বৃষ্টি আমি জানি তুমি চরিত্রহীন, কুলটা নও
কখনও হবে না মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার মতন ধূর্ত
জাফরি-কাটা যে বারান্দা থেকে তোমায় ছুঁয়েছিলাম,
প্রবল খরার মরশুমে সেই জাফরি আমার মাথায় ঘুরত…
শুধুমাত্র ‘বেঁচে’ জীবন কাটানো খুব কঠিন বলে
বিকেলবেলার তেজি আগুন রাত্রি নামলে ছাই হয়ে যায়
বম্বে থেকে বেঙ্গালুরু পাক্ খেয়ে পাক্ খেতে খেতে
তোমায় পাবো বলে যখন রেখেছিলাম পা কেরালায়
তখনই সেই ফুলটা ফুটল, দশ বছরে যা একটিবার
ফোটে কেবল, রং নাকি তার, বিষের মতো অসহ্য নীল
মাংসখণ্ড ছুড়ে দিলে, কাক-কোকিলে ভিড় জমাবে
সেই ভিড়ে যে শিল্প খুঁজছে, সেই কি শিল্পী? সেও কি কোকিল?
আড়ালই যার ঢাল-তলোয়ার, অচেনা মুখ, অচেনা ঠোঁট
অচেনা এই কবি তোমার যখন ছিল যুবক আরও
তখনও যার পাইনি দেখা—না ব্যালকনি, না আয়নাতে,
নাই বা তাকে দেখতে পেলাম, বৃষ্টি তুমি বলতে পারো,
আমার চটির চামড়া থেকে যে পথেরা দিগ্বিদিকে
ছড়িয়ে যায়,কেন তাদের সবারই শেষ অপমানে?
তামিলনাড়ু, অন্ধ্র হয়ে ফিরেছি বাংলার দুপুরে
সাবান তুমি শুদ্ধ থাকো, আমি আমার রক্তস্নানে
একাই ডুবব, একাই ভাসব, একা একাই ভালোবাসব
এই ধুলো আর ওই সোনাকে লুকিয়ে রাখব ত্বকের ভিতর
গায়ে সুখের স্পর্শ পাব, চোখে আলোকবর্ষ পাব
আর এতসব পাওয়ার পরও সময় যদি অ’য় অজগর
হয়ে হঠাৎ দংশে দেয় তো, ছটফটানির ভিতর জেনো
বাতাসে জিভ ছুঁইয়ে দাবি করব—আমার আত্মা আছে,
সে যদি ঘর, সেই তো পাড়া, কামড়ে তাকে যায় না মারা
রাত্রি ঘন হলে পরে যে পিশাচরা তোমার কাছে
এগিয়ে গিয়ে ভয় দেখাচ্ছে, জবরদস্তি ভ্যানে তুলে
ছিঁড়েখুঁড়ে দাবি করছে—’বৃষ্টি হবার গর্ব শোধ দে’,
তাদের যদি উড়িয়ে দিই একটা খেলনা রিভলভারে,
বৃষ্টি তুমি আমার কাছে আসতে পারবে রোদের মধ্যে?





















































