অঙ্ক / তৃপ্তি সান্ত্রা

শচীনদার বউ উষা বৌদি মায়া আর মীরাকে দেখে খুব খুশী হলেন। কতদিন পরে এলে। কেমন সুন্দর আছো তোমরা ৬৮-৭০ বছর বয়সে কেমন হেঁটে চলে বেড়িয়ে বেড়াচ্ছ। আমায় দেখো না হাঁটুর হাড় ক্ষয়ে গেছে… কি যে কষ্ট… রুমু, মানে ময়ূখের বউ, আমার বৌমা তো খুবই ভালো হয়েছে। চলে যাচ্ছে তাই।

রুমু যে খুব টিপটাপ, অল্প সময়ের মধ্যেই বোঝা যায়। মায়া তার স্বভাব সুলভ চঞ্চলতায় বিছানায় বসেছিল। বারান্দার টবে একটা দুর্লভ পাতাবাহার দেখে ফিরে আসতেই দেখল রুমু ঝারণ দিয়ে বিছানা পাট পাট করছে। অগত্যা সোফায় বসে সে। রুমু প্লেট ভরে মিষ্টি দেয়। চা করে।

একটু বোসো না, এক্ষুণি ঋক্ মানে দেবার্ঘ আসবে। ওকে তো দেখোনি। ঊষা পীড়াপীড়ি করতে থাকেন, সুন্দর নাতিকে দেখাবার জন্য। রুমু আর ময়ূখ দুজনেই সুন্দর, দেবার্ঘ সুন্দর হবে বোঝাই যায়।

পাঁচ মিনিটের মধ্যেই দেবার্ঘ ফেরে। রুমু দরজা খুলে দিলে ডাইনিং-এ কারোর দিকে না তাকিয়ে সে সোজা বাথরুমে যায়, বাথরুমের দরজা লাগাবার আগে ব্যাগ খুলে বইপত্র মেঝেতে নামিয়ে রাখে, তারপর ব্যাগ নিয়ে ভেতরে চলে যায়।

মায়া, মীরা, দুজনে অবাক হল। জানুয়ারির এই সন্ধ্যেয় ছেলেটা চান করবে-রুমি শুচিবাই নাকি? মীরা জানতে

চায়-বাহির থেকে এসে স্নান কর নাকি তোমরা, শীতেও কর?

-না, না, রোজ না। ঊষা সহাস্যে জানান। যেদিন যেদিন আর.কে.(R.K)-র কাছে পড়তে যায় সেদিনই। একটু

বাতিক আছে রুমুর…

নিজেদের ছেলে এবং নাতিনাতনির অবাধ্য স্বভাব, শীতকালের দুপুরে স্নান নিয়ে মারামারির পর্ব মনে রেখে মায়া রুমুকে বলে-বাব্বা! খুব বাধ্য ছেলে তো তোমার!

-প্রথম প্রথম গাঁইগুই করত। এদের বাড়ির মতো একটু জলে ভয় আছে তো! তা, এখন বলতে হয় না। পড়া থেকে ফিরেই বাথরুমে যায়-

-কিন্তু স্নান কেন? -কোথায় যায়?

–আর বলবেন না, ছেলে অঙ্কে একটু কাঁচা। কিন্তু অঙ্কটা তো ভাইটাল। ওদের স্কুলের স্যারকে রেখেছি। খুবই ভালো পড়ান R.K. মানে রাসেল খান…

একটু অর্থপূর্ণ হাসে রুমু। তারপর বলে—

মুসলনমান। ছাইপাশ গেলা জাত। মাগো, এমন ঘেন্না করে। আমি স্নান না করে ছেলেকে ঘরে তুলতেই পারি না।

ব্যাগটা ওয়াটার প্রুফ, ধুয়ে দিলে কিছু হয় না –জামা কাপড় জলে ভিজিয়ে রাখে, পরে কেচে দই…

–বাঃ! কি বাধ্য ছেলে তোমার। এমন মাতৃভক্তি দেখা যায় না।

শ্লেষ নয়, মায়া স্বাভাবিক গলাতেই বলে। কিন্তু পরেরটুকু যোগ করে খুব অঙ্ক কষে -ঊষা বৌদি তো পা নিয়ে যেতে পারবেন না, তুমি একদিন যেও রুমু। আজ আর বসব না।ইউনুসটা অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছে।

–কে ইউনুস?

-ওই যে ভাই, আমাদের রিক্সওয়ালা। আমাদের বাড়ি তো উল্টো পথে। ফেরার পথে পাওয়া যাবে না বলে ওকে

বসিয়ে রেখে এসেছি…

রুমু-ঊষা বৌদির থতমত দৃষ্টির তোয়াক্কা না করে মায়া মীরাকে নিয়ে রাস্তায় নামে।

মীরা বলে, কি যে কর। শুধু শুধু মিথ্যে কথা বলার কি ছিল… শীতের রাত্রে বেচারীদের কাজ বাড়িয়ে দিয়ে এলে!

দুষ্টু হেসে মায়া বলে, শুধু সোফায় নয়, আমি কিন্তু বিছানাতেও বসেছি। পাগলদের একটু শিক্ষা দরকার।

একটা ভুল অঙ্ক নিয়ে রুমু আর ঊষা বৌদির নাকাল অবস্থা কল্পনা করে ভৈরবের রিক্সয় বসে কুলকুল করে হাসতে

থাকে মায়া আর মীরা।

 

আরও পড়ুন:

কলসপুর যাইনি / অমর মিত্র

অনেকবার  দীপিকাকে বলেছি, কলসপুর নিয়ে যাব। বলতে গেলে সেই বিয়ের পর থেকে। আমাদের যাওয়া হয়নি।…

পড়ুন

কাঠামো / অর্ণব চৌধুরী

গাছের কোটরে ভাঙাচোরা দেবীমূর্তি আছে পড়ে আঁধার-মিনারে ফুটে ওঠে তার সমাহার নিরিবিলি পথে আমি তার…

পড়ুন

চৌষট্টি যোগিনী সমীপে / শর্মিষ্ঠা দাস

ভুবনেশ্বর শহরে এসেছি । আকাশপথে আমাদের দুর্গাপুর থেকে এখন মোটে একঘন্টাও নয় । কাজে অকাজে…

পড়ুন

নামকরণ / ঋজুরেখ চক্রবর্তী

কোনও একদিন তুমি সেই উন্মত্ত কিশোরবেলার নাম রাখতে চেয়েছিলে নিপীড়িত জনতার সরণি। প্রকৃতিতে তখন প্রতিটি…

পড়ুন

জোয়ার / বেবী সাউ 

যেভাবে জলের কাছে লিখে রাখি ত্যাগসূত্র আদি—   শরীর, গোপন মায়া ধীরে ধীরে নামে কঠিন…

পড়ুন

কালীপুজোয় আকালীপুর / ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়

বাতাসে অল্প হিমেল গন্ধ আর সঙ্গে শিউলির শেষ রেশটুকুনি নিয়ে শহর ছেড়ে রাঙামাটির পথে পাড়ি…

পড়ুন

সুন্দর যখন ভয়ংকর / হিন্দোল ভট্টাচার্য

দশ বছর আগের কথা। গেছিলাম ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স বলে এক অপরূপ জায়গায়। হিমালয়ের কোলে, এক…

পড়ুন

বাবা / মণিদীপা নন্দী বিশ্বাস

জানলার ধারে রোদ পোহাও তুমি কত দশক… সন্তানের কতগুলো ভুল ভুল কাজের নির্জন সাক্ষী হয়ে…

পড়ুন

প্রেম বলিনি/যশোধরা রায়চৌধুরী

আমি তোমার ছোট্টবেলার বোকা তুমি আমার আনন্দ জিমখানা আমি তোমার তাসের হাতের পোকার তুমি আমার…

পড়ুন

গ প্ পো ৩ – ধেড়ে দত্তি স্যাক্সি আর হারমানের গপপো/ বোধিসত্ব মৈত্রেয়

টিং-টিং, টুং-টুং, এক ছোট্ট ঘণ্টার মিষ্টি আওয়াজ আসছে কোথা থেকে? হাতড়াতে থাকি এদিক ওদিক। জঙ্গুলে…

পড়ুন

৩/৪ সি, তালতলা লেন / সুমিতা মুখোপাধ্যায়

বইয়ের নামঃ ৩/৪ সি, তালতলা লেন কবিঃ হিন্দোল ভট্টাচার্য আলোচকঃ সুমিতা মুখোপাধ্যায় ৩/৪ সি, তালতলা…

পড়ুন

পথ রুধে রবীন্দ্রঠাকুর: বাংলা গানে পথ চলা/অভ্র বসু

সম্প্রতি একটি বিতর্কসভায় থাকবার সুযোগ হয়েছিল, যেখানে বিতর্কের বিষয় ছিল: রবীন্দ্রনাথের গান আর বর্তমান প্রজন্মের…

পড়ুন

নির্বাচন / ঈশিতা ভাদুড়ী

কাকে বেছে নেব? অলিভপাতা, নাকি ধুঁতরোফুল? কে না জানে সঠিক নির্বাচন না হলে দু:খ পড়ে…

পড়ুন

খন্দকার গলির অন্ধকার / অলোকপর্ণা

ঘুমের ভিতর হেঁটে বেরানো আজও থামলোনি জাহান আরার। জাজিমে গতর এলানো মাত্র সে ঘুমের সাগর…

পড়ুন

ভূতপূর্ব ভূত / অহনা বিশ্বাস

ভূতের নাম যে ভূত -গোটা গ্রাম সে কথা জানে। একবার রাস্তা থেকে ডেকে ওর মা…

পড়ুন

তৃতীয় চোখের বসুধা / জগন্নাথ দেব মণ্ডল

আকাশ মেঘে ভার।টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছে। শরৎ সকালে বাজারে বিক্রিবাট্টা নেই । দোকানদার, খেটে খাওয়া, দিন…

পড়ুন

আমাজনের চার অধ্যায়/চৈতালি চ্যাটার্জি 

কালো , আঁধারের মাঝে ;   কুচকুচে কালো চারিপাশ, তারই মাঝে কিছু আলোর বিন্দু ফুটে…

পড়ুন

স্পর্শ, স্পর্শাতীত… / সৌরভ মুখোপাধ্যায়

তাহলে আলোর কথা জেনে নেব কাহার সমীপে? তাহলে দুপুরশব্দ,একমনে পাখিটির স্নান? তবে কে জানাবে বলো…

পড়ুন

গ প্ পো ২ – ধেড়ে দত্তি আর গুণীন অ্যাডামের গপপো / বোধিসত্ব মৈত্রেয়

সে অনে-ক অনে-ক দিন আগেকার কথা। তখন সুমুদ্দুরের জল এরকম নোনা নয়। বেশ মিষ্টি জল।…

পড়ুন

আমাকে আসলে কেমন দেখায় / নাসরীন জাহান

আমাকে কি খুব উদ্ভট দেখায় ? চক্রাকারে বাসটা মোচড় দিয়ে উঠতেই এমন একটা ভাবনা আমাকে…

পড়ুন

বাঁশি / অংশুমান কর 

বাঁশি যখন বেজে যায় তখন কী যে হয় এই পৃথিবীতে! মনে হয় এক শূন্য মাঠের…

পড়ুন

দিনলিপি/প্রবালকুমার বসু

ভেঙে যাওয়া স্বপ্নের কথা মনে পড়ে কথা দিয়ে না রাখতে পারার মতন অনর্থক গ্লানি  …

পড়ুন

গ প্ পো ১ – গ্যানগ্যানের দেখা পেলুম / বোধিসত্ব মৈত্রেয়

গ্যানগ্যানের দেখা পেলুম সেই সাত-সুমুদ্দুর তেরো নদীর পারের দেশে। সে বড় আজব দেশ। সে দেশের…

পড়ুন

মা সম্পর্কিত / প্রিয়াঙ্কা চৌধুরী

কাকভোরে ঘুম ভাঙত। না, বোধহয় ভাঙাতেই হত। কয়েকটা চুড়ি-বালা-টুংটাং আওয়াজ- রান্নাঘর, পুজোঘর, উঠোন, শিউলিতলাজুড়ে সারাদিন…

পড়ুন

ঘড়ি বন্ধ ছিল/বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়

লাফাতে লাফাতে বেরিয়ে যাবার পর টের পেলাম অনেকগুলো ভুল হয়ে গেছে। মাস্ক নিতে ভুলে গেছি।…

পড়ুন

আপনার লেখা প্রকাশ করার জন্য

কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, অনুবাদ এবং অন্যান্য লেখা