গ প্ পো ৪ – পুঁটে দত্তিদের গপ্পো/ বোধিসত্ব মৈত্রেয়

টাটকা-ঝরা ঝুরো বরফের রাশ ঠেলে এগুচ্ছি আমি আর স্কুয়া। ধু ধু ফাঁকা রাজ্যিটা ভরা অরোরার আলোয়। উত্তরের সারা আকাশটা জুড়ে ঘি-রঙা আলোর বান। তাতে তামাম বরফের দেশটা একেবারে রূপোর পাতে মোড়া রূপকথার রাজ্যি।

স্কুয়া বললে, ‘সাবধানে হাঁটো। এবার পায়ের তলার বরফ আর তেমন ঝুরো নয়। একটু জমাট বাঁধা শক্ত। এখন আমরা পাহাড়ে চড়ছি। শক্ত বরফের চাঁই বড় পেছলা। পা হড়কালে হাঁটুর হাড় ভাঙবে নির্ঘাৎ -‘

‘আমার মনে হচ্ছে আমি আর এ দুনিয়ায় নেই। তা পায়ের তলায় কি আছে বুঝব কি করে –‘,বললুম আমি। স্কুয়ার ডান হাতটা তখুনি আমার দিকে এগিয়ে ধরা। সে হাত ধরবার আগেই আমার নজরটা রাস্তার পাশে। সেখানে কটা লোক। একটু দূরেই উবু হয়ে গোল হয়ে বসা।

‘ও লোকগুলো এই জমাট-বাঁধা হিমে বসে করছে কি – ‘ আমার জানবার ইচ্ছে। স্কুয়ার খিলখিলিয়ে হাসি। ওগুলো পাথর। অরোরার আলোয় দেখাচ্ছে ও রকম। গ্যানগ্যানের কাছে শুনো ওদের গপপো –‘ আমি আর কথা বাড়ালুম না। পাহাড়ে চড়তে লাগলুম স্কুয়ার সঙ্গে। গ্যানগ্যানের বাড়ির আলোটা এবার নজরে। সেখানে গিয়েই শুনব গপপোটা।

একটা চড়াই ভেঙে আরও ওপরে। গ্যানগ্যানের বাড়ির গেটের মুখে। সেখানে দরজায় রঙীন কাগজের শিকলি। কাগজের রঙীন বাতির লণ্ঠন। ‘এসব কি –‘, আমার জিজ্ঞাসা।

‘আজ যে গ্যানগ্যানের জন্মদিন-‘ স্কুয়ার জবাব দরজা ঠেলে বাড়ির ভেতর ঢুকতে ঢুকতে। ‘এসো এসো ভেতরে এসো-‘ স্কুয়া আমার হাত ধরে টান।

আগুন-কাঁদায় বসা গ্যানগ্যান নিজের জায়গাটিতে নিজের আরাম কেদারায়। গ্যানগ্যানের সাজ পোশাক আজ দারুণ। নিত্যি গায়ে চড়ানো লোমের কোটের বদলে ঝকঝকে পুরু লোমের একখানা চমৎকার কোট। একেবারে আনকোরা নতুন। মাথায় নতুন লোমের টুপী। তাতে পালক বসানো। ঘোমটার মতো কান মাথা ঢাকা। বুকে পিঠে সুন্দর কাজ করা পশমের ঝালর লাগানো লেস। কাঁধ বেড়ে দামী ব্যাজারের লেজের চামরের মতো স্কার্ফ। আজ গ্যানগ্যান আর চাঁদের মা বুড়ী নয়। নিজেই চাঁদের পাহাড়।

আমার মনে খচখচানি। স্কুয়াটা কি দুষ্টু মেয়ে। আগে বলবে তো। গ্যানগ্যানের ‘বার্থ-ডে’ -জন্মদিন বলে কথা। ডিয়ার ওল্ড গ্যানগ্যান। সেঞ্চুরী পার করা গ্যানগ্যান। এমন একজনকে একটু উপহার দেবার এমন সুযোগ কি আর আসবে আমার। কি আর করা যাবে। শুধু হাতেই এগোলুম গ্যানগ্যানের সামনে।

আমাকে দেখেই গ্যানগ্যানের এক মুখ হাসি। ফোকলা মুখের হাসিটা বড় মন-ছোঁওয়া। আমার দু’ গালে চুমু গোটাকতক। তারপরেই ছড়া –

‘এসো গো আমার কালোমানিক

মেঘলা দিনে আলো খানিক।

জন্মদিনে জ্বালাও বাতি

তুমি আমার মনের সাথী।

 

সাদা কালোয় কী আসে যায়

মনের মানুষ মেলে যেথায়।’

 

কুলকুলিয়ে হাসি গ্যানগ্যানের।

 

এর ফাঁকে কখন স্কুয়ার হাত আমার কোটের পাশপকেটে। সেখানে কি একটা টপ করে ভেতরে গুঁজে দেওয়া। সঙ্গে সঙ্গে আমার বাঁ হাতে একটু চাপ। ইসারা বুঝেই আমারও বাঁ পকেটে হাত। তাতে যা ঠেকল তা টেনে বার করা। ওমা কী সুন্দর ছোট্ট একটা বাদামী রঙের গাইগরু। শান্ত দুটো বড় বড় চোখ। চমৎকার মুখখানা। কানদুটো খাড়া। দুটো ছোট ছোট শিং। পেছনে লেজ। ভারী পালান দুধে ভরা। দেখলেই আদর করতে ইচ্ছে হয়। সেটা গ্যানগ্যানের হাতে দিয়ে বললুম ‘হ্যাপি বার্থ-ডে টু ইয়্যু গ্যানগ্যান। মেনি মেনি হ্যাপি রিটার্নস-‘ গ্যানগ্যানের চোখে-মুখে খুশী উপচে পড়া। স্কুয়া ধাঁ করে গরুটা গ্যানগ্যানের হাত থেকে তুলে নিলে। দাঁড় করিয়ে দিলে একটা আড়করে-ধরা বই এর ওপর। গরুটা গটগট করে হেঁটে চলল সামনে। গ্যানগ্যান সেটাকে তুলে নিয়ে চুমোয় চুমোয় ভরিয়ে দিলে। তার পরেই তার ছড়া –

‘বাহবা কি চমৎকার

কি সুন্দর এই উপহার।

ছোট্ট গরু মজার খেল

নাম দিলুম এর কৃষ্টাবেল’

গ্যানগ্যানের মুখখানা গম্ভীর। দুটো চোখ ছলছল। তাতে জল ভর-ভর। কোটের হাত থেকে রুমাল বার করে চোখ মোছা। নাক ঝাড়া।

স্কুয়া বললে, ‘কি হল গ্যানগ্যান’ –

‘হবে আবার কি -। আমার ছেলেবেলার খেলার সঙ্গী কৃষ্টাবেলের কথা মনে পড়ল। অমন একটা দুধেল গাই। আমি বলতে গেলে তার দুধ খেয়েই মানুষ। আমার মাও যা কৃষ্টাবেলও তাই-‘

‘তা – তার হলটা কি’ স্কুয়ার জিজ্ঞাসা।

‘এক রাতে তাকে নিয়ে লোপাট পুঁটে দত্তি ট্রো-গুলো-‘ ভাঙা ভাঙা ধরা গলায় কথা গ্যানগ্যানের।

আমরা ততক্ষণে যে যার জায়গায় বসা। আমার কানের কাছে মুখ স্কুয়ার। ফিসফিসে কথাগুলো তার। ‘গ্যানগ্যান এখন চলে গেছে রূপকথার রাজ্যিতে’ বলেই সে পাশের ঘরে গা ঢাকল।

‘তা গ্র্যান্ডমা শুনেছি তোমাদের ছেলেবেলায় ঐ পুঁটে দত্তি ট্রো-দের উৎপাত নাকি’- আংকল জ্যাকের কথার ওপর থাবড়া গ্যানগ্যানের। শেষ হবার আগেই –

‘ওরে বাবা – সে আর বলতে – উৎপাত বলে উৎপাত-‘ শিউরে-ওঠা কথা গ্যানগ্যানের।

‘পুঁটে দত্তি মানে-‘ আমার অবাক জিজ্ঞাসা। ‘ধেড়ে দত্তিদের গল্পো তো শুনেছি। পুঁটেদত্তি আবার কারা-‘ ‘আরে পুঁটে দত্তি, পুঁটে দত্তি গ্যানগ্যানের জোর দেওয়া কথা। ‘এই এত্তটুকু খুদে খুদে দত্তিগুলো – ট্রো-দত্তি’ বলেই কড়ে আঙুলের পাবটা উঁচিয়ে ধরল গ্যানগ্যান। ‘দুৎ – ঐ টুকু আবার দত্তি হয় নাকি-‘ আমার সুরে অবিশ্বাস। গ্যানগ্যানের জবাব ছড়ায়।

‘সত্যি বলছি সত্যি

এত্তটুকু এক রত্তি

তবুও তারা দত্তি।

 

(তাদের) গায়ে দারুণ জোর।

 

তারা ম্যাজিক জানে

জানে কতো বিদঘুটে মন্তর।

 

তারা খুশী হলে দেবে তোমায় মহারাজ বানিয়ে।

 

তারা এক নিমেষে আনবে খবর দুনিয়া বেড় দিয়ে।

 

তারা চটে গেলে রাতারাতি

সব করবে ধ্বংস।

 

সাবড়ে দেবে গরু ঘোড়া

 

শুয়োর ভেড়ার বংশ।

 

আমাদের ছেলেবেলায় লোকেদের মুখে মুখে একটা ছড়া-‘ গ্যানগ্যানের মুখে ছড়ার বান।

 

‘শিকার করতে কেউ যেওনা ফাঁকা পাহাড় অঞ্চলে

পুঁটে দত্তি ট্রো-রা ঘোরে সেথায় সবাই দঙ্গলে।’

 

আমার মনে মনে নাড়াচাড়া। পুঁটে দত্তিদের চেহারাগুলো ভাবার চেষ্টা।

‘পুঁটে দত্তি এটুকু এটুকু দত্তি। ট্রো-ট্রো। এদেশে বলে ট্রো। হুবহু মানুষের চেহারা-‘ বললে গ্যানগ্যান। ‘আগে তাদের উৎপাত ছিল সংঘাতিক। আর নজরেও পড়ত যেখানে সেখানে। আজকাল তাদের আর দেখিনে। এখন চাদ্দিকে লোকজন অনেক। অনেক বসত। অনেক চাষ-আবাদ। অনেক হৈ হট্টগোল। তা’পর ধর ইলেকট্রিক বাতির আলো। মোটর-গাড়ি এরোপ্লেনের গর্জন। ট্রো-রা এখন একদম নিপাত্তা। কৈ আজকাল তো আর কাউকে বলতে শুনিনে ট্রো-তে পেয়েছে। কি ট্রো-তে বাণ মেরেছে-‘

‘তা ট্রো-রা তখন কি করত একটু শোনাও না গ্যানগ্যান-‘ স্কুয়ার আবদেরে গলায় অনুরোধ। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সামনে বড় বড় কেকের টুকরো ভরা প্লেট আর কফির পেয়ালা নামিয়ে দেওয়া।

‘ট্রো-তে পাওয়া ব্যাপারটা কি-‘ আমার প্রশ্ন। ‘অবিশ্যি আমাদের দেশে লোককে ভূতে পায় পরে পরে আমার কথা।

‘তোমাদের দেশের ভূত কি রকম’ -জানতে ইচ্ছে গ্যানগ্যানের।

ভূত ঘোষ্ট মানুষ ম’লে ভূত। তাদের নানা উৎপাত জ্যান্ত মানুষদের ওপর আমার কথা।

‘ ‘না-না ট্রো-রা মরা মানুষের ভূত নয়। ওরা জ্যান্ত ভূত গ্যানগ্যানের যোগ দেওয়া আমার কথার পিঠে।

‘কি জানো ট্রো-রা দত্তিদের মতোই একজাতের অপদেবতা। দত্তিরা সবাই হোঁৎকা হোঁৎকা। পাথরের মতো প্রকাণ্ড। ট্রো-রা খুব খুদে খুদে। তাই ওরা পুঁটে দত্তি। তবে ওরা ইচ্ছে করলেই ধেড়ে দত্তিদের মতো বড়ও হতে পারে। কিন্তু ওরা এমনিতে খুদেই। যতো উঁচু উঁচু পাহাড়  দেখবে ওগুলো সবাই জমাট বেঁধে পাথর হওয়া ধেড়ে দত্তি। আর ছোট ছোট পাথরের চাঁই-গুলো সব পুঁটে দত্তি ট্রো-‘

কফির পেয়ালায় একটা চুমুক গ্যানগ্যানের। গলা ভিজিয়ে তার কথা, ‘ব্যাপারটা কি জানো- ট্রোগুলো সব রাতের জীব। তাদের চরা-বরা নাচন-কোঁদন রবরবা সবই রাতের বেলা। দিনের আলো ফুটল কি তাদের আর পাত্তা নেই। আলো ফুটে ওঠার আগেই তাদের সব কাজকর্ম শেষ। সুট-সাট নিজেদের গর্তে সেঁধোন। আর ধর – যদি কোন ট্রো আরামসে শুয়োরের ঠ্যাং চিবুতে চিবুতে একদম বেহুঁস, কি কারুর গোয়াল থেকে গরু-ভেড়া লোপাট করতেই ব্যস্ত, খেয়ালই নেই।

ওদিকে রাত কেটে গিয়ে দিনের আলো ফুটেছে, তক্ষুনি তারা পাথর হয়ে যাবে। ঐ রকম পাথর হয়ে যাওয়া একটা পুঁটে দত্তির দল তুমি দেখতে পাবে দক্ষিণ উন্‌স্টের গ্রীনবেক পাহাড়ের পেছন দিকটায়-’

‘তোমার বাড়ি আসবার পথের পাশে একটু আগেই দেখলুম একদল বেঁটে লোক এই হি-হি ঠাণ্ডায় গোল হয়ে বসা। স্কুয়াকে শুধোলুম ওরা এখানে কি করছে। তা স্কুয়া তো হেসেই খুন। বলে ধুৎ ওগুলো সব ছোট ছোট পাথর -‘ বললুম আমি।

‘আরে ওই তো পুঁটে দত্তির দল। স্কুয়া সেদিনের বাচ্চা মেয়ে – ও কী জানে –‘ হৈ হৈ করে বলে উঠল গ্যানগ্যান। ‘ওগুলো কোন গেরস্তের ঘর থেকে নির্ঘাৎ শুয়োরের মাংস চুরি করেছে। তা’পর বেভুল হয়ে শুয়োরের ঠ্যাং চিবুচ্ছে- এমন সময় দিনের আলো। টেরই পায়নি। ব্যস-একসাটে একদম পাথর-‘

আরও পড়ুন:

দি লাস্ট মিটিং/সমরজিৎ সিংহ

একটি রাস্তা । তারপর, আবার রাস্তা । তারপর সমাধি । তার উপর চাঁদের ছায়া ।…

পড়ুন

ঘড়ি বন্ধ ছিল/বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়

লাফাতে লাফাতে বেরিয়ে যাবার পর টের পেলাম অনেকগুলো ভুল হয়ে গেছে। মাস্ক নিতে ভুলে গেছি।…

পড়ুন

কাজের ভাষা, মুখের ভাষা/স্বপ্নময় চক্রবর্তী

যিনি কাঠের কাজ করেন, উনি বললেন, ‘এই কাঠের জিনিসগুলোকে আলাদা করে পালিশ করাবেন কেন? দোকান…

পড়ুন

জোয়ার / বেবী সাউ 

যেভাবে জলের কাছে লিখে রাখি ত্যাগসূত্র আদি—   শরীর, গোপন মায়া ধীরে ধীরে নামে কঠিন…

পড়ুন

৩/৪ সি, তালতলা লেন / সুমিতা মুখোপাধ্যায়

বইয়ের নামঃ ৩/৪ সি, তালতলা লেন কবিঃ হিন্দোল ভট্টাচার্য আলোচকঃ সুমিতা মুখোপাধ্যায় ৩/৪ সি, তালতলা…

পড়ুন

মন্দির দেখা সহজ নয়/শ্রীলা বসু

বেড়ানোর পোকাটা আমার মাথায় এসেছে প্রধানত পৈতৃক সূত্রে। বাবার হাতে ম্যাপ টাইম টেবিল দেখতাম হরদম।…

পড়ুন

গ প্ পো ৩ – ধেড়ে দত্তি স্যাক্সি আর হারমানের গপপো/ বোধিসত্ব মৈত্রেয়

টিং-টিং, টুং-টুং, এক ছোট্ট ঘণ্টার মিষ্টি আওয়াজ আসছে কোথা থেকে? হাতড়াতে থাকি এদিক ওদিক। জঙ্গুলে…

পড়ুন

গ প্ পো ৫ – কুঁড়ে নিক্কির গল্পো/ বোধিসত্ব মৈত্রেয়

‘তা তোমার কৃষ্টাবেলের কি হোলো –’ তাড়া দিল স্কুয়া।   ‘কৃষ্টাবেলের কথা পরে। আরে নিক্কির…

পড়ুন

আমাকে আসলে কেমন দেখায় / নাসরীন জাহান

আমাকে কি খুব উদ্ভট দেখায় ? চক্রাকারে বাসটা মোচড় দিয়ে উঠতেই এমন একটা ভাবনা আমাকে…

পড়ুন

চৌষট্টি যোগিনী সমীপে / শর্মিষ্ঠা দাস

ভুবনেশ্বর শহরে এসেছি । আকাশপথে আমাদের দুর্গাপুর থেকে এখন মোটে একঘন্টাও নয় । কাজে অকাজে…

পড়ুন

খন্দকার গলির অন্ধকার / অলোকপর্ণা

ঘুমের ভিতর হেঁটে বেরানো আজও থামলোনি জাহান আরার। জাজিমে গতর এলানো মাত্র সে ঘুমের সাগর…

পড়ুন

বাঁশি / অংশুমান কর 

বাঁশি যখন বেজে যায় তখন কী যে হয় এই পৃথিবীতে! মনে হয় এক শূন্য মাঠের…

পড়ুন

কলসপুর যাইনি / অমর মিত্র

অনেকবার  দীপিকাকে বলেছি, কলসপুর নিয়ে যাব। বলতে গেলে সেই বিয়ের পর থেকে। আমাদের যাওয়া হয়নি।…

পড়ুন

এ এক ‘অচেনা’ দেশ/পার্থ মুখোপাধ্যায়

আমরা যখন গতির নেশায় ছুটছি, যখন আমাদের চারপাশ ‘স্মার্ট সিটি’ আর ‘ক্যাশলেস’ হওয়ার উৎসবে মেতেছে,…

পড়ুন

সুন্দর যখন ভয়ংকর / হিন্দোল ভট্টাচার্য

দশ বছর আগের কথা। গেছিলাম ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স বলে এক অপরূপ জায়গায়। হিমালয়ের কোলে, এক…

পড়ুন

ভূতপূর্ব ভূত / অহনা বিশ্বাস

ভূতের নাম যে ভূত -গোটা গ্রাম সে কথা জানে। একবার রাস্তা থেকে ডেকে ওর মা…

পড়ুন

অনন্ত সংলাপ/অর্পিতা কুণ্ডু

আমি: ঢেউ তো প্রোজ্জ্বল, তাতে তুমি বসে আছ শিরোচূড়ামণি। হাটের নাগর তুমি, ভিটায় নিমিত্ত সামগান…

পড়ুন

একা মানুষ, পঞ্চাশ অস্তিত্ব/চণ্ডী মুখোপাধ্যায়

বইয়ের নামঃ পেসোয়া অ্যান এক্সপেরিমেন্টাল লাইফ লেখক: রিচার্ড জেনিথ প্রকাশক: পেঙ্গুইন বুকস আলোচকঃ চণ্ডী মুখোপাধ্যায়…

পড়ুন

আমাজনের চার অধ্যায়/চৈতালি চ্যাটার্জি 

কালো , আঁধারের মাঝে ;   কুচকুচে কালো চারিপাশ, তারই মাঝে কিছু আলোর বিন্দু ফুটে…

পড়ুন

তোমার প্রিয় কাব্যগ্রন্থের নাম/বর্ণালী কোলে

(১) বিদ্রোহ শান্ত হয়ে আসছে, শান্ত হয়ে আসছে জলকামান আক্রোশ শান্ত হয়ে আসছে, শান্ত হয়ে…

পড়ুন

শিশিরকুমার দাশ: খুঁজে ফিরি কর্ণ, কর্ণের সহোদর/মোস্তাক আহমেদ

মৃত্যুলগ্ন পার হয়ে যতবার গিয়েছি নিঃসীমে বিদ্যুতের দীপ হাতে: অন্ধকারে আকাশের বিস্তৃতি অপার বিদ্রোহী ঝড়ের…

পড়ুন

নামকরণ / ঋজুরেখ চক্রবর্তী

কোনও একদিন তুমি সেই উন্মত্ত কিশোরবেলার নাম রাখতে চেয়েছিলে নিপীড়িত জনতার সরণি। প্রকৃতিতে তখন প্রতিটি…

পড়ুন

দিনলিপি/প্রবালকুমার বসু

ভেঙে যাওয়া স্বপ্নের কথা মনে পড়ে কথা দিয়ে না রাখতে পারার মতন অনর্থক গ্লানি  …

পড়ুন

পিরিত/অভিমন্যু মাহাত

খুব টানটান ছিল বেদনা যত দিন যায় ভুল বাড়ে, প্রবঞ্চনাও বাড়ে স্মৃতিভ্রষ্ট সুতোয় পিরিতের বহি…

পড়ুন

বিমর্ষ জল ও উড়ন্ত লাল কার্পেট/গৌতম গুহ রায়

খবরটা সরাসরি ওকে দেয়নি কেউ, কিন্তু সকাল থেকেই বাড়িতে ফিশফিশ করা চাপাস্বরের কথাগুলো তার কানে…

পড়ুন

তৃতীয় চোখের বসুধা / জগন্নাথ দেব মণ্ডল

আকাশ মেঘে ভার।টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছে। শরৎ সকালে বাজারে বিক্রিবাট্টা নেই । দোকানদার, খেটে খাওয়া, দিন…

পড়ুন

খেলার দৃশ্যান্তর/অনির্বাণ বসু

একতলা ক্লাবঘর। ন্যাড়া ছাদ। কাঠের দরজা। কোলাপ্সিবল। লাল মেঝেয় কালো বর্ডার। পলেস্তরা-খসা দেয়াল হালকা ঈষৎ।…

পড়ুন

মা সম্পর্কিত / প্রিয়াঙ্কা চৌধুরী

কাকভোরে ঘুম ভাঙত। না, বোধহয় ভাঙাতেই হত। কয়েকটা চুড়ি-বালা-টুংটাং আওয়াজ- রান্নাঘর, পুজোঘর, উঠোন, শিউলিতলাজুড়ে সারাদিন…

পড়ুন

গ প্ পো ১ – গ্যানগ্যানের দেখা পেলুম / বোধিসত্ব মৈত্রেয়

গ্যানগ্যানের দেখা পেলুম সেই সাত-সুমুদ্দুর তেরো নদীর পারের দেশে। সে বড় আজব দেশ। সে দেশের…

পড়ুন

গ প্ পো ২ – ধেড়ে দত্তি আর গুণীন অ্যাডামের গপপো / বোধিসত্ব মৈত্রেয়

সে অনে-ক অনে-ক দিন আগেকার কথা। তখন সুমুদ্দুরের জল এরকম নোনা নয়। বেশ মিষ্টি জল।…

পড়ুন

কালীপুজোয় আকালীপুর / ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়

বাতাসে অল্প হিমেল গন্ধ আর সঙ্গে শিউলির শেষ রেশটুকুনি নিয়ে শহর ছেড়ে রাঙামাটির পথে পাড়ি…

পড়ুন

কানুর বিয়ে/সুবর্ণা মণ্ডল

কানুর সেদিন খুব কান চুলকাচ্ছিল। আগের দিনের যে পায়রাটা হাত থেকে ফসকে গিয়ে শুধু একটা…

পড়ুন

গুঁড়োমশলা/কাবেরী গোস্বামী

সে এখন একটি অচল পয়সার মতন ফিরেও তাকায় না আর কেউ কারণ, সে আজ শুষ্ক…

পড়ুন

স্পর্শ, স্পর্শাতীত… / সৌরভ মুখোপাধ্যায়

তাহলে আলোর কথা জেনে নেব কাহার সমীপে? তাহলে দুপুরশব্দ,একমনে পাখিটির স্নান? তবে কে জানাবে বলো…

পড়ুন

অঙ্ক / তৃপ্তি সান্ত্রা

শচীনদার বউ উষা বৌদি মায়া আর মীরাকে দেখে খুব খুশী হলেন। কতদিন পরে এলে। কেমন…

পড়ুন

পথ রুধে রবীন্দ্রঠাকুর: বাংলা গানে পথ চলা/অভ্র বসু

সম্প্রতি একটি বিতর্কসভায় থাকবার সুযোগ হয়েছিল, যেখানে বিতর্কের বিষয় ছিল: রবীন্দ্রনাথের গান আর বর্তমান প্রজন্মের…

পড়ুন

পিতা নোহসি/প্রতিভা সরকার

‘এই রানি, তোর বাবা সবসময় আমার বুকের দিকে তাকায়া তাকায়া কথা কয় ক্যান রে? বুড়াটা…

পড়ুন

নির্বাচন / ঈশিতা ভাদুড়ী

কাকে বেছে নেব? অলিভপাতা, নাকি ধুঁতরোফুল? কে না জানে সঠিক নির্বাচন না হলে দু:খ পড়ে…

পড়ুন

কাঠামো / অর্ণব চৌধুরী

গাছের কোটরে ভাঙাচোরা দেবীমূর্তি আছে পড়ে আঁধার-মিনারে ফুটে ওঠে তার সমাহার নিরিবিলি পথে আমি তার…

পড়ুন

শহর/বিজয় সিংহ

ফেরার আগে যে তুমি অহৈতুকী ছিলে ফেরার পরে যে প্রাক গোধূলিরা অপ্রবাসে ঢোকে ফক্স কে…

পড়ুন

প্রেম বলিনি/যশোধরা রায়চৌধুরী

আমি তোমার ছোট্টবেলার বোকা তুমি আমার আনন্দ জিমখানা আমি তোমার তাসের হাতের পোকার তুমি আমার…

পড়ুন

মুষলপর্ব/বেবী সাউ

শূন্যতার রং নিয়ে বড়ো বেশি ভেবে চলো তুমি অথচ জলের কাছে প্রতিদিন শিখে নিই নীল…

পড়ুন

বাবা / মণিদীপা নন্দী বিশ্বাস

জানলার ধারে রোদ পোহাও তুমি কত দশক… সন্তানের কতগুলো ভুল ভুল কাজের নির্জন সাক্ষী হয়ে…

পড়ুন

পুরনো দিন নতুন দিন/শংকর চক্রবর্তী

মনে পড়ে সেইসব রবীন্দ্র-গানের সকাল সূর্যাস্তের থেকে মুক্তি পেয়ে ভাবলেশহীন কোনো সন্ধের পাশে বেজে উঠত…

পড়ুন

আপনার লেখা প্রকাশ করার জন্য

কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, অনুবাদ এবং অন্যান্য লেখা