কাজের ভাষা, মুখের ভাষা/স্বপ্নময় চক্রবর্তী

যিনি কাঠের কাজ করেন, উনি বললেন, ‘এই কাঠের জিনিসগুলোকে আলাদা করে পালিশ করাবেন কেন? দোকান থেকে গোপাল বার্নিশ কিনে লাগিয়ে দিন৷” কোনো রঙ-বার্নিশের দোকানে গোপাল বার্নিশ পেলাম না৷ ব্যাপারটা বোঝাতে চেষ্টা করলাম। একটু বলতেই দোকানদার গ্যাপেল বার্নিশের কৌটো দিয়ে দিল৷ গ্যাপেল একটা কোম্পানির নাম৷ এক শ্রমিকের মুখে এটা গোপাল৷ লোহার কাজে নাট-বোল্ট কে বলা হয় নাটুবুল্টু৷ আবার রিভেটকে রিপিট৷ নিশ্চয়ই আইটিআই ট্রেনিং প্রাপ্ত মিস্ত্রিরা বলেন না, যারা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষিত নন, কাজ শিখেছেন অন্য কোনো কাজ শেখা গুরুর কাছে, তাদের মুখের কথা এটা৷ ওয়েল্ডিংয়ে অক্সি-অ্যাসিটিলিন গ্যাস কে অফিস-অ্যাসিড গ্যাস বলতে শুনেছি৷ অ্যাসিটিলিনের চেয়ে অ্যাসিড অনেক বেশি পরিচিত৷ ভাষার ধর্মই এটা৷ অন্য ভাষাকে গ্রহণ করে নিজের মতো করে৷ তাই আর্মচেয়ার হয়ে যায় আরামচেয়ার৷ পর্তুগিজ শব্দ অ্যাসিনাস হয়ে যায় আনারস৷

শিল্পাঞ্চলে স্টিলের রোপগুলির নাম হয় রসা৷ রসি বা দড়ির সঙ্গে মিল আছে তাই৷ ফার্নেস হয় চুলা৷ হোল্ডিং ডাউন বোল্টকে বলতে শুনেছি ‘হরিনারান বল্টু’৷ ক্রসিং সুইচকে করসন সুজি৷ বয়লারের আগুনকে চাগিয়ে তোলার ইংরিজি নাম ফ্রিজিং৷ কিন্তু জনগণের মুখে ওটা কিচিং৷ এই শব্দ হয়তো বাংলা অভিধানে ঢুকবে না, কিন্তু কিছু বহুল প্রচারিত টেকনিকাল ইংরিজি শব্দর লোকজ রূপ, বা সাধারণ স্তরের শ্রমিকের মুখের কথার রূপ অভিধানে এসে গেছে যেমন বল্টু৷ যেমন ইস্কুরুপ৷ আসলে ওটা স্ক্রু৷ স্ক্রু ডাইভার হয়ে গেছে স্ক্রু ড্রাইভার৷ লোহার ছাঁটের নাম বাবরি৷ খনির সেফটি ল্যাম্প হয়েছে সেপটিপিন বাত্তি৷ এভাবেই শ্রমিকদের মধ্যে চলছে মেশিন ছুরি, ক্যাপ বাতি, তেল জট, ঠান্ডা গ্যাস, মোমছাল।

খনি অঞ্চলে বেআইনি কয়লা বের করার পর যখন মাটি বসে যায়, তখন বলে ভসকা নামা৷ শ্রমিকদের মধ্যেও নানা ভাগ উপভাগ আছে৷ কৃষি শ্রমিকদের মধ্যে যেমন বাগাল, হাফ বাগাল, মাহিন্দর, কোর্ফা ইত্যাদি আছে, শ্রমিকদের মধ্যেও বদলি খাস, হাফ খাস, এরকম সব আছে৷ কোনো লেখক যদি শ্রমিকদের মুখের এই শব্দসমষ্টি তাঁদের আখ্যানে ব্যবহার করেন, তার আবার ব্যাখ্যা দিতে হবে, কিংবা ফুটনোট ব্যবহার করতে হবে, সেটা কথাসাহিত্যের গতিকে ব্যহত ও আহত করে৷

একজন বাড়ি করছেন৷ জমিটা কেনা ছিল, পাঁচিল দেওয়াই ছিল৷ কয়েকজন এসে বলল, “বাড়ি করছেন ভালো কথা৷ রাবড়িটা কিন্তু আমরাই সাপ্লাই করব৷” উনি বলেছিলেন, “সেতো পরের কথা। গৃহপ্রবেশের সময় দেখা যাবে৷” তারপর এরকম সংলাপ৷

-গৃহপ্রবেশ? গৃহ না হলে গৃহপ্রবেশ কী করে হবে?
-কেন, বাড়ি হবে তো৷
-নিশ্চই হবে৷ আমাদের রাবড়ি নিলে হবে৷
-কী বলছেন, বুঝতে পারছি না৷ আমার সুগার খুব৷ ফাস্টিং ওয়ান ফিফটি টু…৷
-রাবড়ি মানে ইট, বালি, সিমেন্ট, পাথর৷ জানেন না?
-সরি সরি, জানতাম না৷ কিন্তু কি করে আপনাদের থেকে নিই? আমার বন্ধুকে কথা দিয়েছি যে৷ ওর ছেলে সিমেন্টের ডিলার৷ কিছুটা কমেও পাবো৷
-কত স্কোয়ার ফিটের বাড়ি হবে?
-এই বারোশো মতন৷
-ঠিক আছে, আপনার পছন্দের লোকের কাছ থেকেই নিন, তবে আমাদের এক পেটি আর পাঁচ থাবড়া দিয়ে দেবেন৷

এবারে বলি, এসব সিন্ডিকেটের ভাষা৷ কিছুটা গুপ্ত৷ আসলে ভাষা মানেই ধ্বনির সংকেত৷ বিভিন্ন পেশাতেও এমন কিছু সংকেত আছে৷ রাবড়ি বলতে কি বোঝানো হচ্ছে আগেই বলেছি, এবার বলি পেটি মানে লক্ষ৷ থাবড়া মানে পাঁচ হাজার টাকা৷ থাবড়ার সংকেতটা অস্পষ্ট নয়৷ একটা হাতে পাঞ্জায় পাঁচটি আঙুল থাকে৷

ওই ভদ্রলেক একটু টেটিয়া ছিলেন৷ বলেছিলেন, “কিছুই দেবোনা৷” পুলিশের উপর মহলে চেনাজানা ছিল৷ জানিয়ে রেখে ছিলেন৷ ওরা কিন্তু বলে গিয়েছিল, “আপনার বাড়ি সিঙ্গাঙা হয়ে গেলে আমাদের দোষ নেই৷”

ঢালাইয়ের পর তলায় বাঁশ এবং কাঠের শুঁড়ির ঠেকনা দিয়ে রাখতে হয়৷ কেউ রাত্তিরে সেই ঠেকনাগুলো সরিয়ে দিয়েছিল৷ ফলে ছাদটা ঝুলে গিয়েছিল, যা দেখতে সিঙ্গাড়া আকৃতির। এই তোলা আদায় একটা পেশা৷ যা অবস্থা, ক্রমশ এটা একটা স্বীকৃত পেশার রূপই নিচ্ছে৷ এইসব সিন্ডিকেট সৈন্যদের নাম কন্ডাক্টর৷ মাথার নাম ড্রাইভার৷ খালাসি থেকে কন্ডাক্টর স্তরে পৌঁছতে হয়৷

টেলিভিশন সার্ফ করতে করতে (সার্ফের বাংলা কী হবে জানি না যে) জ্যোতিষ চ্যানেলে পৌঁছেছেন কখনো? ওখানে সবাই শাস্ত্রী কিংবা মহারাজ কিংবা বাবা৷ ওদের কথাবার্তার মধ্যে প্রায়ই শুনবেন ডিসটার্ব৷ মনে শনিটা ডিসটার্বে আছে, মঙ্গলটা ডিসটার্ব করছে৷ আরও কিছু কিছু কথা আছে, যা সাধারণ মানুষ বোঝেনা বলেই আরও রহস্যময়৷ যেমন ‘সাড়ে সাতি’৷ মাঙ্গলিক সাড়াসাড়ি৷ এছাড়াও কতগুলি কথা প্রায়ই বলেন—পজিটিভ এনার্জি, নেগেটিভ এনার্জি৷ কোনো পদার্থবিদ এর ব্যাখ্যা দিতে পারবেন না যদিও৷

ডাক্তারদের কাছে গেলে কতগুলি শব্দ আমরা শুনে থাকি৷ যার মানে কিছুটা বুঝি, আবার বুঝিও না৷ আমরা যখন চিকিৎসকের কাছে যাই, আমাদের শারীরিক সমস্যার কথা বলি৷ কোমরের উপরের যত সমস্যা, নিজেদের মাতৃভাষায় বলি, কিন্তু কোমরের তলার যত সমস্যা, মাতৃভাষায় বলতে সংকোচ করি৷ অধিকাংশ ডাক্তারবাবুরাও তাই বলেন৷ তা ছাড়া ডাক্তারবাবুদের রোগীর ভাবের আদান প্রদানের ভাষায় একটা সমস্যা থেকেই যায়৷ ডাক্তার বাবুদের কিছু পেশাগত জার্গন আছে, যা রোগীদের কাছে সবটা বোধগম্য হয় না৷ LDL কোলস্টেরল, HDL কোলস্টেরল, হাইপো, হাইপার, ইত্যাদি৷ রক্তে চিনি কমে গেলে যদি বলা হয় হাইপোগ্লাইসিমিয়া হয়ে গেছে…৷ সব রোগী কি ঠিকঠাক বুঝবেন? ডাক্তারবাবুরা একইভাবে এবডোমেন পালমুনারি, আর্টারি, ভেইন, স্টেনোসিস, ক্যালকুলি এইসব শব্দাবলি বলে যান৷ মনে হয় শুধু এখানে নয়, বিহার, ওড়িশা, মহারাষ্ট্র প্রায় সর্বত্রই৷ চিকিৎসক এবং রোগীর মধ্যে একটা দূরত্ব হয়েই আছে৷ ওঁরা যেন বেদিতে দাঁড়িয়ে কথা বলেন, রোগীগণ বেদিতলে৷ যোগাযোগের ভাষাটা তৈরি হল না এখনো৷ ডাক্তারবাবুরা চেম্বারে থাকুন৷ এখন বরং মাঠে নামি৷

দুই কৃষক কথা বলছেন৷

-ইবার বষ্যা ভালো হবে৷
-কেন বলছ?
-আমে ধান তেঁতুলে বান৷ আম ঝ্যাকোন ভালো হয়িছে, ধান ভালো হবে৷ মানে বষ্যা ভালো হবে৷
-কি ধান লাগাবি?
-মন কত্তিচে মিনিকেট আনারকলি বীজ লোব৷
-আমার পোষাবেনে আইআরেট লোব৷ ফল বেশি৷
-ট্যাকটারের ডিমান হবে ইবার আগেভাগে লিখে লিতে হবে৷

আই আরেট মানে সহজ৷ আই. আর. এইট৷ একটি হাইব্রিড ধান

আরও পড়ুন:

তৃতীয় চোখের বসুধা / জগন্নাথ দেব মণ্ডল

আকাশ মেঘে ভার।টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছে। শরৎ সকালে বাজারে বিক্রিবাট্টা নেই । দোকানদার, খেটে খাওয়া, দিন…

পড়ুন

গ প্ পো ৪ – পুঁটে দত্তিদের গপ্পো/ বোধিসত্ব মৈত্রেয়

টাটকা-ঝরা ঝুরো বরফের রাশ ঠেলে এগুচ্ছি আমি আর স্কুয়া। ধু ধু ফাঁকা রাজ্যিটা ভরা অরোরার…

পড়ুন

দি লাস্ট মিটিং/সমরজিৎ সিংহ

একটি রাস্তা । তারপর, আবার রাস্তা । তারপর সমাধি । তার উপর চাঁদের ছায়া ।…

পড়ুন

একা মানুষ, পঞ্চাশ অস্তিত্ব/চণ্ডী মুখোপাধ্যায়

বইয়ের নামঃ পেসোয়া অ্যান এক্সপেরিমেন্টাল লাইফ লেখক: রিচার্ড জেনিথ প্রকাশক: পেঙ্গুইন বুকস আলোচকঃ চণ্ডী মুখোপাধ্যায়…

পড়ুন

স্পর্শ, স্পর্শাতীত… / সৌরভ মুখোপাধ্যায়

তাহলে আলোর কথা জেনে নেব কাহার সমীপে? তাহলে দুপুরশব্দ,একমনে পাখিটির স্নান? তবে কে জানাবে বলো…

পড়ুন

গ প্ পো ৩ – ধেড়ে দত্তি স্যাক্সি আর হারমানের গপপো/ বোধিসত্ব মৈত্রেয়

টিং-টিং, টুং-টুং, এক ছোট্ট ঘণ্টার মিষ্টি আওয়াজ আসছে কোথা থেকে? হাতড়াতে থাকি এদিক ওদিক। জঙ্গুলে…

পড়ুন

খেলার দৃশ্যান্তর/অনির্বাণ বসু

একতলা ক্লাবঘর। ন্যাড়া ছাদ। কাঠের দরজা। কোলাপ্সিবল। লাল মেঝেয় কালো বর্ডার। পলেস্তরা-খসা দেয়াল হালকা ঈষৎ।…

পড়ুন

খন্দকার গলির অন্ধকার / অলোকপর্ণা

ঘুমের ভিতর হেঁটে বেরানো আজও থামলোনি জাহান আরার। জাজিমে গতর এলানো মাত্র সে ঘুমের সাগর…

পড়ুন

কলসপুর যাইনি / অমর মিত্র

অনেকবার  দীপিকাকে বলেছি, কলসপুর নিয়ে যাব। বলতে গেলে সেই বিয়ের পর থেকে। আমাদের যাওয়া হয়নি।…

পড়ুন

বাবা / মণিদীপা নন্দী বিশ্বাস

জানলার ধারে রোদ পোহাও তুমি কত দশক… সন্তানের কতগুলো ভুল ভুল কাজের নির্জন সাক্ষী হয়ে…

পড়ুন

শিশিরকুমার দাশ: খুঁজে ফিরি কর্ণ, কর্ণের সহোদর/মোস্তাক আহমেদ

মৃত্যুলগ্ন পার হয়ে যতবার গিয়েছি নিঃসীমে বিদ্যুতের দীপ হাতে: অন্ধকারে আকাশের বিস্তৃতি অপার বিদ্রোহী ঝড়ের…

পড়ুন

৩/৪ সি, তালতলা লেন / সুমিতা মুখোপাধ্যায়

বইয়ের নামঃ ৩/৪ সি, তালতলা লেন কবিঃ হিন্দোল ভট্টাচার্য আলোচকঃ সুমিতা মুখোপাধ্যায় ৩/৪ সি, তালতলা…

পড়ুন

গ প্ পো ৫ – কুঁড়ে নিক্কির গল্পো/ বোধিসত্ব মৈত্রেয়

‘তা তোমার কৃষ্টাবেলের কি হোলো –’ তাড়া দিল স্কুয়া।   ‘কৃষ্টাবেলের কথা পরে। আরে নিক্কির…

পড়ুন

চৌষট্টি যোগিনী সমীপে / শর্মিষ্ঠা দাস

ভুবনেশ্বর শহরে এসেছি । আকাশপথে আমাদের দুর্গাপুর থেকে এখন মোটে একঘন্টাও নয় । কাজে অকাজে…

পড়ুন

গুঁড়োমশলা/কাবেরী গোস্বামী

সে এখন একটি অচল পয়সার মতন ফিরেও তাকায় না আর কেউ কারণ, সে আজ শুষ্ক…

পড়ুন

মুষলপর্ব/বেবী সাউ

শূন্যতার রং নিয়ে বড়ো বেশি ভেবে চলো তুমি অথচ জলের কাছে প্রতিদিন শিখে নিই নীল…

পড়ুন

পথ রুধে রবীন্দ্রঠাকুর: বাংলা গানে পথ চলা/অভ্র বসু

সম্প্রতি একটি বিতর্কসভায় থাকবার সুযোগ হয়েছিল, যেখানে বিতর্কের বিষয় ছিল: রবীন্দ্রনাথের গান আর বর্তমান প্রজন্মের…

পড়ুন

পিরিত/অভিমন্যু মাহাত

খুব টানটান ছিল বেদনা যত দিন যায় ভুল বাড়ে, প্রবঞ্চনাও বাড়ে স্মৃতিভ্রষ্ট সুতোয় পিরিতের বহি…

পড়ুন

গ প্ পো ১ – গ্যানগ্যানের দেখা পেলুম / বোধিসত্ব মৈত্রেয়

গ্যানগ্যানের দেখা পেলুম সেই সাত-সুমুদ্দুর তেরো নদীর পারের দেশে। সে বড় আজব দেশ। সে দেশের…

পড়ুন

মন্দির দেখা সহজ নয়/শ্রীলা বসু

বেড়ানোর পোকাটা আমার মাথায় এসেছে প্রধানত পৈতৃক সূত্রে। বাবার হাতে ম্যাপ টাইম টেবিল দেখতাম হরদম।…

পড়ুন

বাঁশি / অংশুমান কর 

বাঁশি যখন বেজে যায় তখন কী যে হয় এই পৃথিবীতে! মনে হয় এক শূন্য মাঠের…

পড়ুন

আমাকে আসলে কেমন দেখায় / নাসরীন জাহান

আমাকে কি খুব উদ্ভট দেখায় ? চক্রাকারে বাসটা মোচড় দিয়ে উঠতেই এমন একটা ভাবনা আমাকে…

পড়ুন

কানুর বিয়ে/সুবর্ণা মণ্ডল

কানুর সেদিন খুব কান চুলকাচ্ছিল। আগের দিনের যে পায়রাটা হাত থেকে ফসকে গিয়ে শুধু একটা…

পড়ুন

পুরনো দিন নতুন দিন/শংকর চক্রবর্তী

মনে পড়ে সেইসব রবীন্দ্র-গানের সকাল সূর্যাস্তের থেকে মুক্তি পেয়ে ভাবলেশহীন কোনো সন্ধের পাশে বেজে উঠত…

পড়ুন

অঙ্ক / তৃপ্তি সান্ত্রা

শচীনদার বউ উষা বৌদি মায়া আর মীরাকে দেখে খুব খুশী হলেন। কতদিন পরে এলে। কেমন…

পড়ুন

নামকরণ / ঋজুরেখ চক্রবর্তী

কোনও একদিন তুমি সেই উন্মত্ত কিশোরবেলার নাম রাখতে চেয়েছিলে নিপীড়িত জনতার সরণি। প্রকৃতিতে তখন প্রতিটি…

পড়ুন

দিনলিপি/প্রবালকুমার বসু

ভেঙে যাওয়া স্বপ্নের কথা মনে পড়ে কথা দিয়ে না রাখতে পারার মতন অনর্থক গ্লানি  …

পড়ুন

সুন্দর যখন ভয়ংকর / হিন্দোল ভট্টাচার্য

দশ বছর আগের কথা। গেছিলাম ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স বলে এক অপরূপ জায়গায়। হিমালয়ের কোলে, এক…

পড়ুন

মা সম্পর্কিত / প্রিয়াঙ্কা চৌধুরী

কাকভোরে ঘুম ভাঙত। না, বোধহয় ভাঙাতেই হত। কয়েকটা চুড়ি-বালা-টুংটাং আওয়াজ- রান্নাঘর, পুজোঘর, উঠোন, শিউলিতলাজুড়ে সারাদিন…

পড়ুন

শহর/বিজয় সিংহ

ফেরার আগে যে তুমি অহৈতুকী ছিলে ফেরার পরে যে প্রাক গোধূলিরা অপ্রবাসে ঢোকে ফক্স কে…

পড়ুন

তোমার প্রিয় কাব্যগ্রন্থের নাম/বর্ণালী কোলে

(১) বিদ্রোহ শান্ত হয়ে আসছে, শান্ত হয়ে আসছে জলকামান আক্রোশ শান্ত হয়ে আসছে, শান্ত হয়ে…

পড়ুন

ঘড়ি বন্ধ ছিল/বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়

লাফাতে লাফাতে বেরিয়ে যাবার পর টের পেলাম অনেকগুলো ভুল হয়ে গেছে। মাস্ক নিতে ভুলে গেছি।…

পড়ুন

এ এক ‘অচেনা’ দেশ/পার্থ মুখোপাধ্যায়

আমরা যখন গতির নেশায় ছুটছি, যখন আমাদের চারপাশ ‘স্মার্ট সিটি’ আর ‘ক্যাশলেস’ হওয়ার উৎসবে মেতেছে,…

পড়ুন

অনন্ত সংলাপ/অর্পিতা কুণ্ডু

আমি: ঢেউ তো প্রোজ্জ্বল, তাতে তুমি বসে আছ শিরোচূড়ামণি। হাটের নাগর তুমি, ভিটায় নিমিত্ত সামগান…

পড়ুন

ভূতপূর্ব ভূত / অহনা বিশ্বাস

ভূতের নাম যে ভূত -গোটা গ্রাম সে কথা জানে। একবার রাস্তা থেকে ডেকে ওর মা…

পড়ুন

কাঠামো / অর্ণব চৌধুরী

গাছের কোটরে ভাঙাচোরা দেবীমূর্তি আছে পড়ে আঁধার-মিনারে ফুটে ওঠে তার সমাহার নিরিবিলি পথে আমি তার…

পড়ুন

গ প্ পো ২ – ধেড়ে দত্তি আর গুণীন অ্যাডামের গপপো / বোধিসত্ব মৈত্রেয়

সে অনে-ক অনে-ক দিন আগেকার কথা। তখন সুমুদ্দুরের জল এরকম নোনা নয়। বেশ মিষ্টি জল।…

পড়ুন

বিমর্ষ জল ও উড়ন্ত লাল কার্পেট/গৌতম গুহ রায়

খবরটা সরাসরি ওকে দেয়নি কেউ, কিন্তু সকাল থেকেই বাড়িতে ফিশফিশ করা চাপাস্বরের কথাগুলো তার কানে…

পড়ুন

আমাজনের চার অধ্যায়/চৈতালি চ্যাটার্জি 

কালো , আঁধারের মাঝে ;   কুচকুচে কালো চারিপাশ, তারই মাঝে কিছু আলোর বিন্দু ফুটে…

পড়ুন

জোয়ার / বেবী সাউ 

যেভাবে জলের কাছে লিখে রাখি ত্যাগসূত্র আদি—   শরীর, গোপন মায়া ধীরে ধীরে নামে কঠিন…

পড়ুন

কালীপুজোয় আকালীপুর / ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়

বাতাসে অল্প হিমেল গন্ধ আর সঙ্গে শিউলির শেষ রেশটুকুনি নিয়ে শহর ছেড়ে রাঙামাটির পথে পাড়ি…

পড়ুন

পিতা নোহসি/প্রতিভা সরকার

‘এই রানি, তোর বাবা সবসময় আমার বুকের দিকে তাকায়া তাকায়া কথা কয় ক্যান রে? বুড়াটা…

পড়ুন

নির্বাচন / ঈশিতা ভাদুড়ী

কাকে বেছে নেব? অলিভপাতা, নাকি ধুঁতরোফুল? কে না জানে সঠিক নির্বাচন না হলে দু:খ পড়ে…

পড়ুন

প্রেম বলিনি/যশোধরা রায়চৌধুরী

আমি তোমার ছোট্টবেলার বোকা তুমি আমার আনন্দ জিমখানা আমি তোমার তাসের হাতের পোকার তুমি আমার…

পড়ুন

আপনার লেখা প্রকাশ করার জন্য

কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, অনুবাদ এবং অন্যান্য লেখা