কানুর বিয়ে/সুবর্ণা মণ্ডল

কানুর সেদিন খুব কান চুলকাচ্ছিল। আগের দিনের যে পায়রাটা হাত থেকে ফসকে গিয়ে শুধু একটা পালক রেখে গেল, কানু সেই পালক কানে ঢুকিয়ে আরামে চোখ যেই না বুজেছে অমনি বাপের চিল চিৎকার, “হ্যাঁ নবাব আমার, কানে পালক গুঁজেই থাকো। যা বয়স বাড়ছে এরপর আর মেয়ে জুটবে না কপালে। ভালোয় ভালোয় রাজি হয়ে যা। নবাবপুত্তুরের যা ভুঁড়ি। মেয়ের বাড়ি রাজি হয়েছে তোর কপাল ভালো!”
বাপ অপমান করার কোনো সুযোগ জীবনে কোনোদিন ছাড়েনি। আজই বা ছাড়বে কেন? কানুর বিয়েতে মত নেই। ভুঁড়ি নিয়েই চলা ভার। সঙ্গে আবার বউ। কানুর ভুঁড়ি গোটা গাঁয়ে বিখ্যাত। মাঝে মাঝে গ‌্রামের মেলায় কানুর ডাক পড়ে। কানু খাটিয়ায় শুয়ে থাকে আর বাচ্চারা ওর ভুঁড়ির উপর চড়ে দোল খায়। সে এমন ভুঁড়ি যে খাটিয়ার এক প‌্রান্ত থেকে আরেক প‌্রান্তে বাচ্চা দুলে দুলে ঘুমিয়েই পড়ে। নাগরদোলার প‌্রয়োজনই হয় না। নরম তুলতুলে ভুঁড়ি। কানুর একটু লজ্জা লজ্জা করে ঠিকই। কিন্তু ক্লান্ত বাপ-মা বাচ্চার থেকে খানিক রেহাই পেয়ে পয়সা ভালোই দেয়।

মা এসে কানুর কানে কানে বলে ‘মেয়েটা বেশ সুন্দর রে। ভালো বাড়ি ঘর। আমাদের ক্ষেত খামার আছে। জমি আছে। ছাগল গরু সবই আছে। তোর চিন্তা কি এতো ? বউ এলে বাড়ি কেমন আলো আলো হবে ভাব!”

গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছে সেদিন। দূরে মাচার মাথার উপর ঘন কালো মেঘ। আর তার সামনের ভেড়ির জলে মেঘ আর বাঁশের মাচার ছায়া – হাওয়ায় দুলে চলেছে। নরম তুলতুলে।
কানুর মনটাও কেমন যেন নরম নরম হল। উদাস হাওয়া। উদাস মন। দিল হ্যাঁ বলে। যা থাকে কপালে। হ্যাঁ বলার সঙ্গে সঙ্গেই বাড়ির সামনে বাঁধা ছাগলটা ‘ম্যাঁ’ করে উঠল। কানুর মনটা কেমন কু ডাক দিল, ‘ঠিক করলাম? এই সব বিয়ে-থার ঝক্কি আমার একদম পোশায় না। কোথাও শান্তি থাকবে না। উঠতে বসতে জাগতে ঘুমোতে একজন চোখের সামনে ঘুরঘুর করবে এ এক অস্বস্তির ব্যাপার। তার মধ্যে যদি পিটপিটে হয় তাহলে তো রক্ষা নেই।’

‘হাই তুললে কেন?’ ‘নাক ডাকলে কেন?’ ‘মুখে হাত না দিয়ে হাঁচলে কেন?’ ‘পেছন থেকে জোরে আওয়াজ বেরলো কেন?’ ‘রুমাল ছাড়া কাশলে কেন?’ এই সব কৈফিয়ত দিতে দিতেই না প‌্রাণ যায়। আবার যদি এসে বলে ‘ব্যায়াম করো, শরীর চর্চা করো, পুষ্টিকর খাবার খাও, রোজ হাঁটো। যা ভুঁড়ি তোমার! বাপের বাড়ির লোক দেখে হাসে। পরের জামাই ষষ্ঠীর আগে যদি ভুঁড়ি না কমে তাহলে আর সম্পর্ক থাকবে না।’ ব্যাস, তাহলে তো এমনিতেই ছাড়াছাড়ি অবধারিত। এই সব দুশ্চিন্তা করতে করতে বিয়ের দিন চলে এল। সেদিনটাও ভারি অদ্ভুত। ঝোড়ো হাওয়া, আর হাল্কা বৃষ্টি সকাল থেকে। বাড়ির গায়ে লাগানো কামিনী ফুলের গাছে সেদিন সাদা ফুলে ভরা। যেই না হাওয়ার ঝাপটা দেয়, কুচি কুচি সাদা পাপড়িতে বাড়ির দাওয়া ভরে যায়। ফুলের গন্ধ হাল্কা কানুর নাকে আসে। ইচ্ছা অনিচ্ছা মিলিয়েই কেমন একটা দলা পাকানো মন নিয়ে বিয়ে করতে যায় কানু। তিন গ‌্রাম পেরিয়ে কানুর শ্বশুরবাড়ি। কানু ধীরে ধীরে হবু বউয়ের নাম আওড়ায়। সলাজনয়নী। প‌্রথম দিন নাম শুনে কানুর একটু যেন ভালো ভালো লাগে। নাম যেন জিভে সয়ে যায়, তাই কানু মাঝেমধ্যেই সলাজনয়নী বলে বলে জিভের জড়তা কাটায়। আহা কী সুন্দর নাম। তারপরই কানু যায় দমে। সলাজনয়নীর পাশে কানু ! হে ভগবান ! নামের পেছনে বাপ-মা তার দু মুহূর্তও নষ্ট করেনি। মা বলে, তোর কানগুলো এতো বড়ো বড়ো ছিল যে আর কোনো নাম মাথায় আসেনি। তাই বলে কানু? কানই যখন মাথায় এল তাহলে অন্তত কাঞ্চন তো রাখতে পারত! যাক! আর কী করা।

বিয়ে মিটল ঠিকই। কিন্তু অতো লোকের মাঝে কানুর জাবড় কাটতে একটু অসুবিধে হচ্ছিল। মুখটা যতটা সম্ভব কম নাড়িয়ে জাবড় কাটতে হচ্ছিল। এই ভাবে জাবড় কাটার অভ্যেস নেই কানুর। বাড়িতে তো কোনো সমস্যা নেই। মা বাবা জানে। মা কানুকে বলেছিল ‘প‌্রথম প‌্রথম তোর বাবা আর আমি যা ভয় পেয়েছিলাম। দুধ ছেড়ে যেই না খাবার ধরলি দেখি সবসময় তোর মুখ চলে। সকাল নেই বিকেল নেই রাত নেই তোর মুখের বিশ্রাম নেই। রান্নাঘরে গিয়ে কাচা আলু, শাক, সব্জি সব খেয়ে ফেলতি। কতো মার খেয়েছিস। তাও শিক্ষা নেই। বাড়ির গরু বাছুরের প‌্রায় না খেয়ে মরার জোগাড়। ওদের ভুসি জাবনা তো সব তুই চুরি করে খেয়ে নিতি! ওদিকে মাছ মাংস মুখে তুলতি না। আমি আর তোর বাবা তো ভেবে কুল পাই না। গ‌্রামের ডাক্তার কিছু করতে পারল না। তারপর কলকাতায় গিয়ে হাসপাতালে বড়ো ডাক্তার দেখালাম। তোকে কি একটা মেশিনে ঢুকিয়ে তোর পেটের বুকের ছবি তুলল। তারপর তো তাদের হৈহৈ কাণ্ড। আমাদের ডেকে বলল তোর পাকস্থলীতে নাকি চারটে আলাদা আলাদা খোপ আছে। গরুর মতো। তার মধ্যে একটা আবার বিশাল বড়ো। পরের দিন তোকে নিয়ে বড়ো মিটিং বসবে জানাল। সেদিন রাতেই তোকে নিয়ে আমরা পালিয়ে এলাম। লোক হাসিয়ে কাজ কী ! দুঃখ কি হয়নি। এমন ভালো পড়াশোনায় তুই। তাও শহরে পড়তে পাঠালাম না। বাবা বলে কাজ নেই ওই সবের। কোন সময় ডাক্তারদের কাছে ধরা পড়ে যাবে। তারপর কি না কি হবে। তার থেকে ঘরের ছেলে ঘরেই থাক।’

কানুর সাত পাক ঘোরা আর যজ্ঞের আগুনের ঝাঁঝের মধ্যে এই সব পুরোনো কথা মাথায় ঘুরতে থাকে। মালা বদল আর সিঁদুর দানের একটু ফাঁকে তালে কানু তার বউকে দেখে নেয়। ছোট্ট একটা মুখ। গোল মতো। ছোটখাটো গড়ন। কানুর বেশ পছন্দই হয়। কানুর থেকে মেয়েটির বয়স একটু বেশি। ওদের গ্রামে বর বউয়ের বয়সের ফারাক থাকে বেশ খানিকটা। বর বড়ো। বউ ছোটো। এই নাকি নিয়ম। তা কে বানাল এমন নিয়ম কে জানে। কানুর মা বাবা বয়স নিয়ে একটুও মাথা ঘামায়নি। মেয়েটির মুখখানি এমন মায়া মায়া যে কানুর মা বাবার দেখেই পছন্দ হয়ে যায়। আর বয়স নিয়ে খুঁতখুঁত করলে হয়? তাদের নিজের ছেলের তো চারটে পাকস্থলী।

বিয়ে হয়। রাতের খাওয়া ভালোই হয়। মেয়ের বাড়ি জানে যে জামাই নিরামিষাশী। ভাত ডাল ভাজা শুক্তো ছানার ডালনা মিষ্টি কানু সবই খায়। রাতে মেয়ের বাড়িতেই থাকার নিয়ম। এবার কানুর হয় বিপদ। কানু জাবর কাটবে কী করে? নিজেকেই নিজে দুষতে থাকে কানু। পেটের মতো বুদ্ধিও যেন গরুর পেয়েছে! সে তো জানত যে রাতে এখানেই থাকতে হবে। তাহলে একটু রয়ে সয়ে অল্প করে খায় তো মানুষ, নাকি? কানুর ওই এক স্বভাব। খাবার দেখলে আর রক্ষে নেই। আর কাঁচা সব্জি দেখে যে কী ভাবে লোকসমাজে নিজের লোভ সামলায় তা কানুই জানে। তা এতো যখন বুদ্ধি, কম খেলে কি হত এক রাত? কানুর নিজেরই নিজেকে মারতে ইচ্ছে করে। এদিকে মেয়ের বাড়ির লোকজন তো বেশ আদর আপ্যায়ন করে চলে। জামাই তাদের বেশ পছন্দ হয়েছে।পেট বড়ো ঠিকই তবে কানুর মুখখানা খুব সুন্দর। বড়ো বড়ো টানা টানা চোখ। আর মুখে সব সময় হাসি।

কানুর মাথায় একটা ফন্দি আসে। তার যতবার জাবর কাটতে হয় সে ততোবার মাঠে ছোটে। ঝোপ ঝাড়ের আড়ালে যায় আর মনের সুখে জাবর কেটে ফিরে আসে। শ্বশুরবাড়ির লোক ভাবে পেটটা বোধহয় খারাপ হল জামাইয়ের। একটু বাড়াবাড়ি খেয়েছে বলেই হয়ত। বাড়িতে বাথরুম আছে ঠিকই। কিন্তু এতো লোক। কেউ না কেউ বাথরুম আটকে বসে থাকে। তাই কানু ছোটে মাঠে। বউ চিন্তিত মুখে বরের দিকে তাকায় আর নিজের আঁচল মুখে ঢুকিয়ে কামড়ায়। মনে মনে ভাবে পেট রোগা বর জুটল নাকি। পরস্পরকে আড় চোখে দেখে। কানুর সেই সকালের সাদা ফুলগুলোর কথা মনে পড়ে। মনে যেই একটু আনন্দ হয় অমনি কানুর আধ হজম হওয়া খাবার রুমেন (কানুর পাকস্থলীর সবচেয়ে বড়ো খোপ) থেকে সোজা মুখে ফিরে আসে। ব্যাস। কানু আবার ছোটে মাঠে।

ভোরের দিকে গান বাজনার শেষে কানু কখন যেন ঘুমিয়ে পড়ে। সকালে উঠে দেখে ঘর ফাঁকা। বউ, বউয়ের আত্মীয় স্বজন কেউ নেই ঘরে। উঠতে গিয়ে একটা লাল কাপড়ের টুকরো চোখে পড়ে কানুর। বিছানার কোনায় কাপড়টা পড়ে আছে। কানু দেখে চিনতে পারে। বউয়ের আঁচলের একটা অংশ। কানু লজ্জা লজ্জা করে কাপড়টা তুলে নেয়। কিন্তু কাপড়টা দেখে কানুর চোখে জল আসে। মাঠে বারবার কানুর যাওয়া আসা দেখে, মেয়েটা চিন্তায় নিজের আঁচল দাঁত দিয়ে কেটে টুকরো টুকরো করে দিয়েছে। কানু মনে মনে আফসোস করে। ছিঃ ছিঃ এতো বড় একটা সত্যি লুকিয়ে তার বিয়েটা করা উচিত হয়নি। এ যে প‌্রতারণা!

কতদিন সে সত্যি লুকোবে? কেমন করেই বা লুকোবে? একদিন তো সলাজনয়নী জানবে সত্যিটা। ভেবেই কানুর কান্না পায়। তার তো আবার বউ খুব পছন্দ হয়েছে। সলাজনয়নীকে নিয়ে তার কিছু স্বপ্নও জমেছে। সে ঠিক করে যে ভাবেই হোক সে বউকে সুখে রাখবে। তার সঙ্গে ঝগড়া করবে না। তার সব কথা শুনবে। গ‌্রামের ছায়াবাণী সিনেমা হলে ছবি দেখাতে নিয়ে যাবে। ভালো ভালো মিষ্টি খাওয়াবে। মিষ্টির কথা ভাবতেই মাঠে ছুটতে হয়। তবে এবার আর জাবড় কাটতে নয়।

বাড়ি ফিরে কানু বউ নিয়ে একটু গ্রামে বেড়িয়ে আসে। সবাই খুশি। কানু একটু সরল। তাই গ‌্রামের সবাই কানুকে ভালোইবাসে। কানুর মা বাবা সলাজনয়নীর যত্ন আত্তি করে। সবাই খুবই খুশি। শুধু কানুর মনে শান্তি নেই। প‌্রথম রাতে বর বউ আলাদা শোয়। কাল রাত। বউ একা আলাদা একটা ঘরে শুয়ে পড়ে। পরের দিন সকালে সলাজনয়নী আর তার শ্বাশুড়ী কলতলার পাশে উনুনে ভাত রাঁধতে বসে। আম গাছের বিশাল ছায়া পড়ে তার উপর। বেলা বারোটায় সূর্য যখন মাঝ আকাশে, গাছের পাতার ছায়ার ফাঁক দিয়ে আসা রোদের আলোয় উনুনের চারদিক যেন ঝিকমিক করে। সলাজের মুখও সেই আলোয় উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। শ্বাশুড়ী চাল ছড়িয়ে দেয় উনুনের চারপাশে। আর চড়ুই আসে কতো সেই চালের লোভে। সলাজও একটা একটা করে চাল খুঁটে খুঁটে খায় আর উনুনের ধোঁয়ার গন্ধ মুঠো করে নিয়ে নাকে ঠেকায়। কানু দূরে দাঁড়িয়ে দেখে। ভাতের ফ্যান আর উনুনের আঁচের গন্ধ লেগে থাকে নিশ্চই ওই হাতে।

‘কোন ব্যাটায় আমার গামছা চুরি করল।’ বাপের চিল চিৎকারে কানুর ঘোর কাটে। ‘নতুন গামছা। দু দিন হল হাট থেকে আনলাম। এই বাড়িতে কিছু রাখার জো টি নেই। যেমন মা তার তেমন পোলা। চোখগুলো কি হাটে বেচে এসেছ ? গামছা এই বেলা খুঁজে না দিলে রক্ষে রাখব না।’
বরের এই রোজের চিৎকারে অভ্যস্ত মা মুখ তুলেও তাকায় না। কিন্তু সলাজনয়নী ধরফর করে উঠে শ্বশুরের সামনে এসে হাজির হয়, ‘বাবা…, বাবা গো’ মিহি গলায় নতুন বউ ডাক দেয়। কানুর বাবা ততখনাৎ রাগ সামলে নেয়, ‘তোমায় বকিনি মা। এই দুজনকে বকা দিচ্ছি।’
‘বাবা গামছাটা আমি চিবিয়ে চিবিয়ে প‌্রায় খেয়ে ফেলেছি কাল রাতে।’ বলেই টপটপ করে জল পড়ে সলাজনয়নীর চোখ থেকে।
শ্বশুর ব্যস্ত হয়ে বলে ‘আহা মা! বেশ করেছ। বেশ করেছ! কাঁদে না মা।’ কানুর মাকে বলেন ‘মেয়েটাকে কাল একা শুতে দিলে। ভয়ের চোটে গামছা চিবিয়ে খেয়ে ফেলেছে !’
মা তো শুনে অবাক ‘ও মা! ভয়ের চোটে গামছা চিবোবে কেন?’
‘তা ভয় পেলে মানুষ কতো কী করে! হেসে ফেলে, কেঁদে ফেলে, কামড়ে দেয়, মারধরও করে। ভয়ে মানুষ সব করতে পারে’ বলে বাবা আরও দু কথা শোনায়। মা মনে মনে ভাবে, ‘কপাল আমার। এতোদিন কাঁচা শাক সব্জি সামলাতাম, এখন দেখি কাপড় চোপড়ও চোখে চোখে রাখতে হবে। এ আবার কেমন ভয়! জন্মে শুনিনি।’

রাতে কানুর ওরকমই ভয় হয়। কী ভাবে রাতটা কাটাবে ভেবেই কানুর গায়ে কাঁটা দেয়। যদি সলাজনয়নী টের পেয়ে যায়। প‌্রথম রাতেই যদি ছেড়ে চলে যায়। ভয়ে চিন্তায় রাতে প‌্রায় কিছুই খায় না কানু। কিন্তু দুপুরের খাবার তো তখনও পেটে। রাতে দুজনে নিজেদের ঘরে যায়। আজ তাদের ফুলশয্যা। খাটের চারপাশে গাঁদা ফুল সাজানো। কানু ফুল খাওয়ার লোভ কোনোরকমে সামলে বউয়ের পাশে গিয়ে বসে। লজ্জা লজ্জা করে বলে, ‘তোমায় আমি সলাজ বলে ডাকতে পারি?’ সলাজনয়নী মাথা নিচু করে হ্যাঁ বলে। একটু একটু করে গল্প যেন জমে ওঠে। কতো কথা— স্কুল, ভাই-বোন, বন্ধু-বান্ধব। যেন বহুদিনের পুরোনো বন্ধু দুজনে। গল্প করতে করতে কানু এক সময় ঘুমিয়ে পড়ে। ফুল খাওযার কথা মনেও আসে না তার।

অনেক রাতে ক্ষিদেতে ঘুম ভাঙে কানুর। তারপর বোঝে ক্ষিদে নয় অন্য কোনো কারণে ঘুমটা ভেঙেছে। ঘর তখন অন্ধকার। গরম বলে পাশের জানলাটা খোলা ছিল। সেখান থেকে বাইরের ল্যাম্প পোস্টের এক ফালি আলো ঘরের এক কোনায় পড়েছে। তাই ঘরের ভিতরটা আবছা আলো আঁধার মতো। কানু একটা হাল্কা শব্দ শুনতে পায়। কুট কুট… কুট কুট…। সে বোঝে এই আওয়াজটাই তার ঘুম ভাঙার কারণ। কানু আস্তে আস্তে পাশ ফেরে। ফিরে দেখে পাশের জায়গা খালি। সলাজ তো নেই সেখানে। কানু উঠে বসে আবছা আলোয় দেখে সলাজ আলমারির গায়ে ঠেস দিয়ে বসে আছে। কানুকে দেখেই সে চট করে কি যেন লুকিয়ে ফেলে। কানু বিছানা ছেড়ে নীচে নামে। সলাজের সামনে বসে। দুজন অনেক্ষণ চুপ করে থাকে। আর মাঝেমধ্যে পরস্পরের দিকে তাকিয়ে থাকে বেশ কিছু মুহূর্ত।

কানু কিন্তু একবারও জিজ্ঞেস করে না সলাজ তাকে দেখে কী লুকিয়েছে। হয়ত সেই জন্যেই সলাজ নিজে থেকেই লুকোনো কাপড়টা সামনে তুলে ধরে কানুর। আজ একটা সবুজ কাপড়। সারা কাপড়ে অসংখ্য ফুটো। কানুর আগের দিনের সেই লাল কাপড়টার কথা মনে পড়ে। সলাজ আস্তে আস্তে তার ঠোঁট ফাঁক করে তার মুখের ভিতরের দাঁত দেখায় কানুকে। ছুঁচলো। সরু সরু দু সারি দাঁত। সলাজ বলে ‘একবার আঙুল দিয়ে দেখো।’ কানুর গলা শুকিয়ে আসে। হাত অবশ হয়ে যায় কেমন। ভাবে ছুটে পালাবে কিনা ঘর থেকে। এ কাকে বিয়ে করল সে? তার চোখ আবার যায় সলাজের চোখের দিকে। কী কষ্ট সেই দুটো চোখে। চোখের কোনায় টলটল করছে জল। সলাজনয়নী নামটা মনে আসে। আহা কী সুন্দর নাম! কানুর ভয় কমে। সে তার আঙুল দিয়ে সলাজের দাঁত ছোঁয়। কী ধার সে দাঁতে!

সলাজ আস্তে আস্তে বলে ‘কর্তক দন্ত বা কৃন্তক।’ দু চোখ বেয়ে জল পড়ে সলাজের, ‘আমার দাঁতের কোনো শিকড় নেই। মানুষের দাঁতে তো শিকড় থাকে। আমার দাঁত বেড়েই চলে। রোজ। তাই আমাকে শক্ত কিছু চিবিয়ে যেতে হয়। রোজ। কাপড়, পিচবোর্ড, মোটা কাগজ, কাঠ, যা পাই তাই। তা নাহলে দাঁত বাড়তে থাকে। ছোটোবেলায় ডাক্তার জানিয়েছে যে আমার এগুলো ‘ইনসিসর’ । মানে আমার ইঁদুরের মতো দাঁত।’

পেটের মধ্যের রুমেন থেকে কানু নিশ্চিন্তে এবার দুপুরের খাবার মুখে এনে চিবোতে থাকে। আহ ! কী যে আরাম! সলাজকে পান চেবানোর মতো মুখ নাড়াতে নাড়াতে জানায়, ‘রুমেন, রেটিকুলাম, ওমাসাম, আবোমাসম। কী বলো তো?’
সলাজ চেয়ে থাকে। কানু হাসে, ‘কী, পারবে না তো? গরুর পাকস্থলীর চারটে অংশ। লোকে বলে গরুর চারটে পাকস্থলী। সে অবশ্য সঠিক তথ্য নয়। পাকস্থলী একটাই। তার চারটে খোপ আছে বলতে পারো।’

কানু সলাজের আঙুল নিয়ে নিজের নাভির একটু উপরে রেখে বলে ‘এখানে রুমেন।’ তারপর আঙুল গলার ঠিক নিচে নিয়ে আসে ‘এইটা রেটিকুলাম’। তারপর বুকের নিচের দিকে নিয়ে চলে, ‘এটা হল ওমাসাম। আর এই যে আবোমাসম’ বলে সলাজকে নাভির ঠিক নিচে অবস্থিত পাকস্থলীর শেষ অংশটা বোঝায়। বিজ্ঞের মতো কানু সলাজকে শেখায়, ‘আমার হল গরুর বা মোষের পাকস্থলী। খাবার অর্ধেক চিবিয়ে সোজা রুমেনে চালান করে দেই। সেখান থেকে পরে সময় মতো আবার মুখে ফিরিয়ে আনি। তারপর ভালো করে চব্য চোষ্য গিলে নিই।সেখান থেকে খাবারের দীর্ঘ যাত্রা। রেটিকুলাম হয়ে ওমাসাম পেরিয়ে আবোমাসমে পৌছে তারপর তার ছুটি।’

‘ও মা! তাই তোমার অমন ভুঁড়ি?’
‘আর তাই তোমার অমন মুক্তের মতো দাঁত?’
দুজনের সে কি খিলখিল করে হাসি।
বাইরে থেকে আসা ওই এক ফোঁটা হলদে ল্যাম্প পোস্টের আলো ওদের এই অদ্ভুত আনন্দের সাক্ষী রয়ে যায়। তারপর দুজনে নিশ্চিন্তে শুতে যায়।

আরও পড়ুন:

নির্বাচন / ঈশিতা ভাদুড়ী

কাকে বেছে নেব? অলিভপাতা, নাকি ধুঁতরোফুল? কে না জানে সঠিক নির্বাচন না হলে দু:খ পড়ে…

পড়ুন

গ প্ পো ৩ – ধেড়ে দত্তি স্যাক্সি আর হারমানের গপপো/ বোধিসত্ব মৈত্রেয়

টিং-টিং, টুং-টুং, এক ছোট্ট ঘণ্টার মিষ্টি আওয়াজ আসছে কোথা থেকে? হাতড়াতে থাকি এদিক ওদিক। জঙ্গুলে…

পড়ুন

চৌষট্টি যোগিনী সমীপে / শর্মিষ্ঠা দাস

ভুবনেশ্বর শহরে এসেছি । আকাশপথে আমাদের দুর্গাপুর থেকে এখন মোটে একঘন্টাও নয় । কাজে অকাজে…

পড়ুন

অঙ্ক / তৃপ্তি সান্ত্রা

শচীনদার বউ উষা বৌদি মায়া আর মীরাকে দেখে খুব খুশী হলেন। কতদিন পরে এলে। কেমন…

পড়ুন

শহর/বিজয় সিংহ

ফেরার আগে যে তুমি অহৈতুকী ছিলে ফেরার পরে যে প্রাক গোধূলিরা অপ্রবাসে ঢোকে ফক্স কে…

পড়ুন

বাঁশি / অংশুমান কর 

বাঁশি যখন বেজে যায় তখন কী যে হয় এই পৃথিবীতে! মনে হয় এক শূন্য মাঠের…

পড়ুন

এ এক ‘অচেনা’ দেশ/পার্থ মুখোপাধ্যায়

আমরা যখন গতির নেশায় ছুটছি, যখন আমাদের চারপাশ ‘স্মার্ট সিটি’ আর ‘ক্যাশলেস’ হওয়ার উৎসবে মেতেছে,…

পড়ুন

শিশিরকুমার দাশ: খুঁজে ফিরি কর্ণ, কর্ণের সহোদর/মোস্তাক আহমেদ

মৃত্যুলগ্ন পার হয়ে যতবার গিয়েছি নিঃসীমে বিদ্যুতের দীপ হাতে: অন্ধকারে আকাশের বিস্তৃতি অপার বিদ্রোহী ঝড়ের…

পড়ুন

মন্দির দেখা সহজ নয়/শ্রীলা বসু

বেড়ানোর পোকাটা আমার মাথায় এসেছে প্রধানত পৈতৃক সূত্রে। বাবার হাতে ম্যাপ টাইম টেবিল দেখতাম হরদম।…

পড়ুন

পিতা নোহসি/প্রতিভা সরকার

‘এই রানি, তোর বাবা সবসময় আমার বুকের দিকে তাকায়া তাকায়া কথা কয় ক্যান রে? বুড়াটা…

পড়ুন

দি লাস্ট মিটিং/সমরজিৎ সিংহ

একটি রাস্তা । তারপর, আবার রাস্তা । তারপর সমাধি । তার উপর চাঁদের ছায়া ।…

পড়ুন

পিরিত/অভিমন্যু মাহাত

খুব টানটান ছিল বেদনা যত দিন যায় ভুল বাড়ে, প্রবঞ্চনাও বাড়ে স্মৃতিভ্রষ্ট সুতোয় পিরিতের বহি…

পড়ুন

আমাজনের চার অধ্যায়/চৈতালি চ্যাটার্জি 

কালো , আঁধারের মাঝে ;   কুচকুচে কালো চারিপাশ, তারই মাঝে কিছু আলোর বিন্দু ফুটে…

পড়ুন

একা মানুষ, পঞ্চাশ অস্তিত্ব/চণ্ডী মুখোপাধ্যায়

বইয়ের নামঃ পেসোয়া অ্যান এক্সপেরিমেন্টাল লাইফ লেখক: রিচার্ড জেনিথ প্রকাশক: পেঙ্গুইন বুকস আলোচকঃ চণ্ডী মুখোপাধ্যায়…

পড়ুন

কালীপুজোয় আকালীপুর / ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়

বাতাসে অল্প হিমেল গন্ধ আর সঙ্গে শিউলির শেষ রেশটুকুনি নিয়ে শহর ছেড়ে রাঙামাটির পথে পাড়ি…

পড়ুন

বাবা / মণিদীপা নন্দী বিশ্বাস

জানলার ধারে রোদ পোহাও তুমি কত দশক… সন্তানের কতগুলো ভুল ভুল কাজের নির্জন সাক্ষী হয়ে…

পড়ুন

কাঠামো / অর্ণব চৌধুরী

গাছের কোটরে ভাঙাচোরা দেবীমূর্তি আছে পড়ে আঁধার-মিনারে ফুটে ওঠে তার সমাহার নিরিবিলি পথে আমি তার…

পড়ুন

গুঁড়োমশলা/কাবেরী গোস্বামী

সে এখন একটি অচল পয়সার মতন ফিরেও তাকায় না আর কেউ কারণ, সে আজ শুষ্ক…

পড়ুন

খন্দকার গলির অন্ধকার / অলোকপর্ণা

ঘুমের ভিতর হেঁটে বেরানো আজও থামলোনি জাহান আরার। জাজিমে গতর এলানো মাত্র সে ঘুমের সাগর…

পড়ুন

মা সম্পর্কিত / প্রিয়াঙ্কা চৌধুরী

কাকভোরে ঘুম ভাঙত। না, বোধহয় ভাঙাতেই হত। কয়েকটা চুড়ি-বালা-টুংটাং আওয়াজ- রান্নাঘর, পুজোঘর, উঠোন, শিউলিতলাজুড়ে সারাদিন…

পড়ুন

৩/৪ সি, তালতলা লেন / সুমিতা মুখোপাধ্যায়

বইয়ের নামঃ ৩/৪ সি, তালতলা লেন কবিঃ হিন্দোল ভট্টাচার্য আলোচকঃ সুমিতা মুখোপাধ্যায় ৩/৪ সি, তালতলা…

পড়ুন

গ প্ পো ২ – ধেড়ে দত্তি আর গুণীন অ্যাডামের গপপো / বোধিসত্ব মৈত্রেয়

সে অনে-ক অনে-ক দিন আগেকার কথা। তখন সুমুদ্দুরের জল এরকম নোনা নয়। বেশ মিষ্টি জল।…

পড়ুন

অনন্ত সংলাপ/অর্পিতা কুণ্ডু

আমি: ঢেউ তো প্রোজ্জ্বল, তাতে তুমি বসে আছ শিরোচূড়ামণি। হাটের নাগর তুমি, ভিটায় নিমিত্ত সামগান…

পড়ুন

পথ রুধে রবীন্দ্রঠাকুর: বাংলা গানে পথ চলা/অভ্র বসু

সম্প্রতি একটি বিতর্কসভায় থাকবার সুযোগ হয়েছিল, যেখানে বিতর্কের বিষয় ছিল: রবীন্দ্রনাথের গান আর বর্তমান প্রজন্মের…

পড়ুন

বিমর্ষ জল ও উড়ন্ত লাল কার্পেট/গৌতম গুহ রায়

খবরটা সরাসরি ওকে দেয়নি কেউ, কিন্তু সকাল থেকেই বাড়িতে ফিশফিশ করা চাপাস্বরের কথাগুলো তার কানে…

পড়ুন

মুষলপর্ব/বেবী সাউ

শূন্যতার রং নিয়ে বড়ো বেশি ভেবে চলো তুমি অথচ জলের কাছে প্রতিদিন শিখে নিই নীল…

পড়ুন

সুন্দর যখন ভয়ংকর / হিন্দোল ভট্টাচার্য

দশ বছর আগের কথা। গেছিলাম ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স বলে এক অপরূপ জায়গায়। হিমালয়ের কোলে, এক…

পড়ুন

গ প্ পো ৪ – পুঁটে দত্তিদের গপ্পো/ বোধিসত্ব মৈত্রেয়

টাটকা-ঝরা ঝুরো বরফের রাশ ঠেলে এগুচ্ছি আমি আর স্কুয়া। ধু ধু ফাঁকা রাজ্যিটা ভরা অরোরার…

পড়ুন

জোয়ার / বেবী সাউ 

যেভাবে জলের কাছে লিখে রাখি ত্যাগসূত্র আদি—   শরীর, গোপন মায়া ধীরে ধীরে নামে কঠিন…

পড়ুন

ঘড়ি বন্ধ ছিল/বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়

লাফাতে লাফাতে বেরিয়ে যাবার পর টের পেলাম অনেকগুলো ভুল হয়ে গেছে। মাস্ক নিতে ভুলে গেছি।…

পড়ুন

গ প্ পো ১ – গ্যানগ্যানের দেখা পেলুম / বোধিসত্ব মৈত্রেয়

গ্যানগ্যানের দেখা পেলুম সেই সাত-সুমুদ্দুর তেরো নদীর পারের দেশে। সে বড় আজব দেশ। সে দেশের…

পড়ুন

কাজের ভাষা, মুখের ভাষা/স্বপ্নময় চক্রবর্তী

যিনি কাঠের কাজ করেন, উনি বললেন, ‘এই কাঠের জিনিসগুলোকে আলাদা করে পালিশ করাবেন কেন? দোকান…

পড়ুন

নামকরণ / ঋজুরেখ চক্রবর্তী

কোনও একদিন তুমি সেই উন্মত্ত কিশোরবেলার নাম রাখতে চেয়েছিলে নিপীড়িত জনতার সরণি। প্রকৃতিতে তখন প্রতিটি…

পড়ুন

খেলার দৃশ্যান্তর/অনির্বাণ বসু

একতলা ক্লাবঘর। ন্যাড়া ছাদ। কাঠের দরজা। কোলাপ্সিবল। লাল মেঝেয় কালো বর্ডার। পলেস্তরা-খসা দেয়াল হালকা ঈষৎ।…

পড়ুন

কলসপুর যাইনি / অমর মিত্র

অনেকবার  দীপিকাকে বলেছি, কলসপুর নিয়ে যাব। বলতে গেলে সেই বিয়ের পর থেকে। আমাদের যাওয়া হয়নি।…

পড়ুন

গ প্ পো ৫ – কুঁড়ে নিক্কির গল্পো/ বোধিসত্ব মৈত্রেয়

‘তা তোমার কৃষ্টাবেলের কি হোলো –’ তাড়া দিল স্কুয়া।   ‘কৃষ্টাবেলের কথা পরে। আরে নিক্কির…

পড়ুন

দিনলিপি/প্রবালকুমার বসু

ভেঙে যাওয়া স্বপ্নের কথা মনে পড়ে কথা দিয়ে না রাখতে পারার মতন অনর্থক গ্লানি  …

পড়ুন

স্পর্শ, স্পর্শাতীত… / সৌরভ মুখোপাধ্যায়

তাহলে আলোর কথা জেনে নেব কাহার সমীপে? তাহলে দুপুরশব্দ,একমনে পাখিটির স্নান? তবে কে জানাবে বলো…

পড়ুন

আমাকে আসলে কেমন দেখায় / নাসরীন জাহান

আমাকে কি খুব উদ্ভট দেখায় ? চক্রাকারে বাসটা মোচড় দিয়ে উঠতেই এমন একটা ভাবনা আমাকে…

পড়ুন

পুরনো দিন নতুন দিন/শংকর চক্রবর্তী

মনে পড়ে সেইসব রবীন্দ্র-গানের সকাল সূর্যাস্তের থেকে মুক্তি পেয়ে ভাবলেশহীন কোনো সন্ধের পাশে বেজে উঠত…

পড়ুন

তৃতীয় চোখের বসুধা / জগন্নাথ দেব মণ্ডল

আকাশ মেঘে ভার।টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছে। শরৎ সকালে বাজারে বিক্রিবাট্টা নেই । দোকানদার, খেটে খাওয়া, দিন…

পড়ুন

তোমার প্রিয় কাব্যগ্রন্থের নাম/বর্ণালী কোলে

(১) বিদ্রোহ শান্ত হয়ে আসছে, শান্ত হয়ে আসছে জলকামান আক্রোশ শান্ত হয়ে আসছে, শান্ত হয়ে…

পড়ুন

প্রেম বলিনি/যশোধরা রায়চৌধুরী

আমি তোমার ছোট্টবেলার বোকা তুমি আমার আনন্দ জিমখানা আমি তোমার তাসের হাতের পোকার তুমি আমার…

পড়ুন

ভূতপূর্ব ভূত / অহনা বিশ্বাস

ভূতের নাম যে ভূত -গোটা গ্রাম সে কথা জানে। একবার রাস্তা থেকে ডেকে ওর মা…

পড়ুন

আপনার লেখা প্রকাশ করার জন্য

কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, অনুবাদ এবং অন্যান্য লেখা