পিতা নোহসি/প্রতিভা সরকার

‘এই রানি, তোর বাবা সবসময় আমার বুকের দিকে তাকায়া তাকায়া কথা কয় ক্যান রে? বুড়াটা আর কিছু চিনে না, নাকি! ’
গৌরীর বুক উদ্ধত, মুখে চাপা হাসি, সারা শরীরে এমন একটা ভাব, যেন সে জানে কারণটা, কিন্তু তবুও শুনতে চাইছে বেচারা রানির মুখ থেকে। এইভাবে কি বছরের পর বছর ফেল করে এক ক্লাসে থাকার শোধ ওঠাতে চাইছে ও ? যেন একদা সহপাঠীকে বোঝাতে চাইছে, যতই ক্লাসে ফার্স্ট হ’, তোর বাপটা একটা লুচ্চা!

গৌরীর নাকছাবিতে আলো পড়ে চকচক করে লাল পাথরটি, রানি বিবর্ণ মুখে ঢোঁক গেলে, ভাবে তার বাবা কথাই বা বলে কেন এই মেয়েটার সঙ্গে? তাদের সরকারি কোয়ার্টাসের পেছনে ছড়ানো ছেটানো বস্তি-এলাকার এই বাজে মেয়েটা ছাড়া বাবার আর কথা বলার লোক নেই?
গৌরী ও রানি একসঙ্গে সরকারি গার্লস স্কুলে পড়ত, এই শহরের সবচেয়ে ভালো স্কুল। এক ক্লাসেও কিছুদিন পড়েছে, কিন্তু আজকের পর থেকে গৌরীকে দেখলে হাসা তো দূরের কথা, সে ফিরে তাকিয়েও দেখবে না।

মা-কেও তার কথাটা বলতে লজ্জা করবে। উঠতি মেয়ের বুকের দিকে কেন তাকাবে তার বাবা! কথা বলতে হলে তো চোখের দিকে তাকানোই দস্তুর। চোখ না দেখলে কথার অর্থ বোঝা যায়? আর তার রাশভারি বাবা, ছেলেদের সঙ্গে মেশার দারুণ বিরোধী বাবা কিনা…না: গৌরী খুব বাজে বকে আর পরশ নামে এক কেবল-মিস্ত্রির সঙ্গে প্রেম করে, এ তো সবাই জানে। ওর কথা সত্যি হতেই পারে না।
ভ্রু কুঁচকে, মুখ ভেটকে রানি শুধু বলে, ‘হ্যাট! কী উল্টো পালটা কথা!’
গৌরী খিলখিল করে হাসে, ‘উল্টাপাল্টা? আমি কই? আরে তর বাপটাই একটা উল্টাপাল্টা লোক! তর মতো ভালো মাইয়ারা ঐসব বুঝে না। না, না, বুঝে বুঝে, কিন্তু কতক দেরিতে বুঝে!’
হাসতে হাসতে গৌরী চলে যায়, যাবার আগে রানির সারা শরীরে শুকনো লংকা বাটা ডলে দিয়ে যায়। জ্বলতে জ্বলতে রানি পায়ের কাছের মাটির ঢেলা কুড়িয়ে মণিদের টিনের চালে ঢিল মারে, ভেতর থেকে কাকিমা কে রে, কে রে বলে চেঁচিয়ে উঠতেই নিজেদের বাড়ির গলিতে সুড়ুৎ করে সটকে পড়ে। একটা লাঠি কুড়িয়ে পেয়ে ফার্নের মতো দেখতে ধার-কুঁচকে থাকা পাতাগুলোকে মেরে ছিন্নভিন্ন করে দেয়, যেন শাসন করে ‘আর কোনো দিন তাকাবি ?’ বলে।
বাড়িতে ফেরে যখন তার কালচে মুখ দেখে মা তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে, ‘হতচ্ছাড়ি মেয়ে, সারা দুপুর আড্ডা মেরে উড়েপুড়ে এই বাড়ি ফিরল! তুই কি সারাটা গরমের ছুটি এইভাবে কাটাবি নাকি?’
‘যদি বলি মা তোমাকে,’ মনে মনে ভাবে রানি, ‘কেন আমার মুখের এই অবস্থা, তোমার খুব ভালো লাগবে না, বুঝলে মা!’
‘ফিরুক তোর বাবা আজ বাড়িতে, যদি নালিশ করে তোকে মার না খাওয়াই তো আমার নাম পরমা নয়।’
ইসসস, ফুঁসে উঠে মনে মনে রানি ভাবে, মারলেই হল! নিজের মেয়ের বয়সি খুকির মুখের দিকে তাকিয়ে কথা বলে না যে লোক, সে আবার মারবে! মা, তুমি নিজের নাম রেখো গরমা। মাঝে মাঝে গরম দেখানো ছাড়া তোমার আর করার কিছু নেই।

নিষ্ঠুরের মতো ভাবনা ঠিকই, কিন্তু এটাও ঠিক যে মা ছাড়া রানির আর কেউ ছিল না। রাতে শুয়ে মায়ের কোমরের ওপর নিজের পা তুলে দিয়ে গৌরীর বলা অসভ্য কথাটা রানি যখন বলল, মা একদম চুপ করে ছাইগাদা হয়ে গেল। এতক্ষণ মশলা আর হলুদের গন্ধ বেরোচ্ছিল শাড়ি থেকে, কেমন তাজা সুবাস, হঠাৎ চামড়া খসখসে হয়ে গেল, গন্ধ-ফন্দ সব উবে গিয়ে ধূসর ছাই ছাই কী যেন উড়তে লাগল মশারির ভেতর অন্ধকারে! খুব কষ্ট হল রানির মায়ের জন্য, কথা ঘোরাবার জন্য আর কিছু মনে না আসায় দুম করে সে জিজ্ঞাসা করল, ‘মা, সব গল্পে দুয়োরানির কপালে এত কষ্ট কেন!’

নিরীহ প্রশ্ন, কী ভেবে করা প্রশ্নকর্তা নিজেও পরিষ্কার জানে না হয়ত, কিন্তু মা রেগে গেল। পড়াশুনোয় ভাল, কিন্তু তার মেয়েটা বড় পাকা! মেশে বস্তির মেয়েগুলোর সঙ্গে, বারণ করলেও শোনে না, ডানপিটে আর দুরন্ত। মুখ ঝামটা দিয়ে বলল, ‘জানি না, যত্ত আজেবাজে কথা আর আজেবাজে চিন্তা। গৌরীর সঙ্গে ফের কথা বলতে দেখলে নোড়া দিয়ে দাঁতের গোড়া ভেঙে দেব হতচ্ছাড়ি!’

কারণ বুঝত না, কিন্তু রানি দেখত মা কেমন যেন খিটখিটে হয়ে উঠছে আজকাল, এমন ভাষা ব্যবহার করছে মাঝে মাঝেই যা আগে কখনও করত না! আর একবারও তো ফুঁসে উঠে বলতে পারত, ‘যা:, যত বাজে কথা, তোর বাবা এরকম করতেই পারে না।’ তাহলেই জলে জল, দুধে দুধ মিশে যেত। তা না, কী যাচ্ছেতাই ভাবে তাকেই বকছে দ্যাখো!
কথা না বাড়িয়ে রানি চোখ বুজে ঘাপটি মেরে পড়ে রইল, টের পেল মা পা টিপে টিপে উঠে পাশের ঘরে গেল। তার পরের চাপা কান্না ও শাসানি, শাপশাপান্ত আর ঘরের দরজায় ছিটকিনি তুলে দেওয়া অবধি কান খাড়া করে রাখল সে। কিন্তু এসব মিটে যাবার পর একগাদা চাপা শব্দের ঝড় তাকে রোজই এমন ভয় দেখাত, তা ভাবতে এখনও রানি শিউরে ওঠে ! যেন নি:শব্দে কেউ কারও ওপর চড়াও হচ্ছে, মেরে ফেলবে বলে, কিন্তু আক্রান্ত প্রতিরোধ করছে না, চেঁচাচ্ছে না, যেন সে ক্ষতবিক্ষত হবার ভাগ্যকে মেনে নিয়েছে, মাঝে মাঝে শুধু অদ্ভুত কিছু আওয়াজ ভেসে আসে, তা কষ্টের না ভয়ের, নাকি আনন্দের, রানি বোঝে না, সে এইসব শুনবে না বলে ভয়েই ঘুমিয়ে পড়ে।

একবার ওই রকম ভয় দেখান রাতের শেষে খুব ভোরে হিসি করবে বলে উঠে পর্দার ফাঁকে রানি দেখে কে যেন বারান্দায় দাঁড়িয়ে। মা নাকি! কেমন যেন অন্যরকম অচেনা আলুথালু মা! শাড়ির আঁচল এলোমেলো, চোখ সদ্য-গজানো লালচে বটপাতার মতো চকচক করছে! কিন্তু তাকিয়ে আছে দৃষ্টিহীন ফাঁকা চোখে!
‘মা,’ রানি ডাকে, ‘আমার কাছে শোবে চল!’
অন্যমনস্ক উত্তর ভেসে আসে, ‘আর একটু দাঁড়াই। ভোরের হাওয়াটা এত ঠান্ডা!’
ভয়ে ভয়ে বাবার ঘরের ভেজানো দরজার দিকে তাকায় রানি, বলে, ‘বকবে কিন্তু!’ এবার মা ঝলসে ওঠে, ‘বকুক! সরমাদির কাছে গিয়ে থাকে ও। প্রত্যেক শনিবার। তোর বাবার আসলে সব চাই। সবাইকে চাই। ও একটা রাক্ষস।’
সরমা রানির নিজের বড়োমাসি। মেসো হঠাৎ হার্টফেল করবার পর গ্রামের দিকে একটা স্কুলে পড়ানোর কাজ পেয়েছে। একমাত্র ছেলেকে নিয়ে পাশের পাড়ায় বাড়ি ভাড়া করে থাকে।

ময়দানের দিকের সন্ধ্যার আবছায়ায় ফস করে দেশলাই কাঠি জ্বলে উঠেছিল। সেই ক্ষণিক আলোয় ক্যাবের জানালা থেকে রানি দেখল তিরতিরে নাক আর টানা চোখের একটা মেয়ের আবছা অবয়ব। গৌরী! ঠিক যেন গৌরী!
অন্ধকারে মেয়েটা হারিয়ে গেল পর মুহূর্তে, হয়ত কেউ দেশলাই জ্বেলে তাকে মেপে নিচ্ছিল, কিন্তু ছোটবেলার সেই আঘাতটা যেন ফিরে এল একদম টাটকা! একটা থাপ্পড়ের মতো।

পাশে বসা বুড়ো লোকটার দিকে ঘাড় ঘোরাল রানি। দেহের রেখাগুলো সব ভেঙেচুরে গেছে, কোলকুঁজো হয়ে বসে আছে, কিন্তু রান্নাঘরের মাছে নজর দেওয়া সতর্ক বেড়ালের মতো তাকিয়ে আছে ওইদিকেই, যেখানে মেয়েটাকে দেখা গিয়েছিল! রানি ঘাড় ঘোরাতেই তাড়াতাড়ি সামনের দিকে তাকাল, নির্বিকার মুখ, যেন মাছভাজাটি উলটে খায়নি কখনও। কিন্তু রানি তো জানেই, এইগুলো সব ছলনা, তার চোখে ধুলো দেওয়া!
আর বেশিদিন বাবাকে সহ্য করতে পারবে না রানি। মা কিডনি পচিয়ে আগেভাগে চলে যাবার পর একাই তো থাকে পৈত্রিক বাড়িতে। চোখ দেখান হলে সেখানেই আবার রেখে আসবে। তারামাসি শুধু দেখাশোনা করে নাকি ওরা স্বামী স্ত্রীর মতো থাকে তা নিয়ে বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই রানির। সারা জীবন নিজের বৌ মেয়েকে কষ্ট দেওয়া এই লোকটার চোখে আর মাথায় প্রবল যন্ত্রণা হয় শুনে নেহাত কর্তব্যবোধে সে শহরের বড় ডাক্তার দেখাতে নিয়ে এসেছে। দেখানো হলেই রেখে আসবে আবার। এটা তার সচেতন সিদ্ধান্ত। খারাপ স্বভাব এত কিছুতেও পাল্টায়নি যখন, তখন আর একে নিয়ে ভাবার কোনো মানে হয়না। পেতে পেতেও মায়ের স্বভাব সে পায়নি ভাগ্যিস! অত সর্বংসহা মাটির মানুষ রানি নয়!

তার বাড়ির অনেকদিনের ঠিকে মেয়ে মানা তাকে সেদিন হাসতে হাসতেই বলছিল, ‘তোমার বাবা অমন একদৃষ্টে আমার দিগে তাকিয়ে বসে থাকে কেন গো বৌদি? আমি দেখতে কোন দীপিকা, বলদিনি?’
মনে মনে জ্বলতে জ্বলতেও উত্তর বানিয়েছিল রানি, ‘আরে মানা, তোকে দেখতে ঠিক আমার ঠাম্মার মতো। সেই চোখমুখ, সেই একঢাল কালো কোঁকড়া চুল! তাই।’
উত্তরটা খুব একটা মনে ধরেনি বোধহয়, ঘর মুছতে মুছতে মানা বলে, ‘অসোয়াস্তি হয় গো, আমরা তাড়াহুড়ায় থাকি, কখনও আঁচল খসে পড়ে, কখনও পায়ের গোচ বেইরে যায়। একটা বুড়ো মানুষ যদি হাঁ করে তাই দেখতে লাগে, কেমনধারা অনাছিস্টি তুমিই বল!’

মানা চলে যাবার বাবার খাটের কাছে দুমদুম করে এসে দাঁড়াল রানি। ঝনঝন আওয়াজ করে চায়ের কাপ, মুড়ির বাটি সরাতে সরাতে বলল, ‘আগে যে অত বই পড়তে? সে অভ্যাসটা গেল কোথায়! এখন খালি হাঁ করে তাকিয়ে বসে থাকা। একটু পজিটিভ হবার চেষ্টা করতে দোষ কী ?’
মনে মনে বাবাকে বাবা ডাকলেও মুখে ওই শব্দটা উচ্চারণ করা বহুদিন আগে ছেড়েছে রানি। তার মনে হয়েছিল, যে তার মা-কে সারাজীবন ঠকিয়েছে, সেই লোকটার পিতৃত্ব অস্বীকার করা সম্ভব না হলেও, তাকে নিয়ে কোনও রকম আদিখ্যেতা নয়।
বাবা থতমত খেয়ে বলে, ‘বই? বই পড়তে আর ভালো লাগে না রে। আর কটাই বা ভালো উপন্যাস লেখা হয় এখন! শিকার কাহিনি থাকলে পড়তাম বুঝলি। তা তোর বাড়িতে তো সেসব নেই।’
অকারণে বাবা হাসে, হাত মোচড়ায়, যেন মেয়ের সঙ্গে তার কত সখ্য! ভ্রু কুঁচকে যায় রানির, ‘কে বলল নেই? ওই যে সেলফের কোণে জিম করবেট অমনিবাস!’
‘করবেট তো ছোটবেলা থেকে পড়ছি। আরও পড়ব? আচ্ছা পড়ব’খনে।’

পরদিন রানি দেখে বাবার সামনে করবেট খোলা, কিন্তু হাঁ করে তাকিয়ে আছে সামনের দিকে।
স্বভাব যায় না ম’লে, দাঁত কিড়মিড় করে তার, মানা কখন আসবে বসে বসে বুড়ো তাই ভাবছে!

ডাক্তারের কাছে যাবার আগে গড়িয়াহাটে যাবে রানি। ইনি আসবার পর থেকে ঘ্যানঘ্যান করছেন, “তারার জন্য একটা পুজো করার শাড়ি কিনে দিস। বার বার বলে দিয়েছে। আমি টাকা দিয়ে দেব।”
লজ্জাশরম থাকলে নিজের মেয়ের কাছে এইরকম বলা যায় না। কিন্তু তারামাসির সঙ্গে বাবার ঠিক কি সম্পর্ক রানি জানে না। পাড়াপড়শিদেরও কোনও নালিশ শোনা যায়নি। তাছাড়া তারামাসি মায়ের শেষ দিনগুলোতে করেছিল খুব। তার কোলে মাথা রেখেই মা চলে গিয়েছিল।
একটা শাড়িই তো!

অনেক আলো-জ্বলা দোকানটায় বেদম ভিড়। সরস্বতী পুজো ঘাড়ের ওপর, বাসন্তী রঙ শাড়ি দেখছে অনেকগুলো অল্পবয়সী মেয়ে। তাদের ক্যালোরব্যালোর ছাড়িয়ে কাপড় গুছিয়ে তুলতে ব্যস্ত একজন সেলসম্যানের সামনে বাবাকে নিয়ে দাঁড়াল রানি, “দাদা, পুজো করবার শাড়ি দেখাবেন?”
“গরদ দেব তো? লাল পাড়ের নাকি অন্য রঙ?”
তারামাসির স্বামী কি বেঁচে আছে? তাদের বাড়িতে মালির কাজ করত হেঁপোরুগি রোগা লোকটা। এখনও বেঁচে আছে? বাবাকে জিজ্ঞাসা করবে বলে ঘাড় ঘোরাতেই রানি দেখল বাবা নেই তার পাশে। এদিক ওদিক খুঁজতেই দ্যাখে এগিয়ে গেছে একটু, হাঁ করে তাকিয়ে আছে অল্পবয়সী মেয়েদের ভিড়ের দিকে।
দ্যাখো কী কাণ্ড! একটা মেয়েকে প্রশস্ত গদির ওপর তুলে তার হালফ্যাশানের জামার ওপরেই কায়দা করে শাড়ি পরিয়ে দিচ্ছে এক বয়স্ক সেলসম্যান, মেয়েটা চোখ ঝলসানো সুন্দরী, ছলবল করছে, বন্ধুদের বলছে, “ ঠিক করে বলবি, এটা আমাকে মানাচ্ছে কিনা!” ওর সুঠাম বুকের ওপর শাড়ির আঁচল অন্তরঙ্গ ভঙ্গিতে বিছিয়ে দিল দোকানদার, ও পাত্তাই দিল না!
পুজোর সময় থেকে এই নতুন ফ্যাশন দেখে আসছে রানি, দোকানে গিয়ে শাড়ি পরে, ছবি তুলে, দেখেশুনে, তবে শাড়ি কেনা।
সে যার যা খুশি করুকগে, কিন্তু পচা গন্ধ যেমন শকুনকে ডেকে আনে, এই বুড়োটা ঠিক এসে জুটেছে শাড়ি পরানো দেখতে। হিড়হিড় করে বাবাকে টেনে নিয়ে আসে রানি, ‘তোমার না তারামাসির জন্য শাড়ি কেনার কথা!’ ‘হ্যাঁ তো,’ বাবা বলে, ‘কী একটা গোলমাল হচ্ছিল ওখানে!’
রানি বলতে যায়, ‘তুমি লোকটাই যে গোলমেলে!’ কিন্তু অনেক কষ্টে নিজেকে সামলায় সে, বয়সে ছোটো হলে ঠাস ঠাস দুটো লাগাত ঠিক, কিন্ত টেনে আনতে গিয়ে এটা খেয়াল না করে পারে না, কত পলকা হয়ে গেছে মানুষটা, রোগা একটা হাত, একটু টানতেই কেমন আছড়ে এসে পড়ল কাউন্টারে!
পাপ ছাড়ে না বাপকে, বয়স খেয়ে যায় দাপকে। বাবার দাপ বা দর্পের এই হাল দেখে রানি খুশি হবার চেষ্টা করল, কিন্তু তার কান মাথা রাগে অপমানে দপদপ করছিল! হিসহিসিয়ে কানের কাছে মুখ নিয়ে বলল, ‘কোনো পুরনো অভ্যাসই ছাড়তে পারোনি, তাই না?’
বাবা কেমন করে যেন মাথা ঘোরাল, যেন অচেনা বিরাট প্রান্তরে হারিয়ে যাওয়া একা মানুষ, তারপর অসংলগ্ন ভাবে বলল, ‘না কই, কিছু নেই তো! পরমা কিছু বলেছে তোকে?’

যে মানুষটা দশ বছরেরও আগে নিজের সব দাবিদাওয়া নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে, তার এই হঠাৎ উল্লেখে রানির চোখ জলে ভরে উঠল। বাবাকে ঠেলে সরিয়ে কাউন্টার থেকে ক্যাশমেমো আর শাড়ির প্যাকেট নিয়ে বলল, ‘চলো এবার।’

ডাক্তার সেন এই চেম্বারে অনেক রাত অবধি রোগী দেখেন। রানিদের ডাক এল রাত আটটায়। মনে মনে অস্থির হচ্ছিল রানি, বেশি রাত হলে তাদের ওদিকটায় যাবার ক্যাব পাওয়া যায় না। অস্থিরতার সঙ্গে রাগ মিশে গেল, যখন সে দেখল, খুব ঝলমলে জামা গায়ে একটা হাসিখুশি মেয়ে বসে আছে উল্টোদিকে, বাবা হাঁ করে তাকে গিলছে, সঙ্গীর সঙ্গে তার হাসিঠাট্টার কথা একটাও যেন না হারায় সেই আগ্রহে ঝুঁকে পড়েছে সামনের দিকে। “সোজা হয়ে বসো না!” রানি ফিসফিস করে বলল। কিন্তু তাকে পাত্তা দিলে তো। রাগে দাঁত কিড়মিড় করছিল, আরও কিছু বলে বসত হয়ত, কিন্তু সেই মুহূর্তে পর্দার ওপাশ থেকে ডাক এল, “শুদ্ধচিত্ত সমাদ্দার!” বাবাকে নিয়ে চেম্বারে ঢোকার আগে রানি না ভেবে পারল না, ঠাকুরদা একখান নাম রেখেছিল বটে!

ডাক্তার অনেকক্ষণ ধরে শুদ্ধচিত্তকে দেখল। ভারী আর অদ্ভুতদর্শন ফ্রেম লাগিয়ে তাতে নানা লেন্স বসিয়ে, বোর্ডের লেখা পড়তে বলে, চোখে গোল আলো ফেলে নিজেই খানিকক্ষণ চুপ করে বসে রইল। তারপর রানিকে জিজ্ঞাসা করল, ‘কতদিন ধরে এইরকম?’
এইরকম মানে? মাথায়, চোখে ব্যথা করে আর একটু ঝাপসা দেখে, এছাড়া আর কিছু তো শোনা যায়নি।
‘না,’ ডাক্তার বলল, ‘উনি প্রায় অন্ধ। আশি পার্সেন্ট দৃষ্টি হারিয়েছেন, এখন খুব চড়া রঙ আবছা দেখা ছাড়া আর কিছুই ওর নজরে পড়ে না। আলোর উৎস কোনদিকে বুঝতে পারেন, কিন্তু সেই আলোয় কিছু দেখতে পারেন না।’

রানি বাবার দিকে তাকাল, ভাবলেশহীন মুখে শুনে যাচ্ছে। যেন ডাক্তার এইসব বলবে সেটা আগেই জানত। তাহলে কি রানি ভুল? চেম্বারে ঝলমলে মেয়েটিকে নয়, শাড়ির দোকানে শাড়ি পরতে থাকা মেয়েটিকে নয়, এমনকি মানার পূর্ণকুম্ভের মতো বুকও নয়, বাবা এখন তাকিয়ে থাকে ঝাপসা কিছু রেখা আর রঙের দিকে? ওই ভাবে জীবনকে ছুঁয়ে থাকতে চায়? রানির চোখে জল এল। যদি বাবার অবিশ্বস্ততার ইতিহাস অজগরের লেজের মতো অনেক পেছনে না বিস্তৃত হত, হয়ত সে ক্ষমা চাইত, বলত, ‘ভুল হয়ে গেছে।’ কিন্তু সে আর হয় না এখন!

ডাক্তার আরও কী কী বলছে এবার মন দিয়ে শুনতে চাইল রানি।
‘শুনুন মিসেস দাসগুপ্ত, আজ থেকে অন্তত দশ বছর আগে ওর চোখের ছানি কাটানো উচিত ছিল। এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। সেকেন্ডারি গ্লকোমা, ইনফ্লামেশন, দুটোই রয়েছে। উনি বই পড়তে খুব ভালোবাসতেন বলছেন, বই পড়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিলেন যখন, তখনই তো আপনাদের সন্দেহ হওয়া উচিত ছিল। আমি তো বুঝতেই পারছি না, কী করে উনি এতদিন এতবড়ো একটা সমস্যা চেপে রাখলেন।”
রানি বলতে চাইল, আজ কুড়ি বছর সে বাড়ি ছাড়া, দশ বছর আগে মা চলে গেছে, তারপর আর একবারও ওমুখো হয়নি সে। সপ্তাহান্তে একটা ফোনকল করেই সব কর্তব্য মিটে যায়। এবার শুধু তারামাসির কাকুতিমিনতিতে…।
কিন্তু ডাক্তারকে কিছুই বলে ওঠা গেল না। এসব কি কাউকেই বলা যায়!

আগে ভাগে ক্যাবে উঠে বাবার হাত ধরতে গেল রানি, বাবা সাহায্য নিল না। কেমন করে যেন তাড়াতাড়ি হাত সরিয়ে নিল, দরজার হাতল চেপে ধরে হাঁচড়পাঁচড় করে উঠল, যেটুকু ছোঁয়া লাগল, রানি দেখল, মানুষের নয়, খড়ের মতো শুকনো নীরস একটা কাকতাড়ুয়ার হাত! এখন খেয়াল করছে বলে আরও অনেক কিছু দেখতে পাচ্ছে । চশমাটা খুলে পকেটে রাখল হাতড়ে, জানালার কাচ ওঠাবে বলে হাতড়ে হাতল খুঁজে বার করল বাবা।

বাইরের হাওয়া এসে চলন্ত গাড়িতে রানির চুল এলোমেলো করে দিচ্ছিল। একটা ছোট্ট নিষ্পাপ খুকির মতো সে বাবাকে জিজ্ঞাসা করতে গেল, “এইভাবে কি প্রায়শ্চিত্ত করা যায়! হ্যাঁ বাবা, করা যায়? বল না?”
কিন্তু বাস্তবে সে ঘষটে আরও একটু দূরে চলে গেল, এমন ভাবে বসল যাতে ভিউ ফাইন্ডারে বাবার জবুথবু শরীরটা চোখের কোণ দিয়েও সে না দেখতে পায়।

আরও পড়ুন:

বৃষ্টি তুমি রোদের মধ্যে /বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়

বৃষ্টি আমি জানি তুমি চরিত্রহীন, কুলটা নও কখনও হবে না মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার মতন ধূর্ত জাফরি-কাটা যে বারান্দা থেকে তোমায় ছুঁয়েছিলাম, প্রবল খরার মরশুমে সেই জাফরি আমার মাথায় ঘুরত…   শুধুমাত্র ‘বেঁচে’ জীবন কাটানো খুব কঠিন বলে বিকেলবেলার তেজি আগুন রাত্রি নামলে ছাই হয়ে যায় বম্বে থেকে বেঙ্গালুরু পাক্ খেয়ে পাক্ খেতে খেতে তোমায় পাবো …

পড়ুন

গ প্ পো ৪ – পুঁটে দত্তিদের গপ্পো/ বোধিসত্ব মৈত্রেয়

টাটকা-ঝরা ঝুরো বরফের রাশ ঠেলে এগুচ্ছি আমি আর স্কুয়া। ধু ধু ফাঁকা রাজ্যিটা ভরা অরোরার আলোয়। উত্তরের সারা আকাশটা জুড়ে ঘি-রঙা আলোর বান। তাতে তামাম বরফের দেশটা একেবারে রূপোর পাতে মোড়া রূপকথার রাজ্যি। স্কুয়া বললে, ‘সাবধানে হাঁটো। এবার পায়ের তলার বরফ আর তেমন ঝুরো নয়। একটু জমাট বাঁধা শক্ত। এখন আমরা পাহাড়ে চড়ছি। শক্ত বরফের …

পড়ুন

পথ রুধে রবীন্দ্রঠাকুর: বাংলা গানে পথ চলা/অভ্র বসু

সম্প্রতি একটি বিতর্কসভায় থাকবার সুযোগ হয়েছিল, যেখানে বিতর্কের বিষয় ছিল: রবীন্দ্রনাথের গান আর বর্তমান প্রজন্মের আশ্রয় নয়। বিষয়টা নিয়ে আসলে অনেক দিক থেকেই তর্ক হতে পারে। প্রতিযোগীরাও নানা দিক থেকে আলোচনা করলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই বিতর্কের ফলাফল খুব স্পষ্ট হল না। সকলেই মানলেন রবীন্দ্রনাথের গান আশ্রয় হওয়া উচিত। মোশনের সমর্থনে যাঁরা বললেন, তারাও সেটা …

পড়ুন

তৃতীয় চোখের বসুধা / জগন্নাথ দেব মণ্ডল

আকাশ মেঘে ভার।টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছে। শরৎ সকালে বাজারে বিক্রিবাট্টা নেই । দোকানদার, খেটে খাওয়া, দিন আনি দিন খাই মানুষদের রোজগার নেই তেমন। তৈরি বাঁশের মণ্ডপগুলোও টিমটিম করছে জলেডোবা বহুদিনের শ্যাওলাধরা নৌকার মতো। দূর থেকে রামকুমার চট্টোপাধ্যায়ের গাওয়া পুরাতনী বাংলা গান আবছা ঘষা ঘষা শোনা যাচ্ছে, পুরো শোনা যাচ্ছে না,ইলশেগুঁড়ির তোড়ে বেঁকে ভেঙেচুরে যাচ্ছে গান। আমার …

পড়ুন

খেলার দৃশ্যান্তর/অনির্বাণ বসু

একতলা ক্লাবঘর। ন্যাড়া ছাদ। কাঠের দরজা। কোলাপ্সিবল। লাল মেঝেয় কালো বর্ডার। পলেস্তরা-খসা দেয়াল হালকা ঈষৎ। মাঝের বড়ো দেয়ালে এলইডি টিভি। পিছন দিয়ে কেবলের কালো তার; টিকির মাফিক। খেলার সরঞ্জাম অন্যদিকে। ব্লাডার বেরোনো হাঁ-মুখ ফুটবল, তেজি উইকেট, নড়বড়ে হাতলওয়ালা কমদামি ডিউস ব্যাট, পোকায় কাটা প্যাড-গ্লাভ্স্, নরম দড়ির ফুটিফাটা জাল। কোনো-একসময় এই ক্লাবের সামনের ফাঁকা জমিতে সন্ধে …

পড়ুন

এক মেঘলা না থাকা/শুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

কোথাও না যাওয়া রাস্তাগুলো দিয়ে টানা তিনদিন বৃষ্টির পরে রোদ ক্রমশ নিমের মধুর রং জলে মা, তুমি ছাদে উঠেছিলে  বালতি ও কাপড় সাবান জলের মধ্যে সূর্য তোমার রান্নাঘরের দেয়ালে ঠাণ্ডা হয়ে আসা চাটু এসব দুপুরগুলো মিনার হয়ে ওঠে শুধু একটানা বালকের মার্বেল পাথর নিয়ে ক্রিকেট পরতে পরতে বৃষ্টির গরদে মিশে ঝাপটা আসছে বিবিধ ভারতি অথচ …

পড়ুন

বাবা / মণিদীপা নন্দী বিশ্বাস

জানলার ধারে রোদ পোহাও তুমি কত দশক… সন্তানের কতগুলো ভুল ভুল কাজের নির্জন সাক্ষী হয়ে একাই পাহারায় সে হাসির খানিক মুখে সাবলীল উত্তরাধিকার কখনো বা সাজিয়ে নিয়ে এ পাহাড় থেকে ও পাহাড়ে ছুটে বেড়ানো ‘আমি’র মধ্যে কতগুলো দাঁড়টানা কাক কালো এলোমেলো কখনো ভাবিনি অন্ধকার উজাড় হয়ে আসে কোন পথে! কেমন করে রোদ টুকু মরে যায় …

পড়ুন

গুঁড়োমশলা/কাবেরী গোস্বামী

সে এখন একটি অচল পয়সার মতন ফিরেও তাকায় না আর কেউ কারণ, সে আজ শুষ্ক বিবর্ণ পরিত্যক্ত এক যোনি

পড়ুন

অঙ্ক / তৃপ্তি সান্ত্রা

শচীনদার বউ উষা বৌদি মায়া আর মীরাকে দেখে খুব খুশী হলেন। কতদিন পরে এলে। কেমন সুন্দর আছো তোমরা ৬৮-৭০ বছর বয়সে কেমন হেঁটে চলে বেড়িয়ে বেড়াচ্ছ। আমায় দেখো না হাঁটুর হাড় ক্ষয়ে গেছে… কি যে কষ্ট… রুমু, মানে ময়ূখের বউ, আমার বৌমা তো খুবই ভালো হয়েছে। চলে যাচ্ছে তাই। রুমু যে খুব টিপটাপ, অল্প সময়ের …

পড়ুন

আমাজনের চার অধ্যায়/চৈতালি চ্যাটার্জি 

কালো , আঁধারের মাঝে ;   কুচকুচে কালো চারিপাশ, তারই মাঝে কিছু আলোর বিন্দু ফুটে আছে। আমাজনের রাজধানী মানাউসে রাতের বেলায় এসে পৌঁছালাম। দুইপাশের আঁধারকে চিরে আমাদের গাড়ি চলেছে সরু রাস্তায়।  বোঝাই যাচ্ছিল, সকাল হলেই এখানে ঘন জঙ্গল দেখা যাবে। কি জানি, রাতের অন্ধকারে পাশের জঙ্গল থেকে কোন পশু চলে আসবে না তো? সেই যে …

পড়ুন

শহর/বিজয় সিংহ

ফেরার আগে যে তুমি অহৈতুকী ছিলে ফেরার পরে যে প্রাক গোধূলিরা অপ্রবাসে ঢোকে ফক্স কে টু, হে আরাধ্য, সেইসব গ্রন্থনায় মায়ুশ মজ্জার থেকে অনুচক্রিকা কুড়াতে পাঠাও স্বপ্নের অতলে নেমে দেখেছি জুবিলি অসহায় ফুটেছিল হেতু তার কোনো বাড়িঘর নেই, লেক মল, পূর্ণদাস রোড নির্মিত আরশিনগরে পড়ে থাকা সংক্রামক লাশ ফেরার আগের রাত্রে নরসিংহমূর্তি দেখিয়েছে ও ফেরার …

পড়ুন

পেরেস্ত্রোইকা/কস্তুরী সেন

অতল, আত্মবিস্মৃত, শেষত শেষ কাকে বলে ? উদ্বেগের পর উদ্বেগ, বিরতির পর পুনরাবৃত্তি নিয়ে বেলা সাড়ে চারটেয় ধর্মতলা পেরিয়ে যাচ্ছে দুশো একুশ মাঝমাঠ, খাদ্য আন্দোলন, একদিন একদিন শহরে মানুষ পোড়ে, জিতে বেরিয়ে আসে হিমঋতু ‘এই যে ধাইন্যক্ষেত্র তা দ্যাখতে তো পয়সা লাগে না’ দেখতে দেখতে দেখে যাওয়া, মানুষের এলোমেলো ভিড়, সিগনালে আলো নিভে যায় সাবেক …

পড়ুন

বৃষ্টি নামচা /অগ্নি রায়

এক   ছোট ছোট চিরকুটে ভরে যাচ্ছে বাদলবেলা। বল্লভপুর, গোবিন্দপুর, মুকুটমণিপুর হয়ে মধুপুরে পৌঁছেও শেষ নয় পথ, এই পুরবাসী তালিকাকে পৌঁছতে হবে একশ আটে! তবেই বৃষ্টি থামবে ঠাকুমার কথামতো। কচিকন্ঠের মিনতি কাকলির কাছে লেবুপাতা আর করমচা ঝরে যায়। বালিকাসংঘের গায়ে জলের ছাঁট আবার ফিরে আসার কথা দিয়ে সরে পরে, এক আশ্চর্য লোকায়ত টোটকার পর।   …

পড়ুন

জোয়ার / বেবী সাউ 

যেভাবে জলের কাছে লিখে রাখি ত্যাগসূত্র আদি—   শরীর, গোপন মায়া ধীরে ধীরে নামে কঠিন কঠোর তবু অন্ধ ভিখিরির হাত ধ’রে আরেকটি গল্প লেখে, ভাবে— লেখা কিছু জমে থাক আগামীর দিকে   আশা ভাঙে। জাগে শুধু ডুবে যাওয়া পুরোনো বন্দর   শান্ত মানুষের মতো; নির্মোহ ততটা   ভেসে যায়   ততটুকু স্পর্ধা হলে, নাবিক তোমায়   …

পড়ুন

নামকরণ / ঋজুরেখ চক্রবর্তী

কোনও একদিন তুমি সেই উন্মত্ত কিশোরবেলার নাম রাখতে চেয়েছিলে নিপীড়িত জনতার সরণি। প্রকৃতিতে তখন প্রতিটি সচেতন প্রতিরোধ ছিল প্রগতি, আর মেঘ ডাকলে সূর্যত্রাসে কেঁপে উঠত প্রতিক্রিয়া। রথ দেখতে যাওয়ার মতো তুমি সুদূর করে নিয়েছিলে তোমার দিগন্তরেখা, স্বপ্নের সেই সাদা ঘোড়াটিকে নিয়ে নিশ্চিন্ত স্ববিরোধে বেরিয়ে পড়েছিলে সাম্রাজ্যবিস্তারে, খুরে খুরে ধুলোর ঝড় তুলে বিলিয়েছিলে কল্যাণ, ফিরে এসেছিলে …

পড়ুন

বজ্রসেনি/সার্থক রায় চৌধুরী

নুয়ে পড়া ডাল আর চুঁয়ে পড়া জল, জলের গভীর থেকে মেঘ বহুতল, আকাশ পাগল যেন আত্মহারা এক বৃষ্টি এলো- জানে ভিজল যারা..   জানে? পাগল তবে কার নেশার ঘোরে আঁকে বজ্র, হাওয়ায় ভেজা পালক ওড়ে…

পড়ুন

স্পর্শ, স্পর্শাতীত… / সৌরভ মুখোপাধ্যায়

তাহলে আলোর কথা জেনে নেব কাহার সমীপে? তাহলে দুপুরশব্দ,একমনে পাখিটির স্নান? তবে কে জানাবে বলো বাংলাভাষার দেহত্বকে এই যে উজ্জ্বলবাক্য ঠিকরে পড়ছে বিকেলের প্রায়… চলাচল নিভে আসছে। কিছুপরে সন্ধে নেমে এলে একটি দুটি তারা জ্বলবে তোমার স্পর্শের মতো,নিভে জ্বলে ওঠা আকাশের মাথায় মাথায়…

পড়ুন

সাইলেন্স দিস আপকামিং কল/যশোধরা রায়চৌধুরী

মানত করলে মানতের ফল ফলবেই, দিদি। বসুন , ঠিক করে বসুন। আমি একটু সরে বসি। ভাই একটু জায়গা দিন না। পাশের অনিচ্ছুক ব্যক্তিকে বলি। জেনারেল কম্পার্টমেন্টে বাধ্য হয়ে উঠেছি। লেডিজে তিল ধারণের জায়গা নেই। যাক, আপনার কৃপায় বসতে পারলাম। এ বাবা কৃপা কেন। কোথায় যাচ্ছেন? বাবার আশ্রমে। খুব জাগ্রত বাবা। হরিহর বাবা। জানেননা, এই লাইনের …

পড়ুন

গ প্ পো ৩ – ধেড়ে দত্তি স্যাক্সি আর হারমানের গপপো/ বোধিসত্ব মৈত্রেয়

টিং-টিং, টুং-টুং, এক ছোট্ট ঘণ্টার মিষ্টি আওয়াজ আসছে কোথা থেকে? হাতড়াতে থাকি এদিক ওদিক। জঙ্গুলে রাস্তার বাঁকটা পার হলেই হয়তো পেয়ে যাব ছই দেওয়া গরুর গাড়িটাকে। গরু দুটোর গলায় বাঁধা ঘণ্টা। বাজছে টুং-টুং, টিং-টিং।   চট করে ঘুমটা ভেঙ্গে গেল। ওমা, এতক্ষণ স্বপ্ন দেখছিলাম। জমাট হিমের দেশে নরম পালকের লেপ আর ভেড়ার লোমের মাখনের মতো …

পড়ুন

নোটপ্যাডের নৌকো/মন্দাক্রান্তা সেন

এক বর্ষার দিনে সে আসবে বলে কথা দিয়ে আসেনি।   এই সামান্য বিষয় নিয়ে পদ্য লিখে প্যানপ্যান করা এই বয়সে নিতান্তই ন্যাকামি হয়ে যাবে।‌   নাকের জলে চোখের জলে ছপছপ করছি । কোথা গেলে,‌ সেয়ানা প্রাণাধিক   নোটপ্যাডে নৌকো ভাসাই । নেহাত বালিকা আহা‌ আহা ।   তুমি আসবে বলে আসোনি। বেশ করেছ ।   …

পড়ুন

গ প্ পো ১ – গ্যানগ্যানের দেখা পেলুম / বোধিসত্ব মৈত্রেয়

গ্যানগ্যানের দেখা পেলুম সেই সাত-সুমুদ্দুর তেরো নদীর পারের দেশে। সে বড় আজব দেশ। সে দেশের সব সাদা। রাশি রাশি বরফ পড়ে মাঠ-ঘাট সাদা। বছরে আটটা মাস তুমি মাটির রং দেখতে পাবে না। পাবে না কোথাও একরত্তি সবুজের ছোঁওয়া। জনমনিষ্যি সব সাদা। এমন কি কাক পক্ষীটি পর্যন্ত ধবধবে সাদা। এমনিতে দেশটাতে লোকজন বড় কম। শহর-বাজারে যা …

পড়ুন

৩/৪ সি, তালতলা লেন / সুমিতা মুখোপাধ্যায়

বইয়ের নামঃ ৩/৪ সি, তালতলা লেন কবিঃ হিন্দোল ভট্টাচার্য আলোচকঃ সুমিতা মুখোপাধ্যায় ৩/৪ সি, তালতলা লেন, হিন্দোল ভট্টাচার্যের এই কবিতাগ্রন্থের রচনাকাল ২০২১ থেকে ’২৩। অতিমারির এক বিষাদভরা কালো সময়। লকডাউন, অতিমারি, অনিবার্য মৃত্যু, নীলপ্লাস্টিক, গনচিতা, আর বুক চাপড়ানো হাহাকার !  সময়ের ক্ষত গভীর থেকে গভীরতর। প্রলেপ পড়ে না কোন। প্রতি মুহূর্তে বেঁচে থাকাটাও যেন ভয়ে …

পড়ুন

গ প্ পো ৫ – কুঁড়ে নিক্কির গল্পো/ বোধিসত্ব মৈত্রেয়

‘তা তোমার কৃষ্টাবেলের কি হোলো –’ তাড়া দিল স্কুয়া।   ‘কৃষ্টাবেলের কথা পরে। আরে নিক্কির সে যা দশা–“ বুড়ী গ্যানগ্যান কুলকুলিয়ে হাসির বানে ডোবা। ‘নিক্কি-নিক্কি’ বলে আর বুড়ী হাসে। হাসি যেন আর থামতেই চায় না। অনেক কষ্টে হাসি চাপা। ‘আরে শোন তাহলে নিক্কির দশাটা –   সে অনেক কাল আগের ঘটনা –। আমার গ্যানগ্যানের শোনা- …

পড়ুন

অনন্ত সংলাপ/অর্পিতা কুণ্ডু

আমি: ঢেউ তো প্রোজ্জ্বল, তাতে তুমি বসে আছ শিরোচূড়ামণি। হাটের নাগর তুমি, ভিটায় নিমিত্ত সামগান — তোমাকেই বর্মে বৃত্তে চুপিসাড়ে রোমন্থন করি। যেমত অছিলা পটিয়সী, যে মৃদু চারণভূমি পার করে কাছে আসি, তার কিঞ্চিৎ আদর কোরো। বহুবর্ণ লোক সমাগমে একেলা ফেলো না তাকে রৌদ্র-বাতায়নে। সে: না সখি, না, বাতায়ন-পাশে তোমার শরীর মুক্ত, জনশ্রুতি এই — …

পড়ুন

কানুর বিয়ে/সুবর্ণা মণ্ডল

কানুর সেদিন খুব কান চুলকাচ্ছিল। আগের দিনের যে পায়রাটা হাত থেকে ফসকে গিয়ে শুধু একটা পালক রেখে গেল, কানু সেই পালক কানে ঢুকিয়ে আরামে চোখ যেই না বুজেছে অমনি বাপের চিল চিৎকার, “হ্যাঁ নবাব আমার, কানে পালক গুঁজেই থাকো। যা বয়স বাড়ছে এরপর আর মেয়ে জুটবে না কপালে। ভালোয় ভালোয় রাজি হয়ে যা। নবাবপুত্তুরের যা …

পড়ুন

কালীপুজোয় আকালীপুর / ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়

বাতাসে অল্প হিমেল গন্ধ আর সঙ্গে শিউলির শেষ রেশটুকুনি নিয়ে শহর ছেড়ে রাঙামাটির পথে পাড়ি দিয়ে ঘুরে আসা যেতেই পারে কালীপুজোর আশেপাশের ছুটিতে মহারাজা নন্দকুমারের জন্মস্থান প্রসিদ্ধ আকালীপুর ভদ্রপুর। এখানে স্বমহিমায় বিরাজমানা মহারাজার প্রতিষ্ঠিত অত্যন্ত জাগ্রত সর্পাসনে অধিষ্ঠিতা গুহ্যকালী। এখানেই ছিল নন্দকুমারের দ্বিতীয় রাজধানী। নলহাটি থানার লোহাপুর স্টেশন থেকে প্রায় ৪ মাইল দক্ষিণ পশ্চিমে এই …

পড়ুন

প্রস্তাব/সুমন গুণ 

পাতায় বৃষ্টির শব্দ সাংসারিক, দ্বিপ্রাহরিক। আস্থা ও আশ্বাস থাকে, সমবেত, শুভানুধ্যায়ীর পীড়া ও আরাম থাকে। যথাস্থান থাকে। থাকে মেঘ, অস্পষ্ট ও গূঢ়,  সম্পর্কের অসহায়তার মতো,  চিন্তা ও ক্ষমার মতো, পতনকালীন বজ্র ও বিদ্যুৎভরা নৈশব্দের মতো।   পথেও স্তব্ধতা থাকে দ্রুতগামী; নৈকট্য ও নিশ্চয়তাভরা। কোথাও স্থানাংক আছে, ছাদ আছে, দরজা ও রেলিংঘেরা সুবাতাস আছে,  আছে স্থিতি, …

পড়ুন

বাঁশি / অংশুমান কর 

বাঁশি যখন বেজে যায় তখন কী যে হয় এই পৃথিবীতে! মনে হয় এক শূন্য মাঠের মধ্যে আমাকে ফেলে রেখে গেছে সুর। মনে হয় নিষ্পত্র গাছগুলিতে একটি একটি করে জেগে উঠছে কচি পাতা। মনে হয় রোদ্দুর হয়ে গেছে আধো আধো কথা বলা শিশু। শীতকাল হলেও পৃথিবীতে কোথাও একটা নিশ্চয়ই শিউলি ফুটে, ঝরে সাদা করে রেখেছে উঠোন …

পড়ুন

গ প্ পো ২ – ধেড়ে দত্তি আর গুণীন অ্যাডামের গপপো / বোধিসত্ব মৈত্রেয়

সে অনে-ক অনে-ক দিন আগেকার কথা। তখন সুমুদ্দুরের জল এরকম নোনা নয়। বেশ মিষ্টি জল। তখন এ তল্লাটটায় শহর বাজার কিছুই নেই। নেই ইলেকট্রিকের বাতি। এখন যত ফাঁকা দেখছ এ রাজ্যিটাকে তখন এর চেয়ে আরও অনেক বেশি ফাঁকা। জনমনিষ্যি অনে-ক অনে-ক কম। পাহাড় আর ছড়ানো মেঠো অঞ্চলে ঘুরে বেড়ায় যতো ভূত-প্রেত জিন-পরী দত্তি-দানারা। সুযোগ পেলেই …

পড়ুন

নির্বাচন / ঈশিতা ভাদুড়ী

কাকে বেছে নেব? অলিভপাতা, নাকি ধুঁতরোফুল? কে না জানে সঠিক নির্বাচন না হলে দু:খ পড়ে থাকে আনাচে কানাচে। জলপ্রপাত অবিরাম দুগাল বেয়ে! কাকে বেছে নেব? শালবনে জ্যোৎস্নাপথ? নাকি রাতের নদীজল? কে হবে সঠিক নির্বাচন? কার করপুট-স্পর্শে শঠতা নেই, কারা কারা আমার বৃত্তে নিরাপদ হবে, সেই সব নির্ভুল নির্বাচন সহজ নাকি? নির্বাচন শব্দটি যে কত অমোঘ …

পড়ুন

গ প্ পো ৬ – উপকারী পুঁটে দত্তির গপপো/বোধিসত্ব মৈত্রেয়

‘ম্যাকলাখানরা তো ব্রাউনি পুষত —’ এতক্ষণে কথা বললে আংকল জ্যাক। ‘ও সব ব্রাউনি ফ্রাউনি আমি জানি না —’। মুখ ঝামটা গ্যানগ্যানের। ‘ব্রাউনি হোক, পিক্সি হোক, লেদোকোন আর ট্রোন্ড যাই-ইহোক—এক ফিনরা বাদে ওরা সবাই পুঁটে দত্তি। ট্রো —’ ‘তা ফিনরাও তো পুঁটে। এই এতটুকু —’। বললে আংকল জ্যাক। ‘তা হোক, ফিনরা তো আর ডাঙর নয়। তারা …

পড়ুন

পিরিত/অভিমন্যু মাহাত

খুব টানটান ছিল বেদনা যত দিন যায় ভুল বাড়ে, প্রবঞ্চনাও বাড়ে স্মৃতিভ্রষ্ট সুতোয় পিরিতের বহি সমস্ত ঋতু জুড়ে বিলাপ শালপাতার আড়ালে আশ্চর্য ঝুমুর এভাবেই একদিন হঠাৎ দর্শন যার তত্ত্ব ও তালাশ ছিল পুরনো সহসা উঁকি মারে নিরুদ্দিষ্ট প্রণয় কিন্তু নাশকতা সামান্য দূরে, আম্রমুকুলের গন্ধে টের পাই অভিমান কেন ভাঙে আজও বুঝিনি… কাল যাব অশোকনগর

পড়ুন

মুষলপর্ব/বেবী সাউ

শূন্যতার রং নিয়ে বড়ো বেশি ভেবে চলো তুমি অথচ জলের কাছে প্রতিদিন শিখে নিই নীল ঘষা রং আমাদের অভিমানগুলো ভেঙে গেছে আজ তার কোনো গতিপথ নেই; সূত্র ভুলে গেলে, বলো, কীভাবে মেলাবে— জীবনের মায়া, ছায়াধ্বনি! সহজ ভেবেছি যতটুকু, কঠিনের আবরণে ঢেকে গেছে রোজ সেই লক্ষ্যভেদ, মাছের নরম চোখ কিংবা জাতিভেদ প্রথা বারবার ফিরে আসে— বারবার …

পড়ুন

গদ্য বনাম কবিতা/অংশুমান কর

“দুই মানুষের মাঝে যে অসীম আকাশ সেখানে সব চুপ, সেখানে কথা চলে না। সেই মস্ত চুপকে বাঁশির সুর দিয়ে ভরিয়ে দিতে হয়। অনন্ত আকাশের ফাঁক না পেলে বাঁশি বাজে না।” বলুন দেখি কার লেখা কোন কবিতার পঙ্ক্তি এগুলি? চেনা চেনা মনে হচ্ছে তো? সে তো হবেই। রবীন্দ্রনাথের “লিপিকা”র একটি লেখার অংশ এটি। নাম “বাঁশি”। লেখা …

পড়ুন

প্রেম/রামকিশোর ভট্টাচার্য

প্রতিদিন রামপ্রসাদি মেখে কাপড় কাচতে কাচতে সাবান হয়ে একদিন গলে গিয়েছে মা ৷ অবসাদ পালক জড়িয়ে হঠাৎ জলবায়ুর সঙ্গে মিশে গিয়েছে বাবাও , এখন একলা একা সুতির ফুলমাখা কুর্তি মারুবেহাগ দুপুরে দু’হাত নাচিয়ে ঝুলেই থাকে – দিগন্তের বুকে , জোছনার রূপকথা নিয়ে – কচি হাওয়ারাই ঝিরিঝিরি গান শুনিয়ে যায় , রঙের বেলা গড়িয়ে গেলেও নাইলনের …

পড়ুন

প্রেম বলিনি/যশোধরা রায়চৌধুরী

আমি তোমার ছোট্টবেলার বোকা তুমি আমার আনন্দ জিমখানা আমি তোমার তাসের হাতের পোকার তুমি আমার হিমঝিম মস্তানা আমি তোমার কুঁকড়ে থাকা পোকা তুমি আমার ফলানা ঢিমকানা   সকাল থেকে রাত্রি আমি তোমার প্রেম বলিনি তবুও , কে খায় ধোঁকা   রাত্রি থেকে দিন তো তুমি আমার সূর্য চাঁদের চাঁদোয়া টাঙায় খোকা   প্রেমের কাছে, প্রেমের …

পড়ুন

এ এক ‘অচেনা’ দেশ/পার্থ মুখোপাধ্যায়

আমরা যখন গতির নেশায় ছুটছি, যখন আমাদের চারপাশ ‘স্মার্ট সিটি’ আর ‘ক্যাশলেস’ হওয়ার উৎসবে মেতেছে, তখন নিঃশব্দে এক বিশাল সংখ্যক মানুষ আমাদের সমাজ থেকে বিচ্যুত হয়ে যাচ্ছেন। এঁরা আমাদেরই বাবা-মা, আমাদেরই ঠাকুরদা-ঠাকুমা। গত কয়েক দশক ধরে যে হাতগুলো এদেশটাকে আগলে রেখেছিল, আজ কিন্তু অদ্ভুত ‘ডিজিটাল অস্পৃশ্যতা’র শিকার সেই হাতগুলোই।  প্রগতিকে আমরা বরণ করেছি ঠিকই, কিন্তু …

পড়ুন

অচেনা দুপুর/সৈয়দ কওসর জামাল

প্রতিবাদ ভুলে থাকি আজ পড়ে থাকি এককোণে, দুরে বৃষ্টি এসে ভিজিয়ে দিয়েছে স্থিতভূমি, বেতাল অ-সুরে   কোন সুরে বাজবে সেতার আষাঢ়ে বাজবে কোন মন? জানালার পাশে আজ নয় বিপর্যস্ত কোরো না জীবন   বরং কবিতা লেখো, ভেজো জবুথবু শালিকের মতো, বৃষ্টি এসে সলজ্জ বলুক এসো প্রেম, এসো ইতঃস্তত   একটি কবিতা লিখেছিলে তুমুল বৃষ্টির কোনও …

পড়ুন

দি লাস্ট মিটিং/সমরজিৎ সিংহ

একটি রাস্তা । তারপর, আবার রাস্তা । তারপর সমাধি । তার উপর চাঁদের ছায়া । দু’একটা পাতা । রাস্তার ওপাশে একটা ভাঙা দোকান । তিনটে চেয়ার । সমাধি থেকে উঠে এসে এই চেয়ারে বসলেন তিনি । টোটেনখাম । চাঁদ তখন পিছলে যাচ্ছে রাস্তার উপর । তিনি তার ভাঙা হাড়ের আঙুলগুলি বের করে কাকে যেন ডাকলেন …

পড়ুন

ফিল্ম শুটিং-এর গল্প/পার্থ মুখোপাধ্যায়      

১৯৮১ সালের ২৭ জুন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক এ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন বংশীচন্দ্র গুপ্ত। ‘ শিল্প নির্দেশনায় বংশী সমকক্ষ ভারতবর্ষের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আর কেউ হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। বংশী ছিল এক এবং অদ্বিতীয়।’ তার স্মরণ সভায় শিল্প নির্দেশক বংশী চন্দ্রগুপ্ত সম্পর্কে এই রকম বক্তব্যই রেখেছিলেন স্বয়ং সত্যজিৎ রায় । ‘পথের পাঁচালী …

পড়ুন

বৃষ্টির দিন/কালীকৃষ্ণ গুহ

বৃষ্টির দিন ফুরোয় না কারো জীবন থেকে। বৃষ্টির দিনগুলি সব বিরহযাপনের দিন।   বিরহযাপন শেষ হয় না জীবনে।   কারো বিরহ কান্নার জন্ম দেয় কারো কাছে তা শুধু স্মৃতি হয়ে আসে।   এখন বৃষ্টির দিনে শুধু বাইরে তাকিয়ে চারদিকের গাছপালা ভিজতে দেখি। তাদের অনুচ্চারিত আনন্দ দেখতে পাই।   সেদিন একটা ফাঁকা রাস্তায় দাঁড়িয়ে একটা পাগলকে …

পড়ুন

ফুলঝরিয়া/সেবন্তী ঘোষ

এক পিছনে জঙ্গল ।ওই ওপারের রাস্তা পেরিয়ে আবার জঙ্গল। ক্রমশঃ দুপাশের জঙ্গল উজাড় করে  ফোর লেন হচ্ছে। এখনও পুরোটা খুলে দেয়নি। নবনির্মিত সেই পথের ওপর হাত পা ছড়িয়ে বসে আছে ফুলঝরিয়া আর পিংকি। বসাটা নতুন নয়, জায়গাটা নতুন। বসার জায়গাটাও ঠিক নতুন নয়, দেখতে নতুন। পিংকি বলে, আগের ঘাসটাই ভালো ছিল রে, গড়িয়ে গেলে কত …

পড়ুন

কলসপুর যাইনি / অমর মিত্র

অনেকবার  দীপিকাকে বলেছি, কলসপুর নিয়ে যাব। বলতে গেলে সেই বিয়ের পর থেকে। আমাদের যাওয়া হয়নি। কতবার কলসপুর যাত্রা শুরুর মুখেই ভেস্তে গিয়েছে। আমি কলসপুরের   কাছাকাছি থেকে ঘুরে এসেছি বেশ কয়েকবার। কিন্তু যেতে পারিনি কেন যে–তা ঠিক ধরতে পারি না। ভেবেছিলাম একবার একাই ঘুরে আসব। কিন্তু শেষে মনে হয়েছে দীপিকা দুঃখ পাবে। লুকিয়ে না যাওয়াই …

পড়ুন

পুরনো দিন নতুন দিন/শংকর চক্রবর্তী

মনে পড়ে সেইসব রবীন্দ্র-গানের সকাল সূর্যাস্তের থেকে মুক্তি পেয়ে ভাবলেশহীন কোনো সন্ধের পাশে বেজে উঠত জড়োসড়ো একবারও কেউ ডানা ঝাপটিয়ে উড়তে চায়নি তখন সাদামাটা বিকেলগুলো শুধু এই ষড়যন্ত্রীর শহরে অন্ধকার নামিয়ে রাখত প্রতিদিন সেই সকাল থেকে ছুটে যেত সবাই একে অপরের জামা-প্যান্ট উদোম করে ছুটত তুমি শুধু সারাজীবন অপরাধীর মতো মোমবাতি হাতে রাস্তা পেরিয়ে ফুটপাথ …

পড়ুন

সুন্দর যখন ভয়ংকর / হিন্দোল ভট্টাচার্য

দশ বছর আগের কথা। গেছিলাম ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স বলে এক অপরূপ জায়গায়। হিমালয়ের কোলে, এক বিস্তৃত এলাকায় কত রকম ফুলের সমাহার, না দেখলে বোঝা যাবে না। সেখানে এক ঘন্টার বেশি কাউকে থাকতে দেয় না। যাওয়াটাও খুব কঠিন একটা রাস্তা ধরে ট্রেক করেই যেতে হয়। কিন্তু তখন হিমালয় এমন রণচণ্ডী রূপ ধারণ করেনি। হয়তো এই রূপ …

পড়ুন

বিমর্ষ জল ও উড়ন্ত লাল কার্পেট/গৌতম গুহ রায়

খবরটা সরাসরি ওকে দেয়নি কেউ, কিন্তু সকাল থেকেই বাড়িতে ফিশফিশ করা চাপাস্বরের কথাগুলো তার কানে আসছিল – কীভাবে ওকে খবরটা দেওয়া হবে ? একমাত্র মেয়ে, ওকে তো জানাতেই হবে । ফিশফিশ থেকে হাওয়ার ভেতর দিয়ে ক্রমশ ধ্বনি, শব্দ, কথা হয়ে খবরটা দীপার কানে পৌঁছে যায় । সে সে সরাসরি দিদাকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করে, ‘বাবার কোনো …

পড়ুন

তোমার প্রিয় কাব্যগ্রন্থের নাম/বর্ণালী কোলে

(১) বিদ্রোহ শান্ত হয়ে আসছে, শান্ত হয়ে আসছে জলকামান আক্রোশ শান্ত হয়ে আসছে, শান্ত হয়ে আসছে মুহুর্মুহু ভীমরুলের মতো কামড় শান্ত হয়ে আসছে মল্লযুদ্ধ ক্ষোভ, অভিযোগ দেখা দিচ্ছে ফাল্গুন রাত্রি আকাশ জুড়ে শ্বেতরঙ্গন (২) যেভাবে বীণা স্পর্শ করে আছে পদ্মকে সেভাবে তুমি আমাকে স্পর্শ কোরো আসছি এখনও তুমি কাজ করছ শুকতারাটি উঠবে এবার শিয়রে তোমার …

পড়ুন

চৌষট্টি যোগিনী সমীপে / শর্মিষ্ঠা দাস

ভুবনেশ্বর শহরে এসেছি । আকাশপথে আমাদের দুর্গাপুর থেকে এখন মোটে একঘন্টাও নয় । কাজে অকাজে এ শহরে তো লোকজনের আনাগোনা লেগেই থাকে–আমরা এখান থেকে পুরীধামে যাই, চিল্কাতে জলবিহার করি, লিঙ্গেশ্বর মন্দির দর্শন করি –অথচ — যে ‘কিন্তু’ আর ‘অথচ’ আমাকে এবার রথে চাপাল-সারথি বলল–উধার তো কোই যাতা নেহি। বললাম –সেই জন্যেই তো। উচ্চবর্ণের দেব দেবী …

পড়ুন

মা সম্পর্কিত / প্রিয়াঙ্কা চৌধুরী

কাকভোরে ঘুম ভাঙত। না, বোধহয় ভাঙাতেই হত। কয়েকটা চুড়ি-বালা-টুংটাং আওয়াজ- রান্নাঘর, পুজোঘর, উঠোন, শিউলিতলাজুড়ে সারাদিন কাজ-কাজ-কাজ ধ্যানসম একাগ্র। রান্নাকরার মাঝে বলতে গেলেই কিছু সম্বিত ফিরত যেন! সকলের রাত হয়। তাঁর তো হয় না। সকাল-দুপুর-সন্ধে আঁচলের গিঁটে বেঁধে বিলিয়ে দিতে দিতেই ক্লান্ত একটা দেহ মাঝরাতে বিছানায় হাই পাওয়ারের গ্লাস বালিশের পাশে রেখে দুচোখ জুড়িয়ে এলে একদিন …

পড়ুন

আমাকে আসলে কেমন দেখায় / নাসরীন জাহান

আমাকে কি খুব উদ্ভট দেখায় ? চক্রাকারে বাসটা মোচড় দিয়ে উঠতেই এমন একটা ভাবনা আমাকে অবশ করে তোলে। লোকজন কী রকম চোখ টেপে, টিপ্পনী কাটে, সন্ধ্যায় একা বেরোলে খারাপ মেয়ে ভেবে ইশারায় কেউ প্রস্তাবও দেয়। আমার পরিচিত কয়েকজনকে এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করেছি, তাদের মতে ক্ষেত্রবিশেষে তাদেরকে যে এরকম পরিস্থিতিতে পড়তে হয় না, তা নয়, তবে …

পড়ুন

কাঠামো / অর্ণব চৌধুরী

গাছের কোটরে ভাঙাচোরা দেবীমূর্তি আছে পড়ে আঁধার-মিনারে ফুটে ওঠে তার সমাহার নিরিবিলি পথে আমি তার প্রাচুর্য আহার, তুলতে গিয়ে দেখি, প্রায় শেষবেলা অঘ্রাণ আভায় একেকটি কালের কাঠামো ভেঙে যায়

পড়ুন

খন্দকার গলির অন্ধকার / অলোকপর্ণা

ঘুমের ভিতর হেঁটে বেরানো আজও থামলোনি জাহান আরার। জাজিমে গতর এলানো মাত্র সে ঘুমের সাগর পার করে বাণিজ্যে যায়। দোষ অবশ্য তার একার নহে, ঘুম এমনই জটিল ও জালিম যে তার হাত পা ধরে ঘুমের ভূতেরা হিড়হিড়িয়ে টেনে নিয়ে ফেলে কখনো থানার গ্যারাজে, কখনো দত্তাবাদের মাঠে, কখনো মোরশেদের আস্তাবলে। একবার ঘুরঘুট্টি রজনীতে সে গলা অবধি …

পড়ুন

ভূতপূর্ব ভূত / অহনা বিশ্বাস

ভূতের নাম যে ভূত -গোটা গ্রাম সে কথা জানে। একবার রাস্তা থেকে ডেকে ওর মা আমাকে দেখিয়েছিল। ছোটো বাচ্চা তখন ও। কাজ থেকে ফিরে ভূতকে ওর মা আবিষ্কার করেছিল ওদের ধান সিদ্ধ করা উনুনের ভেতর কালি ঝুলি ছাইমাখা অবস্থায়। ওর মা হাসতে হাসতে বলেছিল, দেখ দিদি, এ যদি ভূত না হয় তো ভূত কাকে বলবি? …

পড়ুন

শিশিরকুমার দাশ: খুঁজে ফিরি কর্ণ, কর্ণের সহোদর/মোস্তাক আহমেদ

মৃত্যুলগ্ন পার হয়ে যতবার গিয়েছি নিঃসীমে বিদ্যুতের দীপ হাতে: অন্ধকারে আকাশের বিস্তৃতি অপার বিদ্রোহী ঝড়ের যত উদ্বাহু মেঘেরা আমন্ত্রণ করে আনে অতীতের ঘন অন্ধকার; তবু দেহ ভিজে গেছে শান্তিস্নিগ্ধ হিমে।                                                                                         (মৃত্যুলগ্ন/জন্মলগ্ন)   কাব্যগ্রন্থের নাম ‘জন্মলগ্ন’। ‘পূর্বমেঘ প্রকাশ ভবন’ থেকে প্রকাশ পাচ্ছে ১৯৫৬-তে। কুড়ির কাছাকাছি বয়স। কী দীপ্ত উচ্চারণ! কয়েক বছর হল দেশ …

পড়ুন

ঘড়ি বন্ধ ছিল/বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়

লাফাতে লাফাতে বেরিয়ে যাবার পর টের পেলাম অনেকগুলো ভুল হয়ে গেছে। মাস্ক নিতে ভুলে গেছি। জলের বোতল যে ঝোলার মধ্যে থাকে সেটা আনিনি। ঘড়িটা বন্ধ অথচ সেটাই বাঁ হাতের কব্জিতে বাঁধা। তাতে সময় দেখাচ্ছে সকাল নটা তিরিশ কিন্তু তিনটে বেজে গেছে। কাজ হলনা আজকেও। তবে আজানের ধ্বনি শুনে বুঝতে পারলাম এখনও হাতে কিছু সময় বেঁচে …

পড়ুন

বিস্মৃতপ্রায় লেখক নিরুপমা দেবী/ঈশিতা ভাদুড়ী

অনুরূপা দেবীর সমসাময়িক লেখক নিরুপমা দেবীর (১৮৮৩-১৯৫১) গল্প-উপন্যাসের বিষয়বস্তু সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের গার্হস্থ্য জীবন থেকে বর্ণিত হয়েছে। বাঙালি বাড়ির অন্দরমহলে মেয়েদের বেঁচে থাকা, তাদের সুখ- দুঃখ, অপ্রাপ্তির ছবিকে তুলে ধরেছিলেন। সেসব কাহিনি পাঠকের হৃদয় স্পর্শ করেছিল। নিরুপমা দেবীর বিশেষ পরিচিতি ঔপন্যাসিক হিসেবে। তবে ছোট গল্প, কবিতাও লিখেছেন অনেক। নিরুপমা দেবীর নারীচরিত্র অবশ্য কিছুটা স্বতন্ত্র, সামাজিক …

পড়ুন

কাজের ভাষা, মুখের ভাষা/স্বপ্নময় চক্রবর্তী

যিনি কাঠের কাজ করেন, উনি বললেন, ‘এই কাঠের জিনিসগুলোকে আলাদা করে পালিশ করাবেন কেন? দোকান থেকে গোপাল বার্নিশ কিনে লাগিয়ে দিন৷” কোনো রঙ-বার্নিশের দোকানে গোপাল বার্নিশ পেলাম না৷ ব্যাপারটা বোঝাতে চেষ্টা করলাম। একটু বলতেই দোকানদার গ্যাপেল বার্নিশের কৌটো দিয়ে দিল৷ গ্যাপেল একটা কোম্পানির নাম৷ এক শ্রমিকের মুখে এটা গোপাল৷ লোহার কাজে নাট-বোল্ট কে বলা হয় …

পড়ুন

দিনলিপি/প্রবালকুমার বসু

ভেঙে যাওয়া স্বপ্নের কথা মনে পড়ে কথা দিয়ে না রাখতে পারার মতন অনর্থক গ্লানি   ভেবেছিলাম কোনোদিনই ফিরবে না আর দেখা হয়ে যাবার পর বৃষ্টিপাতের মতন অহেতুক বিপর্যয় এল   যাত্রীহীন ট্রেন এক পাহাড়ি স্টেশনে কিছু অস্পষ্ট ছায়া, টুপি পড়া, উঠে গেলো নির্দিষ্ট কামরায়   নিজেকে যোদ্ধা ভেবে ঢুকে যাই সৈন্যদের অস্থায়ী ব্যারাকে যেখানে আমিই …

পড়ুন

প্রশ্নপদ/অশোক দেব

সব মরুবৃক্ষ কেন শ্রাবণ জাতক? তাদের দেহের জল সেকথা জানে না?   একলা শ্রাবণে বসে এইসব ভাবি বালিমাখা চাঁদ কাল কার ঘরে ছিল?   তাহলে তৃষ্ণার ফুল বিরহ-গন্ধক? আগুনে আগুনে কথা, বিদায় সংগীত?   কে তুমি গাইছ ওগো এমন মাথুর, এমন শ্রাবণে এলে রাধিকাসম্পদ?  

পড়ুন

একা মানুষ, পঞ্চাশ অস্তিত্ব/চণ্ডী মুখোপাধ্যায়

বইয়ের নামঃ পেসোয়া অ্যান এক্সপেরিমেন্টাল লাইফ লেখক: রিচার্ড জেনিথ প্রকাশক: পেঙ্গুইন বুকস আলোচকঃ চণ্ডী মুখোপাধ্যায় রিচার্ড জেনিথ রচিত “পেসোয়া অ্যান এক্সপেরিমেন্টাল লাইফ” বইটি আধুনিক সাহিত্যের অন্যতম রহস্যময় এবং বর্ণিল ব্যক্তিত্ব ফার্নান্দো পেসোয়ার জীবনের একটি মহাকাব্যিক দলিল। ফার্নান্দো পেসোয়া (১৮৮৮–১৯৩৫) বিংশ শতাব্দীর পর্তুগিজ সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি এবং বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম আধুনিকতাবাদী পথিকৃৎ। তার জীবনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য …

পড়ুন

মায়াচাঁদ/অলোক বিশ্বাস

হাসছি বলেই চাঁদ উঠছে নাকি চাঁদ উঠছে বলে হাসছি— কোনো একক মাত্রাকে চায় না মানুষ, নৈঃশব্দ্যের মধ্যেও। এমনতর সম্ভাবনাকে ছাড়িয়ে বীতশোক সাঁতরে আমি যাবো তাহার নিকটে। চাঁদে বসে গাইব মায়াবাদ, চাঁদে বসে বুনব খামার জমি। আমাদের দাবি অনুযায়ী ভালোবাসা চিরকাল চাঁদের সাপোর্ট পেয়েছে। পুনরায় চাঁদে গিয়ে অপেক্ষা করব তোমার জন্য। আমার রান্নাঘরে, পড়ার ঘরে বাজছে …

পড়ুন

মন্দির দেখা সহজ নয়/শ্রীলা বসু

বেড়ানোর পোকাটা আমার মাথায় এসেছে প্রধানত পৈতৃক সূত্রে। বাবার হাতে ম্যাপ টাইম টেবিল দেখতাম হরদম। গাড়ি চালিয়ে কাঁহা কাঁহা মুলুক ঘুরে বেড়িয়েছেন। প্রায় পঁচাত্তর বছর বয়সে নতুন জামাইকে নিয়ে যখন গাড়ি চালিয়ে রাঁচি চললেন তখন একচেখে ভালো দেখেন না। তবু কী ? অন্য চোখ তো আছেই। কিছু বললে বলতেন পতৌদির একচোখে ক্রিকেট খেলার কথা। তবে …

পড়ুন

আপনার লেখা প্রকাশ করার জন্য

কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, অনুবাদ এবং অন্যান্য লেখা