই। রুমু যে খুব টিপটাপ, অল্প সময়ের …

পড়ুন

তৃতীয় চোখের বসুধা / জগন্নাথ দেব মণ্ডল

আকাশ মেঘে ভার।টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছে। শরৎ সকালে বাজারে বিক্রিবাট্টা নেই । দোকানদার, খেটে খাওয়া, দিন আনি দিন খাই মানুষদের রোজগার নেই তেমন। তৈরি বাঁশের মণ্ডপগুলোও টিমটিম করছে জলেডোবা বহুদিনের শ্যাওলাধরা নৌকার মতো। দূর থেকে রামকুমার চট্টোপাধ্যায়ের গাওয়া পুরাতনী বাংলা গান আবছা ঘষা ঘষা শোনা যাচ্ছে, পুরো শোনা যাচ্ছে না,ইলশেগুঁড়ির তোড়ে বেঁকে ভেঙেচুরে যাচ্ছে গান। আমার …

পড়ুন

দি লাস্ট মিটিং/সমরজিৎ সিংহ

একটি রাস্তা । তারপর, আবার রাস্তা । তারপর সমাধি । তার উপর চাঁদের ছায়া । দু’একটা পাতা । রাস্তার ওপাশে একটা ভাঙা দোকান । তিনটে চেয়ার । সমাধি থেকে উঠে এসে এই চেয়ারে বসলেন তিনি । টোটেনখাম । চাঁদ তখন পিছলে যাচ্ছে রাস্তার উপর । তিনি তার ভাঙা হাড়ের আঙুলগুলি বের করে কাকে যেন ডাকলেন …

পড়ুন

গ প্ পো ১ – গ্যানগ্যানের দেখা পেলুম / বোধিসত্ব মৈত্রেয়

গ্যানগ্যানের দেখা পেলুম সেই সাত-সুমুদ্দুর তেরো নদীর পারের দেশে। সে বড় আজব দেশ। সে দেশের সব সাদা। রাশি রাশি বরফ পড়ে মাঠ-ঘাট সাদা। বছরে আটটা মাস তুমি মাটির রং দেখতে পাবে না। পাবে না কোথাও একরত্তি সবুজের ছোঁওয়া। জনমনিষ্যি সব সাদা। এমন কি কাক পক্ষীটি পর্যন্ত ধবধবে সাদা। এমনিতে দেশটাতে লোকজন বড় কম। শহর-বাজারে যা …

পড়ুন

পেরেস্ত্রোইকা/কস্তুরী সেন

অতল, আত্মবিস্মৃত, শেষত শেষ কাকে বলে ? উদ্বেগের পর উদ্বেগ, বিরতির পর পুনরাবৃত্তি নিয়ে বেলা সাড়ে চারটেয় ধর্মতলা পেরিয়ে যাচ্ছে দুশো একুশ মাঝমাঠ, খাদ্য আন্দোলন, একদিন একদিন শহরে মানুষ পোড়ে, জিতে বেরিয়ে আসে হিমঋতু ‘এই যে ধাইন্যক্ষেত্র তা দ্যাখতে তো পয়সা লাগে না’ দেখতে দেখতে দেখে যাওয়া, মানুষের এলোমেলো ভিড়, সিগনালে আলো নিভে যায় সাবেক …

পড়ুন

মায়াচাঁদ/অলোক বিশ্বাস

হাসছি বলেই চাঁদ উঠছে নাকি চাঁদ উঠছে বলে হাসছি— কোনো একক মাত্রাকে চায় না মানুষ, নৈঃশব্দ্যের মধ্যেও। এমনতর সম্ভাবনাকে ছাড়িয়ে বীতশোক সাঁতরে আমি যাবো তাহার নিকটে। চাঁদে বসে গাইব মায়াবাদ, চাঁদে বসে বুনব খামার জমি। আমাদের দাবি অনুযায়ী ভালোবাসা চিরকাল চাঁদের সাপোর্ট পেয়েছে। পুনরায় চাঁদে গিয়ে অপেক্ষা করব তোমার জন্য। আমার রান্নাঘরে, পড়ার ঘরে বাজছে …

পড়ুন

গ প্ পো ৪ – পুঁটে দত্তিদের গপ্পো/ বোধিসত্ব মৈত্রেয়

টাটকা-ঝরা ঝুরো বরফের রাশ ঠেলে এগুচ্ছি আমি আর স্কুয়া। ধু ধু ফাঁকা রাজ্যিটা ভরা অরোরার আলোয়। উত্তরের সারা আকাশটা জুড়ে ঘি-রঙা আলোর বান। তাতে তামাম বরফের দেশটা একেবারে রূপোর পাতে মোড়া রূপকথার রাজ্যি। স্কুয়া বললে, ‘সাবধানে হাঁটো। এবার পায়ের তলার বরফ আর তেমন ঝুরো নয়। একটু জমাট বাঁধা শক্ত। এখন আমরা পাহাড়ে চড়ছি। শক্ত বরফের …

পড়ুন

খন্দকার গলির অন্ধকার / অলোকপর্ণা

ঘুমের ভিতর হেঁটে বেরানো আজও থামলোনি জাহান আরার। জাজিমে গতর এলানো মাত্র সে ঘুমের সাগর পার করে বাণিজ্যে যায়। দোষ অবশ্য তার একার নহে, ঘুম এমনই জটিল ও জালিম যে তার হাত পা ধরে ঘুমের ভূতেরা হিড়হিড়িয়ে টেনে নিয়ে ফেলে কখনো থানার গ্যারাজে, কখনো দত্তাবাদের মাঠে, কখনো মোরশেদের আস্তাবলে। একবার ঘুরঘুট্টি রজনীতে সে গলা অবধি …

পড়ুন

ভূতপূর্ব ভূত / অহনা বিশ্বাস

ভূতের নাম যে ভূত -গোটা গ্রাম সে কথা জানে। একবার রাস্তা থেকে ডেকে ওর মা আমাকে দেখিয়েছিল। ছোটো বাচ্চা তখন ও। কাজ থেকে ফিরে ভূতকে ওর মা আবিষ্কার করেছিল ওদের ধান সিদ্ধ করা উনুনের ভেতর কালি ঝুলি ছাইমাখা অবস্থায়। ওর মা হাসতে হাসতে বলেছিল, দেখ দিদি, এ যদি ভূত না হয় তো ভূত কাকে বলবি? …

পড়ুন

আমাকে আসলে কেমন দেখায় / নাসরীন জাহান

আমাকে কি খুব উদ্ভট দেখায় ? চক্রাকারে বাসটা মোচড় দিয়ে উঠতেই এমন একটা ভাবনা আমাকে অবশ করে তোলে। লোকজন কী রকম চোখ টেপে, টিপ্পনী কাটে, সন্ধ্যায় একা বেরোলে খারাপ মেয়ে ভেবে ইশারায় কেউ প্রস্তাবও দেয়। আমার পরিচিত কয়েকজনকে এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করেছি, তাদের মতে ক্ষেত্রবিশেষে তাদেরকে যে এরকম পরিস্থিতিতে পড়তে হয় না, তা নয়, তবে …

পড়ুন

বৃষ্টি তুমি রোদের মধ্যে /বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়

বৃষ্টি আমি জানি তুমি চরিত্রহীন, কুলটা নও কখনও হবে না মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার মতন ধূর্ত জাফরি-কাটা যে বারান্দা থেকে তোমায় ছুঁয়েছিলাম, প্রবল খরার মরশুমে সেই জাফরি আমার মাথায় ঘুরত…   শুধুমাত্র ‘বেঁচে’ জীবন কাটানো খুব কঠিন বলে বিকেলবেলার তেজি আগুন রাত্রি নামলে ছাই হয়ে যায় বম্বে থেকে বেঙ্গালুরু পাক্ খেয়ে পাক্ খেতে খেতে তোমায় পাবো …

পড়ুন

বজ্রসেনি/সার্থক রায় চৌধুরী

নুয়ে পড়া ডাল আর চুঁয়ে পড়া জল, জলের গভীর থেকে মেঘ বহুতল, আকাশ পাগল যেন আত্মহারা এক বৃষ্টি এলো- জানে ভিজল যারা..   জানে? পাগল তবে কার নেশার ঘোরে আঁকে বজ্র, হাওয়ায় ভেজা পালক ওড়ে…

পড়ুন

একা মানুষ, পঞ্চাশ অস্তিত্ব/চণ্ডী মুখোপাধ্যায়

বইয়ের নামঃ পেসোয়া অ্যান এক্সপেরিমেন্টাল লাইফ লেখক: রিচার্ড জেনিথ প্রকাশক: পেঙ্গুইন বুকস আলোচকঃ চণ্ডী মুখোপাধ্যায় রিচার্ড জেনিথ রচিত “পেসোয়া অ্যান এক্সপেরিমেন্টাল লাইফ” বইটি আধুনিক সাহিত্যের অন্যতম রহস্যময় এবং বর্ণিল ব্যক্তিত্ব ফার্নান্দো পেসোয়ার জীবনের একটি মহাকাব্যিক দলিল। ফার্নান্দো পেসোয়া (১৮৮৮–১৯৩৫) বিংশ শতাব্দীর পর্তুগিজ সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি এবং বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম আধুনিকতাবাদী পথিকৃৎ। তার জীবনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য …

পড়ুন

প্রস্তাব/সুমন গুণ 

পাতায় বৃষ্টির শব্দ সাংসারিক, দ্বিপ্রাহরিক। আস্থা ও আশ্বাস থাকে, সমবেত, শুভানুধ্যায়ীর পীড়া ও আরাম থাকে। যথাস্থান থাকে। থাকে মেঘ, অস্পষ্ট ও গূঢ়,  সম্পর্কের অসহায়তার মতো,  চিন্তা ও ক্ষমার মতো, পতনকালীন বজ্র ও বিদ্যুৎভরা নৈশব্দের মতো।   পথেও স্তব্ধতা থাকে দ্রুতগামী; নৈকট্য ও নিশ্চয়তাভরা। কোথাও স্থানাংক আছে, ছাদ আছে, দরজা ও রেলিংঘেরা সুবাতাস আছে,  আছে স্থিতি, …

পড়ুন

পুরনো দিন নতুন দিন/শংকর চক্রবর্তী

মনে পড়ে সেইসব রবীন্দ্র-গানের সকাল সূর্যাস্তের থেকে মুক্তি পেয়ে ভাবলেশহীন কোনো সন্ধের পাশে বেজে উঠত জড়োসড়ো একবারও কেউ ডানা ঝাপটিয়ে উড়তে চায়নি তখন সাদামাটা বিকেলগুলো শুধু এই ষড়যন্ত্রীর শহরে অন্ধকার নামিয়ে রাখত প্রতিদিন সেই সকাল থেকে ছুটে যেত সবাই একে অপরের জামা-প্যান্ট উদোম করে ছুটত তুমি শুধু সারাজীবন অপরাধীর মতো মোমবাতি হাতে রাস্তা পেরিয়ে ফুটপাথ …

পড়ুন

নোটপ্যাডের নৌকো/মন্দাক্রান্তা সেন

এক বর্ষার দিনে সে আসবে বলে কথা দিয়ে আসেনি।   এই সামান্য বিষয় নিয়ে পদ্য লিখে প্যানপ্যান করা এই বয়সে নিতান্তই ন্যাকামি হয়ে যাবে।‌   নাকের জলে চোখের জলে ছপছপ করছি । কোথা গেলে,‌ সেয়ানা প্রাণাধিক   নোটপ্যাডে নৌকো ভাসাই । নেহাত বালিকা আহা‌ আহা ।   তুমি আসবে বলে আসোনি। বেশ করেছ ।   …

পড়ুন

চৌষট্টি যোগিনী সমীপে / শর্মিষ্ঠা দাস

ভুবনেশ্বর শহরে এসেছি । আকাশপথে আমাদের দুর্গাপুর থেকে এখন মোটে একঘন্টাও নয় । কাজে অকাজে এ শহরে তো লোকজনের আনাগোনা লেগেই থাকে–আমরা এখান থেকে পুরীধামে যাই, চিল্কাতে জলবিহার করি, লিঙ্গেশ্বর মন্দির দর্শন করি –অথচ — যে ‘কিন্তু’ আর ‘অথচ’ আমাকে এবার রথে চাপাল-সারথি বলল–উধার তো কোই যাতা নেহি। বললাম –সেই জন্যেই তো। উচ্চবর্ণের দেব দেবী …

পড়ুন

সাইলেন্স দিস আপকামিং কল/যশোধরা রায়চৌধুরী

মানত করলে মানতের ফল ফলবেই, দিদি। বসুন , ঠিক করে বসুন। আমি একটু সরে বসি। ভাই একটু জায়গা দিন না। পাশের অনিচ্ছুক ব্যক্তিকে বলি। জেনারেল কম্পার্টমেন্টে বাধ্য হয়ে উঠেছি। লেডিজে তিল ধারণের জায়গা নেই। যাক, আপনার কৃপায় বসতে পারলাম। এ বাবা কৃপা কেন। কোথায় যাচ্ছেন? বাবার আশ্রমে। খুব জাগ্রত বাবা। হরিহর বাবা। জানেননা, এই লাইনের …

পড়ুন

নামকরণ / ঋজুরেখ চক্রবর্তী

কোনও একদিন তুমি সেই উন্মত্ত কিশোরবেলার নাম রাখতে চেয়েছিলে নিপীড়িত জনতার সরণি। প্রকৃতিতে তখন প্রতিটি সচেতন প্রতিরোধ ছিল প্রগতি, আর মেঘ ডাকলে সূর্যত্রাসে কেঁপে উঠত প্রতিক্রিয়া। রথ দেখতে যাওয়ার মতো তুমি সুদূর করে নিয়েছিলে তোমার দিগন্তরেখা, স্বপ্নের সেই সাদা ঘোড়াটিকে নিয়ে নিশ্চিন্ত স্ববিরোধে বেরিয়ে পড়েছিলে সাম্রাজ্যবিস্তারে, খুরে খুরে ধুলোর ঝড় তুলে বিলিয়েছিলে কল্যাণ, ফিরে এসেছিলে …

পড়ুন

বিমর্ষ জল ও উড়ন্ত লাল কার্পেট/গৌতম গুহ রায়

খবরটা সরাসরি ওকে দেয়নি কেউ, কিন্তু সকাল থেকেই বাড়িতে ফিশফিশ করা চাপাস্বরের কথাগুলো তার কানে আসছিল – কীভাবে ওকে খবরটা দেওয়া হবে ? একমাত্র মেয়ে, ওকে তো জানাতেই হবে । ফিশফিশ থেকে হাওয়ার ভেতর দিয়ে ক্রমশ ধ্বনি, শব্দ, কথা হয়ে খবরটা দীপার কানে পৌঁছে যায় । সে সে সরাসরি দিদাকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করে, ‘বাবার কোনো …

পড়ুন

তোমার প্রিয় কাব্যগ্রন্থের নাম/বর্ণালী কোলে

(১) বিদ্রোহ শান্ত হয়ে আসছে, শান্ত হয়ে আসছে জলকামান আক্রোশ শান্ত হয়ে আসছে, শান্ত হয়ে আসছে মুহুর্মুহু ভীমরুলের মতো কামড় শান্ত হয়ে আসছে মল্লযুদ্ধ ক্ষোভ, অভিযোগ দেখা দিচ্ছে ফাল্গুন রাত্রি আকাশ জুড়ে শ্বেতরঙ্গন (২) যেভাবে বীণা স্পর্শ করে আছে পদ্মকে সেভাবে তুমি আমাকে স্পর্শ কোরো আসছি এখনও তুমি কাজ করছ শুকতারাটি উঠবে এবার শিয়রে তোমার …

পড়ুন

সুন্দর যখন ভয়ংকর / হিন্দোল ভট্টাচার্য

দশ বছর আগের কথা। গেছিলাম ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স বলে এক অপরূপ জায়গায়। হিমালয়ের কোলে, এক বিস্তৃত এলাকায় কত রকম ফুলের সমাহার, না দেখলে বোঝা যাবে না। সেখানে এক ঘন্টার বেশি কাউকে থাকতে দেয় না। যাওয়াটাও খুব কঠিন একটা রাস্তা ধরে ট্রেক করেই যেতে হয়। কিন্তু তখন হিমালয় এমন রণচণ্ডী রূপ ধারণ করেনি। হয়তো এই রূপ …

পড়ুন

আপনার লেখা প্রকাশ করার জন্য

কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, অনুবাদ এবং অন্যান্য লেখা