মন্দির দেখা সহজ নয়/শ্রীলা বসু

বেড়ানোর পোকাটা আমার মাথায় এসেছে প্রধানত পৈতৃক সূত্রে। বাবার হাতে ম্যাপ টাইম টেবিল দেখতাম হরদম। গাড়ি চালিয়ে কাঁহা কাঁহা মুলুক ঘুরে বেড়িয়েছেন। প্রায় পঁচাত্তর বছর বয়সে নতুন জামাইকে নিয়ে যখন গাড়ি চালিয়ে রাঁচি চললেন তখন একচেখে ভালো দেখেন না। তবু কী ? অন্য চোখ তো আছেই। কিছু বললে বলতেন পতৌদির একচোখে ক্রিকেট খেলার কথা। তবে বেড়ানোর ডায়রি লেখার ধরনটা এসেছে মায়ের থেকে। বাবাও লিখতেন। সে লেখা হত তথ্যে ঠাসা। মা’র লেখায় থাকত ছবি আর রস।

ভাগ্যক্রমে আমি লেখাপড়ার জন্য বেছে নিয়েছি এমন একটা বিষয় যে তার ছুতো ধরে বেড়ানো হয়ে যায় দিব্যি। বাংলার মন্দির, ভারতের মন্দির , পৃথিবী জুড়ে নানা শিল্পের আয়োজন , নানান মিউজিয়ামের খুঁটিনাটি সবই রীতিমতো মাথায় কুচকাওয়াজ করতে থাকে। গবেষণা কী হচ্ছে জানি না, সেই ছুতোয় বেড়ানোটা তো হয়। বেড়ানোর সুয়ো দুয়ো নেই। কেঁদুলি থেকে ইটালি – সবের মাহাত্ম্য সমান। ঘরের বাইরে পা রাখলেই আরশিনগর।

মন্দির দেখার কিছু প্ল্যান আমার সবসময় রেডি থাকে। থাকে বর্হিবঙ্গে বা বর্হিভারতেরও প্ল্যান। সময় বা রেস্ত জুটলেই বেরিয়ে পড়া। ভাদ্র মাস। মাঝে মাঝে মেঘ রৌদ্র এক পশলা বৃষ্টির পালা চলছে। বুধবার।( তখন বুধবার বিশ্বভারতী ছুটি থাকত)। অভ্র যাবে কলকাতা। ঠিক হল একটু ঘুরপথে যাওয়া হবে। সারাদিন হুগলির কয়েকটা মন্দির দেথে তারপর একজন যাবে কলকাতা। আমরা মায়ে-পোয়ে ফিরব শান্তিনিকেতন। হুগলির কয়েকটা মন্দিরের ছবি দিয়েছেন ডেভিড ম্যাককাচ্চান সাহেব। সেখানে যাওয়া হয়নি বলে বিবেকা মাঝে মাঝে কামড়ায়। সারাদিনে সেসব ঘোরা যাবে।

সকাল সকাল আমরা তিন বাবু বিবি রেডি। চালক বাবু এলেন আধ ঘণ্টা দেরি করে। সুন্দর গোলাপি শার্ট, পরিপাটি কেশবিন্যাস। এঁকে আগে কখনো দেখিনি আমাদের অন্যান্য ঝাঁকিদর্শনের সময়। সারাদিন আগডুম বাগডুম পথে পথে গাড়ি চালাতে এঁর কেমন লাগবে কে জানে!

আমাদের প্রধান গন্তব্য হুগলির তিনটি গ্রাম- বাখরপুর, বাহিরগড়, কোতুলপুর। এর মধ্যে পরের দুটি জাঙ্গিপাড়ার কাছে। তারকেশ্বর লাইনের স্টেশন হরিপালের দিকে। আমার মামার বাড়ির দেশ ওদিকে। ওদিকটা সম্পর্কে একটু ধারণা আছে। ম্যাপেও মোটামুটি হদিস পাওয়া যাচ্ছে। যদিও বাখরগড় বিষয়ে জি পি এস নীরব। গোল বাধল বাখরপুর নিয়ে। ওটা একটু অন্যদিকে, দলছুট। কোন পথে গেলে সুবিধে হবে সেটা হোমওয়ার্ক করে ঠিক বুঝলাম না। মন্দিরটার শেষ ছবি আছে ডেভিড সাহেবের বইয়ে। অন্তত আমি তাই দেখেছি। তারপর আর কেউ গেছেন কিনা টের পাচ্ছি না। স্টেট আর্কিওলজি দায়িত্ব নিয়েছেন সে খবর নেটে পাচ্ছি তবে তাঁরাও ছবি-টবি দেননি।

নানান সাতপাঁচ ভেবে শেষে জৌগ্রাম থেকে বড়ো রাস্তা ছেড়ে ডানদিকের পথ ধরলাম আমরা। চেনা রাস্তা। এ রাস্তায় দশঘরা গেছি আমরা সেখানকার গোপীনাথ মন্দির দেখতে।  চকদিঘির সিংহরায় পরিবারের জমিদারি দেখেছি যেখানে ঘরে বাইরের শুটিং হয়েছিল। পুজোর সময় পুরোদস্তুর কালোয়াতি গান হয় এখনও সেখানে, আমরা অবশ্য বহিরাগত বলে ঢুকতে পারিনি। দশঘরার মোড় থেকে বাঁদিকের পথ গেছে গোপীনগর হয়ে তারকেশ্বরের দিকে। একে ওকে জিজ্ঞেস করতে করতে গোপীনগর অবধি ভালোই এলাম। ভালো বাস রাস্তা। তবে জি পি এস বাখরপুরের লোকেশন দিতে গোলমাল করছে। জি পি এস ব্যাপারটা এখন নতুন। আমাদের তেমন অভ্যেস নেই। নানা শুঁড়িপথ দেখিয়ে দেয় সে স্যাটেলাইটের সূত্রে, সে সব পথ আদতে তেমন সুবিধেজনক নয়। তার ওপর বর্ষা এখনও ভালো করে যায়নি। পথঘাট আরো দুরধিগম্য। আমরা জি পি এস সাহেবি উচ্চারণ নিয়ে হাসাহাসি করতে করতে জি পি এস অফ করলাম। আর তাছাড়া নেটও তেমন পাওয়া যাচ্ছে না। এখন আবার সনাতন গণদেবতাই ভরসা। এই ভালো। মন্দিরে পথঘাট জিজ্ঞেস করতে করতে আলাপটুকু হয়। মানুষের বিকল্প জি পি এস? ছোঃ!

গোল বাধল গোপীনগরের পর। বাখরপুর শুনে সবাই মাথা চুলকোয়। ভাসা ভাসা মনে হল চৌতাড়া মোড় থেকে ডানদিকের পথ। তবে এক  ট্রাফিক পুলিশ অবশ্য সোজাই যেতে বলল। পরে বুঝেছি সে বেচারি কিচ্ছুটি জানে না। অবশেষে এক বাসরাস্তার ধারে বটতলায় গ্রামের কয়েকজন টাক চুলকে বিড়িতে দু’টান দিয়ে বললেন কুড়মূল চলে যেতে। বড়ো রাস্তার থেকে ডানদিকে গিয়ে। চললুম। রাস্তা ক্রমশ খারাপ থেকে খারাপতর হচ্ছে। কুড়মূলের পথে কিলোমিটার চারেক গিয়ে দেখা গেল রাস্তা শেষ। দু’দিকে দু’টো কাঁচা শুঁড়িপথ। নামলুম। একজন ফিটফাট শাড়ি পরা মহিলা, একজন পাঁজরা বার করা খালি গা প্রৌঢ় ও একজন সেলুন কর্তা একমত হয়ে বললেন – এবার বাঁদিকে যেতে হবে। ‘রাস্তা ভালো নয়। হ্যাঁ গাড়ি চলে যাবে’। সকাল থেকে পথহারা পথিক হয়ে ঘুরছি মন্দির আদৌ দেখা হবে কি না কে জানে। ভাবলুম ছায়া সুনিবিড় শান্তির নীড় বাংলার গ্রামের গাছতলায় বসে চটুর চুলটা অন্তত কাটিয়ে নিই ছুটির দিনে। কাটা হল না অবশ্য। তারপর আবার দুর্গম গিরি কান্তার মরু- না গিরি মরু কিছু ছিল না, কিন্তু খোঁদলে ভরা রাস্তাই গিরিসদৃশ তো বটেই। কিন্তু পথের নাচন গায়ে লাগছে না , পাশে পাশে চলেছে ভরা বর্ষার দামোদর , দু’পাশ কাশ ফুলে ভরা। দামোদরের একটা চমৎকার বাঁকও আছে এদিকে।

চার কিলোমিটার নাচতে নাচতে গিয়ে আবার পিচ রাস্তায় উঠলাম। কাঙাড়িয়া মোড়। ও হরি! এ তো সেই রাস্তা যাকে ত্যাগ করে আমরা ডানহাতি কুড়মূলের পথ ধরেছিলাম। তবে কেন? তবে কেন? এই ঘূর্ণিপাক। ধন্য গণদেবতা। এ যে জি পি এসের চেয়েও রসিক। তবে তাহলে কি দামোদর আর কাশফুলের শোভা দেখতে পেতাম। ব্রিজ দিয়ে দামোদর পেরিয়ে দেউলপাড়া থেকে ডাইনে আবার ছোটোরাস্তা। তবে আগেরটার মতো নৃত্যপ্রবণ নয়। এখানে দামোদরের ধারে মাঝে মাঝেই শ্মশান পড়ছে। বৈকুণ্ঠপুর পেরিয়ে বাখরপুর। আর একটু গেলে কুশিগঞ্জ। এ নিশ্চয়ই সেই কুশিগঞ্জ নয় যেখানে সমাপ্তির মৃণ্ময়ীর বাবা চাকরি করতেন। সে নিশ্চয়ই এখনকার বাংলাদেশে।

বাখরপুরের মন্দিরের খোঁজ করতে গ্রামের মানুষ যে দু’ একটি দেখিয়ে দিলেন তাতে কিঞ্চিৎ দমে গেলাম। কাজ প্রায় কিছুই নেই। চালা শিবমন্দির। একটার সামনের দেওয়ালে একটা বাড়ির টিনের ছাতের বারান্দায় গিয়ে ঠেকেছে। একটি দুটি চমৎকার ফুলেণ লতা যেটুকু রয়েছে দেখে মনে হয় মন্দিরটি অষ্টাদশ শতকের। তার সামনে ঝুলঝে মলিন নীল প্যান্ট। সেখানে উনুনে রান্না বসিয়েছেন গাঁয়ের হলুদ ছাপা শাড়ি পরা বধূ। কোথায় বাখরপুরের সেই চমৎকার আটচালা মন্দির, যার ছবি দেখে এখানে আসা। ‘ওই সামনে একটা বড়ো মন্দির আছে, সব মেরামত হয়ে গেছে ,যান গিয়ে বলবেন আট কাঠার মন্দির।’। চালক বাবু গাড়ি রাখলেন। আমরা চললাম মেঠো পথ বেয়ে। মাঝে মাঝে বৃষ্টি, চটু ছাতা বাগিয়ে আছে ক্যামেরা বাঁচাতে। দুদিকে সবুজ ভরা ক্ষেত। ধানের শিস টসটস করছে। কোনোরকম কাদা আর আছাড় বাঁচিয়ে চলি। অভ্রর ঠিক চোখে পড়েছে, তারপর চটুর। দূরে গাছের আড়ালে আটচালা। এদিক ওদিক বাড়ির মধ্যে গাছের আড়ালে বড়ো আটচালা। আশে পাশে গোবর আর কাদার যুগলবন্দী। গরু ছাগল আর বাতাবিগাছের মধ্যে মন্দির। মন্দিরের ত্রিখিলান প্রবেশপথের পিছনে খড় ঠাসা রয়েছে। গোখাদ্যে ভরে গেছে মন্দিরের গর্ভগৃহ।

তবে মন্দিরের কাজ দারুণ। এবং অন্যরকম। রামায়ণের উপাখ্যানই বেশি। যুদ্ধের ঘটাপটা দেখানো হচ্ছে সামনের বিরাট ফ্যাসাড জুড়ে। কৃষ্ণকথাও কম নেই। সমাজদৃশ্যও চমৎকার। যুদ্ধ শিকার সৈন্যসামন্ত- কতো সেনা চলেছে সমরে।  অভ্র লেগে গেল কাজে। ছোটো লেন্স বড়ো লেন্স। চটু তার সহকারী। আমার ক্যামেরা গোলমাল করছে। গ্রামের লোকেদের সঙ্গে গল্প করতে করতে গাড়িতে ফিরলাম। প্রচুর গরু এ গাঁয়ে। দুধ যাচ্ছে ক্যানে করে মোটরাইক চেপে। আমাদের লোলগাঁও যাত্রার সয় দুধের ক্যানের জিপ সফরের কথ মনে পড়ল।

এবার পুড়শুড়া হয়ে জাঙ্গিপাড়ার পথ। চাঁপাডাঙ্গা পেরিয়ে গজার মোড় দিয়ে যাওয়ার সময় বুকটা হু হু করছিল। মামুদের দেশের সিপাইগাছি আসতে যেতে গজার মোাড় পেরিয়েছি। তখন ফাঁকা ছিল এসব জায়গা। এখন বাজার গঞ্জে ঠাসা।

জাঙ্গিপাড়া বাসস্টান্ডের কাছে খেয়ে নেব কি না ভাবতে ভাবতে আমরা এগিয়ে গেলাম বাহিরগড়ের দিকে। তখন খেয়ে নিয়ে ড্রাইভার বাবুর ‘ দিমাক’ ঠিক থাকত নিশ্চয়ই, কিন্তু বাদুলে বেলা পড়ে যেত, মন্দিরের ছবি তোলা হত না আমাদের।

বাহিরগড়ে সিংহরায় পরিবারের গড় ছিল নাকি। কিন্তু গাঁ সম্পর্কে জি পি এস ও লোকজন সবাই ফেল। নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যর বইয়ে বলা হয়েছে জাঙ্গিপাড়ার অদূরে বাহিরগড়। রক্ষে একটাই রাস্তা এদিকে একটাই। কিছুটা এগিয়ে আবার পিছিয়ে পৌঁছলাম গ্রামে। গ্রামের মানুষও মন্দিরের সন্ধান দিতে পারছেন না। এটা আমাদের অভিজ্ঞতায় নতুন। ‘ পুরনো মন্দির’ ‘টেরাকোটা’ ‘ পোড়ামাটি’ ‘দামোদর মন্দির’ কোনো কোডেই চিচিং ফাঁক হচ্ছে না। শেষে আবছা একটা আভাস পাওয়া গেল। কাদা ভাঙতে ভাঙতে চোখে পড়ল বিরাট আটচালা। হুগলির আটচালা বিখ্যাত। অভ্রর লেখাও আছে এ নিয়ে। স্টেট আর্কিওলজির বোর্ডও আছে একখান। যাক শান্তি!

অপূর্ব কাজ। আর আমাদের সাধনায় তুষ্ট হয়ে সূর্যদেব মেঘের ফাঁক দিয়ে মাঝে মাঝে ফ্যাসাডের উপর চমৎকার আলো ফেলছেন। ছবি হতে বাধা নেই। রাম রাবণের যুদ্ধ, রাসমণ্ডল, সৈন্য সামন্ত। গজেন্দ্র মোক্ষ রয়েছেন একটি। তেমন দেখা যায় না বাংলার মন্দিরে। যুদ্ধের সময় ঢাল তরোয়াল পতাকা নিয়ে চলেছে দু’দলে। ‍মুখোমুখি দুই রথের দুই ঘোড়া বেশ তেড়েমেড়ে আসছে পরস্পরের দিকে। যদিও আমার কুলপিক্স ক্যামেরা মূর্ছিতপ্রায়। অভ্র ভরসা। অতএব হাতে নিলাম ফোন। তাতে কি সাধ মেটে! দামোদর মন্দিরটি ১৭৪৩এর। তারপর অনেকটা পথ ভেঙে দেখে এলাম আর একটা সাদা রং করা শিব মন্দির। এতোদূর খালি পায়ে শেষে এই? চটু হতাশ , মায়ের ওপর খাপ্পা। ও বোঝে না আমাদের কোনো মন্দিরকেই ছাড় দেওয়া চলে না। কোথায় যে আছে পরশপাথর!

পরের গ্রাম কৃষ্ণনগর তারপর কোতুলপুর। চটু গাড়ি থেকে নেমে গজার দোকানীকে জিজ্ঞেস করে এল মন্দিরের খবর। ‘ অনেক পুরনো মন্দির, খুব ভালো ডিজাইন, দেখে এসো বাবু।’ চললাম। রাজরাজেশ্বর মন্দির। পরিত্যক্ত। নিচে একহাত গাছ জঙ্গলে ফাকা। বোর্ডে লেখা ‘মন্দিরে হাত দিবেন না’। কাজ কিন্তু অপূর্ব। যথারীতি হুগলি টাইপ বিরাট আটচালা। রাম রাবণ যুদ্ধ করছেন  সাইড প্যানেলে। ব্যাপারটা অন্যরকম। ছোট্টো এক মুখ ফেরানো দুর্গা বড়ো সুন্দর। মাঝের ফ্যাসাডেও রাম রাবণের জমাটি যুদ্ধ। সেনা সামন্ত দলবল নিয়ে। কৃত্তিবাসের জন্য রামকথার প্রচলন ছিল দিকে দিকে। এদিকে আমার চশমা ক্যামেরা সব গোলমাল। এদিকে বৃষ্টিও নামল। অভ্রর ছবি তোলা সাঙ্গ হল কোনোরকমে। গাছ কাটতে আসতে হবে শীতকালে, ভাবতে ভাবতে চললুম গাড়ির দিকে।

ঘড়ি বলছে সাড়ে চারটে। ব্রেকফাস্টে শক্তিগড়ের কচুরি মিষ্টি কখন উবে গেছে। জাঙ্গিপাড়ায় পরিতৃপ্তি রেস্টরেস্টে এগ রোল আর বিরিয়ানি জুটল। ভাত শেষ।

কিন্তু চালকবাবুর হল গোঁসা। তাকে নাকি বিধিমাফিক খেতে ডাকিনি আমরা। ‘টাইমে খাওয়া’ হল না তার। প্রথমে সাধাসাধি তারপর কিঞ্চিৎ গরমাগরম চলল। তারপর অভ্র নেমে গেল ডানকুনিতে। কলকাতা যাবে। আমরা মায়ে পোয়ে চালকের জিগজ্যাগ রাগী ড্রাইভিং আর কুবাক্য (ও গ্যাসট্রিকের কুবাতাস) সেবন করতে করতে প্রাণটি মুঠো করে ধরে বাড়ি এলাম। দিলখুশ। খাসা মন্দির দেখে।

আরও পড়ুন:

পথ রুধে রবীন্দ্রঠাকুর: বাংলা গানে পথ চলা/অভ্র বসু

সম্প্রতি একটি বিতর্কসভায় থাকবার সুযোগ হয়েছিল, যেখানে বিতর্কের বিষয় ছিল: রবীন্দ্রনাথের গান আর বর্তমান প্রজন্মের…

পড়ুন

নির্বাচন / ঈশিতা ভাদুড়ী

কাকে বেছে নেব? অলিভপাতা, নাকি ধুঁতরোফুল? কে না জানে সঠিক নির্বাচন না হলে দু:খ পড়ে…

পড়ুন

খেলার দৃশ্যান্তর/অনির্বাণ বসু

একতলা ক্লাবঘর। ন্যাড়া ছাদ। কাঠের দরজা। কোলাপ্সিবল। লাল মেঝেয় কালো বর্ডার। পলেস্তরা-খসা দেয়াল হালকা ঈষৎ।…

পড়ুন

সুন্দর যখন ভয়ংকর / হিন্দোল ভট্টাচার্য

দশ বছর আগের কথা। গেছিলাম ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স বলে এক অপরূপ জায়গায়। হিমালয়ের কোলে, এক…

পড়ুন

বাবা / মণিদীপা নন্দী বিশ্বাস

জানলার ধারে রোদ পোহাও তুমি কত দশক… সন্তানের কতগুলো ভুল ভুল কাজের নির্জন সাক্ষী হয়ে…

পড়ুন

প্রেম বলিনি/যশোধরা রায়চৌধুরী

আমি তোমার ছোট্টবেলার বোকা তুমি আমার আনন্দ জিমখানা আমি তোমার তাসের হাতের পোকার তুমি আমার…

পড়ুন

তোমার প্রিয় কাব্যগ্রন্থের নাম/বর্ণালী কোলে

(১) বিদ্রোহ শান্ত হয়ে আসছে, শান্ত হয়ে আসছে জলকামান আক্রোশ শান্ত হয়ে আসছে, শান্ত হয়ে…

পড়ুন

৩/৪ সি, তালতলা লেন / সুমিতা মুখোপাধ্যায়

বইয়ের নামঃ ৩/৪ সি, তালতলা লেন কবিঃ হিন্দোল ভট্টাচার্য আলোচকঃ সুমিতা মুখোপাধ্যায় ৩/৪ সি, তালতলা…

পড়ুন

শহর/বিজয় সিংহ

ফেরার আগে যে তুমি অহৈতুকী ছিলে ফেরার পরে যে প্রাক গোধূলিরা অপ্রবাসে ঢোকে ফক্স কে…

পড়ুন

শিশিরকুমার দাশ: খুঁজে ফিরি কর্ণ, কর্ণের সহোদর/মোস্তাক আহমেদ

মৃত্যুলগ্ন পার হয়ে যতবার গিয়েছি নিঃসীমে বিদ্যুতের দীপ হাতে: অন্ধকারে আকাশের বিস্তৃতি অপার বিদ্রোহী ঝড়ের…

পড়ুন

গ প্ পো ২ – ধেড়ে দত্তি আর গুণীন অ্যাডামের গপপো / বোধিসত্ব মৈত্রেয়

সে অনে-ক অনে-ক দিন আগেকার কথা। তখন সুমুদ্দুরের জল এরকম নোনা নয়। বেশ মিষ্টি জল।…

পড়ুন

খন্দকার গলির অন্ধকার / অলোকপর্ণা

ঘুমের ভিতর হেঁটে বেরানো আজও থামলোনি জাহান আরার। জাজিমে গতর এলানো মাত্র সে ঘুমের সাগর…

পড়ুন

চৌষট্টি যোগিনী সমীপে / শর্মিষ্ঠা দাস

ভুবনেশ্বর শহরে এসেছি । আকাশপথে আমাদের দুর্গাপুর থেকে এখন মোটে একঘন্টাও নয় । কাজে অকাজে…

পড়ুন

স্পর্শ, স্পর্শাতীত… / সৌরভ মুখোপাধ্যায়

তাহলে আলোর কথা জেনে নেব কাহার সমীপে? তাহলে দুপুরশব্দ,একমনে পাখিটির স্নান? তবে কে জানাবে বলো…

পড়ুন

গ প্ পো ৪ – পুঁটে দত্তিদের গপ্পো/ বোধিসত্ব মৈত্রেয়

টাটকা-ঝরা ঝুরো বরফের রাশ ঠেলে এগুচ্ছি আমি আর স্কুয়া। ধু ধু ফাঁকা রাজ্যিটা ভরা অরোরার…

পড়ুন

একা মানুষ, পঞ্চাশ অস্তিত্ব/চণ্ডী মুখোপাধ্যায়

বইয়ের নামঃ পেসোয়া অ্যান এক্সপেরিমেন্টাল লাইফ লেখক: রিচার্ড জেনিথ প্রকাশক: পেঙ্গুইন বুকস আলোচকঃ চণ্ডী মুখোপাধ্যায়…

পড়ুন

তৃতীয় চোখের বসুধা / জগন্নাথ দেব মণ্ডল

আকাশ মেঘে ভার।টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছে। শরৎ সকালে বাজারে বিক্রিবাট্টা নেই । দোকানদার, খেটে খাওয়া, দিন…

পড়ুন

কলসপুর যাইনি / অমর মিত্র

অনেকবার  দীপিকাকে বলেছি, কলসপুর নিয়ে যাব। বলতে গেলে সেই বিয়ের পর থেকে। আমাদের যাওয়া হয়নি।…

পড়ুন

গ প্ পো ৩ – ধেড়ে দত্তি স্যাক্সি আর হারমানের গপপো/ বোধিসত্ব মৈত্রেয়

টিং-টিং, টুং-টুং, এক ছোট্ট ঘণ্টার মিষ্টি আওয়াজ আসছে কোথা থেকে? হাতড়াতে থাকি এদিক ওদিক। জঙ্গুলে…

পড়ুন

কাজের ভাষা, মুখের ভাষা/স্বপ্নময় চক্রবর্তী

যিনি কাঠের কাজ করেন, উনি বললেন, ‘এই কাঠের জিনিসগুলোকে আলাদা করে পালিশ করাবেন কেন? দোকান…

পড়ুন

অঙ্ক / তৃপ্তি সান্ত্রা

শচীনদার বউ উষা বৌদি মায়া আর মীরাকে দেখে খুব খুশী হলেন। কতদিন পরে এলে। কেমন…

পড়ুন

এ এক ‘অচেনা’ দেশ/পার্থ মুখোপাধ্যায়

আমরা যখন গতির নেশায় ছুটছি, যখন আমাদের চারপাশ ‘স্মার্ট সিটি’ আর ‘ক্যাশলেস’ হওয়ার উৎসবে মেতেছে,…

পড়ুন

কানুর বিয়ে/সুবর্ণা মণ্ডল

কানুর সেদিন খুব কান চুলকাচ্ছিল। আগের দিনের যে পায়রাটা হাত থেকে ফসকে গিয়ে শুধু একটা…

পড়ুন

আমাকে আসলে কেমন দেখায় / নাসরীন জাহান

আমাকে কি খুব উদ্ভট দেখায় ? চক্রাকারে বাসটা মোচড় দিয়ে উঠতেই এমন একটা ভাবনা আমাকে…

পড়ুন

গ প্ পো ৫ – কুঁড়ে নিক্কির গল্পো/ বোধিসত্ব মৈত্রেয়

‘তা তোমার কৃষ্টাবেলের কি হোলো –’ তাড়া দিল স্কুয়া।   ‘কৃষ্টাবেলের কথা পরে। আরে নিক্কির…

পড়ুন

কাঠামো / অর্ণব চৌধুরী

গাছের কোটরে ভাঙাচোরা দেবীমূর্তি আছে পড়ে আঁধার-মিনারে ফুটে ওঠে তার সমাহার নিরিবিলি পথে আমি তার…

পড়ুন

মুষলপর্ব/বেবী সাউ

শূন্যতার রং নিয়ে বড়ো বেশি ভেবে চলো তুমি অথচ জলের কাছে প্রতিদিন শিখে নিই নীল…

পড়ুন

অনন্ত সংলাপ/অর্পিতা কুণ্ডু

আমি: ঢেউ তো প্রোজ্জ্বল, তাতে তুমি বসে আছ শিরোচূড়ামণি। হাটের নাগর তুমি, ভিটায় নিমিত্ত সামগান…

পড়ুন

ভূতপূর্ব ভূত / অহনা বিশ্বাস

ভূতের নাম যে ভূত -গোটা গ্রাম সে কথা জানে। একবার রাস্তা থেকে ডেকে ওর মা…

পড়ুন

নামকরণ / ঋজুরেখ চক্রবর্তী

কোনও একদিন তুমি সেই উন্মত্ত কিশোরবেলার নাম রাখতে চেয়েছিলে নিপীড়িত জনতার সরণি। প্রকৃতিতে তখন প্রতিটি…

পড়ুন

পুরনো দিন নতুন দিন/শংকর চক্রবর্তী

মনে পড়ে সেইসব রবীন্দ্র-গানের সকাল সূর্যাস্তের থেকে মুক্তি পেয়ে ভাবলেশহীন কোনো সন্ধের পাশে বেজে উঠত…

পড়ুন

বিমর্ষ জল ও উড়ন্ত লাল কার্পেট/গৌতম গুহ রায়

খবরটা সরাসরি ওকে দেয়নি কেউ, কিন্তু সকাল থেকেই বাড়িতে ফিশফিশ করা চাপাস্বরের কথাগুলো তার কানে…

পড়ুন

গ প্ পো ১ – গ্যানগ্যানের দেখা পেলুম / বোধিসত্ব মৈত্রেয়

গ্যানগ্যানের দেখা পেলুম সেই সাত-সুমুদ্দুর তেরো নদীর পারের দেশে। সে বড় আজব দেশ। সে দেশের…

পড়ুন

পিতা নোহসি/প্রতিভা সরকার

‘এই রানি, তোর বাবা সবসময় আমার বুকের দিকে তাকায়া তাকায়া কথা কয় ক্যান রে? বুড়াটা…

পড়ুন

বাঁশি / অংশুমান কর 

বাঁশি যখন বেজে যায় তখন কী যে হয় এই পৃথিবীতে! মনে হয় এক শূন্য মাঠের…

পড়ুন

কালীপুজোয় আকালীপুর / ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়

বাতাসে অল্প হিমেল গন্ধ আর সঙ্গে শিউলির শেষ রেশটুকুনি নিয়ে শহর ছেড়ে রাঙামাটির পথে পাড়ি…

পড়ুন

গুঁড়োমশলা/কাবেরী গোস্বামী

সে এখন একটি অচল পয়সার মতন ফিরেও তাকায় না আর কেউ কারণ, সে আজ শুষ্ক…

পড়ুন

দি লাস্ট মিটিং/সমরজিৎ সিংহ

একটি রাস্তা । তারপর, আবার রাস্তা । তারপর সমাধি । তার উপর চাঁদের ছায়া ।…

পড়ুন

ঘড়ি বন্ধ ছিল/বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়

লাফাতে লাফাতে বেরিয়ে যাবার পর টের পেলাম অনেকগুলো ভুল হয়ে গেছে। মাস্ক নিতে ভুলে গেছি।…

পড়ুন

জোয়ার / বেবী সাউ 

যেভাবে জলের কাছে লিখে রাখি ত্যাগসূত্র আদি—   শরীর, গোপন মায়া ধীরে ধীরে নামে কঠিন…

পড়ুন

মা সম্পর্কিত / প্রিয়াঙ্কা চৌধুরী

কাকভোরে ঘুম ভাঙত। না, বোধহয় ভাঙাতেই হত। কয়েকটা চুড়ি-বালা-টুংটাং আওয়াজ- রান্নাঘর, পুজোঘর, উঠোন, শিউলিতলাজুড়ে সারাদিন…

পড়ুন

দিনলিপি/প্রবালকুমার বসু

ভেঙে যাওয়া স্বপ্নের কথা মনে পড়ে কথা দিয়ে না রাখতে পারার মতন অনর্থক গ্লানি  …

পড়ুন

আমাজনের চার অধ্যায়/চৈতালি চ্যাটার্জি 

কালো , আঁধারের মাঝে ;   কুচকুচে কালো চারিপাশ, তারই মাঝে কিছু আলোর বিন্দু ফুটে…

পড়ুন

পিরিত/অভিমন্যু মাহাত

খুব টানটান ছিল বেদনা যত দিন যায় ভুল বাড়ে, প্রবঞ্চনাও বাড়ে স্মৃতিভ্রষ্ট সুতোয় পিরিতের বহি…

পড়ুন

আপনার লেখা প্রকাশ করার জন্য

কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, অনুবাদ এবং অন্যান্য লেখা