গ প্ পো ৩ – ধেড়ে দত্তি স্যাক্সি আর হারমানের গপপো/ বোধিসত্ব মৈত্রেয়

টিং-টিং, টুং-টুং, এক ছোট্ট ঘণ্টার মিষ্টি আওয়াজ আসছে কোথা থেকে? হাতড়াতে থাকি এদিক ওদিক। জঙ্গুলে রাস্তার বাঁকটা পার হলেই হয়তো পেয়ে যাব ছই দেওয়া গরুর গাড়িটাকে। গরু দুটোর গলায় বাঁধা ঘণ্টা। বাজছে টুং-টুং, টিং-টিং।

 

চট করে ঘুমটা ভেঙ্গে গেল। ওমা, এতক্ষণ স্বপ্ন দেখছিলাম। জমাট হিমের দেশে নরম পালকের লেপ আর ভেড়ার লোমের মাখনের মতো নরম-গরম কম্বলের তলায় কুকুর-কুণ্ডলী হয়ে অঘোরে ঘুমোচ্ছিলাম। ঘুমোচ্ছিলাম আর স্বপ্ন দেখছিলাম, হাজার আষ্টেক মাইল দূরে বাংলা দেশের গেঁয়ো পথের।

 

টিং-টিং, টুং-টুং। আরে ঘণ্টি বাজে যে আমারই ঘরের ভেতর। তাড়াতাড়ি উঠে ঘরে আলো জ্বেলে দরজা খুলে দিই। সঙ্গে-সঙ্গে পর্দা সরিয়ে ঘরে ঢোকে একটা রোঁয়ালা ভাল্লুক। তার আগাপাশতলা ঝুরো বরফে ঢাকা। যেন ভাল্লুকটা ময়দার কল থেকে বেরিয়ে এসেছে সোজা। ভাগ্যিস চট করে মুখ খানার দিকে আগেই নজর পড়েছে।

 

‘এসো, এসো স্কুয়া। গুড মর্নিং। তা এতো ভোরে? এখনো তো অন্ধকার ভাল করে কাটেনি-‘

 

গুড মর্নিংটা ফিরিয়ে দিয়ে স্কুয়া তার গা থেকে ভাল্লুকের লোমের কোটটা খুলতে থাকে। আমার কথায় কুলকুল করে হেসে বলে, ‘তোমার ভোর যদি হয় বেলা এগারাটায়। রাজ্যিটা তো আর সেই নিয়মে চলবে না-‘

 

‘-বলো কিগো মেয়ে, বেলা এগারোটা।’ তাড়াতাড়ি গিয়ে ড্রয়ারটা টেনে হাত ঘড়িটা দেখি। ওমা! সত্যিই তো। এগারোটা বেজে কাঁটাটা দশ মিনিট ছেড়ে যাচ্ছে। আমতা আমতা করে বলি, ‘তা বেলা এগারোটাতে যদি আকাশটা দেখায় ভোরের মতো আবছা আবছা, আমার দোষটা কোথায়? আমাদের ওদেশে এখন তো বেলা দুপুর। ঠা-ঠা করছে রোদ্দুর। সূয্যি আকাশের মাথায় চড়ব চড়ব করছে। অফিসের বাবুদের টিফিন হব হব। কলেজ-স্কুলের ছেলেদের এক ঝুল পড়া হয়ে গিয়ে, আর একটা পিরিয়ড চলছে। বাড়িতে গিন্নিদের হেঁসেলের কাজকর্ম প্রায় সারা। তাদের এখন বোধ হয় চানের বেলা হয়ে এল’।

 

‘আমাদের এখানেও ওসব ঠিক ঠিকই হচ্ছে তোমাদের দেশের মতো। শুধু ঐ চানটা ছাড়া। এখানে কেউ দিনের বেলা চানের কথা ভাবে না। তাছাড়া এই শীতে রোজ চান? ওঃ অসম্ভব। বলে হপ্তায় একদিন হয় কি না হয়’।

 

তারপর আমাকে জোর তাড়া লাগায় স্কুয়া। ‘নাও নাও, এক্ষুনি তৈরী হয়ে নাও। গ্যানগ্যানের জোর তলব। বুড়ীর কড়া হুকুম, ‘আমার কালোমানিককে যেমন করে পার ধরে এনে দাও।’ তোমাকে এক্ষুনি নিয়ে গিয়ে হাজির না করতে পারলে আমার আর জায়গা নেই ওখানে। বুঝেছ’-

 

‘-তাই নাকি? আমি-‘

 

‘থাক্ থাক্, আর কথা বাড়িও না। পোশাক পরে তৈরী হয়ে নাও-‘

 

তারপর স্কুয়া আপন মনেই গজগজ করে- ‘দিনের পর দিন হোটেলে খোঁজ নিচ্ছি। রোজই শুনি, নেই। কি সাংঘাতিক লোক রে বাবা। আমার গ্যানগ্যানকে কয়েক ঘণ্টাতেই বশ করে এক সপ্তা একদম নিপাত্তা। ভারতবর্ষের লোক শুনেছি জাদু জানে। নিশ্চয় তুমি গ্যানগ্যানকে জাদু করেছ-‘

 

-‘কিন্তু বিশ্বাস কর, আমি-‘

 

‘এখন কথা রেখে তৈরী হও’ ধমকের সুরে বলে ওঠে স্কুয়া।

 

 

ঐ লক্ষ্মীর মতো শান্ত পরমাসুন্দরী মেয়েটা যে এত ধমক দিতে পারে, না দেখলে আমি বিশ্বাসই করতাম না। পোশাকগুলো নিয়ে আমি সুড়সুড় করে বাথরুমের মধ্যে ঢুকে পড়ি।

 

পনেরো মিনিটের মধ্যেই ফাঁকা বরফ-পড়া পাহাড়ে-রাস্তায় দুটো ভাল্লুক পাশাপাশি চলতে শুরু করে। একটা কালো আর একটা সাদা। তখন সবে সূয্যি-মামা তার ম্যাড়মেড়ে চোখে একটু একটু উঁকি মারতে শুরু করেছে ঝুরঝুরে বরফের পর্দার আড়াল থেকে।

 

বরফ পড়ার যেন আর কামাই নেই। রাশি রাশি পেঁজা তুলোই বল আর ধপধপে সাদা মল্লিকা ফুলের রাশি রাশি পাপড়িই বল ঝরছে তো ঝরছেই। তাতে পাহাড়-পর্বত, গাছপালা, (তা গাছপালা বলতে তো ঐ তিন ফুট উঁচু গোটাকতক গাছ। এদেশে বড় গাছ নজরেই পড়ে না), পথ-ঘাট ঘর-বাড়ি, খেত-খামার সব কিছুই সাদা ঝুরো বরফের রাশির তলায় ঢাকা। যেন দুধসাগরে বান ডেকেছে। ফেনায় ফেনায় ঢেকে গেছে সবকিছু।

 

সেই অফুরন্ত ঝরে-পড়া বরফের ঝরকোর ভেতর দিয়ে পাহাড়ের চুড়োয় নজরে পড়ে গ্যানগ্যানের ছোট্ট হাল্কা নীল রঙের বাংলোটা। বলি, ‘স্কুয়া তুমি আমাকে এক স্বপ্নের দেশ থেকে আর এক স্বপ্নের দেশে নিয়ে এলে-‘

 

স্কুয়া বলে, ‘এতক্ষণে বুঝলাম তোমার ওপর গ্যানগ্যানের এত টান কেন? তোমরা দুজনেই বড্ড বেশী স্বপ্ন দেখ-‘

 

বলতে বলতে স্কুয়া আমাকে নিয়ে বাড়িটার দরজা ঠেলে ভেতরে সেঁধিয়ে পড়ল। দেখলাম সেই আগের মতোই আগুন-কাঁদায় বসে চাঁদের মা বুড়ী, বাতেতে থুথুড়ি, গ্যানগ্যান। সামনের টেবিলে তেমনি ভেড়ার লোমের পাঁজ আর চরকা। হাতে লম্বা লম্বা দুটো কাঁটাতে লটকানো পশমের বুনন।

 

স্কুয়া বলে, ‘এই নাও তোমার কালো-মানিক, গ্যানগ্যান।’

 

‘কইরে কইরে’ আকুলি বিকুলি করে ওঠে বুড়ী। আমাকে সামনে দেখেই ছড়া কাটে-

 

‘এক পলকেই দিলাম মন

তুমি হলে আপন জন।

তারপরে যে কোথায় গেলে

গ্যানগ্যানেরে একলা ফেলে।

ওগো আমার কালো-মানিক

হেথায় এসে বসো খানিক।

কাটাই কদিন গল্পোতেই

আমার যে আর সময় নেই-‘

 

বেতো পায়ে খোঁড়াতে খোঁড়াতে উঠে এসে বুড়ী আমাকে বুকের কাছে জড়িয়ে ধরে।

 

‘কোথায় গেছেলে গো, কালোমানিক আমার। কতো দিন তোমাকে দেখিনে। মনে হয় যেন কত বছর-‘ ‘এই তো গেল হপ্তায় তোমার কাছে বসে ধেড়ে দত্তিদের গল্পো শুনে গেলাম। মনে নেই-‘

 

‘এক হপ্তায় কটা দিন? কটা দিনে কটা ঘণ্টা? কটা ঘণ্টায় কতো মিনিট?

 

সময় কাটবে কেমন করে।

যদি তেমন লোকটি না পাই ঘরে।

 

 

দুনিয়াটা আজকাল বড্ড কাজের হয়ে গেছে। এখন দেখি সবাই বড্ড বেশী কাজে ব্যস্ত। এখন কল টিপলে জল। বোতাম টিপলে বিজলী। যতো দেখছি দিন দিন এদের কাজের সাশ্রয় হচ্ছে, তত বেশী এরা কাজে ব্যস্ত হয়ে উঠছে। কি এত কাজ রে বাবা। অথচ সেকালে। গিন্নীদের কতো কি করতে হোতো। কত্তা তো কাক ডাকবার আগেই নৌকো নিয়ে সুমুদ্দুরে। ফিরতে একপ’র রাত। আর ঘরে কমসে কম গোটা পনেরো নেন্ডি-গেন্ডি, গোটা পাঁচ-ছয় গরু। পালকে পাল শুয়োর আর মুরগী। গোটা কুড়ি ভেড়া। তাদের খেদমত কি কম-‘ গ্যানগ্যান বুড়ী আবার ছড়া কাটে।

 

‘জলায় যাও, কাটো পীট*

বয়ে আনো পীটের ইট।

শুয়োর গরুর জানা দাও

মুর্গী-ভেড়ার পাল চরাও।

যাঁতায় পেষো শুকনো গম

বানাও রুটি গরগরম।

সকাল সন্ধ্যে গাই দোয়াও

মাখন তোল, চীজ বানাও।

চরকা কেটে পোশাক পরো

আর ডজন দেড়েক ছেলেপিলে

খাইয়ে পরিয়ে মানুষ করো।

 

এই এতো কাজের ভেতরেও কিন্তু সন্ধ্যেবেলায় আমার মা-ঠাকুমারা আগুন-কাঁদায় বসে নিত্যি গল্পো বলত। আমরাও সেই আগুনের ওমে, গল্পে জমে আস্তে আস্তে ঘুমের মধ্যে ঢুলে পড়তাম। শীতের বড় বড় রাতগুলো কাটত এই গল্পো শুনে শুনে। সেই গল্পো আমিও শুনিয়েছি আমার ছেলেমেয়ে, নাতিপুতিদের। দিনগুলো বড় মিষ্টি ছিল গো কালোমানিক। এখন আর গল্পো শোনাবার লোক পাই না। অনেকদিন পরে যা-ও তোমাকে পেলাম তা তুমিও দেখি ঝাঁকি দর্শন দিয়ে পগার পার-‘

 

গ্যানেগ্যানের কথায় লজ্জা পাই। বলি, ‘গ্যানগ্যান গেল হপ্তায় আসতে পারি নি বলে আমাকে মাফ কর। তোমাদের দেশটা দেখতে এসেছি। এদিক ওদিক ঘুরে না দেখলে তোমার গল্পো তো’ কিছু বুঝব না-‘

 

গ্যানগ্যান বলে, ‘সেটা হক কথা। তবে কি জান, আমার দিনও তো শেষ হয়ে এসেছে। যেকটা দিন আছি গল্পো শুনিয়ে যাই। আর আমার কি ভাগ্যি যে তোমার মতো সাত সুমুদ্দুর তেরো নদী পারের দেশের মনিষ্যিকে পেয়েছি আপনজন। তুমি আমার বলা গল্পোগুলো মনে রেখো। তোমাদের দেশের ফুলের মতো ঢলঢলে শিশুদের এই গল্পো শুনিও। আমার বড্ড সাধ, আমি মরে গিয়েও যেন তোমাদের দেশের ছেলেমেয়েদের মনে বেঁচে থাকি। কি শোনাবে তো-‘

 

‘নিশ্চয়। এই কথা দিলাম। আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরাও তো ঠাকুমাদের বলা রূপকথা শোনবার জন্যে পাগল। আর তোমার বলা এই রূপকথা। এ তো তাদের কাছে জমাটবাঁধা মিষ্টি আইসক্রীম। কোন্ শিশু না ভালবাসবে শুনতে-‘

 

 

 

গ্যানগ্যান একগাল হেসে শুধোয়, ‘তা এতদিনে কোথায় কোথায় গেলে, কি কি দেখলে শোনাও।

 

কফি। এমন সময়, স্কয়া একরাশ টাটকা ভাজা প্যানকেক, চীজ, ওমলেট আর ওটের পরিজ নিয়ে এল। সঙ্গে ধোঁয়াও

 

‘গ্যানগ্যান ওকে খুব শাস্তি দিয়েছি। সটান বিছানা থেকে গ্রেফতার করে এনেছি। সকালের খাওয়াটা পর্যন্ত খেতে দিই নি-‘

 

গ্যানগ্যান আমার দিকে চেয়ে একটু মুচকি হেসে ছড়া কাটল,

 

‘প্যায়দা আমার কেমন জানো?

ধরে আনতে বললে বেঁধে আনো-‘

 

কফির পেয়ালায় চুমুক দিতে দিতে বলি, ‘আমাদের দেশ ইন্ডিয়া খুব পুরোন দেশ। এখনও সে দেশে গরুরা গাড়ি টানে। অনেক গ্রামের লোকে বিজলী বাতি কাকে বলে তা জানেও না। এক জায়গা থেকে আর একটা জায়গায় পৌঁছতে যা সময় লাগে, তাতে একজন প্লেনে সারা পৃথিবী ঘুরে আসতে পারে। কিন্তু তোমাদের দেশটা দেখছি আরও পুরোন। যেখানেই যাই দেখি কেমন পুরোন পুরোন গন্ধ। লণ্ডন, এডিনবরাকে দেখে তোমাদের দেশের হদিস মোটেই করা যায় না-‘

 

স্কুয়া বলে ওঠে, ‘তা কি করে করবে? লণ্ডন কতো বড়ো শহর! সেখানে লক্ষ লক্ষ লোক। এখানে সব কটা দ্বীপ জড়িয়ে বাসিন্দা কুল্লে বিশ হাজার। ওসব শহরে কতো যানবাহন। রেলওয়ে, বাস, ট্যাক্সি ট্রাম, টিউব-কতো কি! এখানে সেসব আদবেই দেখবে না। যানের মধ্যে নৌকো, দু একটা বাস আর ট্যাক্সি ইদানীং শহরে চালু হয়েছে। ব্যস, ঐ অবধি। আর বাহন হল টাটু-‘

 

গ্যানগ্যান খিল খিল করে হাসতে হাসতে বলে,

 

‘দেশ তো দেশ আমার দেশ

নেই নড়নচড়ন আছি বেশ-‘

 

এদেশের বেশির ভাগ লোকে অতশত ঘোরাঘুরি, এখান সেখান মোটেই পছন্দ করে না। দরকার কি এতো ব্যস্ত হবার। তোরা তো তবু বাস, টাক্সি দেখছিস এখন। আমরা তো বয়েস কাটিয়ে দিয়েছি ওগুলোকে বাদ দিয়েই। তাতে একটু আধটু অসুবিধে কি হয় নি? হয়েছে বৈকি। তা আমরা সে সব গ্রাহ্যই করি নি। যুদ্ধ মিটে গেল পঁয়তাল্লিশ সালে। আমার বড় ননদের নাতির ছেলে হার্বার্ট যুদ্ধে জাপানীদের হাতে বন্দী হয়েছিল। ছাড়া পেয়ে সে দেশে ফিরে এসে নামল ওয়েলস্-এর বন্দরে। জাপান থেকে তার আসতে লেগেছে ছ সপ্তা। কিন্তু বাড়ি ফাউলাতে তার আর যাওয়া হল না। বেচারার কি অবস্থা বোঝ! ওয়েলস্ থেকে ফাউলা দেখা যায়-হাই লি-লি। মাঝখানে সুমুদ্দুর। পার হবে কি করে? বেচারা রোজ সুমুদ্দুরের পাড়ে বসে ফোঁস ফোঁস করে বড় বড় নিশ্বেস ফেলে বাড়ির কথা ভেবে। এক মাস ঠায় ওয়েলস্ এ বসে রইল গালে হাত দিয়ে। শেষে একটা মাছ ধরা জাহাজ তাকে পার করে দিল। ইয়েলের এক পুরুত একটা সোমবার সকালে হাওয়াই জাহাজে চলে গেল গ্লাসগো। বিকেলে সেখানে বসে সে দিব্যি খানা খেতে লাগল। আর এদিকে তার বৌ একই সঙ্গে বাড়ির দরজায় তালা লাগিয়ে বার হয়েছিল মাত্র ষোল মাইল দূরে তার বন্ধুর বাড়ি যাবে বলে। সে পৌঁছল বেস্পতিবার সন্ধেবেলা।

 

এদেশের সব আজব কেতা

সময় গেছে হারিয়ে হেথা।

 

 

বুঝলে না কালোমানিক। তা তুমি কি দেখলে এদেশের তা তো বললে না-‘

 

‘দেখলুম আজব দেশের আজব ভূঁই। খালি পাহাড়, পাহাড়, আর পাহাড়। ছোট পাহাড়, টিলা পাহাড়, মাঝারি পাহাড়, বড় বড় পাহাড়। এখন সব বরফের কম্বল মুড়ি দিয়ে সাদা। ঠাণ্ডাটা খুব জোর কিনা! দেশ তো শুধু ন্যাড়া পাহাড় আর ধু ধু ফাঁকা জলাভূমি-‘

 

গ্যানগ্যান মুখখানা গম্ভীর করে বলে, ওগুলো আসলে পাহাড়ই নয়, সব দত্তি, দত্তি আর দত্তি। ছোট দত্তি, মাঝারি দত্তি, বড় বড় দত্তি। এক সময়ে সব জ্যান্ত ছিল। কোথা থেকে কবে একজন সেন্ট এসে মন্তর-পড়া জল ছিটিয়ে দিয়েছিল তামাম রাজ্যিটাতে। সবকটা এখন পাথর হয়ে আছে। তুমি কি উত্তরের দিকে উল্টে গিয়েছিলে-‘

 

সেখান থেকেই তো গতকাল নাকানিচুবুনি খেতে খেতে ফিরেছি গো গ্যানগ্যান, রাত বারটাতে। ওঃ ওই মাইল চল্লিশ আসতে পুরো দিনটা লাগিয়ে দিল তোমাদের এদেশের ফেরী জাহাজ আর্ল অব-জেটল্যান্ড। আর্ল-এর নামের বাহার দেখে চড়ে বসেছিলাম। চড়েই ঝকমারি। তখন ছেড়েদে-মা কেঁদে বাঁচি। তবে জায়গাটা বড় চমৎকার। নির্জন পাহাড়ে অঞ্চলে মাঝে মাঝে আয়নার মতো কয়েকটা হ্রদ। তার ধারে ধারে এই শীতেও হরেক রকম পাখিদের মেলা। অরোরা বোরিয়ালিসের সিঁদুরে আলোয় জায়গাটা দেখাচ্ছিল বড় অপূর্ব’

 

গ্যানগ্যান তার কফির পাত্রটায় শেষ চুমুক দিয়ে বলে, ‘এবার তোমার কড়ার মতো কাজ করো। ধরো ধরো আমার চরকা ধরো-‘

 

আমি তখুনি চরকা ঘোরাতে লেগে যাই-ঘ্যানর ঘ্যান, ঘ্যানর ঘ্যান। আর গ্যানগ্যান পাঁজ থেকে সুতো টেনে তোলে শূন্যের দিকে ছড়া কাটতে কাটতে-

 

‘ঘোরাও আমার চরকা ঘোরাও

মন ঘুড়িকে শূন্যে ওড়াও

আয়রে নেমে গপোগুলো

ছিষ্টি ছাড়া সর্বভুলো-‘

 

বুড়ী ওপর পানে তাকিয়ে যেন মন্তর ঝেড়ে গল্পো নামায়।

 

‘ঐ উস্টেই তখন দুটো দত্তির প্রচণ্ড উৎপাত। হারমান আর স্যাক্সি-

 

স্যাক্সি আর হারমানে

কিছুতেই না হার মানে।

পাহাড় প্রমাণ গতরগুলো

দাঁতের পাটি পৌষে মূলো।

শুয়োর গরু টাটু ঘোড়া

মিনিটে খায় জোড়া জোড়া

মানুষগুলোর মটকে ঘাড়

একনাগাড়ে সব সাবাড়।

 

ঊনস্টের লোকেরা ত্রাহি ত্রাহি ডাক ছাড়ে। ঘর বাড়ি ছেড়ে, পিতৃপুরুষের ভিটে-ভুঁই ছেড়ে সবাই গরু ভেড়া শুয়োর-টাট্টু নিয়ে পালে পালে, দলে দলে ঊনস্ট ছেড়ে পালায় দুটো দিগধেড়ে দুরন্ত দত্তির ভয়ে। কিছুদিনের ভেতরে ঊনস্ট সাফ-

 

তখন, কাক পক্ষী ডাকে না।

জন মনিষ্যি থাকে না।

গরু ভেড়া চরে না

দত্তিদেরও পেট ভরে না।

ধু ধু করে শুকনো মাঠ

দত্তি দুটো শুকিয়ে কাঠ।

 

তখন কি খাই, কারে খাই-

 

রেখে ঢেকে খেলে সাত পুরুষের, রাক্ষুসে খাওয়া দুচার দিনের। কিন্তু দত্তিদের তো আর গেলবার সময় সেসব কথা মনে থাকে না।

 

এখন, যতই কর খাই খাই,

রাজ্যেতে আর খাদ্য নাই।

তাই, লিখিবে পড়িবে মরিবে দুঃখে,

মৎস্য মারিবে খাইবে সুখে।

 

যেমন ভাবা তেমনি কাজ। কিন্তু মৎস্য মারা যায় কি ভাবে।

 

এখন খিদের চোটে পরাণ যায়

মৎস্য মারার কি উপায়।

 

হারমান দুশ্চিন্তায় ছটফট করতে করতে সুমুদ্দুরের পাড়ে ঘোরে। দেখে একটা ভাঙ্গা জাহাজ। কবে কোন দিন ভাসতে ভাসতে এসে ডাঙ্গায় আটকেছিল। চট করে দত্তির মাথায় মতলব এসে যায়। হারমান দত্তি আকাশ ফাটিয়ে হেসে ওঠে- ‘হা-হা-হা-হা। পেয়েছি, পেয়েছি-

 

দত্তির বুদ্ধি নেই নাকি। এবার, স্যাক্সিটাকে দিই ফাঁকি-

 

ঝট করে ভাঙ্গা জাহাজের মাস্তুলটা বাগিয়ে ধরল হারমান। সেটা হল ছিপ। জাহাজের কাছির তাল হল কড়। আর নোঙরটা বঁড়শি। ফাতনা একটা ছোটখাট তক্তা। হারমান দত্তি সুমুদ্দুরের খাড়ি থেকে একটা খোকা সীল মাছ খণ করে ধরে নিয়ে নোঙর-বঁড়শিতে গেঁথে সুমুদ্দুরে ছুড়ে দিলে। তারপর মাস্তুল-ছিপ হাতে নিয়ে গিয়ে বসল সুমুদ্দুরের ধারে একটা উঁচু পাহাড়ের চুড়োয়।

 

বসতে না বসতেই ফাতনা নড়ে চোঁ করে ডুবেছে। আর হারমান দত্তিও কষে মেরেছে এক চড়কটান। ওরে বাপ রে সুমুদ্দুর থেকে হুডুস করে উঠে এল একটা হাতির মতো তিমি মাছ। দেখে হারমান দত্তি মহা খুশী।

 

আর একটা পাহাড়ের চুড়োয় বসেছিল স্যাক্সি গালে হাত দিয়ে। তার কেটলীতে তখন জল ফুটছে টগবগ করে। সে কেটলীও যেমন তেমন নয়। পাহাড়ের চুড়োয় একটা মস্ত বড় খোদল। খোদলটা ভরা আছে ফুটন্ত গরম জলে। অনবরত ফুটছে টগবগ, টগবগ। কিন্তু ফুটন্ত জলে তো আর পেট ভরবে না। শুধু নাড়ি-ভুঁড়িগুলোই সেদ্ধ হবে। গরু কই? ঘোড়া কই। শুয়োর-ভ্যাড়া-মুর্গী কই? নিদেন পক্ষে একটা মাছ-

 

হঠাৎ দেখে হারমান সামনের পাহাড়ের চুড়োয় বসে টেলে তুলেছে এক মস্ত তিমি। জুলজুল করে দেখে স্যান্সি।। পেটের খিদে চতুর্গুণ হয়ে ওঠে। যেন হাজার ডালকুত্তো নাড়ি-ভুঁড়িগুলো ছিঁড়ে খায়।

 

 

এমন সময়-

 

স্যাক্সি ভাই, স্যাক্সি ভাই

তোর কেটলীটা একটু ধার চাই

তাহলে তিমিটা সেদ্ধ করে খাই।

 

এতো বড়ো তিমিটা কাঁচা খাওয়া যাবে না। বড্ড বেশী চর্বি-

 

স্যাক্সি মুখ ভার করে বলে,

 

যদি দাও তিমির অর্ধেক খান

তবে কেটলী দিয়ে রাখব মান।

আর যদি তা না দিতে চাও

ঐ চর্বির ডেলা কাঁচা খাও।

 

শুনেই হারমানের চিত্তির চটে গেছে। সে চেঁচিয়ে ধমকে ওঠে-

 

ওরে ছুঁচো ওরে পাজী

তোর লোভ যে দেখি ছিষ্টিছাড়া।

একি ভূতের কাছে মামদোবাজি

আধখানা তিমি কেটলী ভাড়া?

না হয় নিবি একটা ল্যাজা

কিম্বা নিবি পাখা, তাকি

চাইলি পুরো আধখানা মাছ

মামার বাড়ির আদর নাকি?

 

অন্য পাহাড়ের ওপর থেকে স্যাক্সিও গর্জন করে ওঠে। খিদের চোটে তারও মেজাজ ভাল হবার কথা নয়।

 

ওরে কুত্তামুখো দত্তি যে তুই

আস্ত তিমি একলা খাবি?

পেটের ব্যামো ধরুক তোকে

যমের বাড়ি সটান যাবি-

 

তবে রে, উটমুখো স্যাক্সি। দাঁড়া। আমায় যমের বাড়ি পাঠাবার আগেই তোকে পাঠাই যমের বাড়ি-

 

হারমান যেই তার পাহাড় থেকে নামতে যাবে অমনি-হুস্থস্। হুস্থস্। সুমুদ্দুরে জোয়ার এসে পাহাড়ের তলা ডুবিয়ে দিয়েছে। আর নামা হল না। দত্তিরা ঠিক বেড়ালের মতো। পায়ের পাতা ভিজলে তাদের বড্ড খারাপ লাগে। আর তাদের শক্তি সামর্থ্য সব ঐ দু পায়েই। সেই পা যদি শুনো ডাঙায় থাকে তবে সে শক্তি বড় ভয়ানক। পা ভিজলেই দত্তিরা বিষ হারিয়ে ঢোঁড়া। জলে পা দিতে তাই দত্তিদের মহা আপত্তি।

 

হারমান আর নামতে পারে না। কিন্তু গালাগালি আর হুমকির কামাই নেই দুদিকেই। দুজনেই বড় বড় পাথরের চাঁই তুলে ইঁটের মতো ছুড়ে মারতে লাগল দুজনের দিকে। শেষে হারমান বিষম রাগের চোটে একটা পাথরের চাঁই তুলে সুমুদ্দুরের ওপর গড়িয়ে দিলে। মতলব ওর ওপর একটা পা রেখে টপকে গিয়ে উঠবে স্যাক্সির পাহাড়ে। কিন্তু

 

হারমান এমন চটা চটেছিল যে তাড়াতাড়িতে সেই পাথরটার ওপর পা ঠিক রাখতে পারল না। একটা পা দিয়ে অপর পাটা তুলতেই দুবার টলে গিয়ে সে হুড়মুড় করে পড়ে গেল সুমুদ্দুরের ভেতরে। আর টুপ করে ডুবে গেল সঙ্গে সঙ্গে।

 

আর তাই না দেখে আর এক পাহাড়ের চুড়োয় স্যাক্সির নাচ। হেসে ফুটিফাটা স্যাক্সি। মনের আনন্দে সে গান

 

ধরল-

 

টুপ করে ডুবে মল হারমান

তিমিটার আমি খাব গোটাখান।

কি মজা কি মজা ট্রালা-লা-লা।

এমন দিন তো রোজ আসে না-

 

বলে সে যেই ধেই ধেই করে নেচে উঠেছে, অমনি হঠাৎ পা ফসকে পাহাড়ের চুড়ো থেকে সুমুদ্দুরের জলে দুড়ুম, ধপাস-

 

ব্যাস্ দুটো দত্তিই খতম। আমার কথাটিও ফুরোল-‘

 

আমি বলি, ‘গ্যানগ্যান ওখানে দুটো পাহাড় দেখে এলাম তাদের নাম হারমানেস আর স্যাক্সাভোর্ড-‘

 

‘হাঁ হাঁ ঐ দুটোই তো ছিল হারমান আর স্যাক্সির আস্তানা।’ আমার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে বলে ওঠে গ্যানগ্যান। ‘আর পাহাড় দুটোর মাঝখানে সুমুদ্দুরের যে খাড়িটা, যেখানে ঐ স্যাক্সিটা ডুবে মরেছিল, তার নাম কি জান? তার নাম স্যাক্সিস্ বে-স্যাক্সির খাড়ি।’

 

এতোক্ষণ গল্পে জমে গিয়ে লক্ষ্য করি নি আংকল জ্যাক কখন চুপিসাড়ে এসে গ্যানগ্যানের পিছনে একটা চেয়ারে বসে পড়েছিল। ভুস্ করে পাইপের ধোঁয়া ছেড়ে বলে, স্যাক্সনরা যখন এদেশে এসে লুঠতরাজ আর খুনখারাপি চালাত তখন থেকেই এই গল্পোগুলো চালু। নাম শুনেই বুঝতে পারছ ওগুলো হল টিউটন স্যাক্সন নাম-‘

 

গ্যানগ্যান বলে ‘যারা লুঠতরাজ করে আর মানুষ খুন করে তারা দত্তি ছাড়া আর কি? আর সেই দত্তিগুলোও শেষ পর্যন্ত মরে নিজেদের মধ্যেই মারামারি করে-‘

 

—————————————————–

* লক্ষ কোটি বছর আগে মাটির তলায় শ্যাওলা জমে কয়লা হয়ে গেছে। ওদের বলে পীট। অর্কনে, শেটল্যান্ডে, আইসল্যান্ড অঞ্চলে বাদা ও জলাভূমির তলায় থাকে এই পীট। থান ইঁটের মতো এগুলি কেটে এনে রোদে শুকিয়ে সারা বছর জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার করে এসব অঞ্চলের অধিবাসীরা। কাঠ বা কয়লা এসব অঞ্চলে পাওয়া যায় না, তাই পীটই হল একমাত্র জ্বালানী।

আরও পড়ুন:

কলসপুর যাইনি / অমর মিত্র

অনেকবার  দীপিকাকে বলেছি, কলসপুর নিয়ে যাব। বলতে গেলে সেই বিয়ের পর থেকে। আমাদের যাওয়া হয়নি।…

পড়ুন

আমাকে আসলে কেমন দেখায় / নাসরীন জাহান

আমাকে কি খুব উদ্ভট দেখায় ? চক্রাকারে বাসটা মোচড় দিয়ে উঠতেই এমন একটা ভাবনা আমাকে…

পড়ুন

তৃতীয় চোখের বসুধা / জগন্নাথ দেব মণ্ডল

আকাশ মেঘে ভার।টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছে। শরৎ সকালে বাজারে বিক্রিবাট্টা নেই । দোকানদার, খেটে খাওয়া, দিন…

পড়ুন

স্পর্শ, স্পর্শাতীত… / সৌরভ মুখোপাধ্যায়

তাহলে আলোর কথা জেনে নেব কাহার সমীপে? তাহলে দুপুরশব্দ,একমনে পাখিটির স্নান? তবে কে জানাবে বলো…

পড়ুন

খন্দকার গলির অন্ধকার / অলোকপর্ণা

ঘুমের ভিতর হেঁটে বেরানো আজও থামলোনি জাহান আরার। জাজিমে গতর এলানো মাত্র সে ঘুমের সাগর…

পড়ুন

পথ রুধে রবীন্দ্রঠাকুর: বাংলা গানে পথ চলা/অভ্র বসু

সম্প্রতি একটি বিতর্কসভায় থাকবার সুযোগ হয়েছিল, যেখানে বিতর্কের বিষয় ছিল: রবীন্দ্রনাথের গান আর বর্তমান প্রজন্মের…

পড়ুন

নির্বাচন / ঈশিতা ভাদুড়ী

কাকে বেছে নেব? অলিভপাতা, নাকি ধুঁতরোফুল? কে না জানে সঠিক নির্বাচন না হলে দু:খ পড়ে…

পড়ুন

নামকরণ / ঋজুরেখ চক্রবর্তী

কোনও একদিন তুমি সেই উন্মত্ত কিশোরবেলার নাম রাখতে চেয়েছিলে নিপীড়িত জনতার সরণি। প্রকৃতিতে তখন প্রতিটি…

পড়ুন

চৌষট্টি যোগিনী সমীপে / শর্মিষ্ঠা দাস

ভুবনেশ্বর শহরে এসেছি । আকাশপথে আমাদের দুর্গাপুর থেকে এখন মোটে একঘন্টাও নয় । কাজে অকাজে…

পড়ুন

ঘড়ি বন্ধ ছিল/বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়

লাফাতে লাফাতে বেরিয়ে যাবার পর টের পেলাম অনেকগুলো ভুল হয়ে গেছে। মাস্ক নিতে ভুলে গেছি।…

পড়ুন

সুন্দর যখন ভয়ংকর / হিন্দোল ভট্টাচার্য

দশ বছর আগের কথা। গেছিলাম ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স বলে এক অপরূপ জায়গায়। হিমালয়ের কোলে, এক…

পড়ুন

প্রেম বলিনি/যশোধরা রায়চৌধুরী

আমি তোমার ছোট্টবেলার বোকা তুমি আমার আনন্দ জিমখানা আমি তোমার তাসের হাতের পোকার তুমি আমার…

পড়ুন

ভূতপূর্ব ভূত / অহনা বিশ্বাস

ভূতের নাম যে ভূত -গোটা গ্রাম সে কথা জানে। একবার রাস্তা থেকে ডেকে ওর মা…

পড়ুন

কাঠামো / অর্ণব চৌধুরী

গাছের কোটরে ভাঙাচোরা দেবীমূর্তি আছে পড়ে আঁধার-মিনারে ফুটে ওঠে তার সমাহার নিরিবিলি পথে আমি তার…

পড়ুন

বাঁশি / অংশুমান কর 

বাঁশি যখন বেজে যায় তখন কী যে হয় এই পৃথিবীতে! মনে হয় এক শূন্য মাঠের…

পড়ুন

গ প্ পো ২ – ধেড়ে দত্তি আর গুণীন অ্যাডামের গপপো / বোধিসত্ব মৈত্রেয়

সে অনে-ক অনে-ক দিন আগেকার কথা। তখন সুমুদ্দুরের জল এরকম নোনা নয়। বেশ মিষ্টি জল।…

পড়ুন

কালীপুজোয় আকালীপুর / ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়

বাতাসে অল্প হিমেল গন্ধ আর সঙ্গে শিউলির শেষ রেশটুকুনি নিয়ে শহর ছেড়ে রাঙামাটির পথে পাড়ি…

পড়ুন

গ প্ পো ১ – গ্যানগ্যানের দেখা পেলুম / বোধিসত্ব মৈত্রেয়

গ্যানগ্যানের দেখা পেলুম সেই সাত-সুমুদ্দুর তেরো নদীর পারের দেশে। সে বড় আজব দেশ। সে দেশের…

পড়ুন

আমাজনের চার অধ্যায়/চৈতালি চ্যাটার্জি 

কালো , আঁধারের মাঝে ;   কুচকুচে কালো চারিপাশ, তারই মাঝে কিছু আলোর বিন্দু ফুটে…

পড়ুন

দিনলিপি/প্রবালকুমার বসু

ভেঙে যাওয়া স্বপ্নের কথা মনে পড়ে কথা দিয়ে না রাখতে পারার মতন অনর্থক গ্লানি  …

পড়ুন

বাবা / মণিদীপা নন্দী বিশ্বাস

জানলার ধারে রোদ পোহাও তুমি কত দশক… সন্তানের কতগুলো ভুল ভুল কাজের নির্জন সাক্ষী হয়ে…

পড়ুন

৩/৪ সি, তালতলা লেন / সুমিতা মুখোপাধ্যায়

বইয়ের নামঃ ৩/৪ সি, তালতলা লেন কবিঃ হিন্দোল ভট্টাচার্য আলোচকঃ সুমিতা মুখোপাধ্যায় ৩/৪ সি, তালতলা…

পড়ুন

মা সম্পর্কিত / প্রিয়াঙ্কা চৌধুরী

কাকভোরে ঘুম ভাঙত। না, বোধহয় ভাঙাতেই হত। কয়েকটা চুড়ি-বালা-টুংটাং আওয়াজ- রান্নাঘর, পুজোঘর, উঠোন, শিউলিতলাজুড়ে সারাদিন…

পড়ুন

জোয়ার / বেবী সাউ 

যেভাবে জলের কাছে লিখে রাখি ত্যাগসূত্র আদি—   শরীর, গোপন মায়া ধীরে ধীরে নামে কঠিন…

পড়ুন

অঙ্ক / তৃপ্তি সান্ত্রা

শচীনদার বউ উষা বৌদি মায়া আর মীরাকে দেখে খুব খুশী হলেন। কতদিন পরে এলে। কেমন…

পড়ুন

আপনার লেখা প্রকাশ করার জন্য

কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, অনুবাদ এবং অন্যান্য লেখা