এক
পিছনে জঙ্গল ।ওই ওপারের রাস্তা পেরিয়ে আবার জঙ্গল। ক্রমশঃ দুপাশের জঙ্গল উজাড় করে ফোর লেন হচ্ছে। এখনও পুরোটা খুলে দেয়নি। নবনির্মিত সেই পথের ওপর হাত পা ছড়িয়ে বসে আছে ফুলঝরিয়া আর পিংকি। বসাটা নতুন নয়, জায়গাটা নতুন। বসার জায়গাটাও ঠিক নতুন নয়, দেখতে নতুন।
পিংকি বলে, আগের ঘাসটাই ভালো ছিল রে, গড়িয়ে গেলে কত আরাম।
ফুলঝরিয়া ফর্সা। পাতি তুলে তুলে এখন তা পোড়া তামাটে। মনে হয় যেন কচি চা পাতার ওপরে ছায়া গাছের ছায়া পড়ে ম্লান।
সে বলে, ডর লাগে। কোর্ট কাছারি বহুৎ ঝামেলার।
পিংকি বলে, তাইলে যাইস না । তোয়ে জিদ করিস লা।
হুস করে প্রায় গা ঘেঁষে এক পর্যটক বোঝায় এস.ইউ.ভি ধুলো উড়িয়ে চলে আসে। কতগুলো জন্তুর মুখ যেন জানলা দিয়ে খ্যা খ্যা করে হেসে ওদের ভিডিও করার জন্যে গাড়ির গতি কমায়। পিংকি উঠে দাঁড়িয়ে তেড়ে যায় প্রায়। তার হাঁটু ফাটা জিন্স প্যান্ট, ঘামে ভেজা টি শার্ট, গলায় গুচ্ছের সুতোয় দোলানো মাদুলি সহ স্বাস্থ্যবান শরীর গাছের মতো দুলে ওঠে।
প্যান্টের পিছন দিক থেকে তাকে টেনে আবার রাস্তায় বসায় ফুলঝরিয়া, বলে, আগের মতো ইস্লো রাস্তা নাই রে। পিষে মেরে দেবে। হাওয়ায় উড়ায় দিয়া যাবে।টের পাবি না। এ কি যে সে রাস্তা? পরধান মন্ত্রীর রাস্তা। সব গিলে নেবে, বুঝলি? নিলও তো।
বিবর্ণ ধুলো মাখা পা আর গোছা মাদুলি বাদে পিংকি দেবনাথ জালাসকে শহুরে মেয়েদের থেকে কেউ আলাদা করতে পারবে না। ইনস্টায় সে পিঙ্কি ভি জে। পেশা কনটেন্ট ক্রিয়েটর কিন্তু এলাকায় সে চা পাতা তোলা লেবার। সে বলে, ধুর শালা! ছিলাম দুবাইয়ে। বরটা ডেকে আনল। বাচ্চা দুটোর জন্য কত টাকা পাঠাতাম তুই জানিস। মা আর ভাই দুটাই মদ খেয়ে উড়াই দিল। কোথায় একটা সেন্ট্রো কিনবো ভাবলাম। ওটাই চালাইতাম রুটে। এখন রাস্তার ধারে লাইনের বাসের জন্য গড়াচ্ছি। তুই তো দু-মাস থেকেই পালিয়ে চলে এলি। বেশিদিন থাকলে বাবা তোকেই সাদি করে নিত। বলেই ফোন খুলে রিল বানানোর জন্য চুল ঠিক করতে থাকে। কালো পিচ পথের মতো তার ঘন মুখের রঙে গোলাপি লিপ লাইনার দেওয়া মোটা ঠোঁট, পারলার থেকে সোজা করে আনানো কোঁকড়া চুল।
ফুলঝরিয়া বলে, তোকে আর এসব চিন্তা করতে হবে না। আমি শহরে যাচ্ছি একটা ব্যবস্থা ঠিক হবে। সারা জীবন আমরা এভাবে রাস্তায় বসে থাকব নাকি?
উল্টো দিক থেকে জোরালো গতিতে একটা বাইক এসে থামে। পিংকির নতুন বয়ফ্রেন্ড। নদী থেকে বালি তোলার কারবার করে। পিংকি ফুলঝরিয়ার দিকে তাকিয়ে চোখ মারে। তারপর বাইকের পিছনে চুল উড়িয়ে কোথায় উড়ে চলে যায়।
দুই
তনুশ্রী তার অভিজ্ঞতায় দেখেছে, ডুয়ার্সের এই চা বাগান এলাকার মেয়েদের জীবনে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন ঘটেছে। এই সামনে কাঠের বেঞ্চে বসা ফুলঝরিয়াকে মন দিয়ে দেখছিল সে। মেয়েটির আগমন ও অনুরোধে কিঞ্চিৎ অবাক হয়েছে সে। কোর্টে নানা চমকপ্রদ বিষয় নিয়ে মানুষ যাতায়াত করে। তার অভিজ্ঞতায় ফুলঝরিয়ার আবেদন অদ্ভুতের মধ্যে অদ্ভুত।
খুব ঠেকায় না পড়লে সাধারণ মানুষ কোর্টে আসে না। এখানে ফুলঝরিয়ার আগমন ও অনুরোধে সে অবাক হয়েছিল। বুদ্ধিমতী মেয়ে বলতে হবে। এলাকার এক শ্রমিক নেতাকে দিয়ে ওদের এনজিওর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। ফুলঝরিয়ার রোদে পোড়া সাদাটে ত্বক গরমে লালচে হয়ে উঠেছে। চোখ তুলে তাকালে চোখের মণি সবজেটে বাদামি।
তনুশ্রী বলে, কিন্তু আমরা এসব কেস করি না। মানে আমাদের কেস গুলো পারিবারিক ঝামেলার, মারধোর, টাকা পয়সা না দিয়ে ঠকানো। সেসব তো নয়। তুমি আমার কাছে এলে কেন?
ফুলঝরিয়া বাসের ধকলে ক্লান্ত।তায় হাইওয়ের ধুলোয় ঘামে মাখামাখি। আদালত চত্বরের খুপরি , চিলতে ঘর গুলোর বাইরে গুমোট আকাশের দিকে তাকিয়ে স্কার্ফ দিয়ে ঘাম মোছে। স্কার্ফে লিজ টেলরের ছবি।বলে, জানি ম্যাডাম। কিন্তু আমি আর কাউকে চিনি না। জোহান লাকড়া, আমাদের পঞ্চায়েত, আপনার কথাই বলল। মেয়েদের অধিকার নিয়ে আপনার কাছেই সব কেস আসে।
তনুশ্রীর বিস্ময় বাড়ছিল। বলল, তুমি তো সব খবর রাখো! কত দূর পড়াশোনা করেছ? কীকর? ফুলঝরিয়ার পরনে একটা ছোট কুর্তা আর পাজামা । জংলা ফুল পাতার মোটিফে ওপর নিচ একরকম ছাপা। এগুলো দেখতে অনেকটা নাইট স্যুটের মতো।
ফুলঝরিয়া বলে আমাদের পাতি তোলার দলের পার্মানেন্ট লেবার বলুন, বাড়ি বসা মেয়ে বৌ বলুন, অনেকের ইনস্টা আছে।রিল তো প্রায় সবাই বানায়। আমিও একসময় বানাতাম। দুবাই থেকে এসে ছেড়ে দিয়েছি।
দুবাইয়ে কী করতে ? সন্দিহান গলায় বলে তনুশ্রী। এমন ফর্সা একহারা চেহারা, সবুজ চোখ, কেস গোলমেলে হতে পারে।
বাবার বাড়িতে রান্নার কাজ। বাবার দুই বউ ।
বাবা ?আরো বিস্মিত তনুশ্রী।
আমার বাবা না। যার বাড়িতে কাজ করতাম, তাকে সবাই বাবা বলে। সবার বাড়িতে যে মালিক সেই হল বাবা। দুই বউয়ের সব নিয়ে আটটা বাচ্চা। চারটে গাড়ি, খালি মাংস খায় ।মুরগি আর রুটি। সবাই এক থালা থেকে খেতে থাকে । এক গাড়ি বাসনও ধুতে হত। এতটা বলে থামে। ফুলঝরিয়া জানে ডাক্তার আর উকিলকে চেপে কথা বলতে নেই। এই ম্যাডাম বেশি প্রশ্ন করার আগে সব বলে ফেলা ভালো।
চলে এলে কেন? ভালই তো টাকা দেয় শুনেছি । যাওয়ার খরচে তো অনেক। জমি জায়গা বিক্রি করে লোকে যায়।
ফুলঝরিয়া পা নাচায়। বলে, পিংকিকে খারাপ কাজে ঢুকাচ্ছিল। টাকা সব না। মাইনষের মান সম্মান আছে।
তনুশ্রী চমকায় না। এই চত্বরে যারা আসে মান সম্মানের লড়াই তাদের অনেকের। তবে সে মানসম্মানের নানা ধরণ আছে। সে বলে, বাংলাও তো চমৎকার জানো।
এতক্ষণে হাসে ফুলঝরিয়া। বলে, দুবাই থেকে এসে মৌদিদির বাড়িতে কাজে ঢুকি। ম্যাডাম বলতে বারণ করেছে। ওই সব শেখাল। কুকিং বেকিং। আদিবাসী স্কুলে পড়াতো, এখন ছেড়ে দিসে। কন্টাক্ট শেষ।
তনুশ্রী এবারে হৃষ্ট হয়। মৌ নাম্নী এক এমপাওয়ার্ড মহিলা একে এমন চালাক চতুর করেছে যে এমন একটা বিষয় নিয়ে তার কাছে ছুটে আসতে পেরেছে। ভদ্রমহিলার মস্তিষ্কপ্রসূতই হবে। সে বলে, দেখো, এখানে কিন্তু আমি টাকা না নিলেও পদে পদে টাকা ছড়াতে হয়।
ফুলঝরিয়া ফোন তুলে নিয়ে বলে, এখান থেকে দেব?
তনুশ্রী মাথা নাড়ে, বলে, না এখানে ক্যাশ।
ফুলঝরিয়া তার স্লিং ব্যাগ থেকে কথামতো টাকা রাখে।
তনুশ্রী দেখে নোটগুলো পুরনো ,মোচড়ানো অর্থাৎ সঞ্চয়ের টাকা, সে নোট গুণে হাতের ভিতর রাখে। বলে, আমার মনে হচ্ছে তুমি অকারণে কষ্টের টাকা নষ্ট করছ। এ দিয়ে কী হবে?
বিলকুল পিংকির মতো কথা বলছেন ম্যাডাম। জোহান একমাত্র আমার কথা বোঝে। বলেই ফুলঝরিয়া গুছিয়ে বসে। আকাশের গুমোট ভাব কমে গেছে পাহাড়ে কোথাও বৃষ্টি হচ্ছে। তার ঠান্ডা হাওয়া নিচের দিকে নেমে এসেছে। তার গলায় মালার মতো যে স্কার্ফ দুলছে, তাতে লিজ টেলরের হাসি মুখ।বলে, আমি না ঠিক, কিন্তু আমার ঠাকুমা আর দিদিমা বেজন্মা বলে গালি শুনেছি ছোটবেলা থেকে। আমার বরও মারধরের আগে ওই বলে কথা শোনাত। আমাদের এদিকে অনেকের বাড়িতে এমন প্রবলেম থাকলেও মায়ের দিকে আর বাবার দিকে দুটোতেই এরকম কেস কারোর নেই।
তনুশ্রী গালে হাত দিয়ে শোনে। ফুলঝরিয়ার লম্বা সুছাদ আঙুলের নখে অনেক জায়গায় নেল পালিশ খামচা করে উঠে গেছে, তার ফাঁকে ময়লা। কিন্তু পরিচ্ছন্ন থাকলে তাকে কি লিজের মতো দেখাত? দুবাইয়ে এই মেয়েকে শুধু যে রান্না আর বাসন ধোয়ার কাজে রেখে দিয়েছিল সেটাই আশ্চর্য!
ফুলঝরিয়া বলে, আমাদের বাগানের ম্যানেজার ছিল ফ্রান্সিস সাহেব। সব গার্ডেন যে পুরানো সে তো আপনি জানেন।
তনুশ্রী মাথা নেড়ে বলে, হুঁ। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও প্রচুর সাহেব মালিক অর ম্যানেজার হয়ে থেকে গেছিল।
ফুলঝরিয়া বলে, ফ্রান্সিস সাহেব বুড়ো হয় এখানে এসেছিল। পরে শোনা গেল আসামে ওর ঘর সংসার আছে। মেমসাহেব বৌ। কিন্তু এখানে ততদিনে আমার ঠাকুমার সঙ্গে সংসার পেতেছে।
তনুশ্রী বলে ম্যানেজারের বাংলোই তোমার ঠাকুমাকে থাকতে দিয়েছিল?
ফুলঝরিয়া ঘাড় নেড়ে বলে, না, তবে ঠিক পিছনের কোয়ার্টারেই থাকত।ওখানেই আমার বাবা আর কাকার জন্ম। সাহেবের বউ খবর পেয়ে এসে অনেক হুজ্জত করেছিল। কিন্তু সাহেব তাদের সঙ্গে ফিরে যায়নি। বাঘের পেটে গেছিল। শুনেছি হাড়গোড় যা পাওয়া গেছে ওই আমাদের নতুন রাস্তার পিছনে কবরখানায় পুঁতে দিয়েছিল।
তনুশ্রী কথা বলে না।
ফুলঝরিয়া আবার বলে, আর আমার দিদিমা আসমার পেটে বাচ্চা দিল জোনাথন সাহেব। বিয়ে-শাদির কোন ব্যাপার নাই। পাতি তোলার সময় ঘোড়ায় করে তুলে নিয়ে গেছিল। লেবাররা আর কি প্রতিবাদ করবে বলেন? তাদের হয়ে বলবেই বা কে? ওই কবর খানার পিছনে দিদিমা আমার মাকে নিয়ে থাকত। মায়ের সাদা রং দেখে সবাই বলত, ভূতের বাচ্চা। দেখতে শুনতে একদম ভালো ছিল না। তার উপর গায়ের সাদা রং দেখে মনে হত ছাল চামড়া ছাড়িয়ে নিয়েছে কেউ। আমাদের এলাকায় ফ্যাকাশে রং হলে ভাববে চামড়ার অসুখ আছে।লোকে তাকে নিজেদের দলের মধ্যে নেবেই না। জোনাথনও মরেছে এখানে আর ওই কবর খানার ভেতরেই শুয়ে আছে।
তনুশ্রী বলে, কিন্তু তাতে তোমার ঐ কবর খানার ওপরে অধিকার জন্মাচ্ছে কি করে? মানে তুমি অধিকার চাইছো কেন?
ফুলঝরিয়া তীব্রভাবে মাথা নাড়ে।বলে, শুধু আমরা না ম্যাডাম। ওখানে যেসব সাহেবরা শুয়ে আছে, বাগানের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মান ইজ্জত নিয়ে খেলে গেছে। কুকুর ছাগলের মতো ব্যবহার করেছে। এখন শুনছি ওই জায়গাগুলো বাঁধিয়ে দিয়ে ফুল গাছ লাগিয়ে সুন্দর করা হবে। বাইরে থেকে লোকজন এসে দেখবে। সাহেব বাগান মালিক আর সাহেব ম্যানেজারদের খবর জানবে।তাহলে তারা সত্যি কথাগুলো জানুক। আমাকে ওই কবর খানার অর্ধেক মালিকানা দেওয়া হোক। আমাদের জীবনগুলো শুয়োরের মতো করে দিয়েছে যারা তার বদলে এটা আমরা পেতেই পারি। আপনারা ওই দেশ থেকে আসছেন, ওই যে এখন বাংলাদেশ। এখানে এসে আপনাদের বাপ ঠাকুরদা জমি জায়গা পেয়েছিল তো? আমরাও তো সব হারিয়েছি।আমরা কেন মান ইজ্জত পাব না?
সব্বনাশ! এমপাওয়ার্ড মৌ ভদ্রমহিলা নিশ্চিত আরবান নকশাল! তবে এখানে বসে এই ফুলঝরিয়া কী করছে? একটু এদিক ওদিক করে ঘষামাজা করলেই রাজনীতিতে সফল হয়ে যাবে।
এরমধ্যে ফুলঝরিয়ার মোবাইল বাজে। ঘুরে গিয়ে ফোন ধরে। মুখটা বেশ ঝলমলে দেখায়। বলে, জোহান এসে গেছে। ও কলেজ পাশ। সব আপনাকে লিখে বুঝে দেবে। ও বলে না ম্যাডাম কিন্তু ওর বাড়ি তো এরকমই ঝামেলা আছে। তবে আমার খবর আমি সব খুঁজে খুঁজে বার করেছি। চার্চের রেজিস্ট্রারে অনেক কিছু পাওয়া যায়। ওরটা কোথায় মিলেমিশে গেছে কেউ জানে না।
খানিক পরে জোহান কেরকেট্টা নামে পঞ্চায়েত প্রধানের দেখা মেলে। ছোটখাটো, তার সম্প্রদায়ের বৈশিষ্ট্য থাকলেও একেবারে ফর্সার দিকে গায়ের রং। হেসে বলে, ম্যাডাম ওর মাথায় কিন্তু কোন গোলমাল নেই। ও যেটা বলছে সেটা আপনাকে করে দিতে হবে। একটা এবিডেবিট শুধু। ফুলঝরিয়া বাসনেট এখন থেকে ‘ফ্রান্সিস জোনাথন ফুলঝরিয়া বাসনেট নামে পরিচিত হইল’। আমরা তো সবাই খ্রিস্টান ম্যাডাম। কোন অসুবিধা হবে না।
তনুশ্রীর মনে পড়ল, বিহারের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে এক লোক এসেছিল, এফিডেভিট করে তার নামের আগে একটি ‘মহারাজা’ বসাবে। এখন ভুট্টা চাষ করে জীবন চালায় কিন্তু পূর্বপুরুষ ছিল জমিদার। এক ধুরন্ধর উকিল পনেরো হাজার টাকার বদলে তাকে ‘মহারাজ’ উপাধি দিয়েছিল।
তনুশ্রী বলে, নাম না হয় বদল করে দেব কিন্তু কবর খানার মালিকানা আমার হাতে নেই। আর তোমরাই তো বলছিলে রাস্তা যেভাবে এগোচ্ছে ওটা কোনদিন রাস্তার ভিতরেই চলে যাবে।
ফুলঝরিয়া জোহানের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে। টিপ টিপ বৃষ্টি শুরু হয়েছে। জোহানের হাতে একটা প্লাস্টিকের ফাইল। সেটা দিয়ে মাথায় ছাতার মতো ধরেছে।
ফুলঝরিয়া বলে, হতে দেব না ম্যাডাম। ওই এফিডেভিট পেলে দুই সাহেবের কবরের দায়িত্ব আমার। ওই দুটো কবর হারিয়ে গেলে, আমার মতো অনেকের আসল পরিচয় হারিয়ে যাবে। এত কষ্ট করে আপনার কাছে এসেছি, বেজন্মা হয়ে থাকব নাকি? একটু খেয়ে আসছি ম্যাডাম, আপনি কাগজপত্র রেডি করেন।
তনুশ্রী খেয়াল করে এখনকার পঞ্চায়েত প্রধানদের মতো ওদের জন্যে কোন এস.ইউ.ভি গাড়ি দাঁড়িয়ে নেই।মনটা বেশ ফুরফুরে হয়ে যায়। আশা তাহলে একেবারে শেষ হয়ে যায়নি। এখনো কেউ কেউ ক্ষমতা পেয়েও আত্মমর্যাদা খুঁজে বেড়ায়।






























































