গ প্ পো ১ – গ্যানগ্যানের দেখা পেলুম / বোধিসত্ব মৈত্রেয়

গ্যানগ্যানের দেখা পেলুম সেই সাত-সুমুদ্দুর তেরো নদীর পারের দেশে।

সে বড় আজব দেশ। সে দেশের সব সাদা। রাশি রাশি বরফ পড়ে মাঠ-ঘাট সাদা। বছরে আটটা মাস তুমি মাটির রং দেখতে পাবে না। পাবে না কোথাও একরত্তি সবুজের ছোঁওয়া। জনমনিষ্যি সব সাদা। এমন কি কাক পক্ষীটি পর্যন্ত ধবধবে সাদা।

এমনিতে দেশটাতে লোকজন বড় কম। শহর-বাজারে যা হাজার কতক। নইলে দেশ বলতে শ’খানেক ছোট ছোট দ্বীপ। ঘেঁষাঘেঁষি পড়ে আছে উত্তর সাগরের ওপরে। তাদের ওপর দিয়ে সব সময়ে হু-হু বইছে হাড়-কাঁপানো হিমেল হাওয়া। সাগরের জল ফুঁসে উঠে ঢেউ হয়ে আছড়ে পড়ছে তো পড়ছেই দ্বীপগুলোর ওপর। তার যেন বিরাম নেই। দ্বীপের যে কোন জায়গা থেকে শুনতে পাবে এই জল আছড়ানির শব্দ। আর হু-হু হাওয়ার হাঁক।

দ্বীপগুলো যেন মরুভূমি। বরফের মরুভূমি। ধু-ধু ফাঁকা। কোথাও একটা উঁচু গাছ নেই। যে দিকে চাও কেবল ঢেউ খেলানো ন্যাড়া পাহাড় আর পাহাড়। তাদের আগাগোড়া রূপোলী বরফের রাংতায় মোড়া। মাঝে মাঝে ছড়িয়ে আছে জনমানবহীন মেঠো জায়গা। আর এখানে-ওখানে বড় বড় লেক। আর আছে জলা-হাওড়-বাদা। তা সেগুলোও টের পাওয়া যায় না। সব কিছু ঢাকা বরফের সাদা চাদরে।

সে দেশে বছরে ছ’টা মাস দিনের আলো বাইশ ঘণ্টা। আর বাকি ছ’মাস সূয্যি মামা একদম নিপাত্তা। কখন-সখন হয়তো উঁকি মারে দু’এক ঘণ্টার জন্যে। তবে তার জন্যে যে সবকিছু অন্ধকারে ডোবা তা-নয়। ওঠে উত্তরের আজব আলো অরোরা বোরিয়ালিস। জোছনার মতো আকাশ-মাটি-সুমুদ্দুর সব ছাপানো। তাতে ভোরের আলোর আভা। সব কিছুই পষ্ট দেখা যায়।

পাহাড়ের গায়ে ছোট্ট শহর। কাঠ পাথরের বাড়িগুলো যেন দেশলাই বাক্সের তৈরী পুতুলের ঘর। পাহাড়ের গায়ে লটকানো। সরু সরু রাস্তা পাহাড়ের গা বেয়ে। কখনও বাঁকা কখনও সোজা। কখনও সাপের মতো জড়িয়ে পেঁচিয়ে। একটা রাস্তার শেষে যেন সাপের মাথায় নীলকান্ত মণি গ্যানগ্যানের ছোট্ট হাল্কা নীল রংয়ের বাড়িটা। তার ভেতরে আগুন-কাঁদায় বসে গ্যানগ্যান। যেন-

চাঁদের মা এক বুড়ী
সাদা শনের নুড়ী
বাতেতে থুথুড়ি।
বয়সের নেই গাছ পাথর
বাতের ব্যথায় বড়ই কাতর।
কিন্তু – গপ্পো বলতে সয় না তর।

বুড়ীর সামনে নিচু টেবিলের ওপর একটা চরকা। আর একরাশ পেঁজা ভেড়ার লোমের পাঁজ।

বুড়ীর কাছে আমাকে নিয়ে সটান হাজির আংকল্ জ্যাক। পুরো নামটা মিস্টার জ্যাকবসেন। আংকল্ বললে, ‘ওই আমার বুড়ী ঠাকমা -‘

শুনে তো আমার চোখ কপালে। আংকল বলে কি। আংকেলের মাথার ওপর দিয়ে ষাট ষাট করতে করতে ষাটটা বছর পগার পার। তা-সেও আজ বেশ ক’বছর। মাথার সমস্ত চুল কটি খুঁটিয়ে তুলে নিয়েছে তার বয়স। মুখের তামাকের ছোপ-ধরা পুরোনো দাঁতের পাটি কবে আবার্ডিনের ডাক্তার উপড়ে তুলে বাঁধিয়ে দিয়েছে নতুন পাটি। তা সেটাতেও তামাকের ছোপ ধরব ধরব। সেই আংকেলের আবার ঠাকমা। বুড়ীর ফোকলা মুখে নি-দন্তের হাসি। ছড়ানো একগাল। আমাকে দু’ হাতে ধরে পাশে বসালো। চাঁদের মা বুড়ীর পাশে আমি কালোমানিক। যেন চাঁদের কলঙ্ক।

‘ও ডিয়ার, ডিয়ার। কোথা থেকে একে নিয়ে এলি জ্যাক। ক্রীসমাসের ঠিক আগে আমার ঘরে কালো মানুষ। ওমা কি সৌভাগ্যি আমার। আমি এ ভাগ্যি রাখি কোথায় গো। তা বাছা এক টুকরো কয়লা হাতে করে এনেছ তো-‘

বলার সঙ্গে সঙ্গে আমার হাত কোটের পকেটে। আগাগোড়া মুড়ি দেওয়া রোঁয়ালা ভাল্লুকের মতো লম্বা কোট। বার করে ফেলেছি আমাদের কেষ্টনগরের পোড়ামাটির এক কালো হাতি। হাতে পেয়ে বুড়ী কী খুশী। আহ্লাদে গলে যায় আর কি। আদর করে আমার কপালে গালে এন্তার চুমু। আকুলি বিকুলি ডাক ‘ওলো ও স্কুয়া – এই দ্যাখ রে কাকে তোর বাপ সঙ্গে নিয়ে এয়েছে। ভিন দেশের এক ভিন মনিষ্যি। কয়লার খনি থেকে তোলা হীরে রে। কি জ্বলজ্বলে চোখ-মুখ-‘

সামনে হাজির এক পরমাসুন্দরী মেয়ে। ঠিক যেন পরী। দীঘল চেহারা, ঢলঢলে গড়ন। ঢাল দেওয়া একরাশ সোনালী চুল। ‘গ্যানগ্যান, আমায় ডাকছিলে-‘

‘-দেখ, দেখ। গরম দেশের লোক আমার ঘরে কি রকম ওম্ এনেছে। ঠাণ্ডাতে জমে মরি। হাত-পা সব অসাড়। মনটাও তাই। ওম্ পেয়ে আমার বরফ গলা শুরু। এসো গো আমার সাগরপারের অতিথি তোমার সঙ্গে একটু গপ্পো করে বাঁচি-‘

বলতে বলতে বুড়ীর মিষ্টি সুরে কুলকুলিয়ে হাসি। আর তার সাথে ছড়া-

‘চরকা কাটি ঘ্যানর ঘ্যান
পাঁজের সুতোয় লাগাই টান।
মন ঘুড়িটা আকাশ জুড়ে
উড়ে বেড়ায় অনেক দূরে।
গপ্পো কথার রাজ্যি খান,
বাঁধিয়ে সুতোয় লাগাই টান।’

আংকল জ্যাক বলে ওঠে, ‘রূপকথা শোনাতেই তো ওকে নিয়ে এলাম তোমার কাছে গো, ঠাকমা। ওদের দেশে রূপকথার নাকি বড় কদর-‘

‘সেটা কোন্ দেশ রে জ্যাক -‘

‘ইন্ডিয়া ভারতবর্ষ। যেখানে আমার বাবা এক বছর হারিয়ে গিয়েছিল। তুমি তার পাত্তা না পেয়ে -‘

‘ও মা, তা আর মনে নেই! ইণ্ডিয়া নিজেই তো এক রূপকথার রাজত্বি। কতো রাজা মহারাজা। কতো ইয়োগী সন্নিসী। কতো তন্তর-মন্তর। কতো দত্তি-দানা। ভূতের ছানা। কতো ভীষণ ভীষণ জানোয়ার। কতো সোনা-দানা হীরে মানিক। ছেলের আমার তো ফেরার নামই নেই। শেষে ধরল কালাজ্বরে। এক পেট পিলে। ঠি-ঠি করে জ্বরে কাঁপতে কাঁপতে পালিয়ে এল তোর বাপ। তার কাছে অনেক গপ্পো শুনিচি ইণ্ডিয়ার। সে এক আজব দেশ-‘ বুড়ীর আবার কুলকুলিয়ে হাসি। টেবো-টেবো থলথলে নরম গাল দুটোতে খাঁজ। মাথা নেড়ে বলে, ‘হ্যাঁ, তা আমার দেশের রূপকথা শোনাতে পারি। কিন্তু এক কড়ারে। রাজী-‘

‘-শুনি আগে। কড়ারটা শক্ত না নরম। ঠাণ্ডা না গরম’

‘তুমি না নওজোয়ান। তোমার মুখে ওকি কথা। জ্যাকের ঠাকুদ্দার কাছে শক্ত নরম কোন তফাৎ ছিল না। সে আমার হাড় চিবিয়েছে মাস খেয়েছে। তবেই না আজও সে আমার মনের মানুষ। ঠান্ডা গরমের কথা আর যেখানেই বল এখানে না বলাই ভাল। এটা হল হিমের রাজ্যি। বাইরে এর সবটাই হিমে জমাট। কিন্তু-‘ বলেই বুড়ী ছড়া কাটে-

উতোর সাগর উতোরে
জমাট হিমের ভেতরে
লুকিয়ে আছে গরম প্রাণ
গরম রসের বইছে বান।

বাইরে যতো ঠাণ্ডা, ভেতরে ততো গরম। খুঁজে নাও গো ভিনদেশী মানুষ। সে গরমের ওমটুকু পেতে হলে চুপ করতে হবে। এমনি হবে না তা বলে দিচ্ছি -‘। বলেই স্কুয়ার দিকে এক চোখ টিপে বুড়ীর আবার কুলকুল করে হাসি।

হঠাৎ বুড়ী গম্ভীর। গম্ভীর গলায় বলে, ‘কিন্তু এই শূন্যির নিচে থার্মোমিটারের পারাটা যে আটকে। ওটা কিছুতেই তো ওপরে ওঠে না। আমার ডান হাতখানাও ঐ শূন্যিতে আটকে যায়। পারার দাগের মতো। কিছুতেই ওপরে উঠতে চায় না। চরকা ঘুরোতে বড় কষ্ট। গাউটে আমি বিলকুল আউট। তা তুমি যদি রূপকথার গপ্পো শুনতে চাও তো আমার চরকাখানা ঘুরোও। নিত্যি ওটা ঘোরায় স্কুয়া। ওই আমার গল্পের ভাঁড়ারী। আগে ওটা করত ওর বাপ। আমার কাছে রূপকথা শুনে সেগুলোর ওপরে লেখাপড়া করে ও অনেক মান্যি পেয়েছে। এখানকার সোসাইটির লোকেরা ওকে গলায় মালা দিয়ে সভাপতি বানিয়েছে। এখন ওকে দূরে দূরে যেতে হয়। কাছে পাই না। আজ তোমার মতো একজন জোয়ান ছোকরা যখন পেয়েছি তখন আর ছাড়ছি নে। স্কুয়ার আজ ছুটি। ও ছুঁড়ির কাজ আমাদের চা-কফি যোগান-‘

ঘাড় নেড়ে বলি, ‘আমি রাজী-‘

বলতে বলতে স্কুয়া কফির ট্রেটা এগিয়ে ধরেছে সামনে। নজর করিনি কখন চুপচাপ সরে গিয়ে কফিটুকু তৈরি করে নিয়ে এসেছে। সঙ্গে একরাশ ঘরে তৈরি প্যানকেক। তার সঙ্গে গন্ধে ভুরভুর চমৎকার চীজ। খেতে খেতে আমার জিজ্ঞাসা, ‘স্কুয়া তোমায় গ্যানগ্যান বলে কেন’

‘ও ডিয়ার, ডিয়ার। তাও জান না। আমি হলুম জ্যাকের ঠাকমা – গ্র্যান্ড মা। আর স্কুয়ার গ্রেট গ্র্যান্ড-মা – পো-ঠাকমা। গ্রেট গ্র্যান্ড-মা কথায় কথায় গ্যানগ্যান। কেন খারাপ কোথায়-‘

‘বল কি গো গ্যানগ্যান – এমন মিষ্টি ডাক তো আমি আর শুনিনি-‘

যেমন কড়ার তেমনি কাজ। আমার চরকার ডাঁটি ঘুরোনো শুরু। ভাগ্যিস ছেলেবেলায় অভ্যেসটা রপ্ত ছিল মেজ ঠাকুমার চরকা ঘুরিয়ে। গ্যানগ্যান আমাকে পরখ করে দুটো পাঁজ থেকে সুতো নিলে সাঁ সাঁ করে। খুব খুশী বুড়ী। ‘বাঃ, বেশ হাত-‘

উৎসাহের চোটে আমার চরকা ঘুরোনো। গোঁ গোঁ করে ঘোরে চরকা। তাল বুঝে আমার ছড়া-

‘ঘ্যাঁগর চরকা ঘ্যাঁগর
রাজপুত্তর কাতর
হটর হটর পবনের না
রাজকন্যের দেশে যা।’

‘এ্যাঁ, এ্যাঁ, কি বললে, কি বললে-‘ গ্যানগ্যান কানটা বাড়িয়ে দিলে তক্ষুনি। ‘আহা, আবার একবার বল। ভারী চমৎকার ছড়া তো। মানেটা আমায় বুঝিয়ে দাও-‘

তর্জমা করে বুড়ীকে মানেটা বোঝাই। বলি, ‘এটা আমাদের দেশের রূপকথা-‘

‘বাঃ বাঃ কি সুন্দর রূপকথা গো আমাকে শোনাতে হবে। তার বদলে আমি আমার পো-নাতনীকে তোমার সঙ্গে বে দোব। অবিশ্যি ও যদি রাজী থাকে-‘

পষ্ট গ্যানগ্যানের পাশে বসা স্কুয়ার মুখটা ঝট করে আগুন রাঙা। তাড়াতাড়ি তার কথা, ‘আঃ কি আজেবাজে বকছ গ্যানগ্যান। রূপকথাটা শুরু কর না-‘

আংকল্ জ্যাকের মেয়েকে সান্ত্বনার সুরে কথা, ‘ঠাকুমার একশো পার হয়ে এই সাত বছর চলছে। যদি দু’একটা আজে বাজে কথা বলেই ফেলে তাতে মনে করার কিছু নেই-‘

গ্যানগ্যান বুড়ী ওসব গ্র্যাহ্যের মধ্যেই আনে না। আমার দিকে তার হাসি ভরা চোখের মিটমিটে চাউনী। জিজ্ঞাসা করে, ‘আচ্ছা বল দিকিনি সুমুদ্দুরের জলটা এত নোনা কেন-‘

মনে ভাবি, এটা একটা প্রশ্ন নাকি। বুড়ীর নির্ঘাৎ ভীমরতি ধরেছে। স্কুয়ার দিকে চাই। দেখি, চোখ টিপে তার ইশারা। আমি আর কথাটি না বলে চুপ।

পাঁজ থেকে সুতো টানতে টানতে বুড়ী বলে, ‘শোন তাহলে-‘

আরও পড়ুন:

গ প্ পো ৫ – কুঁড়ে নিক্কির গল্পো/ বোধিসত্ব মৈত্রেয়

‘তা তোমার কৃষ্টাবেলের কি হোলো –’ তাড়া দিল স্কুয়া।   ‘কৃষ্টাবেলের কথা পরে। আরে নিক্কির…

পড়ুন

নির্বাচন / ঈশিতা ভাদুড়ী

কাকে বেছে নেব? অলিভপাতা, নাকি ধুঁতরোফুল? কে না জানে সঠিক নির্বাচন না হলে দু:খ পড়ে…

পড়ুন

তোমার প্রিয় কাব্যগ্রন্থের নাম/বর্ণালী কোলে

(১) বিদ্রোহ শান্ত হয়ে আসছে, শান্ত হয়ে আসছে জলকামান আক্রোশ শান্ত হয়ে আসছে, শান্ত হয়ে…

পড়ুন

সুন্দর যখন ভয়ংকর / হিন্দোল ভট্টাচার্য

দশ বছর আগের কথা। গেছিলাম ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স বলে এক অপরূপ জায়গায়। হিমালয়ের কোলে, এক…

পড়ুন

শহর/বিজয় সিংহ

ফেরার আগে যে তুমি অহৈতুকী ছিলে ফেরার পরে যে প্রাক গোধূলিরা অপ্রবাসে ঢোকে ফক্স কে…

পড়ুন

জোয়ার / বেবী সাউ 

যেভাবে জলের কাছে লিখে রাখি ত্যাগসূত্র আদি—   শরীর, গোপন মায়া ধীরে ধীরে নামে কঠিন…

পড়ুন

পিরিত/অভিমন্যু মাহাত

খুব টানটান ছিল বেদনা যত দিন যায় ভুল বাড়ে, প্রবঞ্চনাও বাড়ে স্মৃতিভ্রষ্ট সুতোয় পিরিতের বহি…

পড়ুন

শিশিরকুমার দাশ: খুঁজে ফিরি কর্ণ, কর্ণের সহোদর/মোস্তাক আহমেদ

মৃত্যুলগ্ন পার হয়ে যতবার গিয়েছি নিঃসীমে বিদ্যুতের দীপ হাতে: অন্ধকারে আকাশের বিস্তৃতি অপার বিদ্রোহী ঝড়ের…

পড়ুন

কাজের ভাষা, মুখের ভাষা/স্বপ্নময় চক্রবর্তী

যিনি কাঠের কাজ করেন, উনি বললেন, ‘এই কাঠের জিনিসগুলোকে আলাদা করে পালিশ করাবেন কেন? দোকান…

পড়ুন

বাবা / মণিদীপা নন্দী বিশ্বাস

জানলার ধারে রোদ পোহাও তুমি কত দশক… সন্তানের কতগুলো ভুল ভুল কাজের নির্জন সাক্ষী হয়ে…

পড়ুন

কালীপুজোয় আকালীপুর / ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়

বাতাসে অল্প হিমেল গন্ধ আর সঙ্গে শিউলির শেষ রেশটুকুনি নিয়ে শহর ছেড়ে রাঙামাটির পথে পাড়ি…

পড়ুন

তৃতীয় চোখের বসুধা / জগন্নাথ দেব মণ্ডল

আকাশ মেঘে ভার।টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছে। শরৎ সকালে বাজারে বিক্রিবাট্টা নেই । দোকানদার, খেটে খাওয়া, দিন…

পড়ুন

অঙ্ক / তৃপ্তি সান্ত্রা

শচীনদার বউ উষা বৌদি মায়া আর মীরাকে দেখে খুব খুশী হলেন। কতদিন পরে এলে। কেমন…

পড়ুন

পুরনো দিন নতুন দিন/শংকর চক্রবর্তী

মনে পড়ে সেইসব রবীন্দ্র-গানের সকাল সূর্যাস্তের থেকে মুক্তি পেয়ে ভাবলেশহীন কোনো সন্ধের পাশে বেজে উঠত…

পড়ুন

প্রেম বলিনি/যশোধরা রায়চৌধুরী

আমি তোমার ছোট্টবেলার বোকা তুমি আমার আনন্দ জিমখানা আমি তোমার তাসের হাতের পোকার তুমি আমার…

পড়ুন

নামকরণ / ঋজুরেখ চক্রবর্তী

কোনও একদিন তুমি সেই উন্মত্ত কিশোরবেলার নাম রাখতে চেয়েছিলে নিপীড়িত জনতার সরণি। প্রকৃতিতে তখন প্রতিটি…

পড়ুন

ঘড়ি বন্ধ ছিল/বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়

লাফাতে লাফাতে বেরিয়ে যাবার পর টের পেলাম অনেকগুলো ভুল হয়ে গেছে। মাস্ক নিতে ভুলে গেছি।…

পড়ুন

আমাজনের চার অধ্যায়/চৈতালি চ্যাটার্জি 

কালো , আঁধারের মাঝে ;   কুচকুচে কালো চারিপাশ, তারই মাঝে কিছু আলোর বিন্দু ফুটে…

পড়ুন

একা মানুষ, পঞ্চাশ অস্তিত্ব/চণ্ডী মুখোপাধ্যায়

বইয়ের নামঃ পেসোয়া অ্যান এক্সপেরিমেন্টাল লাইফ লেখক: রিচার্ড জেনিথ প্রকাশক: পেঙ্গুইন বুকস আলোচকঃ চণ্ডী মুখোপাধ্যায়…

পড়ুন

কাঠামো / অর্ণব চৌধুরী

গাছের কোটরে ভাঙাচোরা দেবীমূর্তি আছে পড়ে আঁধার-মিনারে ফুটে ওঠে তার সমাহার নিরিবিলি পথে আমি তার…

পড়ুন

চৌষট্টি যোগিনী সমীপে / শর্মিষ্ঠা দাস

ভুবনেশ্বর শহরে এসেছি । আকাশপথে আমাদের দুর্গাপুর থেকে এখন মোটে একঘন্টাও নয় । কাজে অকাজে…

পড়ুন

গুঁড়োমশলা/কাবেরী গোস্বামী

সে এখন একটি অচল পয়সার মতন ফিরেও তাকায় না আর কেউ কারণ, সে আজ শুষ্ক…

পড়ুন

স্পর্শ, স্পর্শাতীত… / সৌরভ মুখোপাধ্যায়

তাহলে আলোর কথা জেনে নেব কাহার সমীপে? তাহলে দুপুরশব্দ,একমনে পাখিটির স্নান? তবে কে জানাবে বলো…

পড়ুন

কলসপুর যাইনি / অমর মিত্র

অনেকবার  দীপিকাকে বলেছি, কলসপুর নিয়ে যাব। বলতে গেলে সেই বিয়ের পর থেকে। আমাদের যাওয়া হয়নি।…

পড়ুন

পথ রুধে রবীন্দ্রঠাকুর: বাংলা গানে পথ চলা/অভ্র বসু

সম্প্রতি একটি বিতর্কসভায় থাকবার সুযোগ হয়েছিল, যেখানে বিতর্কের বিষয় ছিল: রবীন্দ্রনাথের গান আর বর্তমান প্রজন্মের…

পড়ুন

আমাকে আসলে কেমন দেখায় / নাসরীন জাহান

আমাকে কি খুব উদ্ভট দেখায় ? চক্রাকারে বাসটা মোচড় দিয়ে উঠতেই এমন একটা ভাবনা আমাকে…

পড়ুন

ভূতপূর্ব ভূত / অহনা বিশ্বাস

ভূতের নাম যে ভূত -গোটা গ্রাম সে কথা জানে। একবার রাস্তা থেকে ডেকে ওর মা…

পড়ুন

এ এক ‘অচেনা’ দেশ/পার্থ মুখোপাধ্যায়

আমরা যখন গতির নেশায় ছুটছি, যখন আমাদের চারপাশ ‘স্মার্ট সিটি’ আর ‘ক্যাশলেস’ হওয়ার উৎসবে মেতেছে,…

পড়ুন

মন্দির দেখা সহজ নয়/শ্রীলা বসু

বেড়ানোর পোকাটা আমার মাথায় এসেছে প্রধানত পৈতৃক সূত্রে। বাবার হাতে ম্যাপ টাইম টেবিল দেখতাম হরদম।…

পড়ুন

৩/৪ সি, তালতলা লেন / সুমিতা মুখোপাধ্যায়

বইয়ের নামঃ ৩/৪ সি, তালতলা লেন কবিঃ হিন্দোল ভট্টাচার্য আলোচকঃ সুমিতা মুখোপাধ্যায় ৩/৪ সি, তালতলা…

পড়ুন

খেলার দৃশ্যান্তর/অনির্বাণ বসু

একতলা ক্লাবঘর। ন্যাড়া ছাদ। কাঠের দরজা। কোলাপ্সিবল। লাল মেঝেয় কালো বর্ডার। পলেস্তরা-খসা দেয়াল হালকা ঈষৎ।…

পড়ুন

পিতা নোহসি/প্রতিভা সরকার

‘এই রানি, তোর বাবা সবসময় আমার বুকের দিকে তাকায়া তাকায়া কথা কয় ক্যান রে? বুড়াটা…

পড়ুন

মুষলপর্ব/বেবী সাউ

শূন্যতার রং নিয়ে বড়ো বেশি ভেবে চলো তুমি অথচ জলের কাছে প্রতিদিন শিখে নিই নীল…

পড়ুন

খন্দকার গলির অন্ধকার / অলোকপর্ণা

ঘুমের ভিতর হেঁটে বেরানো আজও থামলোনি জাহান আরার। জাজিমে গতর এলানো মাত্র সে ঘুমের সাগর…

পড়ুন

অনন্ত সংলাপ/অর্পিতা কুণ্ডু

আমি: ঢেউ তো প্রোজ্জ্বল, তাতে তুমি বসে আছ শিরোচূড়ামণি। হাটের নাগর তুমি, ভিটায় নিমিত্ত সামগান…

পড়ুন

গ প্ পো ৪ – পুঁটে দত্তিদের গপ্পো/ বোধিসত্ব মৈত্রেয়

টাটকা-ঝরা ঝুরো বরফের রাশ ঠেলে এগুচ্ছি আমি আর স্কুয়া। ধু ধু ফাঁকা রাজ্যিটা ভরা অরোরার…

পড়ুন

দিনলিপি/প্রবালকুমার বসু

ভেঙে যাওয়া স্বপ্নের কথা মনে পড়ে কথা দিয়ে না রাখতে পারার মতন অনর্থক গ্লানি  …

পড়ুন

গ প্ পো ৩ – ধেড়ে দত্তি স্যাক্সি আর হারমানের গপপো/ বোধিসত্ব মৈত্রেয়

টিং-টিং, টুং-টুং, এক ছোট্ট ঘণ্টার মিষ্টি আওয়াজ আসছে কোথা থেকে? হাতড়াতে থাকি এদিক ওদিক। জঙ্গুলে…

পড়ুন

বাঁশি / অংশুমান কর 

বাঁশি যখন বেজে যায় তখন কী যে হয় এই পৃথিবীতে! মনে হয় এক শূন্য মাঠের…

পড়ুন

মা সম্পর্কিত / প্রিয়াঙ্কা চৌধুরী

কাকভোরে ঘুম ভাঙত। না, বোধহয় ভাঙাতেই হত। কয়েকটা চুড়ি-বালা-টুংটাং আওয়াজ- রান্নাঘর, পুজোঘর, উঠোন, শিউলিতলাজুড়ে সারাদিন…

পড়ুন

গ প্ পো ২ – ধেড়ে দত্তি আর গুণীন অ্যাডামের গপপো / বোধিসত্ব মৈত্রেয়

সে অনে-ক অনে-ক দিন আগেকার কথা। তখন সুমুদ্দুরের জল এরকম নোনা নয়। বেশ মিষ্টি জল।…

পড়ুন

দি লাস্ট মিটিং/সমরজিৎ সিংহ

একটি রাস্তা । তারপর, আবার রাস্তা । তারপর সমাধি । তার উপর চাঁদের ছায়া ।…

পড়ুন

বিমর্ষ জল ও উড়ন্ত লাল কার্পেট/গৌতম গুহ রায়

খবরটা সরাসরি ওকে দেয়নি কেউ, কিন্তু সকাল থেকেই বাড়িতে ফিশফিশ করা চাপাস্বরের কথাগুলো তার কানে…

পড়ুন

কানুর বিয়ে/সুবর্ণা মণ্ডল

কানুর সেদিন খুব কান চুলকাচ্ছিল। আগের দিনের যে পায়রাটা হাত থেকে ফসকে গিয়ে শুধু একটা…

পড়ুন

আপনার লেখা প্রকাশ করার জন্য

কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, অনুবাদ এবং অন্যান্য লেখা