‘ম্যাকলাখানরা তো ব্রাউনি পুষত —’ এতক্ষণে কথা বললে আংকল জ্যাক। ‘ও সব ব্রাউনি ফ্রাউনি আমি জানি না —’। মুখ ঝামটা গ্যানগ্যানের। ‘ব্রাউনি হোক, পিক্সি হোক, লেদোকোন আর ট্রোন্ড যাই-ইহোক—এক ফিনরা বাদে ওরা সবাই পুঁটে দত্তি। ট্রো —’
‘তা ফিনরাও তো পুঁটে। এই এতটুকু —’। বললে আংকল জ্যাক।
‘তা হোক, ফিনরা তো আর ডাঙর নয়। তারা থাকে জলের ভেতর —’ বললে গ্যানগ্যান। আংকল জ্যাক একটু হেসে চুপ। আমার কানে কানে বললে, ‘এই বয়সেও বুড়ীর মগজ সাফ। স্মৃতি একটুও টসকায়নি —’
‘তা ম্যাকলাখানদের ব্রাউনি কেমন তর —’। আমি জানতে উৎসুক। ‘সেটা ভারী মজার —’। বললে গ্যানগ্যান। ম্যাকলাখান-দের অত বড় জমিদার বাড়ী। একটা ক্যাসেল বলা যায়। তার ভেতর তার যে কত কালের বাস। তার হিসেব কেউ জানে না। তাকে কেউই দেখতে পেত না। তবে ম্যাকলাখানরা কয়েক পুরুষ ধরেই তাকে বেশ ভালো করে চিনত। হঠাৎ হঠাৎ দু’একজনের নজরেও পড়ে যেত। তার কাজ ছিল ঘর গোছানো। রোজ সন্ধ্যাবেলায় চাকররা এসে ঘর সাজিয়ে আসবার ঠিক করে রাখত। সকালে উঠে সবাই দেখত আসবাবগুলো যেখানে সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। এটা ব্রাউনিটার নিজের পছন্দ-সই গোছানো। ভুতুড়ে পছন্দ আর কি —। চাকরদের সাজানো তার পছন্দ নয়। তাই রোজ রোজ সে এ কাজটা করত।
এক রাতে ম্যাকলাখানদের এক কত্তা হঠাৎ দেখতে পেল ব্রাউনিটাকে। ঐ কঠিন ঠাণ্ডায় তার গায়ে একখানা ছেঁড়া-খোড়া নোংরা কেট। পরনে ছেঁড়া পা-জামা।
কত্তা তক্ষুনি দর্জি ডাকিয়ে ব্রাউনিটার জন্য একটা বেশ ভালো গরম স্যুট বানিয়ে দেবেন ঠিক করলেন। কিন্তু ব্রাউনি কিছুতেই দর্জিকে মাপ দেবে না। শেষে একটা আন্দাজ মতো মাপের স্যুট তৈরী করে সেটা টাঙিয়ে রাখা হল রান্না ঘরের চেয়ারের গায়ে। ব্রাউনি রাতে এসে রান্না ঘরে ঢুকল। দেখল স্যুটটা নেড়েচেড়ে। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে। দেখে টেখে ঠোট উলটে বললে — ছিঃ – ছিঃ —
এটা কি একটা পা-জামা —
এর সামনে কুলো পেছনে ধমা।
পা-জামাটার কোন মাপ – জোখ নেই —
গ্যানগ্যানের বলার ধরনে আমরা সবাই হেসে উঠলুম।
‘বিচ্ছিরি করে সাজাবি তোদের ঘর দোর। আর স্যুট -বুট দিয়ে আমাকে করবি ভদ্দোর — তা চলবে না।
আমার ঘরের দোর তালার
এখন খাবার পালার।
উপকারী বন্ধু ট্রো-গুলোকো পোশাক – আশাক উপহার দিলেই তারা আর থাকে না। এটাই ট্রো-দের নিয়ম কিনা —
মুন ঐ ব্রাউনিটার আদরের নাম। কিন্তু কত্তাও ছাড়বার পাত্র নয়। অনেক বলে কয়ে মুনকে রাজী করানো গেল। তখন আবার
পা-জামার পেছন দিকটা সামনের দিকে রেখে পরতে লাগল।
পুঁটে দস্তির খাপছাড়া রীত
কিছু না নিয়েই করে যাবে হিত।
তাকে যদি কিছু দাও উপহার
তোমার কাছে সে ঘেঁসবে না আর —
একবার কত্তার এক মেয়ের বিয়ে। পাশের গাঁয়ের আর এক জমিদারের ছেলের সঙ্গে। বিয়ের আগে ছেলে মেয়ের সঙ্গে আলাপ করতে এলো। বললে, শুনতে পাই তোমরা নাকি ভূত পোষো। তোমাদের বাড়ীতে যতো সব ভূতুড়ে আজগুবি ব্যাপার —
মুন সে কথাগুলো আড়াল থেকে কানে শুনল। মনে মনে বললে, আচ্ছা দাঁড়াও দেখাচ্ছি মজা —
বিয়ের দিন ভোজের পাত পড়েছে। টেবিলে খানা খেতে বসেছে বরযাত্রীর দল। প্লেট সাজানো। নানান খাবার। ভাল ভাল খাবার। কিন্তু যেই বরযাত্রীরা প্লেটে হাত দিয়েছে আমি সব প্লেট থেকে সব খাবার এক সঙ্গে লোপাট। সবাই ভারী অবাক। চটপট আবার প্লেট ভর্তি করে দিল কনের বাড়ীর লোকেরা। আবার খেতে গেল বরযাত্রীরা। আবার লোপাট সব খাবারগুলো। কনে বরকে বললে, মুনের কাছে মাপ চাও —
ঘাড় হেঁট করে বর মাপ চাইল।
মাপ করে দাও সব দোষ মুন
জানাতো ছিল না তোমার এত গুণ।
তখন খালি প্লেট আপনি আপনি ভর্তি হতে লাগল। খানাপিনা চলল খুব।
গল্পো শেষ করে গ্যানগ্যান বললে, ‘স্কুয়া তোর সঙ্গে যদি ম্যাকলাখান ছোঁড়ার বে হয় — তা হলে সোনায় সোহাগা। তুই এক বড় রাঁধুনি। আর তোর জোগানদার ঐ মুন —’ গ্যানগ্যানের কুলকুলিয়ে আবার হাসি।
‘তা সে যখন হবে তখন হবে। এখন তোমার কৃষ্টাবেলের কি হল বললে না তো —’ স্কুয়া ছাড়বার পাত্রই নয়।
‘কি আবার হবে। এক রাতে কৃষ্টাবেল আমাদের গোয়াল থেকে উধাও। খুঁজে খুঁজে আর পাওয়া গেল না। বাবা বললে, নিশ্চয় তোর মা পুঁটে দত্তিগুলোর কাছে মানত করে ছিল — নিক্কির মতো —’






























































