পথ রুধে রবীন্দ্রঠাকুর: বাংলা গানে পথ চলা/অভ্র বসু

সম্প্রতি একটি বিতর্কসভায় থাকবার সুযোগ হয়েছিল, যেখানে বিতর্কের বিষয় ছিল: রবীন্দ্রনাথের গান আর বর্তমান প্রজন্মের আশ্রয় নয়। বিষয়টা নিয়ে আসলে অনেক দিক থেকেই তর্ক হতে পারে। প্রতিযোগীরাও নানা দিক থেকে আলোচনা করলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই বিতর্কের ফলাফল খুব স্পষ্ট হল না। সকলেই মানলেন রবীন্দ্রনাথের গান আশ্রয় হওয়া উচিত। মোশনের সমর্থনে যাঁরা বললেন, তারাও সেটা অস্বীকার করলেন না।

বিতর্ক সভার বিবরণ দেওয়াটা আমার উদ্দেশ্য নয়। এই বিতর্কের সূত্রে কিছু কথা আমার মনে হল, সেটাই একটু গুছিয়ে বলবার চেষ্টা করি।

রবীন্দ্রনাথের গান যদি আজও বাঙালির আশ্রয় হয়ে রয়ে যায়, তাতে আমার বাস্তবিক কোনো আপত্তি নেই। আমি এতই রবীন্দ্রনাথের গানের অনুরাগী, এমনটা না হলেই আমি দুঃখ পাব। আর সত্যিই তো, এমন ঐশ্বর্য কোন ভাষায় আছে? তারপরেও এই ভাবনাটা আমার কাছে খুব বিস্ময় এবং হতাশার যে, একজন মানুষ ৮৫ বছর আগে প্রয়াত হয়েছেন। এতগুলো বছর পরেও বাঙালি কোনো বিকল্প আশ্রয় খুঁজে পেল না।

রবীন্দ্রনাথ যখন কবি হিসেবে মধ্যগগনে, তখন নতুন প্রজন্মে কবিরা রবীন্দ্রনাথকে চ্যালেঞ্জ করছেন। অচিন্ত্যকুমার বলছেন পথ জুড়ে রবীন্দ্র ঠাকুর বসে আছেন। রবীন্দ্রনাথকে প্রত্যাখ্যান করবার লড়াই তখন প্রবল। রবীন্দ্রনাথকে তাঁরা ভালোবাসেন, কিন্তু প্রত্যয়ের সঙ্গে নতুন পথ তৈরি করছেন তাঁরা। রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশাতেই তাঁরা রবীন্দ্রনাথের কবিতাকে স্পর্ধার সঙ্গে অস্বীকার করেছেন। রবীন্দ্রনাথ নিজেই মজা করে বলেছিলেন যে রবীন্দ্র-উত্তর যুগ হল রবীন্দ্রধুত্তোর যুগ। জোড়াসাঁকোয় গিয়ে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে সুধীন্দ্রনাথ দত্ত হিরণকুমার সান্যালকে বলেছিলেন: হাবল, He may be the past and the present, but we are the future. সুধীন্দ্রনাথ আমার খুব পছন্দের কবি, কিন্তু তিনি একেবারে সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন। মনে আছে ২০০১ সালে সুধীন্দ্রনাথের শতবর্ষ উদ্‌যাপন হচ্ছে বিশ্বভারতীতে। সুবোধ সরকার সেখানে সুধীন্দ্রনাথের কাব্যশৈলীকে ধিক্কার জানিয়ে বলেছিলেন যে সুধীন্দ্রনাথের আশেপাশে অনেক কাব্যরসিক ছিলেন, কিন্তু তাঁরা কেউ বলেননি তাঁকে যে এভাবে কবিতা লেখে না? সুধীন্দ্রনাথের কবিকৃতি আমার বিচার্য নয় এখানে, কিন্তু একথা অস্বীকার করবার উপায় নেই যে, রবীন্দ্রনাথকে পাশে রেখে বাংলা কবিতার নতুন দিগন্তের খোঁজে যাঁরা অগ্রণী ছিলেন, সুধীন্দ্রনাথ তাঁদের মধ্যে অগ্রণী। তাঁরা সচেতন ছিলেন যে রবীন্দ্রনাথকে অতিক্রম করতে হবে, এবং সুধীন্দ্রনাথের মতো তাঁরা অনেকেই ছিলেন খুবই আত্মবিশ্বাসী। রবীন্দ্রপ্রভাব তাঁরা সচেতনভাবে এড়িয়েছে।

সত্যি সত্যি আজ আর কবিতা লিখতে বসে কোনো কবি ভাবেন না রবীন্দ্রনাথের মতো করে কবিতা লিখব। রবীন্দ্রনাথ ক্লাসিকের মর্যাদা পেয়েছেন, তাঁকে কেউ অশ্রদ্ধা করছেন না, কিন্তু নতুন পথটাকেই তাঁরা গ্রহণ করেছেন, রবীন্দ্রনাথের পথটা নয়। ফলত বাংলা কবিতায় রবীন্দ্রপরবর্তী বিবর্তনের রেখাটা বেশ স্পষ্ট, রবীন্দ্রনাথ যত বড়ো কবিই হো, রবীন্দ্রনাথের বাইরেও বাঙালির কাছে পড়বার মতো অনেকের কবিতা আছে।

গানের ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথকে অতিক্রম করে যাবার এই চেষ্টাটা রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশায় দেখা যায়নি। তিরিশের দশক থেকে বাংলা গানের একটা নতুন জগৎ উন্মোচিত হয়েছে একটু একটু করে, যে-গানকে পরে আধুনিক গান বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই জগতে রবীন্দ্রনাথকে অস্বীকার করার চেষ্টা তো হয়ইনি, রবীন্দ্রনাথকে আঁকড়ে ধরা হয়েছে প্রবলভাবে।

রবীন্দ্রনাথ বাংলা গানের শ্রেষ্ঠ স্রষ্টা। রবীন্দ্রনাথ নিজেও জানতেন সে-কথা। তাঁর গান যে বাঙালিকে গাইতেই হবে, সে বিষয়ে তিনি খুব নিশ্চিত ছিলেন। পৃথিবীর আর কোনো ভাষাতেই সে-ভাষার শ্রেষ্ঠ কবি সে-ভাষারই শ্রেষ্ঠ গীতকার-সুরকার এমনটা তুলনাবিহীন। রবীন্দ্রনাথের সমকালে দ্বিজেন্দ্রলাল, রজনীকান্ত, অতুলপ্রসাদ – এঁরা সকলেই কবি ছিলেন, গীতকার সুরকারও ছিলেন। দ্বিজেন্দ্রলালের বৈচিত্র্য ছিল অন্যদের চেয়ে বেশি, কিন্তু এঁরা প্রত্যেকেই ভালো গান লিখেছিলেন, এবং রবীন্দ্রনাথের সমকালেই তাঁরা সকলে নিজেদের  একটা জমি তৈরি করতে পেরেছিলেন, যে-জমি আজও একেবারে হারিয়ে যায়নি। কিন্তু রবীন্দ্রনাথকে অতিক্রম করার কথা এঁরা ভাবেননি। ভাববার সত্যি সত্যি সময়ও হয়তো তখনো আসেনি। নজরুল একটু পরবর্তী সময়ে এলেও বাংলা গানের ইতিহাসে এ-যাবৎ তিনিই রবীন্দ্রনাথের সবচেয়ে বড়ো প্রতিদ্বন্দ্বী। তাঁর গানে যুগপৎ বিষয় এবং সুরের বৈচিত্র্য ছিল বিশেষভাবে উল্লেখ করবার মতো।

নজরুল বাংলা গানের শেষ গুরুত্বপূর্ণ কবি এবং গীতকার। এর পর থেকে, যে-কোনো কারণেই হোক, কবিরা গান লেখবার কথা ভাবেননি। সজনীকান্ত বা প্রেমেন্দ্র মিত্রের মতো কেউ কেউ গান লিখেছিলেন বটে, কিন্তু সেটা নিয়মিতভাবে নয়। আর সেই গানের কথায়ও অনেক সময়েই রবীন্দ্রনাথের প্রতিধ্বনি বড়ো স্পষ্ট।

গানের লেখক এবং গানের সুরকার আলাদা হয়ে গেল তিরিশের দশক থেকে। অসাধারণ সুরকার এলেন – পংকজকুমার মল্লিক, রাইচাঁদ বড়াল – আরো অনেকে। চমৎকার গান লিখছেন তখন অজয় ভট্টাচার্য, বাণীকুমার, প্রণব রায় – এরকম আরো কত মানুষ। কিন্তু বাংলা গানের এই পর্বে একটা নতুন কাণ্ড ঘটল। রেকর্ড কোম্পানির দৌলতে এই সমস্ত গান গীতকারের বা সুরকারের রইল না। হয়ে উঠল গায়কের। সায়গল, কৃষ্ণচন্দ্র দে, কানন দেবী – কত কত গান মানুষ মনে রেখেছে এঁদের গান বলেই। ক্রমশ এই ধারাটাই প্রসারিত হল স্বর্ণযুগের গানে। হেমন্ত, সন্ধ্যা, গীতা দত্ত, মানবেন্দ্র, শ্যামল মিত্র, মান্না দে – কী জনপ্রিয় গান এঁরা গেয়েছেন। কিন্তু এখানেও হয় রবীন্দ্রনাথের গানের কিছু ক্লিশেতে আটকে রইল তাঁদের গানের কথা, নইলে আধুনিকতার ঝোঁকে গানে বাণী প্রায় হাস্যকর মাত্র পেল। প্রেমের গানে নতুনত্ব আনতে চেয়ে গৌরীপ্রসন্ন

যদি হিমালয় আল্পসের সমস্ত জমাট বরফ একদিন গলেও যায় তবুও তুমি আমার

যদি নায়াগ্রা জলপ্রপাত একদিন সাহারার কাছে চলেও যায় তবুও তুমি আমার –

তখন এই প্রশ্নটা থাকেই যে এই গানে সত্যি কতটা প্রেমের কথা প্রকাশ পেয়েছে। অবশ্য এ কথা ভুলে গেলে চলবে না যে এই সময়ে প্রচুর ভালো গান হয়েছে, যা আজও বাঙালির কাছে খুবই প্রিয়। এই সময়ের অনেক গানই চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত বলে সেগুলির সঙ্গে সাধারণ মানুষের সংযোগও ঘটেছে অনেক বেশি। রবীন্দ্রনাথের গান যতটা এলিট, এই সময়ের গান ততটা নয়। কিন্তু এই ধারাটা অনেকদিন হল শেষ হয়ে গেছে। প্রধানত গায়কদের একটা প্রজন্মের প্রজন্মের কারণেই এই গানের জনপ্রিয়তা, আশির দশক থেকেই এই ধারায় আর কোনো গান বাঙালির মনে সেভাবে দাগ কাটে নি।

আলাদা করে উল্লেখ করতেই হয় সলিল চৌধুরীর কথা। তিনি বাংলা গানকে একটা স্বতন্ত্র মাত্রা দিলেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তাঁর কৃতিত্বের পর্যালোচনা বর্তমান প্রসঙ্গে জরুরি নয়। কিন্তু তাঁর প্রভাব অস্বীকার করবার কোনো জায়গা নেই।

কিন্তু নব্বই-এর দশক থেকে সুমন চট্টোপাধ্যায়, নচিকেতা, অঞ্জন দত্ত প্রমুখ বাঙালির গানকে একটা নতুন মাত্রা দিল। আবারও, এই গানের অনেকটা অংশই খুব নাগরিক, কিন্তু গানের জনপ্র্রিয়তার ট্রেন্ডটা তো ইদানীং নাগরিক ধারাতেই চলেছে, সে-কথা আস্বীকার করবার উপায়। নেই। সেই ধারাতেই আসতে থাকল একের পরে এক ব্যান্ড, যেগুলিও বাঙালির গানপিপাসাকে একভাবে তৃপ্ত করেছে।

আজকে আমরা ঠিক যে-পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়েছি, তাতে একবার ভাবতে ইচ্ছে করে যে এই সমস্ত গান এখন কতটা আমাদের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে।

দ্বিজেন্দ্রলাল, রজনীকান্ত বা অতুলপ্রসাদ – তাঁদের গানের উৎকর্ষ সত্ত্বেও খুব ব্যাপক জনপ্রিয়তা কোনোদিনই পায়নি। কিন্তু নজরুলের গান পেয়েছিল। আমাদের কলেজ জীবন পর্যন্তও নজরুলের গান গাইবার লোক ছিল প্রচুর। নজরুলের গান শেখবার চল ছিল যথেষ্ট। কিন্তু ক্রমশ নজরুল আশ্চর্যরকমভাবে জনপ্রিয়তা খুইয়েছেন। এই মুহূর্তে নজরুলের গান গাইবার লোক নেই, সে গান শেখবার আগ্রহী ছাত্রছাত্রীও নেই।   এই মুহূর্তে সলিল চৌধুরীর শতবর্ষ নিয়ে নানা উদ্‌যাপন হলেও যতটা বিস্তার তাঁর গানের হতে পারত, ততটা হল না। আজকের সমাজে প্রতিবাদের প্রতিরোধের ভাষা হিসেবে তাঁর গান যতটা জোরালো অস্ত্র হওয়া বাঞ্ছনীয় ততটা কি আদৌ হল? এখনো প্রতিবাদের সময় বিধির বাঁধন কাটবে তুমি আর ব্যর্থপ্রাণের আবর্জনার বাইরে গান কতটা এগোল? হয়তো রাজনৈতিক পরিস্থিতি এর একটা বড়ো কারণ।

আজকের তথাকথিত আধুনিক বাংলা গানের খামতির প্রধান জায়গা জনপ্রিয় গায়কের অভাব। এই মুহূর্তে হেমন্ত মান্না দে বা ওই জেনারেশনের সমতুল্য গায়ক বাংলায় নেই, যাঁরা অতি খারাপ গানকেও চিরস্মরণীয় করে যেতে পারেন। আমার মতে মান্না দে যত খারাপ লিরিকে গান গেয়েছেন, এত কেউ গাননি। কিন্তু তারপরেও সেই গানগুলি আজও বাঙালি স্মরণে রেখেছে।

জীবনমুখী গানের যে ট্রেন্ডটা নব্বইয়ের দশকে শুরু হয়েছিল, সেটা সত্যি সত্যি সমকালকে ধরতে চেয়েছিল। তার মধ্যে বাংলা গানের চিরাচরিত ক্লিশে গুলো ছিল না, প্রেমের গানও নতুন মাত্রায় উঠে এল। কিন্তু এখানেও প্রশ্ন ধারাবাহিকতায়। সুমন চট্টোপাধ্যায় কবির সুমন হলেন, সাংবাদিক হলেন, রাজনৈতিক চরিত্র হলেন, প্রতিবাদী হলেন – কিন্তু সেই সঙ্গে তাঁর গানের অগ্রগতি হল না। তার পরেও লিরিক, মেলোডি এবং গায়ন – এই তিনটেকে এক সঙ্গে ধরে থাকার ক্ষেত্রে তিনি তুলনারহিত। নিজে লিখছেন, সে লেখা সাহিত্যমূল্যে উৎকৃষ্ট, গানের সুর করছেন – তাতে প্রচুর বৈচিত্র্য এবং সর্বোপরি পারফরমার সুমন – সেখানে তিনি অদ্বিতীয়। কিন্তু আজকে ছেলেমেয়েদের মধ্যে তোমাকে চাই যতটা জনপ্রিয়, তার চেয়ে অনেক বেশি গভীরে রয়ে যাবার দম ছিল গানটায়। নচিকেতার গান নিয়ে বরং আমার কিছু আপত্তি আছে। নচিকেতা একটু বেশিই জনপ্রিয় হবার তাগিদে শস্তা সেন্টিমেন্টকে প্রাধান্য দিয়েছেন বেশি। ডাক্তার নিয়ে তাঁর যে গান, তাতে সব ডাক্তারকে কসাই বলে মন্তব্যটা খুবই আপত্তিকর। অন্যদিকে বৃদ্ধাশ্রমের মতো গানও সমাজের ঠিক ছবিটা ধরে না। বৃদ্ধাশ্রম আজকের সমাজে একটা রিয়ালিটি। সেটাকে যতটা পজিটিভলি নেওয়া যায় ততটাই ভালো। সবটাকে একটা অত্যন্ত সেন্টিমেন্টাল মোড়কে যেভাবে দেখানো হয়েছে, সেটা খুব কাজের কথা নয়। অঞ্জন দত্ত কখনোই ততটা জনপ্রিয় হলেন না, কারণ তিনি একটু বেশি সেরিব্রাল। তাঁর গান একটা নির্দিষ্ট বৃত্তেই আবদ্ধ থাকবে।

ব্যান্ডগুলো বাংলায় একটা সময়ে দাপিয়ে গান গেয়েছে। অনেক ভালো গানও হয়েছে। কিন্তু কোনো গান আলাদা করে কি বাঙালির মনে গেঁথে গেছে? হ্যাঁ, খুঁজলে এরকম কিছু গানের তালিকা করা একেবারে দুঃসাধ্য না হতে পারে, কিন্তু সেগুলোর স্থায়িত্ব কতটা?

এবং, ব্যান্ডের অনুষ্ঠানে ক্রমাগত তাদের নিজেদের গানের পাশাপাশি জায়গা করে নিতে থাকে রবীন্দ্রনাথ এবং লালন। দুটোকেই একটু বদলে নেওয়া হয়েছে ভঙ্গির দিক থেকে, কিন্তু লোকসংগীত, বিশেষত লালনের ওপর এই দলগুলির নির্ভরতা কি তাদের একটা দুর্বলতাই নয়? আজ রবীন্দ্রনাথের গানের পরে যদি কোনো গীতিকারের নাম করতে হয় যিনি জনপ্রিয়তায় রবীন্দ্রনাথের কাছাকাছি, তিনি তো আর নজরুল নন, তিনি লালন। ব্যান্ডের দল তাঁকে লোকসংগীতের এলাকা থেকে নাগরিক পরিমণ্ডলে নতুন করে স্থাপন করেছে। সেটা অবশ্য শুধু লালন নয়, সাধারণভাবেই লোকসংগীতের ক্ষেত্রে বলা চলে।

এত বাগ্‌বিস্তারের মূল উদ্দেশ্য এই যে রবীন্দ্রনাথের পরে বাঙালির বেশ শক্ত করে আশ্রয় করবার মতো গান এখনো এল না। লালন আর যাই হন, রবীন্দ্রপরবর্তী তো নন! বাংলা কবিতার ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথের দাপটকে অগ্রাহ্য করে চলবার যে ধারাবাহিক শক্তি ও সাহস আমরা লক্ষ করেছি, গানের ক্ষেত্রে তেমনটা হল কই? বিচ্ছিন্ন কিছু মানুষ নিশ্চয়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন, কিন্তু তার ধারাবাহিকতা কই! এক কথাটা তো অস্বীকার করার জায়গা নেই যে, আমার পরান যাহা চায় গেয়ে বাঙালির প্রেমের মেজাজটা আজ ধরা কঠিন।

যদি আর কারে ভালো বাসো, আর ফিরে নাহি আসো,

তবে তুমি যাহা চাও তাই যেন পাও, আমি যত দুখ পাই গো –

এই জাতীয় প্রেমের দিন তো গেছে। এখানে নচিকেতা অনেক প্রাসঙ্গিক:

এই, তুমি কি আমায় ভালোবাসো?

যদি না বাসে তবে পরোয়া করি না…

রবীন্দ্রনাথকে খাটো না করেই বলা যায় যে বাংলায় এই গানের প্রয়োজন আছে। কিন্তু তারও একটা ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। নইলে বিচ্ছিন্ন উদাহরণে মানুষের তৃপ্তি হতে পারে না। আশ্রয় খুব বড়ো কথা, জটিল কথাও, কিন্তু আজকের বাঙালির মনের কথা তার গানে এখনো টুকরো টুকরো ভাবেই আসে। রবীন্দ্রনাথের যে ব্যাপ্তি, তা অন্য গানে বাঙালি আজও পেল না, এ বড়ো দুঃখের কথা। আমাদের ছাত্রজীবনে দেখেছি, গান গাইতে বললে রবীন্দ্রসংগীত ধরলেই সংখ্যাগরিষ্ঠ বলে উঠত, এই আবার শুরু হল! আমি নিশ্চিত, এটা আরো বেড়েছে বই কমেনি। কিন্তু তাৎক্ষণিকতার বাইরে তার বিকল্প কোনো কিছু বাঙালি আজও পেল না। সত্যি এখন বলার সময় হয়েছে যাও ঠাকুর রবীন্দ্রসংগীত নিয়া, কিন্তু তার বদলে কলিমদ্দি মিঞাঁ ডাকতে গেলে এই মুহূর্তে আবার ভিন্ন রাজনৈতিক জটিলতা পড়ে যাব।

আরও পড়ুন:

স্পর্শ, স্পর্শাতীত… / সৌরভ মুখোপাধ্যায়

তাহলে আলোর কথা জেনে নেব কাহার সমীপে? তাহলে দুপুরশব্দ,একমনে পাখিটির স্নান? তবে কে জানাবে বলো…

পড়ুন

আমাকে আসলে কেমন দেখায় / নাসরীন জাহান

আমাকে কি খুব উদ্ভট দেখায় ? চক্রাকারে বাসটা মোচড় দিয়ে উঠতেই এমন একটা ভাবনা আমাকে…

পড়ুন

কাঠামো / অর্ণব চৌধুরী

গাছের কোটরে ভাঙাচোরা দেবীমূর্তি আছে পড়ে আঁধার-মিনারে ফুটে ওঠে তার সমাহার নিরিবিলি পথে আমি তার…

পড়ুন

কলসপুর যাইনি / অমর মিত্র

অনেকবার  দীপিকাকে বলেছি, কলসপুর নিয়ে যাব। বলতে গেলে সেই বিয়ের পর থেকে। আমাদের যাওয়া হয়নি।…

পড়ুন

মা সম্পর্কিত / প্রিয়াঙ্কা চৌধুরী

কাকভোরে ঘুম ভাঙত। না, বোধহয় ভাঙাতেই হত। কয়েকটা চুড়ি-বালা-টুংটাং আওয়াজ- রান্নাঘর, পুজোঘর, উঠোন, শিউলিতলাজুড়ে সারাদিন…

পড়ুন

অঙ্ক / তৃপ্তি সান্ত্রা

শচীনদার বউ উষা বৌদি মায়া আর মীরাকে দেখে খুব খুশী হলেন। কতদিন পরে এলে। কেমন…

পড়ুন

চৌষট্টি যোগিনী সমীপে / শর্মিষ্ঠা দাস

ভুবনেশ্বর শহরে এসেছি । আকাশপথে আমাদের দুর্গাপুর থেকে এখন মোটে একঘন্টাও নয় । কাজে অকাজে…

পড়ুন

দিনলিপি/প্রবালকুমার বসু

ভেঙে যাওয়া স্বপ্নের কথা মনে পড়ে কথা দিয়ে না রাখতে পারার মতন অনর্থক গ্লানি  …

পড়ুন

খন্দকার গলির অন্ধকার / অলোকপর্ণা

ঘুমের ভিতর হেঁটে বেরানো আজও থামলোনি জাহান আরার। জাজিমে গতর এলানো মাত্র সে ঘুমের সাগর…

পড়ুন

তৃতীয় চোখের বসুধা / জগন্নাথ দেব মণ্ডল

আকাশ মেঘে ভার।টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছে। শরৎ সকালে বাজারে বিক্রিবাট্টা নেই । দোকানদার, খেটে খাওয়া, দিন…

পড়ুন

নামকরণ / ঋজুরেখ চক্রবর্তী

কোনও একদিন তুমি সেই উন্মত্ত কিশোরবেলার নাম রাখতে চেয়েছিলে নিপীড়িত জনতার সরণি। প্রকৃতিতে তখন প্রতিটি…

পড়ুন

ভূতপূর্ব ভূত / অহনা বিশ্বাস

ভূতের নাম যে ভূত -গোটা গ্রাম সে কথা জানে। একবার রাস্তা থেকে ডেকে ওর মা…

পড়ুন

৩/৪ সি, তালতলা লেন / সুমিতা মুখোপাধ্যায়

বইয়ের নামঃ ৩/৪ সি, তালতলা লেন কবিঃ হিন্দোল ভট্টাচার্য আলোচকঃ সুমিতা মুখোপাধ্যায় ৩/৪ সি, তালতলা…

পড়ুন

সুন্দর যখন ভয়ংকর / হিন্দোল ভট্টাচার্য

দশ বছর আগের কথা। গেছিলাম ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স বলে এক অপরূপ জায়গায়। হিমালয়ের কোলে, এক…

পড়ুন

বাঁশি / অংশুমান কর 

বাঁশি যখন বেজে যায় তখন কী যে হয় এই পৃথিবীতে! মনে হয় এক শূন্য মাঠের…

পড়ুন

আমাজনের চার অধ্যায়/চৈতালি চ্যাটার্জি 

কালো , আঁধারের মাঝে ;   কুচকুচে কালো চারিপাশ, তারই মাঝে কিছু আলোর বিন্দু ফুটে…

পড়ুন

ঘড়ি বন্ধ ছিল/বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়

লাফাতে লাফাতে বেরিয়ে যাবার পর টের পেলাম অনেকগুলো ভুল হয়ে গেছে। মাস্ক নিতে ভুলে গেছি।…

পড়ুন

জোয়ার / বেবী সাউ 

যেভাবে জলের কাছে লিখে রাখি ত্যাগসূত্র আদি—   শরীর, গোপন মায়া ধীরে ধীরে নামে কঠিন…

পড়ুন

প্রেম বলিনি/যশোধরা রায়চৌধুরী

আমি তোমার ছোট্টবেলার বোকা তুমি আমার আনন্দ জিমখানা আমি তোমার তাসের হাতের পোকার তুমি আমার…

পড়ুন

গ প্ পো ১ – গ্যানগ্যানের দেখা পেলুম / বোধিসত্ব মৈত্রেয়

গ্যানগ্যানের দেখা পেলুম সেই সাত-সুমুদ্দুর তেরো নদীর পারের দেশে। সে বড় আজব দেশ। সে দেশের…

পড়ুন

গ প্ পো ২ – ধেড়ে দত্তি আর গুণীন অ্যাডামের গপপো / বোধিসত্ব মৈত্রেয়

সে অনে-ক অনে-ক দিন আগেকার কথা। তখন সুমুদ্দুরের জল এরকম নোনা নয়। বেশ মিষ্টি জল।…

পড়ুন

কালীপুজোয় আকালীপুর / ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়

বাতাসে অল্প হিমেল গন্ধ আর সঙ্গে শিউলির শেষ রেশটুকুনি নিয়ে শহর ছেড়ে রাঙামাটির পথে পাড়ি…

পড়ুন

গ প্ পো ৩ – ধেড়ে দত্তি স্যাক্সি আর হারমানের গপপো/ বোধিসত্ব মৈত্রেয়

টিং-টিং, টুং-টুং, এক ছোট্ট ঘণ্টার মিষ্টি আওয়াজ আসছে কোথা থেকে? হাতড়াতে থাকি এদিক ওদিক। জঙ্গুলে…

পড়ুন

বাবা / মণিদীপা নন্দী বিশ্বাস

জানলার ধারে রোদ পোহাও তুমি কত দশক… সন্তানের কতগুলো ভুল ভুল কাজের নির্জন সাক্ষী হয়ে…

পড়ুন

নির্বাচন / ঈশিতা ভাদুড়ী

কাকে বেছে নেব? অলিভপাতা, নাকি ধুঁতরোফুল? কে না জানে সঠিক নির্বাচন না হলে দু:খ পড়ে…

পড়ুন

আপনার লেখা প্রকাশ করার জন্য

কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, অনুবাদ এবং অন্যান্য লেখা